যীশু তথা ঈসা আঃ কতৃক বিঘোষিত সাহায্যকারী কে?পবিত্র আত্মা না মুহাম্মদ সাঃ?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 

১ম পর্ব:

খ্রিস্টান বনাম মুসলিম সংলাপ 

বিষয়:-যীশু তথা ঈসা আঃ কতৃক বিঘোষিত সাহায্যকারী কে পবিত্র আত্মা,নাকি শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাঃ?

\____________________________________/

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতাহু প্রিয় ভাই ও বোনেরা। আশা করি অবশ্যই সবাই মহান আল্লাহ্ সুবহানু ওয়াতা'আলার রহমতে ভালো এবং সুস্থ আছেন।আমরা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে ধারাবাহিক পর্ব আকারে বাইবেল থেকেই নবী মুহাম্মদ সাঃ এর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী গুলোর যথার্থ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন করব ইনশাআললাহ। যেন অবশ্যই সবাই সত্য কে জানতে বুঝতে পারেন।এবং আমরা এও প্রমাণ করে দেখাব যে কোরআন যে বলেছে পূর্ববর্তী কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল নবী মুহাম্মদ সাঃ এর আগমনের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তা বিস্তারিত তুলে ধরব সত্য সন্ধানী পাঠক বৃন্দের নিকট।যাই হোক এটা একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক সিরিজ।ইনশাআললাহ সবাই আমাদের সাথে থাকুন এবং সত্য জেনে অপরকে জানতে সহায়তা করুন ইনশাআললাহ। এই সিরিজগুলো নিয়মিত পর্ব আকারে পোস্ট করা হবে।যাই হোক মূল আলোচনাতে চলে আসি।

 

প্রত্যেক ব্যক্তিরই অধিকার আছে নিজ ধর্ম প্রচার করার কিন্তু অন্যদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অধিকার কারো নেই। নিজের ধর্মবিশ্বাস গোপন করে প্রতারণা করা আপত্তিকর। সকল সম্প্রদায়ের ন্যায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক ভালো মানুষ রয়েছেন  ,কোরআনে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে (মায়িদাহ ৪২)।কিন্তু খ্রিষ্ট ধর্মের প্রাণপুরুষ পৌল মিথ্যার মাধ্যমে ধর্মপ্রচার পূণ্যকর্ম বলে প্রচার করেছেন। তিনি বলেন:"আমার মিথ্যা কথা বলবার দরুন আরো ভালোভাবে প্রকাশ পায় যে,খোদা সত্যবাদী। এতে যখন খোদা গৌরব লাভ করেন তখন পাপী বলে আমাকে  দোষী করা হয় কেন?"(ইঞ্জিল শরীফ ,রোমীয় ৩:৭)।এজন্য মিথ্যাচার অনেক প্রচারকের মূলনীতিতে পরিণত হয়েছে।তিনটি মিথ্যা দাবীর উপরে খ্রিস্টীয় প্রচারণার ভিত্তি:

(১)বাইবেলকে "প্রকৃত তাওরাত-ইঞ্জিল "বলে দাবি করা,

(২)খ্রিস্ট ধর্মকে বিশ্ব ধর্ম বলে দাবি করা এবং

(৩)প্রচলিত খ্রিস্ট ধর্মকে ঈসা মসিহের প্রকৃত ধর্ম বলে দাবি করা। 

 

অথচ বাইবেলই এ তিনটি দাবি মিথ্যা বলে নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করে। বাইবেলই প্রমাণ করে যে,তাতে অগণিত মিথ্যা ও সাংঘর্ষিক তথ্য বিদ্যমান। ইঞ্জিল প্রমাণ করে যে,ঈসা মাসীহ কেবলমাত্র ইস্রায়েল বংশের হারানো মেষপালের জন্য প্রেরিত ছিলেন (মথি ১০:৫-৬; মার্ক ৪:১১-১২)।ঈসা আঃ নিজে অন্য অন্যান্য জাতির নবী না হওয়ার কারণে তাদেরকে এড়িয়ে চলতেন (মথি ১৫:২৪,২৬)।(মথি ২৮:১৯-২০-এ সমস্ত জাতিকে শিক্ষা দেয়ার যে নির্দেশ বোঝানো হয়েছে তাতে ইস্রায়েল জাতির ১২ টি গোষ্ঠীর সকলকেই নির্দিষ্ট করে বোঝানো হয়েছে,(প্রমাণ স্বরুপ দেখুন:(The New American Standard  Bible,R..S  Version)।আর মার্ক (১৬:১৫) ইঞ্জিলের পুরানো পাণ্ডুলিপিতে নেই,পরবর্তীকালে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রমাণ হলো যে ইস্রায়েল বংশীয় ছাড়া অন্য কেউ তাঁর ধর্ম দ্বারা মুক্তি পাবে না। সম্ভব বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠিত মিথ্যা হলো সাধু পৌলের বানানো ধর্মকে "ঈসায়ী" ধর্ম বা "খ্রিস্ট ধর্ম " নামকরণ। খ্রিস্ট ধর্মের সাথে প্রচলিত ইঞ্জিলের মধ্যে বিদ্যমান ঈসা মসিহের কথা ও কর্মের সাথে কোন মিল নেই। পৌলের উদ্ভাবিত ঈসায়ী ধর্মের মূল ভিত্তি :

(১) যীশুর ঈশ্বরত্ব 

(২) ত্রিত্ববাদ 

(৩) পুত্রত্ব 

(৪) আদমের পাপে সকল মানুষের জাহান্নামী হওয়া 

(৫) তওবা সত্ত্বেও মানুষের ক্ষমা করায় আল্লাহর অক্ষমতা (নাঊযুবিল্লাহ মিনযালিক) 

(৬) মানুষের মুক্তির জন্য ঈশ্বরের নিজ পুত্রকে কুরবানী করতে বাধ্য হওয়া 

(৭) যীশুর ক্রুশে মরে অভিশপ্ত হওয়া 

(৮) যীশুর নরকভোগ করা 

(৯) শরিয়তের বিধিবিধান বাতিল হওয়া।

...প্রচলিত ইঞ্জিলের মধ্যে এসকল বিষয়ে ঈসা মসিহের কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই বরং এগুলোর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বক্তব্য অনেক।ঈসা আঃ বলে গেছেন :নবুয়্যত ইসরায়েলি বংশধারা থেকে ইসমাইলী বংশধারায় স্থানান্তর হবে  অর্থাৎ খোদার রাজ্য ইয়াহুদিদের হাতছাড়া হয়ে আরবদের হাতে চলে যাবে।এক নজরে যীশু তথা ঈসা আঃ এর পরে আগত- "আর একজন সহায়/সাহায্যকারী "- কে?মুহাম্মদ সাঃ নাকি পাক-রুহ?

এখানে সবাই পাঠক বন্ধুরা মনোযোগ সহকারে খেয়াল করুন এবং বুঝেন:

 

ক)যীশু তথা হযরত ঈসা আঃ নিজেই শিষ্যদের বলেছেন আর এটা আছে গসপেল অব যোহন ১৬ নং অধ্যায়ের ১২থেকে ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে :-"আমি তোমাদের অনেক কথা বলতে চাই কিন্তু তোমরা সেগুলো এখন বুঝবে না কারণ যখন সেই সত্যের আত্মা আসবে সে তোমাদের সত্যের পথে নিয়ে যাবে ।সে তাঁর নিজের কথা বলবে না ,যা শুনবে সে কথাই বলবে ।সে তোমাদের ভবিষ্যতের কথা বলবে আর আমাকে মহিমান্বিত করবে।"

 

(খ) ইউহান্না ১৪:২৫-২৬ এ ঈসা আঃ বলেছেন-"তোমাদের সংগে থাকতে থাকতেই এ সমস্ত কথা আমি তোমাদের বলছি।"সেই সাহায্যকারী "অর্থাৎ পাকরূহ (পবিত্র আত্মা) "যাকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দিবেন। "তিনিই সমস্ত বিষয় তোমাদের শিক্ষা দিবেন।আর আমি তোমাদের যা কিছু বলেছি সেই সমস্ত তোমাদের মনে করিয়ে দিবেন। ।"

 

(গ) ইউহান্না (১৫:২৬) ঈসা আঃ আরো বলেছেন:-"সেই সাহায্যকারীকে আমি পিতার নিকট থেকে তোমাদের নিকট পাঠিয়ে দিব, তিনি যখন আসবেন তখন তিনিই 'আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিবেন'।ইনিই সত্যের রুহ (Spirit of Truth)........

 

(গ) ইউহান্না (১৬:৭-৮) ঈসা আঃ আরো বলেছেন:-"তবুও আমি তোমাদের সত্য কথা বলছি যে,আমার যাওয়া তোমাদের জন্য ভালো, কারণ আমি না গেলে 'সেই সাহায্যকারী '(প্যারাক্লীট) তোমাদের নিকট আসবেন না।কিন্তু আমি যদি চলে যাই তাঁকে তোমাদের নিকট পাঠিয়ে দিব। আর তিনি এসে পাপের সম্বন্ধে,ধার্মিকতার সম্বন্ধে এবং বিচারের সম্বন্ধে জগতকে দোষী সাবস্ত্য করবেন। "

(ঙ) বাংলা বাইবেল ,যোহন (১৬:১২) ঈসা আঃ আরো বলেছেন:-"তোমাদের নিকট বলবার আমার আরো অনেক কথা আছে,কিন্তু এখন তোমরা সেইগুলো 'সহ্য করতে পারবে না।"

(চ) বাংলা বাইবেল ,যোহন (১৬:১৩) ঈসা আঃ আরো বলেছেন:-"পরন্তু ' তিনি ' সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন,তখন ' তিনি 'তোমাদের পথ দেখিয়ে 'পূর্ণ সত্যের পথে নিয়ে যাবে ' কারণ 'তিনি নিজে থেকে কথা বলবেন না ' কিন্তু যা কিছু শুনেন তাই বলবেন' এবং আগামী ঘটনাও 'তিনি ' তোমাদের জানাবেন ।তিনি আমাকে মহিমান্বিত করবেন ..........।

 

আজ এই পর্যন্তই। 

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে কবুল করুন এবং এই সত্য পথে মৃত্যু পর্যন্ত দৃঢ় অবিচল থাকার মতো তাওফিক দান করুন।আমীন

Share this: