হায়রে খ্রিস্টধর্মের করুন অবস্থা: সাধু পৌলের কান্ড

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 

২য় পর্ব:

খ্রিস্টান বনাম মুসলিম সংলাপ:

\________________________/

মানবসভ্যতাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পৌলের উদ্ভাবিত যীশুর নামে প্রচারিত এ ভ্রান্ত মতবাদের স্বরুপ উন্মোচন জরুরি। কারণ পৌল পাপাচারের যে দরজা উন্মুক্ত করেছেন তা মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিশ্বের সকল দেশের সকল ধর্মের ধার্মিক মানুষগুলো অন্তত মিথ্যা,নরহত্যা,ব্যভিচার,মাদকতা ও সকল প্রকার মহাপাপ থেকে নিজেদের কে মুক্ত রাখতে চেষ্টা করেন। পক্ষান্তরে পৌলের খ্রিস্টধর্মে এসকল পাপাচারকে খোলামেলা উৎসাহ দেয়া হয়েছে। 'বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান আদম আঃ থেকে ঈসা আঃ পর্যন্ত সকল নবীগণ শিক্ষা দিয়েছেন যে:

 

 "এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সৎকর্ম (শরিয়ত পালন করা) মুক্তি পাওয়ার ভিত্তি,কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না (দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬ এবং যিহিষ্কেল ১৮:২০)।

 

কিন্তু পৌল এসে শিক্ষা দিল:যীশু সকলের পাপের বোঝা বহন করবেন।

 

"তিনি ক্রুশকাষ্ঠে প্রাণ দিয়ে খ্রিস্টানদের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে গিয়েছেন (রোমীয়  ৫:৮, ১২-১৯)।

 

আর অগ্রিম পাপের ক্ষমা করা মানেই পৃথিবীতে অরাজকতা,হিংসা-বিদ্বেষ,খুন-খারাবি,চুরি-ডাকাতি,যিনা,ব্যভিচার-ধর্ষণ সহ ইত্যাদি অশ্লীল অপকর্ম ত্বরান্বিত হারে বৃদ্ধি পাওয়ার লাইসেন্স দেওয়া।আর এই পৌল মহাশয় এই লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা-অশান্তি সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।কারণ অগ্রিম পাপ ক্ষমা করা হলে কারো মধ্যে অপরাধের জন্য পাপবোধ জাগ্রত হবে না। ফলে সে খারাপ কর্মের দিকে ধাবিত হতেও পিছপা হবে না কারণ সে জানে যতই খুন খারাবি ধর্ষণ ইত্যাদি অশ্লীল অপকর্ম করুক না কেন তার পাপ অগ্রিম ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। আর এই চিন্তাবোধ থেকেই আজকের খ্রিস্টান দেশগুলোতে যতসব অশ্লীল বেহায়াপনা উলঙ্গের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অনুসারীদের সংখ্যা বাড়াতে ও মানুষদেরকে জাহান্নামী করতে পৌল  ও তাঁর অনুসারীরা শিক্ষা দিয়েছে যে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস ও শরিয়ত পালনের কোন মূল্য নেই বরং শুধু ঈসা আঃ এর ক্রুশবিদ্ধতে মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস করলেই মুক্তি মিলবে (রোমীয় ১০:৯)।

 

যদি কেউ শরিয়ত পালন করে তবে তার জন্য মুক্তির পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। "ব্যবস্থা " বা" শরিয়তের " বিরুদ্ধে পৌলের দার্শনিক ও "মারফতি" বক্তব্য অনেক। মন শুদ্ধ হলেই হলো। শরিয়ত তো বিশ্বাস ঠিক করার জন্য;বিশ্বাস ঠিক হলে আর কিছুই লাগে না। শরিয়তই পাপ কর না বলে পাপের কথা মনে করিয়ে দেয়। শরিয়ত তুলে দিলে আর পাপ থাকবে না!!!ইত্যাদি ।সাধু পৌলের কয়েকটা বচন শুনুন। 

 

১)"মুসার শরিয়ত পালন করার জন্য খোদা মানুষকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করেন না বরং ঈসা মসিহের উপর ইমান আনবার জন্যই তা করেন "(গালাতীয় ২/১৬)।

 

২)খোদা ইমান আনবার জন্যই মানুষকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করেন,শরিয়ত পালন করবার জন্য নয়  "(ইঞ্জিল শরিফ,রোমীয় ৩/২৮),পুনশ্চ রোমীয় ১০/১০)।

 

৩)"মসিহের নিকটে পৌছিয়ে দিবার জন্য এই শরিয়তই আমাদের স্কুল মাস্টার (Our Schoolmaster) ,যেন ইমান আনবার মধ্য দিয়ে  আমাদের নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হয় (ইঞ্জিল শরিফ,গালাতীয় ৩/২৪)

 

৪)"কিন্তু পাক-কিতাব সমস্ত মানুষকেই পাপের জন্য  দোষী বলে স্থীর করেছে" ........(ইঞ্জিল শরীফ,গালাতীয় ৩/২২)।

 

৫)"যারা শরিয়ত পালন করবার উপর নির্ভর করে ,তাদের সকলের উপর এই অভিশাপ রয়েছে।..........ইমানের সাথে শরিয়তের কোন সম্বন্ধ নেই। "শরিয়ত অমান্য করবার দরুন যে অভিশাপ আমাদের উপর ছিল,মসীহ্ সেই অভিশাপ নিজের উপর নিয়ে আমাদের মুক্ত করেছেন।  (ইঞ্জিল শরিফ,গালাতীয় ৩/১১-১৩) ।

 

৬)শরিয়ত খোদার গজব ডেকে আনে ।(ইঞ্জিল শরীফ,রোমীয় ৪:১৫)

 

৭)অনন্ত জীবন পাবার জন্য .....আজ্ঞা সকল [মুসা আঃ এর শরিয়ত] পালন করার  কোন প্রয়োজন নেই। ঈসা মসিহের মধ্য দিয়ে অনন্ত জীবন লাভ (ইঞ্জিল শরিফ,রোমীয় ৫:২১)

 

৮)"তোমরা যারা মুসার শরিয়ত পালন করে খোদার গ্রহণযোগ্য হতে চাও  ,তোমরা তো মসিহের নিকট হতে আলাদা হয়ে গিয়েছ,খোদার রহমত থেকে সরে গিয়েছ" (গালাতীয় ৫:৪)

 

৯)তিনি দাবি করেন যে ,শরিয়তই সকল শত্রুতা ও হানাহানির কারণ এবং যীশু শরিয়ত বিলুপ্ত করতে এসেছিলেন:..."  তিনি তাঁর ক্রুশের উপর মেরে ফেলা দেহের মধ্যে দিয়ে সমস্ত হুকুম নিয়ম শুদ্ধ মুসার শরিয়তের শক্তি বাতিল করেছেন। " তাহলে পৌলের মতে:শুধু মনের বিশ্বাস ও মুখে স্বীকারোক্তি   মুক্তির জন্য যথেষ্ট ,শরিয়ত পালন শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়;উপরোক্ত তা মুক্তির পথে প্রতিবন্ধক "কেননা ব্যবস্থা [শরিয়ত ] দ্বারা পাপের জ্ঞান জন্মে (পবিত্র বাইবেল,রোমীয় ৩/২০)

 

• পৌলের মিথ্যাচার:

\___________________/

শরিয়ত সকলকেই পাপের মধ্যে আবদ্ধ করে,শরিয়তই পাপের উৎস,শরিয়ত পালন করে কেউই ধার্মিক হতে পারে না;বরং পাপী ও অভিশপ্ত হয় ।শরিয়ত পালনকারী ঈসা আঃ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত। অর্থাৎ ঈসাসহ সকল নবী ও তাদের অনুসারীরা পাপী,অভিশপ্ত ও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত!পাঠক আপনি কি জানেন সাধু পৌল যাকে অভিশাপ,শত্রুতা,গজব,পাপ বলে আখ্যায়িত করলেন সেই শরিয়ত বা বিধিবদ্ধ আজ্ঞাগুলো কি??মুসা আঃ এর দশ আজ্ঞা (Ten Commandments) নিন্মরুপ:মুসা আঃ বললেন ঈশ্বর এই সকল কথা বললেন:

 

১)আমার ব্যতিরেকে তোমার অন্য কোন দেবতা না থাকুক [অর্থাৎ আমার সঙ্গে কাউকে শরিক কর না]

২)তুমি কোন মূর্তি নির্মাণ কর না।

৩) তুমি তাদের কাছে প্রণিপাত কর না 

৪)তুমি বিশ্রামদিন স্বরণ করে পবিত্র করো 

৫)তোমার পিতা ও তোমার মাথাকে সমাদর করো 

৬)নর হত্যা কর না 

৭)ব্যভিচার করো না 

৮)চুরি কর না 

৯)তোমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না 

১০)তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীতে কিংবা দাসে কিংবা দাসীতে তার কোন বস্তুতেই লোভ কর না।(পবিত্র বাইবেল,পুরাতন ও নূতন নিয়ম ,১৯৭৩ সাল,যাত্রাপুস্তক  ২০:৩-১৭, দ্বিতীয় বিবরণ  ৫:১,১৬-২১)।

 

পৌলীয় খ্রিস্টধর্মে এগুলো মান্য করা পাপ,গজব,অভিশাপ ও আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত  হওয়ার মূল কারণ!তাহলে অভিশাপ হতে মুক্ত হতে এবং আল্লাহর রহমত বেশি বেশি পেতে অবশ্যই শিরক করতে হবে,ব্যভিচার করতে হবে,নর হত্যা করতে হবে,চুরি করতে হবে,পিতা মাথাকে সমাদর করা যাবে না,প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হবে,প্রতিবেশীর স্ত্রী ও তাঁর সম্পদের উপরে লোভ থাকতেই হবে ।এসকল পাপ যে যত বেশি করবে সে তত বেশি আল্লাহর রহমত বেশি বেশি পাবে।এজন্যই পশ্চিমা বিশ্বের খ্রিস্টান দেশগুলোতে এসবের হার অধিক পরিমাণে লক্ষ্য করা যায়। 

 

শরিয়ত ই পাপ করা বন্ধ করে দেয়।আর একমাত্র শরিয়ত ই বলে এবং স্মরণ করিয়ে দেয় পাপ না করতে অথচ শরিয়ত বাতিল করে দিলে তো পৃথিবীতে পাপের অন্ধকারে মানুষ নিমজ্জিত হবে।আর হারাম কাজে আরাম বেশি।এই জন্যই তো দেখা যায় যে বর্তমান তথাকথিত আধুনিক খ্রিস্টানরা যীশুর শিক্ষা কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তার সমালোচক সেন্ট পৌলের শিক্ষা কে গ্রহণ করে নিয়েছে যার জন্য তথাকথিত খ্রিস্টানরা যীশুর শরিয়ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।আর পৌল সুকৌশলে যীশুর শরিয়ত বাতিল করার কারণেই তো বর্তমান আধুনিক খ্রিস্টান বিশ্বে উলঙ্গ-বেহায়াপনা,নগ্নতা অশ্লীলতাসহ বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত তারা।এছাড়া এরা পালন করে পৌলের শিক্ষা আর মুখে মুখে যীশু যীশু বলে ফ্যানা উঠিয়ে ফেলে।কিন্তু আপনি নিজেই খ্রিস্টানদের আচরণ বিধিগুলো লক্ষ করে দেখুন কোন খ্রিস্টানদের মধ্যে যীশুর শিক্ষার কোন বালাই পরিস্ফুট নেই বরং পৌলের শিক্ষা টাই তাদের মাঝে লক্ষণীয়।মূলত খ্রিস্টানরা পৌলের শিক্ষার কাছে হার মেনে যীশুর শিক্ষা কে ত্যাগ করেছে।

Share this: