মুক্তি পাবো কোন পথে,

#মুক্তি_পাবো_কোন_পথে❤

 

#পুরোটা_একসাথে❤❤

 

১/গতকাল অনেক জার্নির কারনে শরীরটা অনেক খারাপ ছিলো,রাতে অবশ্য ভালো করে ঘুমও হয়েছে,যেকারণে আজ অনেকটা ভালো লাগছে,মন মেজাজও অনেক ফুরফুরে,বিকালে ভাগিনাকে নিয়ে একটু হাটতে গিয়েছিলাম,ফেরার পথে কিছুক্ষন ক্রিকেটও খেলেছি,ক্রিকেট আমার অনেক পছন্দের খেলা,কাউকে খেলতে দেখলেই নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনা,

 

২/রাতে ডা,ইউসুফ স্যারের সাথে দেখা করতে এসেছি,উনার সাথে প্রায় এক বছর পর দেখা হলো,সেই সাথে ফ্রি পেয়ে কিছু মেডিসিনও লিখিয়ে নিলাম,আমার অনেক প্রিয় একজন মানুষ উনি,আল্লাহর জন্যই উনাকে ভালোবাসি,উনি আবার বিভিন্ন ধর্মের উপর একজন ছাত্র,উনার সাথে যতবার দেখা হয় ততবারই কিছুনা কিছু প্রসংগে আলোচনা করি,

 

এইবারও কিছু বিষয়ে আলোচনা করবোনা সেটা কি করে হয়?

সুযোগ খুজতে লাগলাম স্যারকে প্রশ্ন করার,আর পেয়েও গেলাম, 

 

আলোচনার এক পর্যায়ে স্যারকে বললাম -

স্যার- সম্প্রতি ফেইসবুকে একটা পোষ্ট দেখলাম,যেখানে এক ব্যক্তি লিখেছে যে গীতার দুই অধ্যায়ের ৫১ নাম্বার শ্লোকে বলা আছে ব্যক্তি তার কাজের মাধ্যমেই মুক্তি পায়,তাহলে আল্লাহর ইবাদাত না করলে,ইসলাম গ্রহন না করলে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব না,এমন উক্তি কি লোক ঠকানোর জন্য নয় কি?

 

স্যার এই অভিযোগের জবাবে আপনি কি বলবেন?(আমার প্রশ্ন)

 

---হুম বুঝলাম,অনেক ভালো একটা প্রশ্ন,আচ্ছা প্রথমে আলোচনা শুরু করার আগে গীতার ওই শ্লোকে কি বলা আছে সেটা একটু দেখে নেওয়া প্রয়োজন,গীতার ওই শ্লোকে কি বলা আছে একটু খুঁজে দেখোতো,

 

-- আচ্ছা স্যার,আমি দেখছি,মোবাইলে গীতার এপ্স থেকে শ্লোকটা বের করে স্যারকে দেখালাম,যেখানে বলা হয়েছে,

 

⚫অধ্যায় ২ শ্লোক ৫১,(গীতা)

 

কর্মজং বুদ্ধিযুক্তা হি ফলং ত্যক্ত্বা মনীষিণঃ৷

জন্মবন্ধবিনির্মুক্তাঃ পদং গচ্ছন্ত্যনাময়ম্৷৷

 

অর্থ: মনিষীগণ ভগবানের সেবায় যুক্ত হয়ে ভগবানের শ্বরণাগত হন। কর্মজাত ফল ত্যাগ করে জন্মমৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত হন।এইভাবে তারা সমস্ত দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্ত হন।

 

একটু লক্ষ্য করো এইখানে ব্যক্তি তার কাজের মাধ্যমে মুক্তি লাভ করেন এই কথাটা কিন্তু স্পষ্টভাবে বলা হয়নি,যেটা বলা হয়েছে তাও অনেক ঘুরিয়ে পেচিয়েই বলেছে, (স্যার)

 

--যাক সেটা কোন সমস্যা নয়,তাও উনার এই অভিযোগের যৌক্তিক জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবো,

 

এই ব্যক্তি তার পোষ্টে বলেছে মানুষ তার নিজ কাজের মাধ্যমে মুক্তিলাভ করে,আমিও উনার সাথে একমত যে ব্যক্তির কাজের মাধ্যমেই সে মুক্তি লাভ করে,কিন্তু প্রশ্ন হলো - সেটা কেমন কাজ? যেটা করলে মুক্তি পাওয়া যায়? 

 

ভালো আর খারাপ দুইধরনের কাজ আছে,এখন জানার বিষয় হলো কোন ধরনের কাজ করলে মুক্তি পাওয়া যাবে? যেমন ধরো - কেউ সারাজীবন শুধু পাপই করে গেছে,কোন ভালোকাজের ধারেকাছেও ছিলোনা,মানুষের ক্ষতি করেছে,ইশ্বরের আদেশ অমান্য করেছে,

 

আচ্ছা শাহেদ! তোমার কি মনে হয় এই রকম একটা মানুষ,যে সারাজীবন অন্যায় করেছে, সে কি তার কাজের মাধ্যমে মুক্তি পাবে?

 

না কক্ষনোই না,কেউ যদি সারাজীবন অন্যায় করতেই থাকে তাহলে তাকে তার কৃত আমল কখনোই মুক্তি দিতে পারবেনা,বরং যে ব্যক্তি ইশ্বরের আদেশ মেনে চলেছে,মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে,অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকেছে,সেই ব্যক্তিই নিজ কাজের মাধ্যমে মুক্তিলাভ করবে,

 

এককথায় যদি পুরো বিষয়টা আবার বলি তাহলে এভাবেও বলা যায় যে- ব্যক্তি তার কাজের মাধ্যমে মুক্তি লাভ করে এই কথার সাথে আমি একমত, তবে কাজটা অবশ্যই অবশ্যই ভালো হতে হবে,ইশ্বরের আদেশ মাফিক হতে হবে,তবেই ব্যক্তির কাজ থাকে মুক্তি দিবে,কিন্তু কখনোই খারাপ কাজ করা ব্যক্তি তার কাজের গুনে মুক্তি পাবেনা,মুক্তি পেতে হলে কাজটা অবশ্যই ভালো হতে হবে,এইটা ক্লিয়ার বুঝতে পেরেছো তো? (স্যারের প্রশ্ন) 

 

--- জি স্যার বুঝতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ,

 

তাহলে এইবার হিন্দুরা যেসব কাজ করে সেই কাজগুলোকে তাদের ধর্মগ্রন্থ দিয়েই ভালোমন্দ বিচার করে দেখা যাক--

প্রথমত হিন্দু ভাইয়েরা মূর্তি পুজা করেন,কিন্তু উনাদের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে মূর্তি পুজা নিষিদ্ধ করা হয়েছে,শুধু নিষিদ্ধই নয়,মূর্তি পুজা করলে ভয়ংকর শাস্তির কথাও উল্লেখ আছে,যেমন যজুর্বেদের ৩২ অধ্যায়ের ৩ নাম্বার শ্লোক এবং শ্বেতশ্বত উপনিষদের ৪ অধ্যায়ের ১৯ নাম্বার শ্লোকে বলা হয়েছে--

 

⚫ন্য তস্য প্রতিমা আসতি,,

অর্থ- ইশ্বরের কোন মূর্তি নেই,,

 

বেদ আর উপনিষদ থেকে বোঝা যায় যে- হিন্দু ভাইয়েরা যেসব মূর্তির পুজা করে সেগুলো মোটেও তাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী জায়েজ নয়,কারন ইশ্বরের কোন প্রতিমা নেই,

 

এখন কেউ যদি ইশ্বরের কাল্পনিক মূর্তি বানিয়ে পুজা করে, তাহলে সে ইশ্বরকে মাটির মূর্তির সাথে তুলনা করলো,আর ইশ্বরকে পুতুলের সাথে তুলনা করা নিশ্চয়ই ভালো কাজ হতে পারেনা,

 

এইবার দেখো- মূর্তি পুজার করার ফলে সেইসব মূর্তি পুজারিদের কেমন শাস্তি দেওয়া হবে,- এই সম্পর্কে বেদে বলা আছে-

 

⚫যজুর্বেদ অধ্যায় ৪০ মন্ত্র নাম্বার ৯,

 

অন্ধং তম প্রবিশন্তি যেহ সং ভূতিমু পাশ্যতে,,তমব্যয় ইবতে তম যেয় সম্ভুক্তারতা,,

 

[[অর্থঃ- যারা প্রাকৃতিক বস্তু সমূহের পুজা করবে তারা অন্ধকারে প্রবেশ করবে,,

যারা সৃষ্ট বস্তুর (মূর্তি ভাষ্কর্য) পুজা করবে,,

তারা মহা অন্ধকারে প্রবেশ করবে, ]]

 

যজুর্বেদের এই শ্লোক থেকে স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে- মূর্তি পুজারিরা গভীর নরকে পতিত হবে,এছাড়াও মূর্তি পুজার বিরুদ্ধে হিন্দুধর্ম গ্রন্থের আরও বেশ কিছু জায়গায় বলা হয়েছে- যেমন- শ্রীমদ্ভাগবত গীতার ৭ অধ্যায়ের ২০ নাম্বার শ্লোক,শ্বেতশ্বত উপনিষদের ৪ অধ্যায়ের ২০ নাম্বার শ্লোক,শ্বেতশ্বত উপনিষদের ৬ অধ্যায়ের ৯ নাম্বার শ্লোক, সহ আরও বেশ কিছু জায়গায় মূর্তি পুজার অসারতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে,এখান থেকে স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় - হিন্দু ধর্মে মূর্তি পুজা নিষিদ্ধ, এছাড়াও মূর্তি পুজা সম্পর্কে আবুল হোসেন ভট্টাচার্য উনার [মূর্তি পুজার গোড়ার কথা] নামক বইয়ের ১৮ -২২ পৃষ্টায় লিখেছেন-

 

[প্রতিমা শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে প্রতিম বা প্রতিরুপ,

প্রতিরুপ অর্থ হলো,সে প্রতিমাকে হুবহু আসল ভগবানের মতোই হতে হবে, তা না হলে তাকে প্রতিমা বা প্রতিরুপ বলা যায়না,

 

বাংলাদেশে অধিকাংশ এলাকায় মূর্তি পুজা হয়,,যেমন দুর্গাপুজা,

 

খেয়াল করলে দেখা যায়,একটা মূর্তির সাথে আরেকটার কোন মিল নেই,চিটাগং এর মূর্তি একরকম,

আবার ঢাকার মূর্তি আরেক রকম,

বিভিন্ন জেলার মূর্তি বিভিন্ন রকম,

এক কথায় কোন মূর্তিই একটা আরেকটার সাথে কখনোই মিলেনা,

 

আগেই বলেছি মূর্তি শব্দের অর্থ প্রতিমা বা প্রতিরুপ,, যেহেতু কোন মূর্তিই একটার সাথে আরেকটা মিলেনা,তাই এই মূর্তি গুলোকে মাটির পুতুল ছাড়া আর কিছুই বলা যায়না,কেননা প্রতিমা হওয়ার জন্য তাকে তার আসল রুপের মতোই হবে,সবগুলো একই রকম হতে হবে,তখন সেটাকে প্রতিমা বলা যায়,

 

কিন্তু যেহেতু এখানে এর একটাও হচ্ছেনা,সুতরাং এইগুলো স্রেপ মাটির মূর্তি বৈ কিছু নয়,এইখান থেকে বুঝতে পারি এইগুলো আসলে কোন প্রতিমা নয়,বরং মাটির পুতুল,]

 

এখন প্রশ্ন হলো কেউ যখন একটা নিষিদ্ধ কাজকে তাদের স্রষ্টার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এমনভাবে পালন করে, যেখানে মনে হয় এইটা কোন সমস্যাই নয়,তাহলে সেই ব্যক্তি কি ভালো কাজ করলো নাকি খারাপ কাজ করলো?

 

অবশ্যই খারাপ কাজ করলো,এখন কেউ যদি খারাপ কাজ করে, আর আশা করে যে -সে তার কাজের গুনে মুক্তি পাবে তাহলে সেটা নিতান্তই বোকামী নয় কি? খারাপ কাজ কখনোই কাউকে মুক্তি দিতে পারেনা,তাও আবার স্রষ্টার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে স্রষ্টার মান সম্মান কে ছোট করে,স্রষ্টার নিষিদ্ধ করা কাজ করে কিভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? এটাতো যেনো সুচের ছিদ্র দিয়ে পাহাড় প্রবেশ করানোর মতোই হয়ে গেলো,এতক্ষন ধরে একনাগাড়ে কথাগুলো বলে শেষ করলেন ইউসুফ স্যার,

 

--- হুম স্যার, সবই তো বুঝলাম,কিন্তু একটা বিষয় কিছুতেই বুঝতে পারিনা,এতো সহজ একটা বিষয় তাদের মাথায় ডুকেনা কেনো?

 

-- স্যার মুচকি হাসলেন,উনি আবার কথা বলতে যাবেন এই সময় উনার সহকারী এসে বললেন যে বাইরে রোগী এসেছে,স্যার বললেন -আচ্ছা সমস্যা নেই পাঁচ মিনিট বসতে বলো,আমি ওদের ছেড়ে দিচ্ছি,

 

হুম এইবার তোমার কথায় আসি,আসলে যে ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে যে যত কিছুই হোকনা কেনো, সে সত্য গ্রহন করবেনা তাকে কিভাবে বোঝানো সম্ভব বলো?

 

যেহেতু হিন্দু ভাইয়েরা ইশ্বরের আদেশ অমান্য করে,ইশ্বরকে ছোট করে,ইশ্বরের নিষিদ্ধ কাজকে ধর্ম মনে করে, তাই এইকথা স্বীকার করতেই হবে যে উনারা মোটেও ভালো কাজ করেন না,আর যারা ভালো কাজ করেনা তারা কিভাবে নিজের আমলের মাধ্যমে মুক্তি পাবে? আমলের মাধ্যমে মুক্তি পেতে হলে তাকে আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী চলতে হবে,এই সম্পর্কে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা পবিত্র 

কোরআনে বলেন-

 

⚫সুরা যারিয়াত আয়াত নাম্বার ৫৬

 

وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ ﴿۵۶﴾ 

 

[[আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।]]

 

আল্লাহ বলেন আমি মানুষ আর জ্বিনকে কেবল আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি, এছাড়াও পবিত্র কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে--

 

⚫সুরা আল আম্বিয়া আয়াত ২১

 

اَمِ اتَّخَذُوۡۤا اٰلِہَۃً مِّنَ الۡاَرۡضِ ہُمۡ یُنۡشِرُوۡنَ ﴿۲۱﴾ 

 

[[তারা যেসব মাটির দেবতা গ্রহণ করেছে, সেগুলি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?]]

 

⚫সুরা হাজ্জ আয়াত নাম্বার ৭৩

 

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسۡتَمِعُوۡا لَہٗ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَنۡ یَّخۡلُقُوۡا ذُبَابًا وَّ لَوِ اجۡتَمَعُوۡا لَہٗ ؕ وَ اِنۡ یَّسۡلُبۡہُمُ الذُّبَابُ شَیۡئًا لَّا یَسۡتَنۡقِذُوۡہُ مِنۡہُ ؕ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَ الۡمَطۡلُوۡبُ ﴿۷۳﴾ 

 

[[হে মানুষ, একটি উপমা পেশ করা হল, মনোযোগ দিয়ে তা শোন, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। যদিও তারা এ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তারা তার কাছ থেকে তাও উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী ও যার কাছে অন্বেষণ করা হয় উভয়েই দুর্বল।]]

 

⚫সুরা লোকমান আয়াত ১৩

 

وَ اِذۡ قَالَ لُقۡمٰنُ لِابۡنِہٖ وَ ہُوَ یَعِظُہٗ یٰبُنَیَّ لَا تُشۡرِکۡ بِاللّٰہِ ؕؔ اِنَّ الشِّرۡکَ لَظُلۡمٌ عَظِیۡمٌ ﴿۱۳﴾ 

 

[[আর স্মরণ কর, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল, ‘প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে শিরক করো না; নিশ্চয় শিরক হল বড় যুলম]]

 

হিন্দু ভাইয়েরা যেসব মূর্তির পুজা করেন- তারা না কাউকে জীবিত করতে সক্ষম, না কাউকে মারতে সক্ষম,তারা সবাই একত্রিত হয়ে একটি মাছিও বানাতে অক্ষম, শুধু তাই নয়, মাছি যদি তাদের থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, সেটাও তারা ফিরিয়ে নিতে অক্ষম,আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে পুজা করা,আল্লাহকে বাদ দিয়ে মাটির তৈরি মূর্তির পুজা করা,অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ বানানো স্পষ্টভাবে শিরক,

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তার সাথে কাউকে শরিক করতে নিষেধ করেছেন,কাউকে তার সমকক্ষ বানাতে নিষেধ করেছেন,আর আল্লাহ কখনোই তার সাথে শরিক করার গুনাহ মাফ করেন না,অন্যসব গুনাহ মাফ হলেও আল্লাহ কখনোই তার সাথে শিরকের গুনাহ মাফ করেননা,আর শিরক হলো বড়ো জুলুম,

 

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে- গীতার ২ অধ্যায়ের ৫১ নাম্বার শ্লোকে মোটেও বলা হয়নি যে মানুষ তার কাজের মাধ্যমে মুক্তি পায়, যেটা বলা হয়েছে তাও অনেক ঘুরিয়ে পেচিয়েই বলা হয়েছে,তা সত্বেও মেনে নিলাম যে-মানুষ তার কাজের মাধ্যমে মুক্তি পায়,কিন্তু কাজটা অবশ্যই ভালো হতে হবে,খারাপ কাজ কখনোই কাউকে মুক্তি দিতে পারেনা,মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই ভালো কাজ করতে হবে,কিন্তু হিন্দু ভাইয়েরা স্রষ্টার আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে যেসব কাজ করে,অর্থাৎ মূর্তি পুজা করে সেগুলো মোটেও ভালো কাজ নয়,আর আগেই বলেছি খারাপ কাজ কাউকে মুক্তি দিতে পারেনা,মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই ভালো কাজ করতে হবে,আর সেই ভালো কাজটাই হলো ইসলাম গ্রহন করা,ইসলাম গ্রহন করে স্রষ্টার আদেশ মাফিক কাজ করলেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব, সুতরাং বলতেই পারি, যে মানুষ কাজের মাধ্যমেই মুক্তি লাভ করে,কিন্তু সেই কাজটা অবশ্যই ভালো আর স্রষ্টার আদেশ মাফিক হতে হবে,যেহেতু হিন্দু ভাইয়েরা স্রষ্টার আদেশ মাফিক কাজ করছেনা,সুতরাং মুক্তিও অসম্ভব, মুক্তি পেতে হলে স্রষ্টার আদেশ অর্থাৎ ইসলাম গ্রহন করতে হবে,

 

এখানে আল্লাহর ইবাদাত না করলে জাহান্নামে যাবে এমন উক্তি ব্যবহার করে মোটেও লোক ঠকানো হচ্ছেনা,

আশা করি বিষয়টা বুঝতে পেরেছো!

 

--জি স্যার,একদম বুঝতে পেরেছি,অনেক অনেক সুকরিয়া স্যার,

 

স্যার আজকে তাহলে উঠি,বাইরে আবার রোগী বসে আছে,দোয়া করবেন স্যার আমার জন্য,

 

--- আমার জন্যও দোয়া করবা,সুযোগ পেলে মাঝে মাঝে আসিও,আজ তো অনেক দিন পরেই এসেছো,প্রায় এক বছর পর,তোমরা আসলে ভালোই লাগে,

 

-- জি স্যার,আসার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ,এখন তাহলে আসি স্যার,আসসালামু আলাইকুম, 

 

--- ওয়া আলাইকুম আসসালাম,

 

অনেক্ষন স্যারের সাথে কথা বলার পর অবশেষে উনার চেম্বার থেকে বেরিয়ে এলাম,অনেক ভালো লাগলো উনার সাথে কথা বলে,রাত অনেক হলো,এইবার বাসায় যাওয়া প্রয়োজন, এইদিকে খুব ক্ষিধেও পেয়েছে,আমি আপাতত পেটে কিছু গ্যাস ভরে আসি,আপনারাও আসুন,

 

#বিঃদ্রঃ_

সম্পূর্ণ গল্পটা কাল্পনিক, প্রথমদিকের কিছুটা যদিও সত্য,

Share this: