বিবিধ ইসলাম বিদ্বেষীদের অপনোদন

হযরত যায়নাব (﵁) ও নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এঁর বিবাহ: একটি ঐতিহাসিক ও নৈতিক বিশ্লেষণ


ইতিহাসে যাঁর বিরুদ্ধে সর্বাধিক সমালোচনার কলম চলেছে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (ﷺ)। আশ্চর্যের বিষয়, সেই তিনিই ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যিনি একটি জাতির ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সামাজিক কাঠামো পর্যন্ত প্রায় রাতারাতি পরিবর্তন করেছিলেন। যাঁরা তাঁর দেখানো পথের চেয়ে উত্তম কোনো পথ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরাই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁর পবিত্র ব্যক্তিজীবনের দিকে।

নবী মুহাম্মদ (ﷺ) তাঁর জীবনের প্রধান অংশ খাদিজা (রাঃ)-এঁর সাথে কাটানোর পর, তাঁর বয়স যখন পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে, তখন তিনি আরও কয়েকটি বিয়ে করেন। এই বিবাহগুলির মধ্যেও পাওয়া যেতে পারে তাঁর ধর্মের প্রচার ও প্রসারের সুবিধা, এবং সামাজিক ও গোত্রীয় বিষয়াদির বিবেচনা। তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে এমনই একজন ছিলেন তাঁরই ফুফাতো বোন হযরত যায়নাব (রাঃ) বিনতে জাহাশ। 

তবে অন্যান্য বিয়ের মোকাবেলায় এই বিয়েটি নিয়ে ইসলাম-বিদ্বেষী মহলের অনেকে ভ্রু-কুঞ্চন করে থাকেন। তারা যুগ যুগ ধরে কিছু পরিকল্পিত প্রেক্ষাপট তৈরি করে নানা ধরণের মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। মোহাম্মদ (ﷺ)-এঁর খুঁত সন্ধানীরা এই ঘটনাকে তাঁর অতৃপ্ত যৌন ক্ষুধা পূরণের ব্যাপার হিসাবে অভিযোগ করেন এবং এই ঘটনাকে অনৈতিক বলে প্রচারণা করেন। ইসলাম-বিদ্বেষীরা দাবি করেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পালকপুত্র যায়েদ (রাঃ)-এর স্ত্রীকে স্বল্প বসনা অবস্থায় দেখে অতৃপ্ত কামনার বশবর্তী হয়ে তাঁকে বিয়ে করেছেন। এই অভিযোগ কতটুকু ঐতিহাসিক প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে আছে, কতটুকু পরিকল্পিত অপপ্রচার — সেই বিচারেই এই লেখার অবতারণা।


প্রেক্ষাপটের ন্যায়বিচার: যুগোপযোগী মানদণ্ডের দাবি

মূল ঘটনায় প্রবেশের আগে একটি পদ্ধতিগত প্রশ্ন উত্থাপন করা জরুরি — সপ্তম শতাব্দীর আরবীয় সমাজকে বিচার করতে হবে কোন মানদণ্ডে?

এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করতে হবে। "সব নৈতিকতাই আপেক্ষিক" — এই দাবি একটি দার্শনিক ফাঁদ, কারণ এই যুক্তি স্বয়ং সমালোচকদের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও সমান বৈধতা দিয়ে দেয়। আসল দাবিটি ভিন্ন: যে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার ন্যায়সংগত বিচারের জন্য সেই যুগের প্রেক্ষাপট, সামাজিক কাঠামো এবং উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিতে হয়। একবিংশ শতাব্দীর পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ নৈতিকতার চশমা পরে সপ্তম শতাব্দীর আরবকে বিচার করাটা একই রকম অযৌক্তিক, যেমন ইউক্লিডীয় জ্যামিতির নিয়মে অ-ইউক্লিডীয় স্থানকাল পরিমাপ করার চেষ্টা।

এই নীতির ব্যাবহারিক প্রয়োগ দেখা যাক। হিন্দু সমাজে ফুফাতো বা মামাতো বোনকে বিবাহ করা অনৈতিক বলে গণ্য হয়।[?] কিন্তু মুসলিম সমাজে তা সম্পূর্ণ বৈধ, বরং বহু সংস্কৃতিতে এই সম্পর্ক পারিবারিক বন্ধন মজবুত করার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আবার হিন্দু ধর্মগ্রন্থে ক্ষেত্রজ সন্তান গ্রহণ[?], এক নারীর একাধিক স্বামী[?], কুম্ভ বিবাহ (মানুষের সাথে গাছের বিবাহ)[?], বিধবা ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে দেবরের সহবাস বা পুত্র সন্তান হীন স্ত্রীর সাথে স্বামীর পরিবারের এমন কি ১১ জন পুরুষের সহবাস — এগুলো আইনসিদ্ধ বলে মান্য করা হয়[?], অথচ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ [?]। এই তুলনা দিয়ে হিন্দু ধর্মকে ছোট করা উদ্দেশ্য নয় — উদ্দেশ্য হলো এটি দেখানো যে ভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার মানদণ্ড ভিন্ন হয় ।

কাজেই যায়নাব (রাঃ)-এর বিবাহ বিচার করতে হবে সপ্তম শতাব্দীর মদিনার প্রেক্ষাপটে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামগ্রিক জীবনাদর্শের আলোকে— পাশ্চাত্যের কোনো সমসাময়িক মিডিয়ার চশমায় নয়।  আসুন এবার চোখের ঠুলি আর মনের জিঘাংসার চাদর সরিয়ে ইতিহাসের নান্দীপাঠ থেকে দেখি যায়নাব (রাঃ) ও নবী মোহাম্মদ (ﷺ) এর এ বিয়েতে কোন্‌ সত্য কোথায় বিরাজ করছে! 


যায়নাব (রাঃ): একজন সম্ভ্রান্ত নারীর পরিচয়

হযরত যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) (জন্ম আনু. ৫৮৮ খ্রি.) ছিলেন মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের বিখ্যাত বনু হাশেম গোত্রের জাহাশ পরিবারের কন্যা। সেই যুগে কুরাইশ বংশ কাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল — আজকের সমাজে যেমন মন্দির বা মাজারের দায়িত্বে থাকেন বিশেষ বংশের মানুষ।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিচারে তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন ফুফু উমাইমাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা । [?]অর্থাৎ রক্তের সম্পর্কে তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন ফুফাতো বোন — এবং ইসলামি বিধান অনুযায়ী ফুফাতো বোনের সাথে বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ।

এই সত্যটি ইসলাম-বিদ্বেষীরা কখনো উল্লেখ করেন না। তাঁরা মোটা হেডলাইনে প্রচার করেন: "নবী নিজের ছেলের বউকে বিয়ে করেছেন।" এই প্রচারণা জঘন্য মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। যায়েদ (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর পালকপুত্র ছিলেন, যার ব্যাখ্যা পরে আসবে — কিন্তু জৈবিক পুত্র তিনি কখনো ছিলেন না।[?]


যায়েদ-যায়নাব বিবাহ: বৈষম্যের দেয়ালে প্রথম কুঠারাঘাত

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর যায়নাব (রাঃ) ছিলেন বিধবা ও নিঃসঙ্গ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্য একজন সঙ্গীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এবং পালকপুত্র যায়েদ ইবনে হারিছার (রাঃ) সাথে তাঁর বিবাহের প্রস্তাব দিলেন।

প্রস্তাব শুনে যায়নাব (রাঃ) ও তাঁর গোটা জাহাশ পরিবার চরম প্রতিক্রিয়া জানাল। মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী (রহঃ) সীরাতে মোস্তফা গ্রন্থে লেখেন:

"যায়েদ ইবনে হারিছা (রাঃ) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত ক্রীতদাস। অপরদিকে হযরত যায়নাব (রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত খানদান পরিবারের সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত মহিলা। তাঁরা আযাদকৃত ক্রীতদাসের সাথে আত্মীয়তা গড়াকে খুবই আপত্তিকর, মানহানিকর ও অশোভনীয় বলে বিবেচনা করতেন।" [?]

শুধু সামাজিক মর্যাদার পার্থক্যই নয়, বর্ণের পার্থক্যও এই বিবাহকে করেছিল অকল্পনীয়। একদিকে বনু কালব গোত্রের সাবেক যুদ্ধবন্দী যায়েদ (রাঃ)-এর শ্যামলা গড়ন, অন্যদিকে কুরাইশ পরিবারের ফর্সা যায়নাব (রাঃ)। যায়েদ (রাঃ)-এর গায়ের রঙ থেকে অনুমান হয় তাঁর পূর্বপুরুষ আফ্রিকান ছিলেন। আজকের চরম সভ্য দুনিয়ায়ও যেখানে বর্ণবাদ থামেনি, সেখানে সপ্তম শতাব্দীর আরবে এমন বিবাহ ছিল চরম অপমানজনক বলে বিবেচিত।[?]

এই প্রতিরোধের মুখে কোরআনের আয়াত নাজিল হলো:

আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই। (৩৩:৩৬)

এই আয়াত নাজিলের পর যায়নাব (রাঃ) রাজি হলেন — শুধুমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি আনুগত্যের কারণে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এই বিবাহে প্রচুর উপহার দান করেছিলেন, যা তাঁর সন্তুষ্টির প্রমাণ।

এই বিবাহের উদ্দেশ্য ছিল বহুস্তরীয়। কোরআনের ঘোষণা ছিল:

নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেজগার। (৪৯:১৩)

এই ঘোষণাকে শুধু মৌখিক না রেখে কার্যত বাস্তবে রূপ দেওয়াই ছিল লক্ষ্য — আশরাফ-আতরাফ, সাদা-কালো, দাস-মালিকের বৈষম্যের দেয়ালে পেরেক ঠোকা। এই বিপ্লব যে কত গভীর ছিল, তা আজকের মানুষের পক্ষে হয়তো সম্পূর্ণ অনুভব করা সম্ভব নয়।


ভাঙা সংসার: সংস্কার চাপিয়ে দেওয়ার সীমা

কিন্তু বহু শতাব্দীর সামাজিক সংস্কার এক ঝটকায় মানসিক অভ্যাস থেকে মুছে দেওয়া যায় না। যায়নাব (রাঃ)-এর দৃষ্টিতে যায়েদ (রাঃ) মর্যাদায় নিচু-ই রয়ে গেলেন। তাছাড়া যায়েদ (রাঃ)-এর প্রথম স্ত্রী ছিলেন বারাকা নামের একজন মুক্তদাসী, যাঁর গর্ভে সন্তানও ছিল। সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা যায়নাব (রাঃ)-কে শুধু একজন সাবেক দাসকেই বিয়ে করতে হয়নি — সেই দাসের আরেক স্ত্রী ও সন্তানের সাথে একই সংসারে সমান মর্যাদায় বাস করতে হয়েছে।

দাম্পত্যে বোঝাপড়া আসেনি, ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয়নি। যায়েদ (রাঃ) বারবার রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বিচ্ছেদের ইচ্ছা ব্যক্ত করতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) প্রতিবারই বলেছেন: "তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো।" তবুও শেষ পর্যন্ত যায়েদ (রাঃ) যায়নাব (রাঃ)-কে তালাক দিলেন।


অপবাদের উৎস: কারা তৈরি করলেন এই গল্প?

এখন প্রশ্ন হলো, কোথা থেকে এল নবী (ﷺ)-এর "যায়নাব (রাঃ)-কে স্বল্প বসনা দেখে আসক্ত হওয়ার" গল্প?

এই ধরনের বর্ণনা মূলত তিনটি সূত্র থেকে আসে: আল-ওয়াকিদী, ইবনে জারির আত-তাবারী (রহঃ) এবং ইবনে ইসহাক। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করা হয় তাবারীর বর্ণনা। প্রতিটি সূত্র হাদিসশাস্ত্রের নিক্তিতে পরীক্ষা করা দরকার।

একটু থামা দরকার এখানে। মুসলিমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কিত কোনো বর্ণনা পেলেই অন্ধভাবে গ্রহণ করেন না — এবং করার কথাও নয়। পূর্ববর্তী ইসলামি আলেমগণ অত্যন্ত সুনিপুণভাবে হাদিসশাস্ত্র গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে একটি বর্ণনার সত্যতা নির্ণয়ের দুটি স্তম্ভ: সনদ (বর্ণনাকারীর পরম্পরা) এবং মতন (বর্ণনার বিষয়বস্তু)। সনদের প্রতিটি রাবি (বর্ণনাকারী) নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক না হলে সেই বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হয় না।

তাবারীর প্রধান বর্ণনা ও তার সনদের সমস্যা

ইবনে জারির আত-তাবারী (রহঃ) তাঁর তারীখ গ্রন্থে (৩/১৬১) এবং ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে (৮/১০১) একটি বর্ণনা উল্লেখ করেন।


أخبرنا محمد بن عمر، قال: حدثني عبد الله بن عامر الأسلمي، عن محمد بن يحيى بن حبان، قال:

جاء رسول الله ﷺ بيت زيد بن حارثة يطلبه، وكان زيد إنما يقال له: زيد بن محمد، فربما فقده رسول الله ﷺ الساعة فيقول: أين زيد؟ فجاء منزله يطلبه، فلم يجده، وتقوم إليه زينب بنت جحش زوجته فُضُلًا، فأعرض رسول الله ﷺ عنها، فقالت: ليس هو هاهنا يا رسول الله، فادخل بأبي أنت وأمي. فأبى رسول الله ﷺ أن يدخل، وإنما عجلت زينب أن تلبس لما قيل لها: رسول الله ﷺ على الباب، فوثبت عجلى، فأعجبت رسول الله ﷺ، فولى وهو يهمهم بشيء لا يكاد يفهم منه إلا:

«سبحان مصرف القلوب»

فجاء زيد إلى منزله، فأخبرته امرأته أن رسول الله ﷺ أتى منزله، فقال زيد: ألا قلت له أن يدخل؟ قالت: قد عرضت ذلك عليه فأبى. قال: فسمعت شيئًا؟ قالت: سمعته حين ولى تكلم بكلام ولا أفهمه، وسمعته يقول: «سبحان الله العظيم، سبحان مصرف القلوب».

فجاء زيد حتى أتى رسول الله ﷺ فقال: يا رسول الله، بلغني أنك جئت منزلي، فهلا دخلت بأبي أنت وأمي؟ لعل زينب أعجبتك فأفارقها. فيقول رسول الله ﷺ: «أمسك عليك زوجك». فما استطاع زيد إليها سبيلًا بعد ذلك اليوم... ثم فارقها زيد، وانقضت عدتها... فقال رسول الله ﷺ: «من يذهب إلى زينب يبشرها أن الله قد زوجنيها من السماء»، وتلا: ﴿وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ...﴾

“মুহাম্মাদ ইবনে উমার বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আল আসলামী বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে হিশাম বলেছেন “রাসূল ﷺ যায়েদ বিন হারেছার বাসায় তাঁকে খুঁজতে গেলেন, তখন যায়েদকে বলা হতো ‘মুহাম্মাদের পুত্র’। কিন্তু তিনি তাঁকে বাসায় খুঁজে পেলেন না। এমতাবস্থায়, যয়নাব তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে তাঁর রাতের পোশাক পরে বের হলেন। নবীﷺতাঁর মুখ ফেরালেন এবং তিনি (যয়নাব) বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! সে এখানে নেই, দয়া করে ভেতরে আসুন।’ কিন্তু নবী ﷺ (ভেতরে প্রবেশ করতে) রাজি হলেন না। তিনি (যয়নাব) রাতের পোশাক পরে বের হয়েছিলেন, কারণ তাঁকে বলা হয়েছিলো নবী ﷺ দরজায় দাঁড়িয়ে, তাই তিনি তাড়াহুড়ো করেছিলেন। তিনি নবী ﷺ এর হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন। নবী ﷺ অস্পষ্ট গুঞ্জন করতে করতে বের হয়ে গেলেন, (যার মধ্যে শুধু এতোটুকু বোঝা গেলো) ‘সকল প্রশংসা তাঁর যিনি হৃদয়ের পরিবর্তন করেন।’ যখন যায়েদ বাসায় আসলেন তখন তাঁকে বলা হলো, নবী ﷺ তাঁদের বাসায় এসেছিলেন। যায়েদ(রাঃ) তখন যয়নাব(রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি তাঁকে ভেতরে আসতে বলোনি?’ যয়নাব(রাঃ) বললেন, ‘আমি বলেছিলাম কিন্তু তিনি আসেননি।’ যায়েদ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তিনি কি কিছু বলে যাননি?’ যয়নাব (রাঃ) বললেন, ‘তিনি গুঞ্জন করতে করতে বের হয়ে গেলেন, আমি তার কিছুই বুঝতে পারিনি, শুধু এতটুকু বলতে শুনেছিলাম, ‘সকল প্রশংসা তাঁর যিনি হৃদয়ের পরিবর্তন করেন।’

তারপর যায়েদ(রাঃ), রাসূল ﷺ এর কাছে আসলেন এবং বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আমাকে বলা হয়েছে আপনি আমাদের বাসায় এসেছিলেন কিন্তু ভেতরে আসেননি। যদি এটা এই কারণে হয়ে থাকে, আপনি যয়নাবকে পছন্দ করেন, তাহলে তাকে আপনার জন্য আমি ত্যাগ করবো।’ কিন্তু নবী ﷺবললেন, ‘তোমার স্ত্রীর সাথে থাকো’। এরপর যায়েদ(রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলে নবী ﷺ আবার বললেন, ‘তোমার স্ত্রীর সাথে থাকো।’ কিন্তু যায়েদ(রাঃ) তখন যয়নাব(রাঃ)-কে তালাক দিলেন এবং তাঁর ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেলো। এরপর (একদিন) নবী ﷺ যখন আয়েশা (রাঃ) এর সাথে কথা বলছিলেন তখন জিবরাইল (আঃ) তাঁর কাছে ওয়াহী নিয়ে আসলেন। তিনি স্বস্তি পেলেন এবং হেসে হেসে বললেন, ‘কে যয়নাবের কাছে যাবে এবং তাকে বলবে যে আল্লাহ তাকে আমার স্ত্রী বানিয়েছেন?’ তারপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, ‘আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন …’থেকে শেষ পর্যন্ত।”

এর সনদ হলো: মুহাম্মদ ইবনে উমার (আল-ওয়াকিদী) → আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আল-আসলামী → মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে হিব্বান।[?]

এই সনদে তিনটি স্বতন্ত্র সমস্যা আছে:

প্রথম সমস্যা: মুহাম্মদ ইবনে উমার আল-ওয়াকিদী। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেছেন, "সে একজন মিথ্যাবাদী, যে হাদিস বানাতো।" মুরা বলেছেন, "তার বর্ণিত হাদিস লেখাও উচিত নয়।" ইমাম শাফিয়ী (রহঃ) তাঁর বর্ণনাকে বলেছেন "পুঞ্জিভূত মিথ্যা" এবং ইমাম আহমদ তাঁকে ডেকেছেন "ঘোর মিথ্যাবাদী" বলে [?]

দ্বিতীয় সমস্যা: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর আল-আসলামী। ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এবং আমির আল-মাদানি উভয়ই তাঁকে দুর্বল বলেছেন [?]

তৃতীয় সমস্যা: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বস্ত হলেও, ইমাম যাহবী (রহঃ)-এর তথ্যমতে তিনি ৪৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন [?]। অথচ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তেকাল করেছেন ১১ হিজরিতে। অর্থাৎ রাসুলের (ﷺ) ইন্তেকালের ছত্রিশ বছর পরে এই রাবির জন্ম — তিনি সরাসরি কোনো সাহাবি থেকে শুনতে পারেননি।

এই বিবাহ হয়েছিল ৬২৬-২৭ খ্রিস্টাব্দে, অধিকাংশ জীবনীগ্রন্থ অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৩০ হিজরি (৭৪৭/৭৪৮ খ্রিস্টাব্দ) এবং মৃত্যু ২০৭ হিজরি (৮২৩ খ্রিস্টাব্দ)। ফলে ঘটনাটি (৫ হিজরি/৬২৬–৬২৭ খ্রিস্টাব্দ) ও তাঁর জন্মের মধ্যে প্রায় ১২০–১২২ বছর ব্যবধান । এই বর্ণনাপরম্পরায় সনদ বিচ্ছিন্ন, ইসলামি পরিভাষায় যাকে বলে মুরসাল — যা হাদিসশাস্ত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।[?]

তাবারীর দ্বিতীয় বর্ণনা

তাবারী (রহঃ) তাঁর তারীখ গ্রন্থের আরেক স্থানে (২২/১৩) বর্ণনা করেছেন বাতাসে পর্দা উড়ে যাওয়ায় যায়নাব (রাঃ)-এর পা দেখা গিয়েছিল। এই বর্ণনাটি হাদিসশাস্ত্রের পরিভাষায় মুদিল[?] — অর্থাৎ কমপক্ষে দুইজন বর্ণনাকারী এখানে অনুপস্থিত। কারণ ইবনে যায়েদ সাহাবী কিংবা তাবেয়ী — কোনোটাই ছিলেন না।[?]

তাবারী (রহঃ) অবশ্য নিজেই তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় সতর্কতা জারি করেছেন:

فَمَا يَكُنْ فِي كِتَابِي هَذَا مِنْ خَبَرٍ ذَكَرْنَاهُ عَنْ بَعْضِ الْمَاضِينَ، مِمَّا يَسْتَنْكِرُهُ قَارِئُهُ، أَوْ يَسْتَشْنِعُهُ سَامِعُهُ، مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ لَمْ يَعْرِفْ لَهُ وَجْهًا فِي الصِّحَّةِ، وَلَا مَعْنًى فِي الْحَقِيقَةِ، فَلْيَعْلَمْ أَنَّهُ لَمْ يُؤْتَ فِي ذَلِكَ مِنْ قِبَلِنَا، وَإِنَّمَا أُتِيَ مِنْ قِبَلِ بَعْضِ نَاقِلِيهِ إِلَيْنَا، وَإِنَّمَا أَدَّيْنَا ذَلِكَ عَلَى نَحْوِ مَا أُدِّيَ إِلَيْنَا.

"আমি পাঠকদের সতর্ক করতে চাই যে, কিছু মানুষ আমার নিকট যে খবর বর্ণনা করেছে, এই বইয়ে আমি তার উপর নির্ভর করে সবকিছু লিখেছি। আমি কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই গল্পগুলোর উৎস হিসেবে বর্ণনাকারীদেরকে ধরে নিয়েছি। যদি কেউ আমার বইয়ে বর্ণিত কোনো ঘটনা পড়ে ভয় পেয়ে যান, তাহলে তার জানা উচিত যে, এই ঘটনা আমাদের কাছ থেকে আসেনি।" [?]

ইমাম ইবনে কাসির (রহঃ) এই নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন:

وقد أورد ابن جرير هاهنا آثارًا كثيرةً، أحببنا أن نُضرب عنها صفحًا؛ لعدم صحتها، فلا نوردها، إذ ليس فيها شيءٌ صحيحٌ، فما أوردناه كفايةٌ ومقنعٌ، والله أعلم.

"ইমাম ইবনে জারির (রহঃ) এরূপ বহু অসার বর্ণনা করেছেন যা সঠিক নয়, যেগুলো বর্ণনা করা উচিত নয় বলে আমরা তা ছেড়ে দিলাম। কেননা, এগুলোর মধ্যে একটিও প্রমাণিত ও সঠিক নয়।"[?]

ইবনে ইসহাকের বর্ণনার সমস্যা

ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় দৃশ্যপট ভিন্ন — সেখানে যায়েদ (রাঃ) অসুস্থ ছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন।

حدثنا يونس، عن أبي سلمة الهمذاني مولى الشعبي، عن الشعبي قال:

مرض زيد بن حارثة، فدخل عليه رسول الله ﷺ يعوده، وزينب بنت جحش امرأته جالسة عند رأس زيد، فقامت زينب لبعض شأنها، فنظر إليها رسول الله ﷺ، ثم طأطأ رأسه فقال:

«سبحان الله مقلب القلوب والأبصار».

فقال زيد: أطلقها لك يا رسول الله؟ فقال: لا. فأنزل الله عز وجل:

﴿وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ...﴾

“যায়েদ(রাঃ) অসুস্থ থাকার কারণে রাসূল ﷺ তাঁকে দেখতে যান। যায়েদ(রাঃ) এর স্ত্রী যয়নাব(রাঃ) তখন তাঁর মাথার কাছে বসে তাঁর সেবা করছিলেন। যখন তিনি (যয়নাব) কিছু কাজ করতে বাইরে গেলেন, তখন নবী ﷺ তাঁর দিকে তাকালেন, তাঁর মাথা নিচু করলেন এবং বললেন, ‘সকল প্রশংসা তাঁর! যিনি চোখ ও হৃদয়ের দিক পরিবর্তন করেন।’ তখন যায়েদ(রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে আপনার জন্য তালাক দিবো?’ কিন্তু নবী ﷺ জবাব দিলেন, ‘না।’ তারপর এই আয়াত অবতীর্ণ হলো, ‘আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন। আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত।” [?]

অথচ তাবারীর বর্ণনায় যায়েদ (রাঃ) তখন বাসার বাইরে ছিলেন। [?]একজন মানুষ একই সময়ে অসুস্থ হয়ে বিছানায় আবার বাসার বাইরে থাকতে পারেন না — এই সরল অসামঞ্জস্য বর্ণনাগুলোর মৌলিক অনির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করে। তাছাড়া ইবনে ইসহাকের এই বর্ণনায় কোনো সনদই নেই এবং সিরাত ইবনে হিশাম গ্রন্থে এই ঘটনার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। এই বর্ণনাটি সহীহ নয়। প্রথমত, এটি একটি মুরসাল (مرسل) বর্ণনা; কারণ তাবিঈ আশ-শা'বী (রহ.) কোনো সাহাবির নাম উল্লেখ না করে সরাসরি ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।[?] দ্বিতীয়ত, এর সনদে সুলায়ম মাওলা আশ-শা'বী রয়েছেন, যাকে বহু মুহাদ্দিস দুর্বল, এমনকি কেউ কেউ মাতরূকুল হাদিস বলে আখ্যায়িত করেছেন।[?] তৃতীয়ত, শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রহ.) তাঁর আস-সিলসিলাহ আদ-দা‘ঈফাহ গ্রন্থে এ বর্ণনাকে "منكر جدا" (অত্যন্ত মুনকার) বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া শায়খ মুহাম্মদ ইবন সালিহ আল-উসাইমীন (রহ.) অনুরূপ বর্ণনাকে "باطل" (বাতিল) বলে মন্তব্য করেছেন।[?] ফলে হাদিস বিশারদদের মূল্যায়ন অনুযায়ী এ বর্ণনাটি নির্ভরযোগ্য বা প্রমাণযোগ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। [?]

এই গল্পের সম্ভাব্য উৎস

এই ধরনের বর্ণনা কীভাবে ইতিহাসগ্রন্থে ঢুকে পড়ল? দুটি সম্ভাবনা:

প্রথমত, আল-ওয়াকিদী — যাঁকে মুহাদ্দিসরা মিথ্যাবাদী বলেছেন — নিজেই এই গল্পটি তৈরি করেছেন। তিনি সনদবিহীন অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনা দিয়ে তাঁর গ্রন্থ ভরিয়েছেন, যা তাঁর সমসাময়িক আলেমরাও সমালোচনা করেছেন — ইমাম শাফিয়ী, আল-খতিব আল-বাগদাদী, আয-যাহবী, ইবনে মুঈন, দারকুতনী, ইবনে আদি প্রমুখ।[?]

দ্বিতীয়ত, বাইবেলের রাজা দাউদ ও বাতসেবার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ এই বর্ণনা তৈরি করেছে। সেই গল্পে রাজা দাউদ সুন্দরী বাতসেবাকে গোসলরত নগ্নাবস্থায় দেখে আসক্ত হন এবং তাঁর স্বামীকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাতসেবাকে নিজের কাছে নিয়ে নেন। ইসলাম-বিদ্বেষীরা এই বাইবেলীয় আখ্যানের ছাঁচে নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর জীবনে একটি সমান্তরাল কাহিনি আরোপ করার চেষ্টা করেছেন।[?]


"অন্তরে গোপন বিষয়": কোরআনের সেই আয়াতের প্রকৃত অর্থ

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আসি। কোরআনের এই আয়াত নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়:

আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন। আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। (৩৩:৩৭)

মুনাফিক ও ইসলাম-বিদ্বেষীরা "অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন" বলতে নবী (ﷺ)-এর মনে যায়নাব (রাঃ)-এর প্রতি কামনা জাগার ঘটনা বোঝানোর চেষ্টা করেন।

তাফসির এ ইবনে আবু হাতিম গ্রন্থে স্পষ্ট বর্ণিত আছে, যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) যে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী হবেন, এ কথা বহু আগেই আল্লাহ তাঁকে জানিয়েছিলেন।


إنَّ اللهَ أعلمَ نبيَّهُ ﷺ أنَّها ستكونُ من أزواجِهِ قبلَ أن يتزوَّجَها، فلمَّا أتاهُ زيدٌ يشكوها إليه قال: اتَّقِ اللهَ وأمسكْ عليكَ زوجَكَ، فقال اللهُ: قد أعلمتُكَ أنِّي مزوِّجُكَها، وتُخفي في نفسِكَ ما اللهُ مُبديه.
আল্লাহ তাঁর নবী ﷺ-কে আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যয়নাব তাঁর স্ত্রীদের একজন হবেন। এরপর যখন যায়েদ (রা.) যয়নাব সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে নবী ﷺ-এর কাছে এলেন, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো।” তখন আল্লাহ বলেন, “আমি তো তোমাকে আগেই জানিয়েছিলাম যে, আমি তাঁর সঙ্গে তোমার বিবাহ দেব। অথচ তুমি তোমার অন্তরে সেই বিষয়টি গোপন রেখেছিলে, যা আল্লাহ প্রকাশ করে দেবেন।”

[?]

অপর রিওয়াতে এসেছে ,

١٧٦٩٥ - عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، قَالَ: قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ: مَا يَقُولُ الْحَسَنُ فِي قَوْلِهِ: ﴿وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ﴾؟ فَقُلْتُ: يَقُولُ: لَمَّا جَاءَ زَيْدٌ يَشْكُوهَا إِلَيْهِ أَعْجَبَهُ حُسْنُهَا، فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ. فَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ: لَا، وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعْلَمَ نَبِيَّهُ ﷺ أَنَّ زَيْنَبَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا سَتَكُونُ مِنْ أَزْوَاجِهِ قَبْلَ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا، فَلَمَّا أَتَاهُ زَيْدٌ يَشْكُوهَا إِلَيْهِ قَالَ: اتَّقِ اللَّهَ وَأَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ، فَقَالَ اللَّهُ: قَدْ أَخْبَرْتُكَ أَنِّي مُزَوِّجُكَهَا، وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ.
আলী ইবন হুসাইন (রহ.) বলেন: “হাসান (রহ.) ‘তুমি তোমার অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলে, যা আল্লাহ প্রকাশ করবেন’—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় কী বলেন?” আমি বললাম, “তিনি বলেন, যায়েদ যখন যয়নাব সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে নবী ﷺ-এর কাছে এলেন, তখন তাঁর সৌন্দর্য নবী ﷺ-এর ভালো লাগল এবং তিনি বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! হৃদয়সমূহের পরিবর্তনকারী।’” তখন আলী ইবন হুসাইন বললেন, “না। বরং আল্লাহ তাঁর নবী ﷺ-কে তাঁর সঙ্গে বিবাহের পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যয়নাব তাঁর স্ত্রীদের একজন হবেন। অতঃপর যখন যায়েদ তাঁর সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে এলেন, তখন নবী ﷺ বললেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো।’ তখন আল্লাহ বললেন, ‘আমি তো তোমাকে আগেই জানিয়েছিলাম যে, আমি তাঁর সঙ্গে তোমার বিবাহ দেব। অথচ তুমি তোমার অন্তরে সেই বিষয়টি গোপন রেখেছিলে, যা আল্লাহ প্রকাশ করে দেবেন।’”


এটি ʿআলী ইবনুল হুসাইন (যাইনুল আবিদীন)-এর ব্যাখ্যা হিসেবে প্রসিদ্ধ এবং এই ব্যাখ্যাটিকেই পরবর্তীকালে বহু মুফাসসির, যেমন ইবন কাসীর, ইবন হাজার আল-আসকালানী এবং অন্যরা উদ্ধৃত করেছেন যে,

নবী ﷺ অন্তরে গোপন রেখেছিলেন আল্লাহর পূর্বে জানিয়ে দেওয়া ঐশী সংবাদ, কোনো গোপন আকর্ষণ নয়।যে, "তুমি অন্তরে যা গোপন রেখেছিলে"—তা যয়নাবের প্রতি কোনো গোপন আকর্ষণ নয়; বরং আল্লাহর পূর্বেই জানিয়ে দেওয়া ঐশী সংবাদ যে, একসময় যয়নাব (রা.) নবী ﷺ-এর স্ত্রী হবেন।অন্তরে গোপন রাখা বিষয়টি ছিল এই ঐশীজ্ঞান — এই বিশেষ বিবাহের পরিকল্পনা, যা পালকপ্রথার বিলুপ্তির জন্য আবশ্যক ছিল।[?]

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ভালোমতোই বুঝতেন এই ঘটনা প্রকাশ পেলে মদিনার মুনাফিকরা সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং উম্মাহ বিভ্রান্ত হবে। সেই আশঙ্কায় তিনি যায়েদ (রাঃ)-কে বারবার বিবাহ না ভাঙতে অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু আল্লাহ বললেন: তুমি আল্লাহর ভয়ের চেয়ে লোকনিন্দার ভয় বেশি করছ।

হযরত আয়েশা (রাঃ) এই প্রসঙ্গে বলতেন:

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ:

لَوْ كَانَ مُحَمَّدٌ ﷺ كَاتِمًا شَيْئًا مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ لَكَتَمَ هَذِهِ الْآيَةَ:

﴿وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ﴾ [الأحزاب: ٣٧]

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, “যদি মুহাম্মদ ﷺ তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহির কোনো অংশ গোপন করতেন, তবে অবশ্যই তিনি এই আয়াতটিই গোপন করতেন: ‘আর স্মরণ করুন, যখন আপনি তাকে বলছিলেন, যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও অনুগ্রহ করেছেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো। অথচ তুমি তোমার অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলে, যা আল্লাহ প্রকাশ করে দেবেন…’”

[?]

এই আয়াতের অস্তিত্ব আসলে মিথ্যাচারীদের আরেক মিথ্যার বিপরীত প্রমাণ দেয়। যদি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই এই গ্রন্থের রচয়িতা হতেন, তাহলে কোনো বিচক্ষণ মানুষ নিজেকে সমালোচনার মুখে ফেলার মতো এই আয়াত নিজে লিখতেন না। পবিত্র কুরআনে এই আয়াতটি থাকাই প্রমাণ করে, এটি রাসূল ﷺ এর নিজের লেখা কোনো বই ছিলো না। বরং এটি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি সকল প্রকাশ্য ও গোপন বিষয় সম্পর্কে অবগত।


যৌন আকর্ষণের মিথ্য দাবি: চারটি যুক্তির কাঠগড়াই

ইসলাম-বিদ্বেষীদের দাবি যুক্তির নিক্তিতে পরীক্ষা করলে চারটি স্তরে ভেঙে পড়ে:

প্রথমত, যায়নাব (রাঃ) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন ফুফাতো বোন। তাঁর রূপ-গুণ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত অবগত ছিলেন। তাহলে "হঠাৎ দেখে আসক্ত হওয়ার" প্রশ্ন কোথা থেকে উঠবে?

দ্বিতীয়ত, এই বিবাহের সময় যায়নাব (রাঃ)-এর বয়স ছিল প্রায় ৩৯ বছর (ক্যারেন আর্মস্ট্রং, মুহাম্মদ মহানবীর জীবনী, পৃ. ২২৯)। তিনি ছিলেন বিধবা এবং সারাজীবন শীর্ণকায় রোগাক্রান্ত শরীরের অধিকারী। যদি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) শারীরিক আকর্ষণেই তাঁকে চাইতেন, তাহলে যৌবনে থাকতেই বিয়ে করতে পারতেন।

তৃতীয়ত, যদি সত্যিই নবী (ﷺ) যায়নাব (রাঃ)-এর প্রতি আকৃষ্ট হতেন, তাহলে কেন তিনি তাঁকে অন্যের সাথে বিয়ে দিলেন? বরং প্রস্তাব দেওয়ার সময়েই তো নিজেই বিয়ে করতেন।

চতুর্থত, পাশ্চাত্যের ন্যায়পরায়ণ পণ্ডিতরাও এই অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করেছেন। ক্যারেন আর্মস্ট্রং, মন্টোগোমারী ওয়াট এবং স্যার জন গ্লাব প্রমুখ এ ধরনের প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেছেন।


এই বিবাহের প্রকৃত উদ্দেশ্য: পালকপ্রথার বিলুপ্তি

আল্লাহ কোরআনে স্বয়ং এই বিবাহের কারণ জানিয়ে দিয়েছেন:

অতঃপর যায়েদ যখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলো, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোনো অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে। (৩৩:৩৭)

সেই যুগে আরবে পালকপ্রথা একটি গভীর সামাজিক কুসংস্কারে পরিণত হয়েছিল — পালকপুত্রকে জৈবিক পুত্রের মতো মনে করা হতো, সম্পদে তার উত্তরাধিকার থাকতো এবং পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হতো। এই কুসংস্কার কোরআন ভেঙে দিল:

তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। (৩৩:৪)

যেভাবে কেউ হাজারবার কাউকে "মা" বললে সে সত্যিকারের মা হয়ে যায় না, তেমনি পালকপুত্রও জৈবিক পুত্র হয় না। এই শিক্ষাকে কার্যত প্রতিষ্ঠা করতে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নিজেকে প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করলেন — পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে সেই বাধা চিরতরে অপসারণ করলেন।

এই বিবাহের মাধ্যমে একসাথে দুটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হলো। বর্ণ ও শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে আঘাত করা হলো এবং পালকপ্রথার মিথ্যা আভিজাত্য চিরতরে ভেঙে দেওয়া হলো। ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকে ইসলামে এই নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হলো: পালকসন্তান জন্মদাতা পিতার পরিচয়ে থাকবে, পালক পিতার সম্পদে উত্তরাধিকার পাবে না এবং পালকপুত্রের প্রাক্তন স্ত্রীকে বিয়ে বৈধ।


ইদ্দতের পর বিবাহ: ঘটনার ক্রমধারা

এ প্রসঙ্গে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। যায়েদ (রাঃ) তালাক দিলেন আর সঙ্গে সঙ্গেই রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বিয়ে করে ফেললেন — ঘটনাটি এভাবে ঘটেনি। তালাকের পর ইসলামি বিধান মতো ইদ্দতের তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরই রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যায়েদ (রাঃ)-এর মাধ্যমে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান।

সহিহ হাদীসেই এই ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, :

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: لَمَّا انْقَضَتْ عِدَّةُ زَيْنَبَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِزَيْدٍ: اذْهَبْ فَاذْكُرْهَا عَلَيَّ. قَالَ زَيْدٌ: فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَتَيْتُهَا وَهِيَ تُخَمِّرُ عَجِينَهَا، فَلَمَّا رَأَيْتُهَا عَظُمَتْ فِي صَدْرِي... فَقُلْتُ: يَا زَيْنَبُ، أَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَذْكُرُكِ. قَالَتْ: مَا أَنَا بِصَانِعَةٍ شَيْئًا حَتَّى أُؤَامِرَ رَبِّي. فَقَامَتْ إِلَى مَسْجِدِهَا، فَنَزَلَ الْقُرْآنُ، وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَدَخَلَ عَلَيْهَا بِغَيْرِ إِذْنٍ.

আনাস (রা.) বলেন, যয়নাব (রা.)-এর ইদ্দত শেষ হলে রাসুলুল্লাহ ﷺ যায়েদ (রা.)-কে বললেন, “যাও, আমার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে বিবাহের প্রস্তাব দাও।” যায়েদ (রা.) বলেন, “আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি আটা মাখছিলেন। ... আমি বললাম, ‘হে যয়নাব! রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে আপনার কাছে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে পাঠিয়েছেন।’ তিনি বললেন, ‘আমি আমার প্রতিপালকের পরামর্শ (ইস্তিখারা) ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’ এরপর তিনি তাঁর ইবাদতের স্থানে দাঁড়ালেন। তখন কুরআনের আয়াত নাজিল হলো এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন।” [?]

এই বর্ণনা থেকে স্পষ্ট: ইদ্দত শেষ হওয়ার পর, আল্লাহর নির্দেশ নাজিলের পরেই কেবল রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাছে এসেছেন।


উপসংহার: ইতিহাস যা বলে

রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর লক্ষ্য শুধু মৌখিকভাবে ইসলাম প্রচার নয়। কুসংস্কার, বর্ণবৈষম্য, সামাজিক অবিচার এবং মানবনির্মিত শৃঙ্খল থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্যই তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন। এই বিবাহ সেই মুক্তির বাস্তব সাক্ষ্য।

যারা ওরিয়েন্টালিস্ট লেখক উইলিয়াম মূর বা মার্গোলিউথের পথ ধরে ইসলাম-বিদ্বেষ নিয়ে হাদিসগ্রন্থ ঘাঁটতে গিয়ে সনদবিহীন দুর্বল বর্ণনা পেয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন, তারা ইসলামি হাদিসশাস্ত্রের মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ — অথবা জেনেশুনে অসৎ।

হযরত যায়নাব (রাঃ) নিজে গর্বের সাথে বলতেন:
كَانَتْ زَيْنَبُ تَفْخَرُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ، تَقُولُ: زَوَّجَكُنَّ أَهَالِيكُنَّ، وَزَوَّجَنِي اللَّهُ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ.
"আল্লাহ আমার মধ্যে এমন তিনটি বিশেষত্ব রেখেছেন যা রাসুলের (ﷺ) অন্যান্য স্ত্রীদের মাঝে নেই — আমার নানা ও তাঁর দাদা এক ব্যক্তি; আমার বিয়ে আল্লাহ সপ্তম আকাশে স্থির করেছেন; আর আমাদের মাঝে সংবাদবাহক ছিলেন জিবরাইল (আঃ)।" [?]

ইতিহাসকে পক্ষপাতমুক্তভাবে পড়লে একটাই সিদ্ধান্তে আসা যায়: যায়নাব (রাঃ) ও রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবাহ ছিল একটি ঐশী নির্দেশের বাস্তবায়ন, একটি সামাজিক বিপ্লবের মাইলফলক এবং একটি চিরন্তন সংস্কারের ঘোষণা — অতৃপ্ত কামনার কোনো গল্প এখানে নেই।


তথ্যসূত্র

  1. হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ (Hindu Marriage Act, 1955), ধারা ৩(গ) (নিষিদ্ধ আত্মীয়তার সংজ্ঞা) এবং ধারা ৫(৪) (নিষিদ্ধ আত্মীয়তার মধ্যে বিবাহের শর্ত); তবে স্বীকৃত প্রথা বা রীতি (custom) থাকলে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য।

  2. মনুস্মৃতি, অধ্যায় ৯, শ্লোক ৫৯–৬৮।

  3. মহাভারত, আদি পর্ব, অধ্যায় ১৮৯–১৯৭।

  4. বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্র, কুম্ভ বিবাহ (বিবাহদোষ নিবারণ প্রসঙ্গ) । https://99pandit.com/bn/blog/kumbh-vivah/

  5. ঋগ্বেদ, মণ্ডল ১০, সূক্ত ৪০, ঋচা ২; মনুস্মৃতি, অধ্যায় ৯, শ্লোক ৫৯–৬৩।

  6. আল-কুরআন, সূরা আন-নিসা, আয়াত ২২–২৪; সূরা আল-মু'মিনূন, আয়াত ৫–৭।

  7. সিরাতে এ ইবনে হিসাম

  8. আর রাহিকুল মাখতুম ।

  9. মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী (রহঃ), সীরাতে মোস্তফা, পৃ. ৭২৮

  10. ইবন সা'দ, আল-তাবাকাত আল-কুবরা (الطبقات الكبرى), তাহকিক: আলী মুহাম্মদ উমর (কায়রো: মাকতাবাতুল খানজি, ২০০১), খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১০১–১০২।

    আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-তাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক, বৈরুত: দারুত তুরাস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৬২–৫৬৪।

  11. মিযানুল ই'তিদাল ফি নাকদির রিজাল, ইমাম শামসুদ্দিন যাহবী, খণ্ড ৬, পৃ. ২৭৩

  12. তাকরীবুত তাহযীব, ইবনে হাজার আসকালানী, পৃ. ২৫১ ।

  13. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম শামসুদ্দিন যাহবী, খণ্ড ২, পৃ. ৫৬২ ।

  14. ইবনুস সালাহ, মুকাদ্দিমাহ ফী উলূমিল হাদীস, বৈরুত: দারুল ফিকর, পৃ. ৫১–৫৩। ইমাম আন-নাওয়াবী, আত-তাকরীব ওয়াত-তায়সীর, পৃ. ২৯–৩১। ইমাম শাফিঈ, আর-রিসালাহ, তাহকিক: আহমদ মুহাম্মদ শাকির, কায়রো: মাকতাবাতুল হালাবী, পৃ. ৪৬১–৪৭০।

  15. মু'দাল হাদিসের সংজ্ঞা

    المعضل: ما سقط من إسناده راويان فأكثر على التوالي.

    বাংলা অর্থ:
    যে হাদিসের সনদে ধারাবাহিকভাবে (একটির পর একটি) দুইজন বা তার বেশি রাবি বাদ পড়ে যায়, তাকে মু'দাল হাদিস বলা হয়।

  16. [১] ইমাম ইবনুস সালাহ, মুকাদ্দিমাহ ফি উলূমিল হাদিস (মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ), "আল-হাদিসুল মু'দাল" অধ্যায়। [২] জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী, তাদরীবুর রাবী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী, [৩] ইবন হাজার আল-আসকালানী, নুখবাতুল ফিকার ফী মুস্তালাহি আহলিল আসার, মু'দাল হাদিসের সংজ্ঞা। [৪] মাহমুদ আত-তাহহান, তাইসীর মুস্তালাহিল হাদিস, "আল-হাদিসুল মু'দাল" অধ্যায়।

  17. আবু জা‘ফর মুহাম্মদ ইবন জারীর আত-তাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক (تاريخ الرسل والملوك), মুকাদ্দিমা (ভূমিকা), দারুল মা‘আরিফ সংস্করণ, তাহকিক: মুহাম্মদ আবুল ফাদল ইবরাহীম, খণ্ড ১, পৃ. ৭–৮।

  18. ইবন কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, সূরা আল-আহযাব (৩৩:৩৭)-এর তাফসীর।

  19. ইবন ইসহাক, আস-সীরাহ ওয়াল-মাগাযী, পৃ. ২৬২; ইবন আদী, আল-কামিল ফী দু‘আফা’ আর-রিজাল, ৩/৩১৬, ৪/৩৩৩; আল-আলবানী, আস-সিলসিলাহ আদ-দা‘ঈফাহ, হাদিস নং ৬৮৪৮; ইবন উসাইমীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, খণ্ড ১, পৃ. ৩২৫।

  20. ইবন ইসহাক, আস-সীরাহ ওয়াল-মাগাযী, পৃ. ২৬২। (বর্ণনাটি আল-কামিল ফি দু'আফা' আর-রিজাল, ৩/৩১৬-এও উদ্ধৃত হয়েছে।)

  21. ইবন ইসহাক, আস-সীরাহ ওয়াল-মাগাযী, পৃ. ২৬২; ইবন আদী, আল-কামিল ফী দু‘আফা’ আর-রিজাল, খণ্ড ৩, পৃ. ৩১৬। বর্ণনাটি শুরু হয়েছে: "عن الشعبي قال...", অর্থাৎ আশ-শা'বী থেকে সরাসরি; কোনো সাহাবির উল্লেখ নেই।

  22. ইবন আদী, আল-কামিল ফী দু‘আফা’ আর-রিজাল, খণ্ড ৪, পৃ. ৩৩৩। তিনি সুলায়ম মাওলা আশ-শা'বীর ব্যাপারে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর সনদ নিয়ে সমালোচনার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাইসারানী, যাখীরাতুল হুফ্ফায, ২/৭৩৬"[فيه] سليم مولى الشعبي متروك الحديث" (এতে সুলায়ম মাওলা আশ-শা'বী আছেন; তিনি মাতরূকুল হাদিস)।

  23. মুহাম্মদ ইবন সালিহ আল-উসাইমীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, খণ্ড ১, পৃ. ৩২৫। তাঁর রায়: "خلاصة حكم المحدث: باطل"

  24. الذهبي، شمس الدين. ميزان الاعتدال في نقد الرجال. تحقيق: علي محمد البجاوي. بيروت: دار المعرفة، 1963، جـ3، صـ662–666. ابن حجر العسقلاني، تهذيب التهذيب. حيدر آباد: دائرة المعارف العثمانية، جـ9، صـ363–368. ابن أبي حاتم الرازي، الجرح والتعديل. حيدر آباد: دائرة المعارف العثمانية، جـ8، صـ21–23.

    الذهبي، ميزان الاعتدال، 3/662

    ابن حجر، تهذيب التهذيب، 9/366

  25. The Holy Bible, Old Testament, 2 Samuel 11–12 । বচেয়ে বেশি উদ্ধৃত গবেষণাগুলো : Marcel Poorthuis, "Jewish Influences upon Islamic Storytelling: The Case of David and Bathsheba," in Intertwined Worlds: Medieval Islam and Bible Criticism, Brill, 2018.
    Uri Rubin, "David," in Encyclopaedia of the Qurʾān, ed. Jane Dammen McAuliffe (Leiden: Brill).

  26. ابن أبي حاتم الرازي، تفسير القرآن العظيم، تحقيق: أسعد محمد الطيب، مكتبة نزار مصطفى الباز، المملكة العربية السعودية، 1419هـ، جـ9، صـ3137، رقم الأثر: 17695.

  27. আত-তাবারী, جامع البيان (তাফসীর আত-তাবারী), সূরা আল-আহযাব ৩৩:৩৭-এর তাফসীরে।

    আল-বায়হাকী, دلائل النبوة, খণ্ড ৩, পৃ. ৪৬৬।

  28. সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, হাদিস নং ৭৪২০সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ১৭৭জামি‘ আত-তিরমিযী, হাদিস নং ৩২০৮;।

  29. সহীহ মুসলিম, কিতাবুন নিকাহ, باب زواج زينب بنت جحش ونزول الحجاب

    হাদিস নং: ১৪২৮ (সংস্করণভেদে নম্বর কিছুটা ভিন্ন হতে পারে; অনেক প্রকাশনায় ১৪২৮b)।

  30. Sahih al-Bukhari, কিতাবুত তাওহীদ, হাদিস নং 7420

    Jami' al-Tirmidhi, হাদিস নং 3213 (হাসান সহীহ)।

মন্তব্য

  • এখনো কোনো মন্তব্য নেই