প্রোটেস্টাইন পন্ডিত মার্টিন লুথার এবং যীশু বনাম সাধু পৌলের বক্তব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 

৩য় পর্ব

খ্রিস্টান বনাম মুসলিম সংলাপ 

\_____________________________________/

মানবসভ্যতাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পৌলের উদ্ভাবিত যীশুর নামে প্রচারিত এ ভ্রান্ত মতবাদের স্বরুপ উন্মোচন জরুরি। কারণ পৌল পাপাচারের যে দরজা উন্মুক্ত করেছেন তা মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বিশ্বের সকল দেশের সকল ধর্মের ধার্মিক মানুষগুলো অন্তত মিথ্যা,নরহত্যা,ব্যভিচার,মাদকতা ও সকল প্রকার মহাপাপ থেকে নিজেদের কে মুক্ত রাখতে চেষ্টা করেন। পক্ষান্তরে পৌলের খ্রিস্টধর্মে এসকল পাপাচারকে খোলামেলা উৎসাহ দেয়া হয়েছে। 'বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান আদম আঃ থেকে ঈসা আঃ পর্যন্ত সকল নবীগণ শিক্ষা দিয়েছেন যে :

 

এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সৎকর্ম (শরিয়ত পালন করা) মুক্তি পাওয়ার ভিত্তি,কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না (দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬ এবং যিহিষ্কেল ১৮:২০)।

 

কিন্তু পৌল এসে শিক্ষা দিল:যীশু সকলের পাপের বোঝা বহন করবেন।"তিনি ক্রুশকাষ্ঠে প্রাণ দিয়ে খ্রিস্টানদের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে গিয়েছেন (ইঞ্জিল শরীফ,রোমীয়  ৫:৮, ১২-১৯)।

 

অনুসারীদের সংখ্যা বাড়াতে ও মানুষদেরকে জাহান্নামী করতে পৌল  ও তাঁর অনুসারীরা শিক্ষা দিয়েছে যে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস ও শরিয়ত পালনের কোন মূল্য নেই বরং শুধু ঈসা আঃ এর ক্রুশবিদ্ধতে মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস করলেই মুক্তি মিলবে (রোমীয় ১০:৯)।

 

যদি কেউ শরিয়ত পালন করে তবে তার জন্য মুক্তির পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। "ব্যবস্থা " বা" শরিয়তের " বিরুদ্ধে পৌলের দার্শনিক ও "মারফতি" বক্তব্য অনেক যা দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করা হয়েছে। মন শুদ্ধ হলেই হলো। শরিয়ত তো বিশ্বাস ঠিক করার জন্য;বিশ্বাস ঠিক হলে আর কিছুই লাগে না।এছাড়া মুক্তির এ পথের ব্যাখ্যা করে প্রোটেস্ট্যান খ্রিস্টধর্মের প্রতিষ্ঠাতা  মার্টিন লুথার (Martin Luther ,১৪৮২-১৫২৯ খ্রিঃ) বলেন :-

 

"তোমরা শুধু বিশ্বাস কর।আর সুনিশ্চিতরুপে জেনে রাখো যে ,এতেই তোমাদের মুক্তি লাভ হবে।মুক্তির জন্য কোন উপবাসের কষ্ট করতে হবে না,কোনরুপ সৎকর্ম পালনের চেষ্টা করতে হবে না,সৎ থাকার কষ্ট করতে হবে না,পাপের স্বীকারোক্তি কষ্ট করতে হবে না ।খ্রিস্টের জন্য যেমন সুনিশ্চিত মুক্তি,তোমাদের জন্যও ঠিক তেমনি মুক্তি,যাতে কোনরুপ সন্দেহ নেই। তোমরা পাপ কর।পরিপূর্ণ সাহসিকতার সাথে পাপ কর এবং শুধু বিশ্বাস কর ।শুধু বিশ্বাসই তোমাদেরকে মুক্তি প্রদান করবে যদিও প্রতিদিন তোমরা এক হাজারবার ব্যভিচার  বা হত্যার মতো পাপে লিপ্ত হও ।তোমরা শুধু বিশ্বাস কর। আমি তোমাদেরকে বলছি,শুধু বিশ্বাসই তোমাদের মুক্তি দিবে। "(ক্যাথলিক হেরাল্ড ,ভলিউম ৯,পৃষ্ঠা ২৭৭)।

