ইসলামে শোকের কারনে কান্না কি নিষিদ্ধ ?

 

﷽‎

অজ্ঞতাপ্রসূত অভিযোগ:

মৃতের জন্য কাঁদতে নিষেধ করেছে মুহাম্মদ()। কত নিষ্ঠুর তার ধর্ম।

 

অজ্ঞতার জবাব:

দেখুন হাদিসে বলা হয়েছে-

💠গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ অধ্যায়ঃ ৬/ জানাযা (كتاب الجنائز) হাদিস নম্বরঃ ১৫৮৫;

بَاب مَا جَاءَ فِي النَّهْيِ عَنْ ضَرْبِ الْخُدُودِ وَشَقِّ الْجُيُوبِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ الْمُحَارِبِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ كَرَامَةَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ عَنْ مَكْحُولٍ وَالْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم لَعَنَ الْخَامِشَةَ وَجْهَهَا وَالشَّاقَّةَ جَيْبَهَا وَالدَّاعِيَةَ بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ  [ সম্ভাব্য ভাবানুবাদ:

উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা ক্ষতবিক্ষতকারিণী, বক্ষদেশের জামা ছিন্নকারিণী, ধ্বংস ও মৃত্যু কামনাকারিণী ও শোকগাথার আয়োজনকারিণীকে অভিসম্পাত করেছেন। 

৬/৫২. শোকে মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত করা এবং জামা ছেঁড়া নিষেধ। 

২/১৫৮৫।  সহীহাহ ২১৪৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

 

💠কানযুল উম্মাল ৪০৬৬১;

السلام عليكم ورحمة الله وبركاتهحديث شبيب بن بشر البجلي عن أنس بن مالك: سمعت رسول الله (صلى الله عليه وسلم) يقول: صوتان ملعونان في الدنيا والآخره مزمار عند نعمة ورنة عند مصيبة) أخرجة البزار وأبو بكر الشافعي في الرباعيات

[ সম্ভাব্য ভাবানুবাদ: "আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ () বলেছেনঃ ‘’দুটি আওয়াজ দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত। একটি হল- খুশির সময় গান-বাজনার আওয়াজ, অপরটি হল- বিপদের সময় উচ্চস্বরে ক্রন্দনের আওয়াজ "  হায়সামী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা নঃ ৪৪২; আলী আল-মুত্তাকি, কানযুল উম্মাল ৪০৬৬১, ৪০৬৭২; মুসনাদুল বাযযার ৮৯৭ (শব্দের কিছু ভিন্নতা সহ। বাযযার রাবীদের বিশ্বস্ত বলেছেন)

 

উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই নারীদের উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করে নিজেদের বক্ষের কাপড় ছিড়ে ফেলাকে নিষেধ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে বিলাপ করে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করা ও পোশাক খুলে ফেলা কি গ্রহণযোগ্য কাজ? এবার দেখুন রাসুল () বিভিন্ন সময় মৃতের জন্য কান্না করেছেন তার প্রমাণ: 

উপরের বর্ণনাতে আমরা দেখছি যে নারীদের উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করা, মাতম করা, নিজেদের বক্ষের কাপড় ছিড়ে ফেলা সহ সকল অস্বাভাবিক ও উগ্র আচারণ সমূহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে বিলাপ করে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করা ও পোশাক খুলে ফেলা বা এধরনের অস্বাভাবিক আচার-আচরণ  কি গ্রহণযোগ্য কাজ?

মজার ব্যাপার হলো সহাবী রাঃ এবং এমনকি রাসুলুল্লাহ () নিজেও বিভিন্ন সময় মৃতের জন্য কান্না করেছেন এরকম কিছু বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো ।

💮 যে সকল বর্ণনায় বলা হয়, মহানবী () মৃত ব্যক্তির উপর ক্রন্দন করেছিলেন এবং এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন:

১। সাদ ইবনে উবাদা এবং পুত্র ইব্রাহিম রাঃ  অসুস্থতায় মহানবীর () ক্রন্দন:

💠গ্রন্থ: সহীহ বুখারী (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ২৩/ জানাযা (كتاب الجنائز) হাদিস নম্বরঃ ১৩০৩; 

بَاب قَوْلِ النَّبِيِّ إِنَّا بِكَ لَمَحْزُونُونَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا قُرَيْشٌ هُوَ ابْنُ حَيَّانَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي سَيْفٍ الْقَيْنِ وَكَانَ ظِئْرًا لإِ÷بْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلاَم فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِبْرَاهِيمَ فَقَبَّلَهُ وَشَمَّهُ ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ وَإِبْرَاهِيمُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَذْرِفَانِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا ابْنَ عَوْفٍ إِنَّهَا رَحْمَةٌ ثُمَّ أَتْبَعَهَا بِأُخْرَى فَقَالَ إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ وَالْقَلْبَ يَحْزَنُ وَلاَ نَقُولُ إِلاَّ مَا يَرْضَى رَبُّنَا وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ

[ ২৩/৪৩. নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণীঃ তোমার জন্য আমরা অবশ্যই শোকাভিভূত।    وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ   عَنْ النَّبِيِّ  تَدْمَعُ الْعَيْنُ وَيَحْزَنُ الْقَلْبُ  ইবনু ‘উমার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, (বিপদে) চোখ অশ্রুসজল হয়, অন্তর হয় ব্যথিত। 

১৩০৩. ‘আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আবূ সায়ফ্ কর্মকারের নিকট গেলাম। তিনি ছিলেন (নাবী-তনয়) ইব্রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহীম (রাঃ)-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তার (আবূ সায়ফ্-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উভয় চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?) তখন তিনি বললেনঃ অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন।[১] আর হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত। [২] মূসা (রহ.)....আনাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন। (মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৫, আহমাদ ১৩০১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২২৫)  [১] হাদীসটি হতে বিপদে অশ্রু ঝড়ানো আর মহান আল্লাহর নাফরমানী প্রকাশক শব্দাবলী বাদ দিয়ে মুখে শোক প্রকাশ করার অনুমতি পাওয়া যায়, পক্ষান্তরে মহান আল্লাহর নাফরমানী হয় কিংবা তাক্বদীরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশক শব্দাবলী পরিত্যাগ করার তাকীদ দেয়া হয়।  [২] এ ধরনের বাকরীতি বিভিন্ন ভাষায় বিদ্যমান আছে। সুতরাং আরবীতে তো থাকবেই। বিধায় মৃত ব্যক্তিকে সংশোধন করার দলীল হিসাবে নাবী () এর বাণীটি ব্যবহার করার কোনই অবকাশ নেই।

 

সাহীহ বুখারী, সাহীহ মুসলিম, সুনানে ইবনে দাউদ ও সুনানে ইবনে মা‘জায় আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূলের () সাথে প্রবেশ করলাম -- ইব্রাহীম মৃত্যু পথ যাত্রী ছিল। মহানবীর চোখ অশ্রুসজল হল। আব্দুর রহমান বিন আউফ বললঃ হে আল্লাহর রাসূল () আপনিও ? তিনি () বলেন আউফের পুত্র ! এটা হল রহমত। অতঃপর আরো বলেন ( তুমি কি ঠিক দেখতে পাচ্ছ? ) আমাদের নয়ন ক্রন্দনরত, হৃদয় ভারাক্রান্ত, কিন্তু কখনোই যা কিছু মহান আল্লাহকে তুষ্ট করে তা ব্যতীত অন্য কিছুই মুখে আনবনা । হে ইব্রাহীম ! সত্যিই আমরা তোমার বিরহে ব্যাথাতুর।   এ বর্ণনাটি সুনানে ইবনে মাজায় এরূপ ভাবেও বর্ণিত হয়েছেঃ আনাস বিন মালেক বলেনঃ যখন রাসূলের () পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যু বরণ করেন তখন তিনি () উপস্থিত লোকদেরকে বলেন। তাকে কাফনে ঢেকে দিও না ( শেষ বারের মত ) তাকে দেখব। এরপর তার শিয়রে এলেন ও তার উপর ঝুঁকে পড়ে তিনি () ক্রন্দন করলেন।   সুনানে তিরমিযিতে বর্ণিত হয়েছেঃ জাবের বিন আব্দুল্লাহ বলেনঃ মহানবী () আব্দুর রহমান ইবনে আউফের হাত ধরে , তার সাথে নিজ পুত্র ইব্রাহীমের মাথার নিকট আসলেন এবং মৃত্যু পথযাত্রী পুত্রকে কোলে তুলে নিলেন এবং ক্রন্দন শুরু করলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ বললঃ আপনি কি কাঁদছেন ? আপনি কি ক্রন্দন করতে নিষেধ করেন নি ?! তিনি () বললেনঃ “না’ আমি দু’দল পাপাচারী গর্দভ ও নির্বোধের আর্তনাদ ও আর্তচিৎকারে বাধা দিয়েছিলামঃ যারা মুসিবতের সময় মুখ আঁচড়ায় এবং জামার কলার ছিড়ে ফেলে ও শয়তানী ক্রন্দনে লিপ্ত হয়।   অর্থাৎ উল্লেখিত আলোচনাতে পরিষ্কার হলো যে, পাপাচার ও কুফরী বক্তব্য এবং উচ্চস্বরে বিলাপ, নিজের জামাকাপড় ছেড়া শরীর বিকৃত করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, উন্মাদনা ইত্যাদি অস্বাভাবিক ও বাড়াবাড়ি  ব্যতিরেকে সাধারণভাবে,  ক্রন্দন ও শোক প্রকাশ বৈধ ।‌ 

২। স্বীয় নাতির জন্য মহানবী ()- এর ক্রন্দন:

সাহীহ বোখারীতে , সাহীহ মুসলিমে, সুনানে আবি দাউদ ও সুনানে নাসাঈয়ে বর্ণিত হয়েছেঃ মহানবীর () কন্যা তাঁর জন্য সংবাদ পাঠালেন যে আমাদের কাছে আসেন। আমার একটি ছেলে মৃত্যু পথযাত্রী । মহানবী () উঠে দাঁড়ালেন এবং সা’দ ইবনে উবাদা এবং সাহাবীদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে তাদের নিকট এলেন। মৃত্যু পথ যাত্রী শিশুকে হযরতের () নিকট নিয়ে আসলেন। মহানবীর দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল । সা’দ বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা কী দেখতে পাচ্ছি ? মহানবী () বলেন “ এটা হলো সেই রহমত ও মমতা যা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে স্থাপন করেছেন। আর মহান আল্লাহ একমাত্র নিজের দয়ালু ও মেহেরবান বান্দদেরকেই রহমত ও ক্ষমা করে থাকেন।   অর্থাৎ সাধারণ ভাবে নম্র ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে শোক প্রকাশ করা বৈধ  শুধু তা ই নয় বরং এধরনের মমতা  ও শোক আল্লাহর পক্ষ থেকে আশির্বাদ ।‌ 

৩। নিজ চাচা হযরত হামযার জন্য হযরত মহানবীর () ক্রন্দন:

তাবাকতে ইবনে সাদ, মাগযীয়ে ওয়াকেদী, মুসনাদে আহমদ ও মাকতাবে খোলাফার অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছেঃ আল্লাহর রাসূল ()-ওহুদ যুদ্ধের পর- যখন আনসারদের ঘর থেকে তাদের শহীদদের জন্য ক্রন্দনের শব্দ শুনতে পেলেন তখন রাসূলের () চোখ ও অশ্রুসজল হলো। রাসূল () কেঁদে বললেনঃ কিন্তু হামযার জন্য তো কোন ক্রন্দনকারী নেই ! সা’দ ইবনে মায়ায একথা শুনতে পেলেন এবং বনি আব্দুল আশহালের নারীদের নিকট ছুটে গেলেন। তিনি তাদেরকে (মহানবীকে () সমবেদনা জানানো ও হামযার জন্য ক্রন্দন করতে ) আহবান জানালেন। মহানবী () তার জন্য দোয়া করলেন এবং তাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন। এ ঘটনার পর আনসারদের কোন নারীই ক্রন্দন করতনা যদি না আগে হামযার জন্য কাঁদত এবং তারপর নিজেদের মৃতদের জন্য কাঁদত।  

৬। মুতার যুদ্ধে শহীদদের জন্য মহানবীর () ক্রন্দন সহীহ বোখারীতেত বর্ণিত হয়েছে:

মহানবী () যায়িদ, জাফর ও ইবনে রাওহা ( কিরূপে শহীদ হবেন) শহীদ হওয়ার পূর্বেই তাদের শাহাদাতের খবর মানুষকে দিয়েছিলেন। তিনি () বলেনঃ “যায়িদ পতাকা তুলে নিলেন, আঘাত পেলেন ও শহীদ হলেন! অতঃপর জা’ফর পতাকা তুলে নিলেন। তিনি ও শহীদ হলেন! অতঃপর ইবনে রাওহা পতাকা তুলে নিলেন ও শহীদ হলেন। মহানবী () এ কথাগুলো বলছিলেন যখন তার আঁখিযুগল থেকে অশ্রুধারা বইছিলো।  

৭। জাফর ইবনে আবি তালিবের জন্য মহানবী ()-এর ক্রন্দন:

ইসতিয়াব, উসদুল গাবা, আসাবা, তারিখে ইবনে আসির এবং অন্যান্য পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে যে, ( সংক্ষেপ) যখন জাফর এবং তাঁর সাহীরা শহীদ হলেন মহানবী () তাঁর গৃহে গেলেন ও তার সন্তানদেরকে ডাকলেন। তিনি () (অশ্রুসিক্ত অবস্থায়) জাফরের সন্তানদের সুগন্ধ নিলেন (ও মাথায় হাত বুলালেন)। জাফরের স্ত্রী আসমা বললেনঃ আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, কিসে আপনাকে () কাঁদালো ? জাফর ও তাঁর বন্ধুদের কোন খবর কি আপনার নিকট পৌঁছেছে? তিনি () বললেনঃ হ্যাঁ, আজ তাঁরা শহীদ হয়েছেন।” আসমা বললেনঃ আমি উঠে দাঁড়ালাম ও আর্তনাদ করলাম ও অন্যান্য মহিলাদেরকে একত্র করে ফাতেমার ঘরে গেলাম, দেখলাম ফাতেমা কাঁদছে এবং বলছেঃ হায় আমার চাচা! আল্লাহর রাসূল () (এ অবস্থা দেখে) বললেনঃ প্রকৃতপক্ষে ক্রন্দনকারীরা জাফরের জন্য কাঁদার মত করে কাঁদা উচিৎ। অর্থাৎ নিচু স্বরে বিলাপ ও কুফরী শব্দ ব্যাতিরেখে ।  

৮। মা অমিনার মাযারে মহানবী ()-এর ক্রন্দন:

সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবি দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাযা বর্ণনা করেন  "আবু হুরইরা বলেনঃ মহানবী () তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করলেন এবং আশেপাশের সকলকে কাঁদালেন।"  

এরপরেও কি বলা যায় ইসলাম মৃতের জন্য কান্না করতে নিষেধ করে? মূলত ইসলাম কান্না করতে নিষেধ করেনা বরং শোকের নামে অশালীন কাজকেই নিষেধ করে। আশাকরি উত্তরটা পেয়েছেন। 

✍🏽লিখেছেন - চয়ন চৌধুরী । 

[Facebook:  https://www.facebook.com/chayan.chowdury ]

Share this: