শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির নির্ভরযোগ্যতার সম্পর্কে আলোচনা।
বিষয় : শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির নির্ভরযোগ্যতার সম্পর্কে আলোচনা।
লেখক : সামিউল হাসান তবিব আল-ইনফিরাদী।
(1).ভূমিকা :-
সহিহ-মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, _[1]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِي فَقَال خَلَقَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الأَحَدِ وَخَلَقَ الشَّجَرَ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَخَلَقَ الْمَكْرُوهَ يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَخَلَقَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فِي آخِرِ الْخَلْقِ وَفِي آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ سَاعَاتِ الْجُمُعَةِ فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلَى اللَّيْل…
অর্থ : আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তা’আলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেন এবং এতে পর্বত সৃষ্টি করেন রবিবার দিন। সোমবার দিন তিনি বৃক্ষরাজি সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার দিন তিনি বিপদাপদ সৃষ্টি করেন। তিনি নূর সৃষ্টি করেন বুধবার দিন। তিনি বৃহস্পতিবার দিন পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন এবং জুমুআর দিন আসরের পর জুমুআর দিনের শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ আসর থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সর্বশেষ মাখলুক আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেন।
উক্ত হাদিসটিকে "শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিস" (حديث خلق التربة في يوم السبت) বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
সহিহ-মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও, শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির শুদ্ধতা মতভেদপূর্ণ ও বিতর্কিত। উলামাদের একটা বড় উল্লেখযোগ্য অংশ উক্ত হাদিসটিকে অনির্ভরযোগ্য (ইল্লতযুক্ত) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(2).সহিহ-মুসলিমের হাদিস আবার ইল্লতযুক্ত হয় কীভাবে? :-
সমগ্র সহিহ-মুসলিমের 3033টি হাদিসের মধ্যে খুবই সামান্য সংখ্যক হাতেগোনা এমন কয়েকটা ব্যতিক্রমী হাদিস আছে যেগুলোর উপর সহিহ-মুসলিমের বিশেষ মর্যাদা প্রযোজ্য হবে না, এবং এমনই একটি ব্যতিক্রমী হাদিস হলো শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটি। _[2]
"সহিহ-মুসলিমের সব হাদিস সহিহ" এবং "সহিহ-মুসলিমের সব হাদিস সহিহ হওয়ার উপর ইজমা আছে", এসব কথা সাধারণীকরণের উদাহরণ। সহিহ-মুসলিমের ব্যাপারে বিদ্যমান এই ধরনের সাধারণীকরণমূলক কথাবার্তার দরুন বর্তমানে শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটিকে অবজ্ঞা ও অগ্রাহ্য করা হয়ে থাকে, যা অন্যায্য এবং অসঙ্গত।
সহিহ-মুসলিমে আছে মোট 3033টি হাদিস। শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটি হচ্ছে সহিহ-মুসলিমে বিদ্যমান 3033 টি হাদিসের অন্তর্ভুক্ত 1টি হাদিস। শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটি সহিহ-মুসলিমের সকল হাদিসের 0.03297066% এর প্রতিনিধিত্ব করে। অপরদিকে, এই 1টি হাদিসকে বাদ দিয়ে বিবেচনা করলে, সহিহ-মুসলিমের বাকি সব হাদিস মিলে সমগ্র সহিহ-মুসলিমের 99.96702934% এর প্রতিনিধিত্ব করে।
কোনো একটা সাধারণীকরণ 99.96702934% ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে এবং এর বিপরীতে কেবল 0.03297066% ক্ষেত্রে অপ্রযোজ্য হলে, উক্ত সাধারণীকরণে 0.03297066% ব্যতিক্রমের বিষয়টির অব্যক্ত থেকে যাওয়াটা খুবই প্রত্যাশিত, যেহেতু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তূলনামূলকভাবে অতিনগণ্য। তুলনামূলক অতিস্বল্পতার কারণে ব্যতিক্রমের উপেক্ষাকৃত হওয়াটা কোনো ত্রুটি নয় বরং তা আসলে ভাষাপ্রয়োগেরই একটি স্বাভাবিক পন্থা।_[3]
কোনো আলিম কর্তৃক সহিহ-মুসলিমের ব্যাপারে তাঁর করা কোনো সাধারণীকরণে সহিহ মুসলিমের সব হাদিসকে শুদ্ধ বলার দ্বারা এটা প্রমাণিত হবে না যে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটিকেও শুদ্ধ মনে করেছেন, বরং এক্ষেত্রে উক্ত হাদিসের নির্ভরযোগ্যতার প্রেক্ষিতে তাঁর অবস্থান অজ্ঞাতই থাকবে, কেননা এক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা থেকে যায় যে উক্ত আলিম তাঁর উক্ত সাধারণীকরণে 0.03297066% ব্যতিক্রমের বিষয়টিকে বিবেচনায় রাখেননি।
শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির শুদ্ধতার প্রেক্ষিতে সংঘটিত মতভেদটি একটি যথার্থ ইখতিলাফ। উক্ত হাদিসটির সহিহ হওয়ার পক্ষে এবং বিপক্ষে অর্থাৎ উভয় পাশেই যথেষ্ট সংখ্যক উলামাদের অবস্থান রয়েছে। এই হাদিসটি সহিহাইনের, বিশেষ করে সহিহ-মুসলিমের, সেসব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয় যেসব হাদিসের ইল্লতযুক্ত হওয়ার পক্ষে তুলনামূলকভাবে খুবই অল্প কিছু সংখ্যক মুহাদ্দিসের কিছু বিচ্ছিন্ন প্রত্যাখ্যাত মতামত পাওয়া যায়।
(3).আল-আখদ্বার কর্তৃক বর্ণিত একটি শায সনদ :-
শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটিকে আন-নাসাঈ নিম্নোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। _[4]
أخبرنا إبراهيم بن يعقوب، قال: حدثني محمد بن الصباح، قال: حدثنا أبو عبيدة الحداد، قال: حدثنا الأخضر بن عجلان، عن ابن جريج المكي، عن عطاء، عن أبي هريرة،
উক্ত সনদটিতে, আল-আখদ্বার বিন আজলান বর্ণনা করেছেন যে ইবনু জুরাইজ হাদিসটি পেয়েছেন আতা হতে।
অপরদিকে, হাজ্জাজ বিন মুহাম্মাদ, হিশাম বিন ইউসুফ এবং মুহাম্মাদ বিন ছাওর বর্ণনা করেছেন যে ইবনু জুরাইজ হাদিসটি পেয়েছেন ইসমাইল বিন উমাইয়াহ হতে।
অর্থাৎ, ইবনু জুরাইজ হাদিসটি কার কাছ থেকে পেয়েছেন তা নিয়ে এক্ষেত্রে সনদে মতভেদ ঘটেছে।_[5] আল-আখদ্বার এর মতে ইবনু জুরাইজ হাদিসটি পেয়েছেন আতা হতে। পক্ষান্তরে, হাজ্জাজ ও হিশাম এবং ইবনু ছাওর এর মতে ইবনু জুরাইজ হাদিসটি পেয়েছেন ইসমাঈল বিন উমাইয়াহ হতে।
হাদিসের রাওই হিসেবে, আল-আখদ্বার এর চেয়ে হাজ্জাজ এবং হিশাম অধিকতর নির্ভরযোগ্য।
হাজ্জাজ, হিশাম এবং ইবনু ছাওর কর্তৃক ইবনু জুরাইজ হতে বর্ণিত সূত্রটি শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ এবং পরিচিত। অপরদিকে আল-আখদ্বার কর্তৃক বর্ণিত সূত্রটি শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির ক্ষেত্রে কিছুটা দূর্লভ।
সুতরাং, আন-নাসাঈ কর্তৃক বর্ণিত উপর্যুক্ত সনদটি শায।_[6]
(4).হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে :-
শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির নিম্নোক্ত ইল্লতসমূহ মুহাদ্দিসদের তরফ থেকে বর্ণিত হয়েছে।_[7]
(১) হাদিসটি প্রকৃতপক্ষে কাব আল-আহবার কর্তৃক ইসরাইলিয়াত হতে গৃহীত একটি বর্ণনা যা মুহাম্মাদ (সা) হতে মারফুউরূপে বর্ণিত হয়ে গিয়েছে ভুলবশত।
(২) ইসমাঈল বিন উমাইয়াহ হাদিসটিকে আইয়ুব বিন খালিদ হতে শ্রবণ করেননি বরং তিনি তা শ্রবণ করেছেন মাতরুক রাওই ইব্রাহিম বিন আবি-ইয়াহইয়া থেকে। অর্থাৎ, ইসমাঈল বিন উমাইয়াহ সনদ বর্ণনাকরণে ভুল করেছেন।
(৩) আবুল-ফাতাহ আল-আযদী এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-ক্বাত্তান হাদিসটির একজন মুখ্য রাওই আইয়ুব বিন খালিদ কে যইফ সাব্যস্ত করেছেন।
(৪) হাদিসটির মাতান অসামঞ্জস্যতাপূর্ণ এবং সমস্যাসঙ্কুল।
শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটিকে সমর্থনকারী উলামাদের মধ্য থেকে অনেকের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
(১) ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-ক্বাত্তান। [7]
(২) আব্দুর-রহমান বিন মাহদী৷ [7]
(৩) আলী ইবনুল-মাদিনী। [7]
(৪) ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াঈন। [7]
(৫) মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী৷ [7]
(৬) মুহাম্মাদ ইবনু জারির আত্ব-ত্ববারী৷ [7]
(৭) আবুল-ফাতাহ আল-আযদী। [7]
(৮) আবু-বকর আল-বায়হাক্বী। [7]
(৯) ইবনু আতিয়াহ আল-আন্দালুসী। [7]
(১০) আবুল-আব্বাস আল-ক্বুরতুবী। [7]
(১১) আবু-আব্দিল্লাহ আল-ক্বুরতুবী। [7]
(১২) মুহিউদ্দিন আন-নওওই৷ [8]
(১৩) তাক্বিউদ্দিন ইবনু তাইমিয়াহ৷ [7]
(১৪) ইবনু ক্বাইয়িমিল-যাওযিয়াহ৷ [7]
(১৫) জামালুদ্দিন আল-মিযযী। [9]
(১৬) আলাউদ্দিন আল-খাযিন। [10]
(১৭) ইবনু কাসির আদ-দিমাশক্বী। [7]
(১৮) আব্দুল-ক্বাদির আল-ক্বুরেশী। [7]
(১৯) ইবনু আবিল-ইযয আল-হানাফী। [11]
(২০) বাদরুদ্দিন আয-যারকাশী। [7]
(২১) সিরাজুদ্দিন ইবনুল-মুলাক্বক্বীন৷ [12]
(২২) আল-মোল্লা আলী আল-ক্বারী। [13]
(২৩) আব্দুর-রুয়ুউফ আল-মুনাওই। [7]
(২৪) মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আস-সনআনী। [14]
(২৫) শিহাবুদ্দিন আবুছ-ছানা আল-আলওয়াসী। [7]
(২৬) মুহাম্মাদ ছানাউল্লাহ আল-মাযহারী৷ [15]
(২৭) আবু-আব্দির-রহমান আল-হুউত৷ [16]
(২৮) মুহাম্মাদ রাশিদ রিদ্বা। [7]
(২৯) জামালুদ্দিন আল-ক্বাসিমী। [7]
(৩০) আব্দুল-হাফীয আল-ফাসী। [7]
(৩১) আবুল-ফাইদ্ব আহমাদ আল-গুমারী৷ [7]
(৩২) মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতিঈ৷ [7]
(৩৩) মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন। [7]
(৩৪) আব্দুল-আযিয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায৷ [17][18]
(৩৫) শুয়াঈব আল-আরনাউউত। [7]
(৩৬) বকর আবু-যাইদ। [18]
(৩৭) সালিহ আল-ফাওযান। [18]
(৩৮) আব্দুল্লাহ বিন গ্বদইয়ান। [18]
(৩৯) আব্দুল-আযিয আল আশ-শায়খ। [18]
(৪০) আব্দুল-আযিয বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজিহী। [19]
(8১) মুহাম্মাদ দ্বিয়াউর রহমান আল-আ'যামী। [20]
(৪২) ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-লাহিম। [21]
(৪৩) মুহাম্মাদ আবু-শুহবাহ। [7]
(৪৪) সাঈদ বিন মুহাম্মাদ আস-সানারী। [22]
(৪৫) হুসাইন সালিম আসাদ। [23]
(৪৬) বাশশার আওয়াদ মারুফ। [24]
(৪৭) মুহাম্মাদ বিন ফারিদ যারইওহ। [7]
(৪৮) সুলাইমান বিন মুহাম্মাদ আদ-দাবিখী। [7]
(৪৯) আহমাদ আল-ক্বুসাইইর। [7]
(৫০) আব্দুল্লাহ আল-গ্বুনাইমান। [25]
(৫১) নাসির বিন আব্দিল-কারিম আল-আলী। [26]
শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটিকে ইল্লতযুক্ত সাব্যস্তকারী উলামাদের সংখ্যাটা কম (قليل) নয় বরং বেশি (كثير)। _[27]
(5).হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটিই উলামদের অধিকাংশের মত :-
অধিকাংশ উলামাদের মতে, ছয় দিনের সৃষ্টিকার্য রবিবারে আরম্ভ হয়ে শুক্রবারে শেষ হয়েছে।_[28]
অপরদিকে, শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটি অনুযায়ী, ছয় দিনের সৃষ্টিকার্য শনিবারে আরম্ভ হয়ে বৃহস্পতিবারে শেষ হয়েছে, যা অধিকাংশ উলামাদের মতের সহিত সাংঘর্ষিক।
সুতরাং, উলামাদের অধিকাংশই উক্ত হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। _[29]
এখন, এই যুক্তির বিরুদ্ধে দুইটি আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে, যথা :-
(১) শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটি উলামাদের অধিকাংশের নিকটই হয়তো অজ্ঞাত ছিল।
(২) শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটিতে বর্ণিত দিনগুলো সৃষ্টিকার্যের ছয় দিন হতে ভিন্ন।
উক্ত আপত্তিদ্বয় খুবই দূর্বল।
প্রথমত, আলোচনাধীন হাদিসিটি একটি প্রসিদ্ধ ও পরিচিত হাদিস।_[30]
দ্বিতীয়ত, উক্ত হাদিসে বর্ণিত দিনগুলি কর্তৃক সৃষ্টিকার্যের ছয় দিন হতে ভিন্ন হওয়ার ব্যাখ্যাটি বৈধ, সম্ভাব্য এবং গ্রহণযোগ্য, তবে একইসাথে তুলনামূলকভাবে খুবই সাম্প্রতিক। বিংশ শতাব্দীর আগে এই ব্যাখ্যার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রচলন ছিল না। বিপরীতভাবে, বিংশ শতাব্দীর আগে এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল যে উক্ত হাদিসে সৃষ্টিকার্যের ছয় দিনের সম্পর্কেই বলা হয়েছে।_[31]
(6).হাদিসটির ইল্লতমুক্ত হওয়ার মতটির বিপরীতে হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটিকে সমর্থনকরণ :-
(6.1). প্রথম ভাগ :-
(ক) আহলুল-কিতাবদের নিকট এটা সুপ্রতিষ্ঠিত যে সৃষ্টিকার্যের ছয় দিন হলো রবিবার থেকে আরম্ভ করে শুক্রবার পর্যন্ত, এটাই লেখা আছে তাদের ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে। অপরদিকে, নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, কাব আল-আহবারও এটাই বলেছেন।_[32]
(ক.১) মূলধারাসমূহ হতে বিচ্ছিন্ন এবং তাই কম পরিচিত কিছু আহলুল-কিতাব উপদলের অস্তিত্ব ছিল, যাদের মাঝে উক্ত মূলধারাগুলির সহিত সাংঘর্ষিক কোনো বর্ণনার প্রচলন থাকাটা প্রত্যাশিত। এরূপ কোনো উপদলের মধ্য থেকে আগত কোনো বর্ণনাও ইসরাইলিয়াতেরই আওতাধীন হবে।
(ক.২) এক্ষেত্রে এমনটা হওয়া খুবই সম্ভব যে, উক্ত প্রেক্ষিতে, পরস্পরের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ দুইটি ভিন্ন বর্ণনা কাব কর্তৃক ইসরাইলিয়াত থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খ) মুহাদ্দিসগণ এব্যাপারে একমত যে, ইসমাইল বিন উমাইয়াহ ছিক্বাহ গায়রে-মুদাল্লিস।
(খ.১) ইসমাঈল বিন উমাইয়াহ এর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কেবল শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটিকে বর্ণনাকরণের ক্ষেত্রে ভুলবশত কোনো তাদলিসজাতীয় ত্রুটি সংঘটিত হওয়াটা ইসমাইল বিন উমাইয়াহ এর ছিক্বাহ গায়রে-মুদাল্লিস হওয়াকে নাকচ করবে না। _[33]
(গ) মুহাদ্দিসদের সিংহভাগের দৃষ্টিতে, আইয়ুব বিন খালিদ নির্ভরযোগ্য।
(গ.১) কেবলমাত্র আইয়ুব বিন খালিদ এর কারণে আলোচনাধীন হাদিসটিকে ইল্লতযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন এমন উলামাদের সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। এক্ষেত্রে, আইয়ুব বিন খালিদ এর যইফ হওয়াটা একটি অপ্রধান গৌণ ইল্লত।
(ঘ) হাদিসটির মাতানের অসামঞ্জস্যতাসমূহের সমাধানস্বরূপ বিভিন্ন রকমের বহু ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, হাদিসটিকে ইল্লতমুক্ত সাব্যস্তকারীদের একাংশের পক্ষ থেকে৷
(ঘ.১) হাদিসটিকে ইল্লতযুক্ত সাব্যস্তকারীদের একাংশ উক্ত ব্যাখ্যাগুলিকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। _[7]
(ঘ.২) সামঞ্জস্যসাধনমূলক এসব ব্যাখ্যা (تأويل) আলোচনাধীন হাদিসের মাতানের বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ হতে খুবই দূরবর্তী এবং একইসাথে অত্যন্ত জটিল। এরূপ কোনো ব্যাখ্যার গ্রহণযোগ্য হওয়ার একটি পূর্বশর্ত এই যে, ব্যাখ্যাটির পক্ষে অন্তত একটি ভিত্তি (قرينة) থাকতে হবে।
(ঘ.২.১) হাদিসটির সনদের বাহ্যিক নির্ভরযোগ্যতাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে এসব ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে, হাদিসটির মাতানে এমন কিছুই নেই যা এসব ব্যাখ্যার ভিত্তির ভূমিকা পালনের যোগ্যতা রাখে। সুতরাং, উলামাদের একাংশ কর্তৃক হাদিসটির মাতানের প্রেক্ষিতে উত্থাপিত আপত্তিসমূহের বিপরীতে এসব ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না।
(6.2). দ্বিতীয় ভাগ :-
শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসিটির ইল্লতমুক্ত হওয়ার মতটিকে সমর্থনকারী উলামাদের মধ্য থেকে অনেকের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
(১) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব
(২) মুসলিম ইবনুল-হাজ্জাজ
(৩) মুহাম্মাদ ইবনু খুযাইমাহ
(৪) আবু-বকর ইবনুল-আনবারী
(৫) ইবনু হিব্বান আল-বুস্তী
(৬) আবু-মানসুর আল-আযহারী
(৭) আবু-বকর ইবনুল-আরাবী
(৮) আবুল-ফারাজ ইবনুল-যাওযী
(৯) সালাহুদ্দিন আল-আলাঈ
(১০) জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতী
(১১) আব্দুর-রহমান আস-সুহাইলী
(১২) আবু-আব্দিল্লাহ আল-বালানসী
(১৩) আবু-হাইয়ান আল-আন্দালুসী
(১৪) জামালুদ্দিন ইবনুয-যাহিরী
(১৫) সাবাতু ইবনিল-যাওযী
(১৬) হাসান বিন আলী আল-ফাইয়ুমী
(১৭) মুহাম্মাদ বিন আলী আশ-শাওকানী
(১৮) আব্দুর-রহমান আল-মুয়াল্লিমী
(১৯) মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
(২০) আবু-ইসহাক্ব আল-হুয়াইনী
(২১) আহমাদ শাকির
(২২) সিদ্দিক হাসান খান আল-ক্বিন্নুজী
(২৩) ইসমাঈল হাক্বক্বী
(২৪) হাসান আবুল-আশবাল আয-যুহাইরী
(★) বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক এবং বর্তমান উলামাদের বেশিরভাগই আলোচনাধীন হাদিসটির ইল্লতমুক্ত হওয়ার মতটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এক.
আব্দুর-রহমান আল-মুয়াল্লিমী এবং মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটির জবাবে বিস্তারিত আলোচনা করাপূর্বক উক্ত হাদিসটিকে ইল্লতমুক্ত সহিহ সাব্যস্ত করেছেন। তাঁদের দুইজনের পরে আগত উলামাদের মধ্য থেকে যাঁরা হাদিসটিকে ইল্লতমুক্ত সাব্যস্ত করেছেন তাঁদের একটা বড় অংশই উক্ত হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটির ভুল হওয়ার এক বা একাধিক কারণ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। আল-মুয়াল্লিমী ও আল-আলবানী এর আগে, উক্ত হাদিসটিকে যাঁরা ইল্লতমুক্ত সহিহ সাব্যস্ত করেছেন, তাঁদের প্রায় সকলেই উক্ত হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটিকে উদ্দেশ্য করে কোনো মন্তব্য করা হতে বিরত থেকেছেন।
পক্ষান্তরে, হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটিকে সমর্থনকারীদের প্রায় প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ইল্লত বর্ণনা করেই হাদিসটিকে ইল্লতযুক্ত মনে করেছেন।
ইল্লতযুক্ত হওয়ার কারণ বর্ণনার সহিত ইল্লতযুক্ত সাব্যস্তকরণ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হবে বর্ণিত ইল্লতের প্রত্যুত্তরবিহীন ইল্লতমুক্ত সাব্যস্তকরণের উপর। _[34]
দুই.
ইবনু তাইমিয়াহ এর মতে, ইবনুল-যাওযি কর্তৃক শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটিকে সহিহ মনে করার কারণ হলো তাঁর এই ভুল ধারণা যে সহিহ-মুসলিমের কোনো হাদিস ইল্লতযুক্ত হতেই পারে না।_[35]
অর্থাৎ, এক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বাস্তব সম্ভাবনা এই যে, হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্তকারীদের মধ্যে এমন উলামারাও অন্তর্ভুক্ত আছেন যাঁরা কিনা হাদিসটিকে সহিহ বলে নিছক ধরে নিয়েছেন, কেবল এই কারণে যে হাদিসটি সহিহ-মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, এবং হাদিসটির শুদ্ধতার প্রেক্ষিতে সংঘটিত ইখতিলাফের উপর তাই দৃষ্টিপাতই করেননি।
তিন.
ইবনু জারির আত্ব-ত্ববারী বলেছেন যে, ছয় দিনের সৃষ্টিকার্য রবিবারে আরম্ভ হওয়ার উপর সালাফ উলামাদের ইজমা আছে। এ প্রেক্ষিতে উল্লেখ্য যে, আত্ব-ত্ববারী এর পরিভাষায় অধিকাংশের মতও ইজমা। অপরদিকে, আবু-জা'ফার আন-নাহহাস বলেছেন যে, অধিকাংশ মানুষ এই মতের উপরই বিশ্বাস রাখে। _[28]
অর্থাৎ, প্রথম তিনশত হিজরি বছরে, অধিকাংশ উলামা এবং একইসাথে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতেন যে ছয় দিনের সৃষ্টিকার্য রবিবারে আরম্ভ হয়ে শুক্রবারে শেষ হয়েছে, যা কিনা আলোচনাধীন হাদিসটির সহিত সাংঘর্ষিক।
সুতরাং, প্রথম তিনশত হিজরি বছরে, উক্ত হাদিসটির অগ্রহণযোগ্যতাই অধিকতর সমর্থিত ছিল।
চার.
মানব মুহাদ্দিস মুসলিম ইবনুল-হাজ্জাজ কর্তৃক সংকলিত সহিহ-মুসলিম নামে প্রসিদ্ধ হাদিসগ্রন্থটি 99.9% ক্ষেত্রে নির্ভুল ও বিশুদ্ধ এবং কেবল 0.1% ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত। উক্ত 0.1% ক্ষেত্রেরই একটি উদাহরণ হলো শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটি। _[35]
(7).উপসংহার :-
এক্ষেত্রে, কোন মতটা একদম চূড়ান্তভাবে সঠিক তা নিয়ে অনন্তকাল যাবত তর্ক-বিতর্ক করা যাবে, উভয় মতের পক্ষেই অগণিত পন্থায় হাজার রকমের বহু যুক্তি-দলিল দেওয়া যাবে। শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়াটা যে একটি সুসমর্থিত বিবেচ্য ধর্তব্য বৈধ ইখতিলাফি মত, কেবল এতটুকু প্রমাণ করে দেখানোটাই আমার এই লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য।
শনিবারে মাটি সৃষ্টির হাদিসটির শুদ্ধতার উপর সংঘটিত ইখতিলাফের ব্যাপারে এবং উক্ত হাদিসটির ইল্লতযুক্ত হওয়ার মতটির পক্ষে আরো বিস্তারিতভাবে জানার জন্য [7]-নং টীকাতে প্রদত্ত সূত্রগুলো দেখা যেতে পারে।
(8).টীকাসমূহ :-
[1]
انظر : صحيح مسلم (دار الطباعة العامرة ، 8/127) و مسند أحمد (مؤسسة الرسالة ، 14/82 ، رقم التعليق : 1) و المسند المصنف المعلل (دار الغرب الإسلامي ،34/ 484 و 485) و غيرهم.
[2]
قال ابن حجر في نزهة النظر (بتحقيق القاسم ، صفحة 117) وعبد الرؤوف المناوي في اليواقيت و الدرر (مكتبة الرشد ، صفحة 376) : ثم صحيح مسلم لمشاركته للبخاري في اتفاق العلماء على تلقي كتابه بالقبول أيضا سوى ما علل.انتهی.
وقال ابن تيمية في جواب الاعتراضات المصرية على الفتيا الحموية (بتحقيق محمد عزير شمس ، صفحة 46) : واعلم أن جمهور أحاديث البخاري ومسلم من هذا الباب، كما ذكر أبو عمرو بن الصلاح ومن قبله من العلماء، كالحافظ أبي طاهر السِّلَفي وغيره.انتهی.
وقال ابن تيمية في منهاح السنة النبوية (بتحقيق محمد رشاد سالم ،الجزء السابع ، صفحة 214-216) : ومثل هؤلاء الجهال يظنون أن الأحاديث التي في البخاري ومسلم إنما أخذت عن البخاري ومسلم، كما يظن مثل ابن الخطيب ونحوه ممن لا يعرف حقيقة الحال، وأن البخاري ومسلما كان الغلط يروج عليهما، أو كانا يتعمدان الكذب، ولا يعلمون أن قولنا: رواه البخاري ومسلم علامة لنا على ثبوت صحته، لا أنه كان صحيحا بمجرد رواية البخاري ومسلم، بل أحاديث البخاري ومسلم رواها غيرهما من العلماء والمحدثين من لا يحصي عدده إلا الله، ولم ينفرد واحد منهما بحديث، بل ما من حديث إلا وقد رواه قبل زمانه وفي زمانه وبعد زمانه طوائف، ولو لم يخلق البخاري ومسلم لم ينقص من الدين شيء، وكانت تلك الأحاديث موجودة بأسانيد يحصل بها المقصود وفوق المقصود. وإنما قولنا: رواه البخاري ومسلم كقولنا: قرأه القراء السبعة. والقرآن منقول بالتواتر، لم يختص هؤلاء السبعة بنقل شيء منه، وكذلك التصحيح لم يقلد أئمة الحديث فيه البخاري ومسلما، بل جمهور ما صححاه كان قبلهما عند أئمة الحديث صحيحا متلقى بالقبول، وكذلك في عصرهما وكذلك بعدهما قد نظر أئمة هذا الفن في كتابيهما، ووافقوهما على تصحيح ما صححاه، إلا مواضع يسيرة، نحو عشرين حديثا، غالبها في مسلم، انتقدها عليهما طائفة من الحفاظ، وهذه المواضع المنتقدة غالبها في مسلم، وقد انتصر طائفة لهما فيها، وطائفة قررت قول المنتقدة .
والصحيح التفصيل ; فإن فيها مواضع منتقدة بلا ريب، مثل حديث أم حبيبة، وحديث خلق الله البرية يوم السبت، وحديث صلاة الكسوف بثلاث ركوعات وأكثر.وفيها مواضع لا انتقاد فيها في البخاري، فإنه أبعد الكتابين عن الانتقاد، ولا يكاد يروي لفظا فيه انتقاد، إلا ويروي اللفظ الآخر الذي يبين أنه منتقد، فما في كتابه لفظ منتقد، إلا وفي كتابه ما يبين أنه منتقد.وفي الجملة من نقد سبعة آلاف درهم، فلم يرج عليه فيها إلا دراهم يسيرة، ومع هذا فهي مغيرة ليست مغشوشة محضة، فهذا إمام في صنعته. والكتابان سبعة آلاف حديث وكسر .والمقصود أن أحاديثهما انتقدها الأئمة الجهابذة قبلهم وبعدهم، ورواها خلائق لا يحصي عددهم إلا الله، فلم ينفردا لا برواية ولا بتصحيح . انتهی.
وقال ابن أبي العز في الاتباع (عالم الكتب ، صفحة 47-50) : بخلاف مسلم فإنه وقع له في عدة أحاديث غلط أنكرها عليه الحفاظ والذي أنكر على الشيخين أحاديث قليلة جدا وأحاديث البخاري ومسلم لم يقل أهل الحديث أنها صحيحة بمجرد رواية البخاري ومسلم لها بل لأنه قد رواها غيرهما من العلماء والمحدثين من لا يحصى عددهم إألا الله تعالى ولم ينفرد واحد منهم بحديث بل ما من حديث رواه إلا وقد رواه قبل زمانه ومن زمانه وبعد طوائف ولو لم يخلق البخاري ومسلم لم ينقص من الدين شيء وكانت تلك الأحاديث موجودة بأسانيد يحصل بها المقصود وفوق المقصود وإنما قولنا رواه البخاري ة ومسلم كقولنا رواه القراء السبعة والقرآن منقول بالتواتر لم يختص هؤلاء السبعة بنقل الشيء منه وكذلك التصحيح لم يقلد أهل الحديث فيه البخاري ومسلما بل جمهور ما صححاه وما كان قبلهما عند أئمة الحديث صحيحا متلقى بالقبول وكذلك في عصرهما وبعده وقد نظر أئمة هذا الفن في كتابيهما ووافقوهما على تصحيح ما صححاه إلا مواضع يسيرة نحو عشرين حديثا غالبها في مسلم إنتقدها عليهما طائفة من الحفاظ وقد انتصر طائفة لهما وطائفة قررت قول المنتقد والصحيح التفصيل فإن فيها مواضع منتقدة بلا ريب في مسلم مثل حديث أم حبيبة وحديث خلق التربة يوم السبت وحديث صلاة الكسوف بثلاث ركعات وأكثر وفيها مواضع لا انتقاد فيها وأكثر ما لا انتقاد فيه البخاري فإنه أبعد الكتابين عن الإنتقاد ولا يكاد يروي لفظا فيه انتقاد إلا ويروي اللفظ الآخر الذي يبين أنه منتقد وفي الجملة من نقد سبعة آلاف درهم فلم يبهرج عليه فيها إلا دراهم يسيرة ومع هذا فهي معتبرة ليست بمغشوشة محضة فهذا إمام في صنعته وفي كتابه سبعة آلاف حديث وكسر وهذا الذي قاله أهل العلم من أنه ليس بعد القرآن كتاب أصح من كتابي البخاري ومسلم إنما كان لأن هذين الكتابين جرد فيهما الحديث الصحيح المسند ولم يكن القصد بتصنيفهما ذكر آثار الصحابة والتابعين ولا تمييز الحسن والمرسل وشبه ذلك وما جرد فيه الصحيح المسند عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو أصح الكتب المصنفة لأنه أصح منقول عن المعصوم . انتهی.
وقال ابن القيم في الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة (دار عطاءات العلم - دار ابن حزم، صفحة 360) : وأهل الحديث متفقون على أحاديث الصحيحين، وإن تنازعوا في أحاديث يسيرة منها. انتهی.
وقال ابن كثير في الباعث الحثيث إلی اختصار علوم الحديث (بتحقيق أحمد شاكر ، صفحة 35) : ثم حكى (ابن الصلاح) أن الأمة تلقت هذين الكتابين بالقبول، سوى أحرف يسيرة، انتقدها بعض الحفاظ، كالدارقطني وغيره، ثم استنبط من ذلك القطع بصحة ما فيهما من الأحاديث، لأن الأمة معصومة عن الخطأ، فما ظنت صحته ووجب عليها العمل به، لا بد وأن يكون صحيحا في نفس الأمر. وهذا جيد.وقد خالف في هذه المسئلة الشيخ محيي الدين النووي وقال: لا يستفاد القطع بالصحة من ذلك. قلت : وأنا مع ابن الصلاح فيما عول عليه وأرشد إليه. والله أعلم. انتهی.
وقال محيي الدين النووي في إرشاد طلاب الحقائق (مكتبة الإيمان ، 1/131) : اتفاق الأمة حاصل من ذلك لأنها اتفقت على تلقي ما روياه أو أحدهما بالقبول، سوى أحرف يسيرة تكلم عليها بعض الحفاظ كالدارقطني وغيره وهي معروفة.قلت: وقد أجاب عن تلك الأحرف آخرون. انتهی.
وقال ابن الصلاح في معرفة أنواع علوم الحديث (بتحقيق عتر ، صفحة 28-29) : وهو الذي يقول فيه أهل الحديث كثيرا صحيح متفق عليه . يطلقون ذلك ويعنون به اتفاق البخاري ومسلم، لا اتفاق الأمة عليه. لكن اتفاق الأمة عليه لازم من ذلك وحاصل معه، لاتفاق الأمة على تلقي ما اتفقا عليه بالقبول ......ومن فوائدها: القول بأن ما انفرد به البخاري أو مسلم مندرج في قبيل ما يقطع بصحته لتلقي الأمة كل واحد من كتابيهما بالقبول على الوجه الذي فصلناه من حالهما فيما سبق، سوى أحرف يسيرة تكلم عليها بعض أهل النقد من الحفاظ، كالدارقطني وغيره، وهي معروفة عند أهل هذا الشأن، والله أعلم. انتهی .
وقال بدر الدين الزركشي في النكت علی مقدمة ابن الصلاح (أضواء السلف ، 1/287) : سوى أحرف يسيرة قد صرح بالاستثناء أيضا في القطعة التي له على مسلم فقال وهذا مستثنى مما ذكرناه بعد الإجماع على تلقيه بالقبول. انتهی.
وقال شمس الدين أبو الخير السخاوي في فتح المغيث بشرح ألفية الحديث (مكتبة السنة ، 1/72) : إن الذي أورده البخاري ومسلم مجتمعين ومنفردين بإسناديهما المتصل دون ما سيأتي استثناؤه من المنتقد والتعاليق وشبههما - مقطوع بصحته ; لتلقي الأمة المعصومة في إجماعها عن الخطأ. انتهی.
وروی محمد بن سعد الشويعر في مجموع فتاوى ومقالات متنوعة (رئاسة إدارة البحوث العلمية والإفتاء، الجزء 25 ، صفحة 69-70) عن عبد العزيز بن عبد الله بن باز أنه قال في جواب السؤال "ما موقفنا ممن يضعف أحاديث في صحيح مسلم أو صحيح البخاري؟" :
هذا شذوذ عن العلماء لا يعول عليه إلا في أشياء يسيرة عند مسلم - رحمه الله - نبه عليها الدارقطني وغيره، والذي عليه أهل العلم هو تلقي أحاديث الصحيحين بالقبول والاحتجاج بها كما صرح بذلك الحافظ ابن حجر والحافظ ابن الصلاح وغيرهما، وإذا كان في بعض الرجال المخرج لهم في الصحيحين ضعف فإن صاحبي الصحيح قد انتقيا من أحاديثهم ما لا بأس به، مثل: إسماعيل بن أبي أويس، ومثل عمر بن حمزة بن عبد الله بن عمر بن الخطاب، وجماعات فيهم ضعف لكن صاحبي الصحيح انتقيا من أحاديثهم ما لا علة فيه؛ لأن الرجل قد يكون عنده أحاديث كثيرة فيكون غلط في بعضها أو رواها بعد الاختلاط إن كان ممن اختلط، فتنبه صاحبا الصحيحين لذلك فلم يرويا عنه إلا ما صح عندهما سلامته.والخلاصة أن ما رواه الشيخان قد تلقته الأمة بالقبول فلا يسمع كلام أحد في الطعن عليهما رحمة الله عليهما سوى ما أوضحه أهل العلم كما تقدم.ومما أخذ على مسلم - رحمه الله - رواية حديث أبي هريرة: أن الله خلق التربة يوم السبت. ... الحديث. والصواب أن بعض رواته وهم برفعه للنبي - صلى الله عليه وسلم - وإنما هو من رواية أبي هريرة - رضي الله عنه - عن كعب الأحبار؛ لأن الآيات القرآنية والأحاديث الصحيحة كلها قد دلت على أن الله سبحانه قد خلق السماوات والأرض وما بينهما في ستة أيام أولها يوم الأحد وآخرها يوم الجمعة؛ وبذلك علم أهل العلم غلط من روى عن النبي - صلى الله عليه وسلم - أن الله خلق التربة يوم السبت، وغلط كعب الأحبار ومن قال بقوله في ذلك، وإنما ذلك من الإسرائيليات الباطلة. والله ولي التوفيق. انتهی.
وقال الشريف حاتم بن عارف العوني : لكن العلماء قد نصوا أن أحاديث الصحيحين (صحيح البخاري وصحيح مسلم) كلها مقبولة، إلا أحاديث يسيرة انتقدها بعض النقاد الكبار، الذين بلغوا رتبة الاجتهاد المطلق في علم الحديث. وأن ما سوى تلك الأحاديث اليسيرة، فهي متلقاة بالقبول عند الأمة جميعها. انتهی.
انظر : https://shamela.ws/book/894/484
و قال أبو عبد الله مصطفی العدوي : ماذا نقول لمن يضعف حديثا في صحيحي البخاري ومسلم؟الجواب : تقدم الكلام على ذلك: وهو أن صحيحا البخاري ومسلم قد تلقتهما الأمة بالقبول إلا أحاديث يسيرة جدا انتقدها الحفاظ كـ الدارقطني وغيره، وهي نسبة لا تتجاوز نصف الواحد في المائة، أي: أن تسعة وتسعين في المائة ونصف صحيح ونصف في المائة ضعيف، فإذا كان المنتقد قد أورد حديثا من الأحاديث المنتقدة، وقال: العالم الفلاني تكلم فيه فله ذلك، لكن إذا تطاول وأدلى برأيه ولم يورد مستندا بذلك فقوله مردود عليه.انتهی.
انظر : https://shamela.ws/book/7695/162#p1
وقال مقبل بن هادي الوادعي في غارة الفصل على المعتدين على كتب العلل (دار الأثار ، صفحة 93) : وأما حديث قد أخرجه الشيخان أو أحدهما فيكفي العزو إليهما، اللهم إلا أن يكون الحديث من الأحاديث المنتقدة التي انتقدها الدارقطني أو غيره من الحفاظ المعترف بانتقاده، كما قال ابن الصلاح ما معناه: إن أحاديث " الصحيحين " تفيد العلم اليقيني النظري إلا أحاديث يسيرة انتقدها الحفاظ كالدارقطني وغيره، فإذا كان من الأحاديث المنتقدة فله أن يبدي رأيه إن كان أهلا لذلك - بتأييد الانتقاد أو دفعه .انتهی.
وقال إبراهيم بن عبد الله اللاحم : ..... هو صحيح إلى درجة كبيرة, أن جمهور أحاديث الصحيحين, إذا استثنينا ما انتقد, أو ما فيه اختلاف على بعض -يعني إذا استثنينا بعض الأشياء-؛ فبقية أحاديث الصحيحين من المقطوع بصحته، ويفيد العلم اليقين .انتهی.
انظر :https://shamela.ws/book/2066/71#p1
وقال حمد بن عبد الله الحمد : فإن أحاديث مسلم لا شك أن أهل العلم قد اتفقوا على تصحيحها، لكن يستثنى من ذلك اليسير الذي خالفه فيها الأئمة الكبار كأحمد والبخاري وغيرهم، وحذاق أهل العلم ممن كان لهم بصيرة في هذا العلم، فكان لهم مخالفة في أحاديث من أحاديث مسلم، وفي أحاديث أقل منها في صحيح البخاري، والواجب على طالب العلم أن يصحح كل ما ثبت في صحيح مسلم إلا تلك الأحاديث التي انتقدها الأئمة النقاد أو بعضهم، فله مجال بتصحيحها أو القول بتضعيفها فلا تكون من الأحاديث التي تلقت بالقبول واتفق الحفاظ على تصحيحها، انتهی.
انظر : https://shamela.ws/book/852/1233
وقال حسن أبو الأشبال الزهيري : فنقول: على العموم البخاري ومسلم هما أصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل، ثم البخاري يتفوق على مسلم، وفي بعض الكتب الأخرى كالسنن والمسانيد والمعاجم والأجزاء والفوائد أسانيد على حدة وعلى انفراد توازي وتعادل بل وتفوق بعض الأسانيد المنفردة عند البخاري وعند مسلم على انفراد، أما الكتابين في مجملهما - البخاري ومسلم - فقد تلقتهما الأمة بالقبول، وهما أصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل.وليس هذا القبول لكل حديث ولكل كلمة في الكتابين، وإنما لعموم الكتابين، ثم هناك أحرف يسيرة قد انتقدت على البخاري وعلى مسلم، هذه الأحرف اليسيرة التي طال فيها الخلاف بين إثبات ما كانت على شرط صاحب الصحيح أو لم يكن على شرطه، وظهر فيها الخلاف أيضا بين الصحة والضعف، هذه الأحرف لم تتلقها الأمة بالقبول، وإنما الأمة تلقت بالقبول ما اتفق على صحته. انتهی.
انظر : https://shamela.ws/book/37066/3#p1
وقال محمد بن فريد زريوح في المعارضات الفكرية المعاصرة لأحاديث الصحيحين -دراسة نقدية ( تكوين للدراسات والأبحاث، 1/536 و 2/669) :
إنَّ التَّلقي للكتابين بالقَبول إنَّما هو لما تضمَّناه من أخبار مُسندةٍ مرفوعة في الجملة، لا لكلِّ حرفٍ أو لفظٍ فيهما على حِدة، فهذا ليس إلَّا للقرآنِ الكريم، فهو الَّذي قبوله فرضٌ على الأعيانِ بحروفِه وألفاظِه؛ وجميعُ أهلِ العلمِ بالحديثِ، إنَّما يجزمون بصحَّةِ جمهورِ أحاديثِ الكِتابين، لا بكلِّ حرفٍ فيهما.فالصواب أن نقول: إن (جمهور) متون «الصحيحين» معلومة الصحة متقنة، تلقاها أهل العلم بالحديث بالقبول والتصديق، وأجمعوا على صحتها، وأن فيهما ما هو معلول الإسناد والمتن معا، لكنه قليل جدا، وهذا ما ذكره أبو عمرو ابن الصلاح ومن قبله، كالحافظ أبي طاهر السلفي وغيره (١).وبهذا نعلم أن ما ورد عن بعض العلماء من تعميم هذا الاتفاق على كل حديث فيهما، كما تراه في دعوى الدهلوي (ت ١١٧٦ هـ): «الصحيحان قد اتفق المحدثون على أن جميع ما فيهما من المتصل المرفوع صحيح بالقطع» (٢)؛ وكذا قول أحمد شاكر (ت ١٣٧٧ هـ): «أحاديث الصحيحين صحيحة كلها، ليس في واحد منها مطعن أو ضعف» (٣)؛ فضلا عما تقدم من عبارة الإسفراييني في زعمه صحة كل ما اشتمل عليه الكتابين: فهذا منهم نوع تساهل، مؤداه الغلط وعدم الدقة في العبارة؛ والأولى أن يستثنى من جملة الاتفاق ما قدمنا شرحه آنفا.وهذه الدقة في الاحتراز هي ما تراه في مثل قول السخاوي: «إن الذي أورده البخاري ومسلم، مجتمعين ومنفردين، بإسناديهما المتصل، دون ما سيأتي استثناؤه من المنتقد والتعاليق وشبههما: مقطوع بصحته» (٤).وختاما؛ نستطيع بعد ما مضى في هذا المطلب كله أن نسوغ جملا مختصرة تلم شعث ما تقدم من الأدلة، في ما يتعلق بالموقف العلمي من دعوى الإجماع على «الصحيحين»: في كون الإجماع على صحة جمهور أحاديث «الصحيحين».
(١) «جواب الاعتراضات المصرية» (ص/٤٦).
(٢) «حجة الله البالغة» (١/ ٢٣٢).
(٣) تعليقه على «اختصار علوم الحديث» لابن كثير (١/ ١٢٤).
(٤) «فتح المغيث» (١/ ٧٢)
الحال أن مزية «الصحيحين» وجلالتهما ثابتة ثبوت الجبال الرواسي، «لا يهون من أمرهما إلا مبتدع متبع غير سبيل المؤمنين» (١)؛ وهذا الإجماع من علمائهم إنما هو على جمهور أحاديث «الصحيحين»، لا على كل حرف فيهما على حدة، هو في ذاته فضيلة لم يبلغها غير الشيخان.والعاقل من الناس يعلم أن من نقد سبعة آلاف درهم متنوعة، أتته من بلاد مختلفة، فلم يرج عليه منها إلا دراهم معدودة، «وهي مع هذا مغيرة ليست مغشوشة محضة: فهذا إمام في صنعته!فالكتابان سبعة آلاف حديث وكسر» (٢)، واشتمالهما على أحرف يسيرة خولفا فيها من حذاق الفن لا يعيبهما في شيء، بل محمدة استحقا عليها التنويه من النقاد العارفين بوعورة ما اشترطاه في كتابيهما، والتسليم للشيخين بالحذق في هذا الفن، ونفوذ بصيرتهما في انتقاء المتون، وشدة احتياطهما في تصحيح الأسانيد.
(١) «حجة الله البالغة» للدهلوي (١/ ٢٣٢).
(٢) «منهاج السنة» لابن تيمية (٧/ ٢١٦)
انتهی .
وقال محمد بن مطر الزهراني في تدوين السنة النبوية نشأته وتطوره من القرن الأول إلى نهاية القرن التاسع الهجري (دار الهجرة ، صفحة 59) : جميع أهل العلم بالحديث يجزمون بصحة جمهور أحاديث الكتابين، وسائر الناس تبعاً لهم في معرفة الحديث، وإذا أجمع أهل العلم على شيءٍ فسائر الأمَّة تبعٌ لهم فإجماعهم معصوم لا يجوز أن يجمعوا على خطأ. انتهی.
[3]
وقال أبو بكر الجصاص في الفصول في الأصول (وزارة الأوقاف الكويتية ,1/138) : وليس أن دلالة التخصيص غير مذكورة مع اللفظ بمانع أن يكون في معنى الاستثناء المتصل باللفظ لأنا قد وجدنا اللفظ المطلق الذي قد أريد به في استثناء بعضه قد اقتصر فيه على الإطلاق من غير ذكر الاستثناء متصلا به في بعض المواضع وإن كان قد ذكر في بعضها ولم يكن وجود ذلك في الكلام وجوازه فيه بمانع أن يكون الاستثناء مرادا. انتهی.
قال ابن تيمية في منهاج السنة النبوية (جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية ، 7/216) وابن أبي العز في الاتباع (عالم الكتب ، صفحة 49) في شأن أحاديث الصحيحين : وفي الجملة من نقد سبعة آلاف درهم، فلم يرج عليه فيها إلا دراهم يسيرة، ومع هذا فهي مغيرة ليست مغشوشة محضة، فهذا إمام في صنعته. والكتابان سبعة آلاف حديث وكسر .انتهی.
[4]
السنن الكبری للنسائي (مؤسسة الرسالة ، 10/213)
[5]
قال ابن كثير الدمشقي في البداية والنهاية (دار هجر ، 1/32) : وقد رواه النسائي في التفسير، عن إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني، عن محمد بن الصباح، عن أبي عبيدة الحداد، عن الأخضر بن عجلان، عن ابن جريج، عن عطاء بن أبي رباح، عن أبي هريرة: أن رسول الله ﷺ أخذ بيدي فقال: يا أبا هريرة إن الله خلق السماوات والأرضين، وما بينهما في ستة أيام، ثم استوى على العرش يوم السابع، وخلق التربة يوم السبت. وذكر تمامه بنحوه فقد اختلف فيه على ابن جريج.
[6]
قال محمد بن فريد زريوح في المعارضات الفكرية المعاصرة لأحاديث الصحيحين (تكوين للدراسات والأبحاث ، 2/1010) : أما ما استدل به من حديث الأخضر على فهمه ذاك: فغير سالم له ولا مسلم، لأن الأخضر بن عجلان خالف في سنده ومتنه الثقات من رواة هذا الحديث عن ابن جريج، وهم: حجاج بن محمد المصيصي (٣)، وهشام بن يوسف الصنعاني (٤)، ومحمد بن ثور (٥)، والصواب روايتهم دونه.والأخضر صدوق نازل عن مرتبتهم في الضبط، فروايته بهذا السياق الشاذ عن المعروف من متن الحديث وسنده مردودة. (٣) وعنه رواه مسلم في «صحيحه».(٤) وعنه رواه ابن معين في «تاريخه - الدوري» (٣/ ٥٢، رقم: ٢١٠).(٥) وعنه رواه الطبراني في «المعجم الأوسط» (٣/ ٣٠٣، رقم: ٣٢٣٢)، وأبو الشيخ في «العظمة» (٤/ ١٣٦٠).انتهی.
وقال شعيب الأرناوؤط و عادل مرشد في تعليق مسند الإمام أحمد (مؤسسة الرسالة ، 14/83) : أخرجه النسائي في الكبری من طريق الأخضر بن عجلان عن ابن جريج عن عطاء عن أبي هريرة و الأخضر بن عجلان صدوق و قد خالف ثقتين هما حجاج بن محمد و هشام بن يوسف والصواب قولهما ورواية الأخضر خطأ . انتهی.
وقال أحمد بن عبد العزيز بن مُقْرِن القُصَيِّر في الأحاديْثُ المُشْكِلَةُ الواردةُ في تفسير القرآنِ الكريم (دار ابن الجوزي ، صفحة 244-245) : قلت : وهذه الرواية معلولة من أوجه:الأول: أن الأخضر بن عجلان خالف ثلاث ثقات، في إسناد هذا الحديث، وحسبك مخالفته لحجاج بن محمد؛ فإنه من أثبت الناس في ابن جريج. ......الوجه الثاني: عنعنة ابن جريج، قال الإمام أحمد: "كل شيء قال فيه ابن جريج: قال عطاء، أو عن عطاء؛ فإنه لم يسمعه من عطاء". اهـ من شرح علل الترمذي، لابن رجب (٢/ ٦٠٠).انتهی.
وقال مصحح حديث خلق التربة عبد الرحمن المعلمي اليماني في الأنوار الكاشفة (دار عالم الفوائد ، 12/266) : أقول: في صحة هذه الرواية عن ابن جريج عن عطاء بن أبي رباح نظر لا أطيل ببيانه، فمن أحب التحقيق فليراجع «تهذيب التهذيب» (٢١٣: ٧) و «فتح الباري» (٥١١: ٨) (٤) ومقدمته (ص ٣٧٣) (٥) وترجمتي أخضر وعثمان بن عطاء من «الميزان» (٦) وغيره. والله الموفق. انتهی.
[7]
انظر : المعارضات الفكرية المعاصرة لأحاديث الصحيحين لمحمد بن فريد زريوح (الناشر : تكوين للدراسات والأبحاث، الجزء الثاني، صفحة 993-1021) والأحاديْثُ المُشْكِلَةُ الواردةُ في تفسير القرآنِ الكريم لأحمد بن عبد العزيز بن مُقْرِن القُصَيِّر (الناشر : دار ابن الجوزي ، صفحة 243-258) وأحاديث العقيدة المتوهم إشكالها في الصحيحين لسليمان بن محمد الدبيخي (الناشر : مكتبة دار المنهاج، صفحة 356 -378) ومسند الإمام أحمد بن حنبل بتحقيق شعيب الأرناوؤط و عادل مرشد (الناشر : مؤسسة الرسالة، الجزء 14، صفحة 82-84 ، تعليق 1)
[8]
قال محمد بن إسماعيل الصنعاني في التحبير لإيضاح معاني التيسير (مكتبة الرشد ، 3/683) : أخرجه مسلم تكلم عليه النووي والبخاري وغير واحد من الحفاظ. انتهی.
[9]
قال جمال الدين المزي في تحفة الأشراف (بتحقيق عبد الصمد شرف الدين ، 10/133) : قال البخاري في التأريخ (ج ١، ق ١: ص ٤١٣ - ٤١٤) : وقال بعضهم: أبو هريرة، عن كعب - وهو أصح.
[10]
لباب التأويل في معاني التنزيل لعلاء الدين الخازن (دار الكتب العلمية ، الجزء الثاني، صفحة 206-207)
[11]
الاتباع لابن أبي العز (عالم الكتب ، صفحة 47-50)
[12]
تحفة المحتاج لابن الملقن (دار حراء ، الجزء الثاني ، صفحة 563-564)
[13]
الأسرار المرفوعة للملا علي القاري (بتحقيق محمد الصباغ ، صفحة 456-457)
[14]
التحبير لإيضاح معاني التيسير لمحمد الصنعاني (مكتبة الرشد ، 3/683) والتنوير شرح الجامع الصغير لمحمد الصنعاني (مكتبة دار السلام ، الجزء الخامس ، صفحة 499-500)
[15]
التفسير المظهري لمحمد ثناء الله المظهري (مكتبة الرشدية ، 9/76 و 8/285)
[16]
أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب لأبي عبد الرحمن الحوت (دار الكتب العلمية ، صفحة 132)
[17]
انظر : قول ابن باز المنقول في التعليق الثاني.
[18]
فتاوی اللجنة الدائمة المجموعة الثانية (رئاسة إدارة البحوث العلمية والإفتاء ،1/10)
[19]
https://shamela.ws/book/37048/197
https://shamela.ws/book/11/4237#p1
[20]
الجامع الكامل للأعظمي (دار السلام ، 7/411)
[21]
مقارنة المرويات لإبراهيم اللاحم (مؤسسة الريان، الجزء الثاني ، صفحة 173-174)
[22]
مسند أبي يعلی بتحقيق السناري (الجزء الثامن ، صفحة 334-335 )
[23]
مسند أبي يعلی بتحقيق حسين أسد (10/513)
[24]
تحرير تقريب التهذيب لبشار عواد معروف (مؤسسة الرسالة ، 1/160)
[25]
https://shamela.ws/book/3047/26
[26]
https://shamela.ws/book/37717/246
[27]
قال مصحح حديث خلق التربة حسن أبو الأشبال الزهيري : وهذا الحديث نازع في ثبوته كثير من المحدثين.
انظر : https://shamela.ws/book/37026/1066
وقال محمد صالح المنجد : وذهب إليه كثير من العلماء والمحدثين.
انظر : https://islamqa.info/ar/218080
وقال إبراهيم بن عبد اللّه اللاحم في مقارنة المرويات (مؤسسة الريان ، 2/174) : ومتن الحديث فيه نكارة رده بسببها كثير من النقاد.
[28]
قال ابن جرير الطبري في التاريخ (دار المعارف ، 1/45) : وأولى القولين في ذلك عندي بالصواب قول من قال: اليوم الذي ابتدأ الله تعالى ذكره فيه خلق السموات والأرض يوم الأحد، لإجماع السلف من أهل العلم على ذلك. _[28.1]
وقال أبو جعفر النحاس في عمدة الكتاب (دار ابن حزم ، صفحة 88) : فأما الاختلاف في ابتداء الخلق، فقال ابن سلام فيه: ابتداؤه يوم الأحد، وكذا قال مجاهد والضحاك، وعليه أكثر الناس، وقال بعض العلماء: يوم السبت؛ وكذا قال محمد بن إسحاق.
وقال ابن تيمية في بغية المرتاد (مكتبة العلوم و الحكم ، صفحة 299) : وقد روى في ابتدائه يوم السبت حديث رواه مسلم فالذي عليه الجمهور وعامة الأحاديث أن ابتداءه يوم الأحد.
وقال عبد القادر القرشي في الجواهر المضية (دار هجر ، بتحقيق عبد الفتاح محمد الحلو ، 4/568) : واتفق الناس على أن يوم السبت لم يقع فيه خلق، وأن ابتداء الخلق يوم الأحد.
وقال عبد الحق الدهلوي في لمعات التنقيح (دار النوادر ، 9/210) : دل هذا الحديث (يعنى حديث خلق التربة) على أن ابتداء الخلق يوم السبت، والمشهور أنه يوم الأحد.
ولكن قال ابن الأنباري في الزاهر (مؤسسة الرسالة ، 2/138) : واتفق أهل العلم على أن الله جل وعز ابتدأ الخلق يوم السبت. فغلّطهُ ابن تيمية في مجموع الفتاوی (مجمع الملك فهد ، 17/237).
[28.1]
قال محمد بن عبد العزيز الخضيري في الإجماع في التفسير (دار الوطن ، صفحة 61) : ومعنى ذلك أنه إذا خالف واحد أو اثنان ،فإن قول الباقين لا يعتبر إجماعا ، وهذا قول جمهور العلماء ، خلافا لمن اعتد بقول الأكثر فجعله إجماعا ، كأبي الحسين الخياط من المعتزلة ،وابن جرير الطبري ،وأبي بكر الجصاص ، وبعض المعتزلة ، وروي عن الإمام أحمد ،لكن الصحيح عنه موافقة الجمهور.
[29]
قال أبو عبد الرحمن الحوت في أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب (دار الكتب العلمية ، صفحة 132) : وأكثر أهل العلم على أنه غلط.
وقال أبو أويس أشرف بن نصر بن صابر الكردي في سلسلة الفوائد الحديثية والفقهية (دار اللؤلؤة و دار مكة ، 6/235) : وكتب شيخنا (وهو مصطفى بن العدوي) مع الباحث/ د. إبراهيم يوسف بتاريخ ١٣/ جمادى الآخرة ١٤٤٣ موافق ١٦/ ١/ ٢٠٢١ م: الرفع وهم والجمهور من المحدثين على إعلاله وأنه من قول كعب الأحبار. ا هـ.
وقال سليمان بن محمد الدبيخي في أحاديث العقيدة المتوهم إشكالها في الصحيحين (مكتبة دار المنهاج ، صفحة 371) : إلا أن المضعفين له أكثر عددا وأعلم بالعلل من المصححين له.
وقال أحمد بن عبد العزيز القصير في أحاديث المشكلة الواردة في تفسير القرآن الكريم لأحمد بن عبد العزيز القصير (دار ابن الجوزي ، صفحة 248) : وهذا رأي الأكثر من المفسرين و المحدثين.
وقيل في إسلام ويب : وأكثر المحققين والجهابذة الكبار على إعلاله.
انظر: https://www.islamweb.net/amp/ar/fatwa/137773
[30]
ذكره بدر الدين الزركشي في اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة (دار الكتب العلمية ، صفحة 212) وذكره جلال الدين السيوطي في الدرر المنتثرة في الأحاديث المشتهرة (عمادة شؤون المكتبات ، صفحة 112) وذكره شمس الدين أبو الخير السخاوي في المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة علی الألسنة (مكتبة الخانجي ، 1/200) وذكره أبو الفداء إسماعيل بن محمد العجلوني الجراحي في كشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث علی ألسنة الناس (المكتبة العصرية ، 1/435).
[31]
قال محمد بن فريد زريوح في المعارضات الفكرية المعاصرة لأحاديث الصحيحين -دراسة نقدية (تكوين للدراسات والأبحاث ، 2/1010) : وأما جعل الألباني الأيام المذكورة في الحديث أياما أخرى غير الأيام الستة للتخليق، بل جعلها بعدها فبدع من القول لا سلف له فيه! فإن كل من تقدمه -سواء من مصححي الحديث أو مضعفيه- متفقون على تنزيل الأيام الستة في القرآن على هذه الأيام الواردة في هذا الحديث، ودونك كتب المفسرين وشراح الحديث لترى ذلك. انتهی.
وقال سليمان بن محمد الدبيخي في أحاديث العقيدة المتوهم إشكالها في الصحيحين جمعا ودراسة (مكتبة دار المنهاج ، صفحة 377-378) : ومما يحسن التنبيه عليه أن أصحاب القولين -المصححين للحديث والمضعفين له- متفقون على تنزيل الأيام الستة المذكورة في القرآن على الأيام الواردة في حديث التربة، ما عدا الألباني رحمه الله، حيث ذهب -كما تقدم- إلى أن الأيام الواردة في الحديث غير الأيام الستة المذكورة في القرآن. انتهی.
[32]
قال أبو بكر عبد الله بن محمد بن أبي شيبة الكوفي العبسي في كتابه المصنف (كمال يوسف الحوت ، الجزء السابع، صفحة 269) : حدثنا وكيع، حدثنا الأعمش، عن أبي صالح، عن كعب، قال: «بدأ الله تعالى بخلق السموات يوم الأحد فالأحد والاثنان والثلاثاء والأربعاء والخميس والجمعة وجعل كل يوم ألف سنة»
[33]
قال مصحح حديث خلق التربة حسن أبو الأشبال الزهيري : ... فعند ابن الجوزي أن الراوي الثقة هو الذي يخطئ مرة، وهذه المرة عند المحدثين لا عبرة بها؛ لأن الأصل فيه العدالة والتوثيق، لكن إذا أخطأ مرة عند ابن الجوزي سقطت عدالته كلها… انتهی.
انظر: https://shamela.ws/book/37066/57
[34]
قال محمد ناصر الدين الألباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة (مكتبة المعارف ، 12/332) : وهو الصواب الذي تقتضيه قاعدة: " الجرح المفسر مقدم على التعديل " التي يتفرع عنها: أن التضعيف مقدم على التصحيح إذا تبينت العلة.
[35]
قال ابن تيمية في مجموع الفتاوى (مجمع الملك فهد ،17/236) : وأما الحديث الذي رواه مسلم في قوله: {خلق الله التربة يوم السبت} فهو حديث معلول قدح فيه أئمة الحديث كالبخاري وغيره. قال البخاري: الصحيح أنه موقوف على كعب وقد ذكر تعليله البيهقي أيضا وبينوا أنه غلط ليس مما رواه أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم وهو مما أنكر الحذاق على مسلم إخراجه إياه كما أنكروا عليه إخراج أشياء يسيرة وقد بسط هذا في مواضع أخر وقد ذكر أبو الفرج ابن الجوزي في قوله تعالى: {خلق الأرض في يومين} قال ابن عباس: خلق الأرض في يوم الأحد والاثنين وبه قال عبد الله بن سلام والضحاك ومجاهد وابن جريج والسدي والأكثرون. وقال مقاتل في يوم الثلاثاء والأربعاء. قال: وقد أخرج مسلم حديث أبي هريرة {خلق الله التربة يوم السبت} قال: وهذا الحديث مخالف لما تقدم وهو أصح فصحح هذا لظنه صحة الحديث إذ رواه مسلم ولكن هذا له نظائر روى مسلم أحاديث قد عرف أنها غلط مثل قول أبي سفيان لما أسلم: أريد أن أزوجك أم حبيبة ولا خلاف بين الناس أنه تزوجها قبل إسلام أبي سفيان ولكن هذا قليل جدا ومثل ما روى في بعض طرق حديث صلاة الكسوف أنه صلاها بثلاث ركوعات وأربع والصواب أنه لم يصلها إلا مرة واحدة بركوعين ولهذا لم يخرج البخاري إلا هذا وكذلك الشافعي وأحمد بن حنبل في إحدى الروايتين عنه وغيرهما والبخاري سلم من مثل هذا؛ فإنه إذا وقع في بعض الروايات غلط ذكر الروايات المحفوظة التي تبين غلط الغالط فإنه كان أعرف بالحديث وعلله وأفقه في معانيه من مسلم ونحوه وذكر ابن الجوزي في موضع آخر أن هذا قول ابن إسحاق قال: وقال ابن الأنباري: وهذا إجماع أهل العلم. وذكر قولا ثالثا في ابتداء الخلق: أنه يوم الاثنين. وقاله ابن إسحاق وهذا تناقض. وذكر أن هذا قول أهل الإنجيل والابتداء بيوم الأحد قول أهل التوراة وهذا النقل غلط على أهل الإنجيل. كما غلط من جعل الأول إجماع أهل العلم من المسلمين. وكأن هؤلاء ظنوا أن كل أمة تجعل اجتماعها في اليوم السابع من الأيام السبعة التي خلق الله فيها العالم وهذا غلط؛ فإن المسلمين إنما اجتماعهم في آخر يوم خلق الله فيه العالم وهو يوم الجمعة كما ثبت ذلك في الأحاديث الصحيحة.
মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।