 

এ জন্যই আমরা দেখি যে মিথ্যা,দুর্নীতি,সুদ,ঘুষ,মদপান,ধর্ষণ,ব্যভিচার ইত্যাদি পাপ খ্রিস্টান চার্চ ও পাদ্রিদের নিয়মিত কর্ম। এমনকি হিটলারের মতো ঠান্ডা মাথায় গ্যাস চেম্বারে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করলেও কোন সমস্যা নেই। হিটলার ও তার সমর্থক সকল পোপ পাদ্রির জন্য যীশু জান্নাতের দরজা খুলে বসে রয়েছেন!(১ যোহন ,২:১-২ দ্রষ্টব্য)।

ইঞ্জিলের মধ্যে বিদ্যমান মসীহের বক্তব্য পৌলের বচনের সাথে সাংঘর্ষিক। শুধু বিশ্বাসেই মুক্তি মিলবে মসীহ্ এটা বলেন নাই।শত বিশ্বাস থাকলেও সামান্যতম শরিয়ত লঙ্ঘন করলেও তার জান্নাত মিলবে না বলে প্রচার করেছেন ।

 

যীশু বলেছেন-"মনে করো না আমি তৌরাত ও নবীদের কিতাব বাতিল করতে এসেছি।আমি সেগুলো বাতিল করতে আসিনি বরং পূর্ণ করতে এসেছি।...মুসার শরিয়তের মধ্যে ছোট একটা হুকুমও  যে কেউ অমান্য করে এবং লোকদের তা অমান্য করতে শিক্ষা দেয় ,তাকে বেহেশতী রাজ্যে সবচেয়ে ছোট বলা হবে কিন্তু যে কেউ শরিয়তের হুকুমগুলো পালন করে ও শিক্ষা দেয় তাকে বেহেশতী রাজ্যে সবচেয়ে বড় বলা হবে।  আমি তোমাদের বলছি,আলেম ও ফরিশীদের মধ্যে ধার্মিকতার চেয়ে তোমাদের যদি বেশি কিছু না থাকে  তবে তোমরা কোনমতেই বেহেশতী রাজ্যে ঢুকতে পারবে না। "(ইঞ্জিল শরিফ,মথি ৫:১৭-২০) 

 

এভাবেই ঈসা আঃ বারংবার বলেছেন যে,আজ্ঞা,বিধান বা শরিয়ত পালনই জান্নাতের একমাত্র পথ।

 

ঈসা আঃ আরো বলেছেন-"মুসার শরিয়তের সবচেয়ে বড় হুকুম -প্রভু,যিনি আমাদের খোদা ,তিনি এক, আর তোমার সমস্ত অন্তর প্রাণ,তোমার সমস্ত মন দিয়ে,তোমার প্রভুকে মহব্বত করবে।আর তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত করে মহব্বত করবে।মুসার গোটা শরিয়ত ও এবং নবীদের সমস্ত শিক্ষা [ অর্থাৎ হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদত ] এই দুইটি হুকুমের উপরে নির্ভর করে আছে। (ইঞ্জিল শরিফ,মথি ২২:৩৬-৪০,  মার্ক ১২:২৯-৩১, লুক ১০:২৫-২৮)।

 

ঈসা আঃ বলেছেন-"যে কেউ আমার এ সমস্ত কথা শুনে পালন করে ,সে একজন বুদ্ধিমান...।আর যে কেউ আমার এ সমস্ত কথা শুনে পালন করে না সে মূর্খ। (ইঞ্জিল শরিফ,,মথি ৭/২৪,২৬)। 

 

এক ব্যক্তি এসে যীশুকে জিজ্ঞাসা করলো, -"...অনন্ত  [আখেরী জীবন] জীবন পাইবার জন্য আমি কিরূপ সৎকর্ম করব? তিনি তাকে বললেন:...আপনি যদি অনন্ত [আখেরী জীবন] জীবন পাইতে চান,তবে তাঁর সমস্ত হুকুম পালন করুন। (মথি ১৯/১৬-১৭; লুক  ১৮/১৮-১৯)।

 

পৌল বললেন:-"কারণ, তুমি যদি 'মুখে' যীশুকে প্রভু বলে স্বীকার কর  এবং 'অন্তরে ' বিশ্বাস কর যে,খোদা তাঁকে মৃতগণের মধ্যে থেকে জীবিত করেছেন ,তবে তুমি পাপ থেকে উদ্ধার পাবে। (রোমীয় ১০:৯)

 

এর বিপরীতে যীশু তথা ঈসা আঃ এর বক্তব্য শুনুন-"যারা আমাকে 'প্রভু ' প্রভু " বলে ,তারা প্রত্যেকে যে বেহেশতী রাজ্যে ঢুকতে পারবে,তা নয়। কিন্তু আমার বেহেশতী পিতার ইচ্ছা যে-পালন করে সে-ই ঢুকতে পারবে। সেই দিন অনেকে আমাকে বলবে, 'প্রভু ' প্রভু " তোমার নামে আমরা কি ভবিষ্যতের কথা বলিনি?তোমার নামে কি ভূত ছড়ায়নি?তোমার নামে কি অনেক আশ্চর্য কাজ করিনি?তখন আমি তাদের বলব,''আমি তোমাদের চিনি না।দুষ্টের দল। আমার নিকট হতে তোমরা দূর হও (মথি ৭/২১-২৩)।

 

পাঠক একটু বিবেচনা করুন।যারা তাকে [ঈসা আঃ] 'হে প্রভু ' 'হে প্রভু" বলেন তারা অবশ্যই  তাকে প্রভু বলে বিশ্বাস করেছেন  এবং মুখে এভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ।উপরন্তু তাঁর নামে "পবিত্র আত্মার " প্রেরণা লাভের দাবি করেছেন,ধর্ম প্রচার করেছেন এবং  কেরামতি দেখিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তারা জান্নাত লাভ  করবেন না;কারণ ঈসা মসিহকে প্রভু বলে বিশ্বাস ও স্বীকার করলে অনেক শয়তানী কেরামত হাসিল হতে পারে কিন্তু তাওহিদে বিশুদ্ধ বিশ্বাস ও শরিয়তের পূর্ণ পালন না করলে স্বয়ং ঈসা মসিহও  তার জন্য শাফায়াত করবেন না। পৌল যীশুর এ সকল বক্তব্য প্রচারকারীদেরকে অভিশপ্ত বলে  ঘোষণা করেছেন;কারণ তারা তাঁর ইঞ্জিলের বিপরীত ইঞ্জিল প্রচার করেন ( গালাতীয়  ১/৮-৯)

 

এরপরও যীশুর অনেক বক্তব্য মানুষের কাছে পৌছাত। এজন্য পৌল ও তাঁর অনুসারীরা অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেন। যেমন তিনি ইয়াহুদিদের ভয়ে মানুষে বুঝবে না বলে  এগুলো বলেছিলেন। এভাবেই তারা ঈসা আঃ কে বুঝাতে অক্ষম  বা মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করেন (নাঊযুবিল্লাহ মিনযালিক) ।এমনকি সাধু পৌল যীশুর শিক্ষাকে প্রাথমিক,আদিম ও পূর্ণতার পরিপন্থী বলে  ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন:"(RSV:Let us leave the elementary doctrine (teachings) of christ & go on to maturity): সুতরাং এস,আমরা খ্রিস্টের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষার কথা ছেড়ে পূর্ণতাপ্রাপ্তির চেষ্টায় অগ্রসর হই;"(ইব্রীয় ৬/১) বাংলা অনুবাদে কারসাজি বিদ্যমান। 

 

ঈসা আঃ এর শিক্ষা প্রাথমিক ও অপরিপক্ক। তাঁর শিক্ষা প্রাইমারীর আর পৌলের শিক্ষা  হাইস্কুলের। অবশ্যই ত্রিত্ববাদীদের জন্য মসীহের শিক্ষাকে অপরিপক্ক বলা ছাড়া উপায়ই নেই।তাদের ধর্মের একটি আকীদাও মসিহের শিক্ষার মধ্যে সুস্পষ্ট নেই।কাজেই তাকে অপূর্ণ এবং পৌলকে পূর্ণ বলা ছাড়া উপায় নেই তাদের।মানবতাবিরোধী এ মতবাদকে  প্রতিষ্ঠা করতে পৌল দাবী করলেন যে,মানুষ জন্মগত ভাবে পাপী এবং যীশুর মাধ্যমেই মানুষ মুক্তি পায়। এ বিশ্বাসের মূল বিষয় নিন্মরুপ :-

 

"আদম নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করে মহাপাপ করেন। এজন্য কিয়ামত পর্যন্ত সকল আদম সন্তানের শাস্তি ও অনন্ত মৃত্যু পাওনা হয়। "পিতার অপরাধে সকল সন্তানের নরক গমনের "-এ "দয়াময় "  ব্যবস্থায় দয়াময় স্রস্টা অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়েন। বিনা রক্তপাতে ক্ষমা করতে অক্ষম হয়ে তিনি নিজের পুত্রকে কুরবানী করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ পাপের জন্য পাপী নিজের বা পাপীর সন্তানগণ রক্তপাত করলে হবে না। বরং নিরপরাধ নিষ্পাপ কাউকে ধরে কুরবানী দিতে হবে। এজন্য স্রস্টা নিজের আপন পুত্রকে কুরবানী হিসেবে পৃথিবীতে পাঠান।তিনি ক্রুশে মরে অভিশপ্ত হয়ে তিনদিন নরক যন্ত্রণা ভোগ করেন এবং শয়তানের হাত থেকে নরকের চাবি কেড়ে নিয়ে মানুষদেরকে চিরতরে মুক্তি করে দেন। এখন মানুষ যত পাপই করুক না কেন যীশুর ঈশ্বরত্বে ও কুরবানীতে বিশ্বাস  করলেই নরক থেকে চিরমুক্তি। " পৌলের ভাষায়:-"...একটা পাপের মধ্যে দিয়ে যেমন সমস্ত মানুষকেই আযাব পাবার যোগ্য বলে ধরা হয়েছে,তেমনি একটা নায্যকাজের মধ্যে দিয়ে  সমস্ত মানুষকেই নির্দোষ বলে গ্রহণ করবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।...যেমন একজন মানুষের [হযরত আদম আঃ] অবাধ্যতার মধ্যে দিয়ে  অনেকেই পাপী হয়েছিল ,তেমনি একজন মানুষের [হযরত ঈসা আঃ] বাধ্যতার মধ্যে দিয়ে অনেকেই নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হবে"। (ইঞ্জিল শরিফ,রোমীয় ৫/১৮-১৯)।..."রক্তপাত না হলে পাপের ক্ষমা হয় না।"(ঐ,ইব্রীয় :৯/২২) ।পুনশ্চ:(রোমীয় ৪/২৫,  ১৬;  ১০/৯; গালাতীয় ৩/১০-১৩; ইফিষীয় ১/৭;   ১ করিন্থীয়  ১৫/২১-২২)।

 

পৌলের এ উদ্ভট আকিদাগুলো ভিত্তিহীন অসত্য।কারণ 

ক)একের পাপে অন্যের শাস্তি ও একের ত্যাগে অন্যের মুক্তি এবং 

খ)রক্তপাত ছাড়া পাপ মুক্তি হয় না।

 

কারণ কিতাবুল মুকাদ্দাসের বিধান:-"কারণ প্রত্যেকে নিজের পাপের জন্যই মরবে; যে টক আঙ্গুর খাবে তারই দাঁত টকে যাবে" (যিরমিয় ৩১:৩০)।এছাড়া (যিরমিয় ৩১:২৯-৩০)-তে উত্তম একটা উপমা বর্ণনা করা হয়েছে। "

যাই হোক এখানে উদ্ধৃতিতে বোঝা যাচ্ছে যে কেউই নিজের ছাড়া অন্যের পাপ বহন করবে না এবং অন্যের পাপ নিয়ে মরবে না।যে পাপ করবে সেই পাপী হবে।

আবার অন্যত্র বলা হয়েছে:-"যে প্রাণী পাপ করে, সেই মরবে"(যিহিস্কেল ১৮:৪;  দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬;  ২ রাজাবলি ১৪:৬;  ২ বংশাবলি ২৫:৪)।

 

 বাইবেলের অন্যত্র বলা হয়েছে:-

19. কিন্তু তোমার বলছ, “সেই ছেলে কেন বাবার অপরাধ বহন করে না?” সেই ছেলে তো ন্যায় ও ধার্মিকতার আচরণ করেছে এবং আমার বিধি সব রক্ষা করেছে, সে সব পালন করেছে; সে অবশ্য বাঁচবে।

20. যে কেউ পাপ করে, সে মরবে; বাবার অপরাধ ছেলে বহন করবে না ও ছেলের অপরাধ বাবা বহন করবে না; ধার্ম্মিকের ধার্ম্মিকতা তার ওপরে আসবে ও দুষ্টের দুষ্টতা তার ওপরে আসবে।

21. কিন্তু দুষ্ট লোক যদি নিজের করা সমস্ত পাপ থেকে ফেরে ও আমার নিয়ম সব পালন করে এবং ন্যায় ও ধার্মিকতার আচরণ করে, তবে সে অবশ্য বাঁচবে; সে মরবে না।

22. তার আগে করা সব অধর্ম্ম তার বলে মনে করবে না; সে যে ধার্মিকতার আচরণ করেছে, তাতে বাঁচবে।

23. “দুষ্টদের মৃত্যুতে কি আমি খুব আনন্দিত হই?” এটা প্রভু সদাপ্রভু বলেন; “বরং সে নিজের পথ থেকে ফিরে বাঁচে।"(যিহিস্কেল ১৮:১৯-২৩)

 

এখানে উপরোল্লিখিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমান হয় যে (ক)একের পাপে অন্যের শাস্তি ও একের ত্যাগে অন্যের মুক্তির দাবি 100% মিথ্যা এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বর মহান আল্লাহ্ সুবহানু ওয়াতা'আলার নামে বে-ইনসাফির মিথ্যা অপবাদ ও (খ)পাপীর মুক্তির জন্য কাফ্ফারা বা রক্তপাত নিষ্প্রয়োজন;তওবা ও যথার্থ ধর্ম পালনই যথেষ্ট আর এটাই তো মহান আল্লাহর ইনসাফ,দয়া ও মমতার প্রকাশ।

 

কিন্তু পাঠক বন্ধুগণ পৌলীয় ধর্মের ঈশ্বরের মহানুভবতা দেখুন ও লক্ষ্য করুন ।শাস্তির ক্ষেত্রে অকৃপণ ও মহানুভব হলেও মুক্তির ক্ষেত্রে কৃপণ (নাঊযুবিল্লাহ মিনযালিক)। আদমের পাপের কারণে শাস্তি পেতে কোন মানুষের কোন বিশ্বাস বা স্বীকারোক্তির প্রয়োজন নেই। ফ্রি শাস্তি!তবে যীশুর ত্যাগের কারণে মুক্তিটা ফ্রি নয়!বরং বিশ্বাস ও স্বীকারোক্তি লাগবে।পৌল ও তাঁর অনুসারীরা দাবি করলেন যে,ঈসা আঃ পাপীর পাপ বহন করবেন; কাজেই তাঁর আত্মত্যাগে বিশ্বাস করলেই মুক্তি সুনিশ্চিত। পক্ষান্তরে আমরা দেখলাম যে,ঈসা মাসীহ বললেন:-"

 

ইমান ও শরিয়ত পালন না করলে শত বিশ্বাসেও মুক্তি মিলবে না। তিনি কোন পাপই বহন করবেন না। ঈসা আঃ আরো বলেন:-"যে কেউ কোন স্ত্রী লোকের দিকে কুনজরে তাকায়,সে তখনই মনে মনে তার [স্ত্রী লোক] সাথে ব্যভিচার করলো। তোমার ডান চোখ যদি তোমাকে পাপ করায় ,তবে তা উপড়ে ফেলে দাও। তোমার সমস্ত দেহ আগুনে পুড়বার চেয়ে বরং তার একটা অংশ নষ্ট হওয়া  তোমার পক্ষে ভালো ।(ইঞ্জিল শরীফ,মথি ৫/২৮-২৯)।

Share this: