নাস্তিক্য ধর্মের নৈতিকতা

ভুমিকাঃ আমরা আজকে জানতে চেষ্টা করবো, নাস্তিক্য ধর্মে নৈতিকতা কাকে বলে? কিভাবে নৈতিকতা হয়? বিশ্বাস ছাড়া নৈতিকতা অচল কেন? নৈতিকতাই কেন স্রষ্টাকে দাবি করে? নাস্তিক্য ধর্মে নৈতিকতা না থাকাতে তারা হতাশ কেন? নাস্তিক্য ধর্মে নৈতিকতা না থাকায় তারাই কেন সন্ত্রাসী? আশাবাদী এই পূর্ণ লেখাটি পড়লে আপনার চিন্তার জগতকে নতুন আলোয় অবলোকন করাবে এবং আপনাকে ভাবুক করে তুলবে।

সম্মানিত পাঠক, নাস্তিক্য ধর্মের আলোকে আমরা জানতে পারি যে প্রথমে মানুষের প্রাণের উৎপত্তি হয়। তারপর মানুষ জীবনকে টিকিয়ে রাখতে খাবার খেতে শেখে, চলতে শেখে। অতঃপর তারা নিয়মহীন ভাবে চলতে শেখে। এরপর কিছু মানুষ একটা নিয়ম মানার প্রয়োজন অনুভব করে। যার দ্বারা তারা শান্তি-শৃংখল ভাবে বেঁচে থাকতে চায়। খুব ভালো ভাবে খেয়াল করুন, যখন কিছু মানুষ টিকে থাকার জন্য নিয়ম আবিস্কার করলো। তখন সেই মহাপুরুষকে যদি সবাই অবিশ্বাস করতো। তাহলে কি আদৌও সভ্যতা আসা সম্ভব ছিল? হুমায়ুন আজাদ বলেছেন কোন মহাপুরুষ বা কোন মহাগ্রন্থ আমাদের পথ দেখাতে পারে না। কিতাব খুলে দিলাম

সম্মানিত পাঠক কি বুঝতে পারলেন? এখানে স্পষ্ট যে, সকল বই এবং মানুষের কথাকে অবিশ্বাস করতে বলেছে। সাথে এও বলেছে, তারা আমাদের পথ দেখাতে পারে না।।
এবার আসুন আমরা একটু আদিম যুগ থেকে বর্তমান অধুনা যুগে ফিরে আসি।
বর্তমানে যদি কেউ আমাদের শিখায় নৈতিকতা কি। তাহলে অবশ্যই সেই নৈতিকতার সংগা দাঁড় করাতে হবে। ধরেন সংগাটা এই উইকিপিডিয়ার লিংক

এবং সেই সংগাটা কেউ না কেউ আবিস্কার করেছে। সেই ব্যক্তিবর্গের কথা হুমায়ুন আজাদ স্পষ্ট বলেছেন যে, তাদের কথা আমরা মানবো না। কারণ আমরা কারো কথা মানতে পারি না । কারো কথা বিশ্বাস না করলে কখনো নৈতিক হওয়া সম্ভব না। যদি পৃথিবীর একেক মানুষ একেকটা সংগা দাঁড় করায়। তাহলে প্রচুর নৈতিকতার সংগা হয়ে যাবে এবং সকলকে যার যার অনুপাতে চলতে হবে। তারমানে চোরের কাছে চুরি করা নৈতিকতা। ধর্ষকের কাছে নৈতিকতা হল ধর্ষণ। ডাকাতের কাছে ডাকাতি। পৃথিবীর সকল নাস্তিকেরা মিলে ইজমা বা ঐক্যমত করে কি নৈতিকতার সংগা নির্নয় করতে পারবে? উত্তর হচ্ছে, কখনো সম্ভব না। হুমায়ুন আজাদ এর কাছে নৈতিকতায় পবিত্র-অপবিত্র বলতে কিছু নেই। রেফারেন্সঃ

লেনিন বা মাওসেতুং এর কাছে হত্যা একটি ভালো কাজ। চীনের উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। যা চীনের নাস্তিকদের কাছে মানবতা ও উন্নত মানের চিন্তাধারা। রেফারেন্সঃ দৈনিক যুগান্তর

আমার এক নাস্তিকের সাথে কথা হয়েছিলো। তখন সেও বলেছেন একেকজন একেকটা ধারণ করে যে যার মতো করে চলবে। তারমানে নাস্তিকতা বলতে আমরা বুঝি, যে যার মতো করে চলবে। এটা সবার ব্যক্তি স্বাধীনতা।
নাস্তিকেরা দাবি করে, আমরা সবসময় কোন ব্যক্তি নাস্তিককে পূর্ণ নাস্তিকতার দায়ভার চাপিয়ে দেই। উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ আমরা চাপিয়ে দেই। কারণ নাস্তিকতার নিয়ম হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা। কোন ব্যক্তি তার স্বাধীন ইচ্ছায় যা করে নাস্তিকেরা তাকে আইন সাব্যস্ত করে। ব্যক্তি স্বাধীনতাই নাস্তিকতার আইন। নাস্তিক্য ধর্মের ব্যক্তি স্বাধীনতার আইন অনুপাতে, যে নাস্তিক যাই করুক সেটাই নাস্তিক্য ধর্ম হিসেবে সাব্যস্ত হয়। কিন্তু আস্তিক ধর্মের আইন ব্যক্তি স্বাধীনতা নয়। নাস্তিকেরা প্রায়ই বলে যে, লেনিন বা মাওসেতুং তারা পুরুষ ছিল। তাদের হত্যার জন্য পুরুষত্বটা দোষী। আমাদের কথা হল পুরুষ হওয়াটা হত্যা করা বা না করা সম্পর্কে কিছুই বলে না। একজন মানুষ যদি পুরুষত্ব ধর্মই মানে এবং পুরুষ বুঝে যদি কেউ কাউকে হত্যা করে। তবে অবশ্যই এই পুরুষের ধর্মটা খারাপ হিসেবে সাব্যস্ত হবে। কিন্তু আমরা পুরুষত্ব বলতে বুঝি একজন মানুষ পুরুষ হয়েও তাকে মুসলিম হতে হবে। ইসলাম ধর্ম মানতে হবে বা যদি কেউ পুরুষ হয়ে আস্তিক ধর্ম অবিশ্বাস করে। তবে হত্যার জন্য পুরুষত্ব ধর্ম এর জন্য দায়ী।
সম্মানিত পাঠক, আমরা যখন দাবি করি আস্তিক ধর্মের আইন তাদের কিতাব থেকে আসে। এই কথাটি বলার পর অনেক নাস্তিক প্রশ্ন করে, আপনার সামনে কেউ আগুনে হাত দিলে আপনি কি কুরআন খুলে দেখে আসবেন নাকি বাঁচাবেন? উত্তরটি বোঝার আগে আমাদের সেই আদিম যুগে ফিরে যেতে হবে। মানুষ যখন ধর্ম থেকে বিমুখ হয়ে যেত। তখন তাদের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি হতো। কেউ কাউকে সহযোগিতা করতো না(তখন বিবেক নামের বস্তুটা কোথায় ছিলো?) । তখন সেই সময় কোন মহামানবদের আগমন হতো। তারা কিতাব নিয়ে আসতো, সেই কিতাব অনুপাতে জীবন পরিচালনা করতো। যার প্রভাব সমাজের প্রত্যেকটি জায়গায়। অর্থাৎ আমরা যখন ছোটবেলায় আগুনে হাত দিতাম তখন কিন্তু অদৃশ্য এই বিবেক বাঁচাতে পারেনি বা বর্তমান চীনের নাস্তিকেরা যে মুসলিমদের হত্যা করছে। তাদের সেই বিবেক কি অন্ধ হয়ে গেছে? নাকি লুলা হয়ে গেছে? সেই বিবেক মুসলিমদের বাঁচাতে পারেনি। অর্থাৎ সমাজের মহাপুরুষগণ আমাদের মহাগ্রন্থ থেকে মহাবাণী শুনিয়ে সমাজে প্রভাব ফেলেছেন এবং আমাদের শিখিয়ছেন হত্যা খারাপ কাজ, ধর্ষণ খারাপ কাজ, ডাকাতি খারাপ কাজ।আর আমাদের পিতামাতা ছোটবেলা থেকেই সেই কিতাবের বাণীগুলো আমাদের শেখান। যার ফলে কেউ ক্ষতির সম্মুখীন হলে আমরা বাঁচাতে যাই। কারণ সেই বাণীগুলো আমাদের মেধায় জাগ্রত থাকে। কাউকে বাঁচাতে কিতাব খুলে দেখতে হয় না। এর কারণ হল সেই বাণীগুলো আমাদের মস্তিকের স্মৃতিপটে গেঁথে থাকে। তাই কিতাব ও মহাপুরুষকে বিশ্বাস ছাড়া নৈতিকতা সম্ভব না। স্রষ্টাই সেই মহামানবদের কিতাব দিয়ে নীতি-নৈতিকতা দিয়ে দেন। স্রষ্টা ছাড়া কখনো নীতি-নৈতিকতা সম্ভব নয়। যখন আমরা নৈতিকতা প্রয়োজন অনুভব করি। তখনই আমরা বুঝতে পারি স্রষ্টা আছে। নৈতিকতার প্রয়োজন অনুভব করাটাই প্রমাণ করে স্রষ্টা আছে। এখন যদি কেউ নৈতিকতার প্রয়োজন অনুভব না করে সেটা নিয়ে আমরা বিতর্ক করতে পারি। এক কথায় শান্তিময় পৃথিবী গঠন করতে নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
পৃথিবীতে নাস্তিকেরাই অসুখী কারণ তাদের নৈতিকতা নেই। নৈতিকতা ছাড়া মানুষ সুশৃঙ্খল হতে পারে না। তারা ভোগে হতাশায়, জীবনের কোন অর্থ খুঁজে পায় না। নির্থকতার হতাশায় শেষ করেছেন জীবন লেখক হুমায়ুন আজাদ। তার পূর্ণ লেখাটা তার কিতাব থেকে দেখে আসুন

লক্ষ্য করুণ জীবনের অর্থ খুজে না পেয়ে সে মানুষদেরকে আত্মহত্যার কথা বলে গেছেন।

বর্তমানেও নাস্তিকেরা হতাশায় ভুগছে লিংকঃ

  1. dailymail.co.uk
  2. দৈনিক ইনকিলাব

নাস্তিকেরা অসুখী। এটাই প্রমাণ করে আমাদের নৈতিকতা জরুরী আর নৈতিকতার জরুরত প্রমাণ করে স্রষ্টা আছে।

 

যেই জিনিসটা আমার নিজের কাছে খারাপ সেটা অন্যের ক্ষেত্রে ঘটলে খারাপ এটাই নৈতিকতা

  1. এই প্রশ্নের উত্তর টি বোঝার আগে আমাদেরকে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। নাস্তিক্য ধর্ম ভালো-খারাপ বলতে কিছু বলে না। নাস্তিকতা হচ্ছে ধর্মের বিপরীত ও স্রষ্টায় অবিশ্বাস। সুতরাং কোন নাস্তিক যদি ভালো বা খারাপ সংগায়িত করতে চায়। সেটা নাস্তিক্য ধর্ম অনুপাতে ভুল কাজ হবে।
  2. জীবন যদি নিরর্থক হয়; তাহলে ভালো-মন্দের সংগা তৈরী করে যে অর্থপূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে সেটা হচ্ছে চরম নির্থক। হুমায়ুন আজাদ এর কিতাব (উপরে দেখুন)
  3. ধরেন আসিফ নামের কোন এক নাস্তিক আছে। যে মদন কুমার নামক অপর নাস্তিকের মা-বোনকে ধর্ষণ করতে পৈশাচিক আনন্দানুভব করে। সেই সাথে আসিফের মা-বোনকেও মদন কুমার ধর্ষণ করলে আসিফ প্রশান্তি অনুভব করে। তাইলে কি ধর্ষণ বৈধ হয়ে যাবে? ঠিক একই সূত্রে চুরি ডাকাতি? এসব কি ভালো হিসেবে সাব্যস্ত হবে? নাস্তিক ধার্মিকরা জবাব দিবেন।
  4. নাস্তিক্য ধর্মের নিয়ম যদি হয় অন্যের ক্ষতি করা যাবে না, তাহলে আমরা দেখি একজন নাস্তিক পশু হত্যা করে খায়, একজন নাস্তিক গাছের ফলমুল খায়,(গাছের প্রান আছে)এগুলো কি অন্যের ক্ষতি করা নয়? যদি ক্ষতি করা হয়ে থাকে তাহলে কেন খায়? নাকি মানুষ ব্যাতিত অন্য প্রানির ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম?যদি অন্য প্রানির ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম হয়, তাহলে কি অন্য প্রানির সাথে অবিচার করা হয় না? যদি অবিচার না হয় তাহলে কেন?পশুর প্রান আছে আমাদেরো প্রান আছে, উভয়ের মাঝে পার্থক্য কিসের ভিত্তিতে করা হবে? তা কেন আমরা মানতে বাধ্য হবো?  এই প্রশ্ন গুলির কি উত্তর আছে নাস্তিক ধর্মান্ধ দের কাছে?

আমাদের প্রশ্ন নাস্তিক্য ধর্ম নিয়ে। যা পূর্ণ জাতিকে জানিয়ে দিতে চাই।

  1. নৈতিকতার সংগা কেন ইজমা বা সকল নাস্তিক একমত হয়ে দিতে পারে না?
  2. যদি স্রষ্টা না থাকে। নৈতিকতা দিয়ে একজন নাস্তিক কেন তার জীবন অর্থপুর্ন করার চেষ্টা করবে? যদি জীবন নিরর্থক হয়ে থাকলেই বা সমস্যা কি?
  3. আমাদের নৈতিকতা দিয়ে কি হবে যদি স্রষ্টা না থাকে?
  4. বিবেক কি জিনিস? তা কি দেখা যায়? না দেখা গেলে তাকে কেন বিশ্বাস করবো? বিবেক বলে কি কোন কিছুর অস্তিত্ব সম্ভব?
  5. প্রকৃতিকভাবে একেকজনের বিবেক একেকটা বলে কেন? অনেকেই বলে আমরা যুক্তি মানবো এবং যুক্তিই আমাদের নৈতিকতা। যুক্তি কি দেখা যায়? না দেখা গেলে কেন বিশ্বাস করবো। যুক্তিকে যদি নৈতিকতা ধরি। তাবে অবশ্যই তার একটা নিয়ম আছে, আর সেই নিয়মগুলো যারা আবিস্কার করেছে। তাদেরকে বিশ্বাস করা কি অন্ধবিশ্বাস নয়? তাদেরকে কেনই বা বিশ্বাস করবো?

এই প্রশ্নের উত্তর গুলি নাস্তিক্য ধর্ম অনুপাতে চাই। সিরাজী উত্তরের অপেক্ষায়।

Share this: