মারিয়া কিবতিয়া (রা.) কি সত্যিই নবি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর দাসী ছিলেন?

মারিয়া কিবতিয়া(রা.) রাসুল (সা.) এর স্বাধীন স্ত্রী নাকি যৌনদাসী?

প্রথমেই বলে নিই, নাস্তিক্যধর্মাবলম্বীরা কথায় কথায় "যৌনদাসী" শব্দটা ব্যবহার করে থাকে যা কুরআন হাদিসের কোথাও নেই। কোনোকিছু ইসলামে না থাকলেও তা ইসলামের উপর চাপানো কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? আসুন, জেনে নিই কে ছিলেন এই মারিয়া কিবতিয়া (রা.)?

মহানবী (সা.)-এর চিঠি 

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহ্‌র বান্দা এবং রাসূল মুহাম্মদ এর পক্ষ থেকে কিব্‌ত প্রধান মুকাওকিসের প্রতি-

সালাম তার উপর যে হিদায়াতের অনুসরণ করবে। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। ইসলাম গ্রহণ করুন, আল্লাহ্‌ আপনাকে দ্বিগুণ সওয়াব দান করবেন। কিন্তু যদি মুখ ফিরিয়ে নেন তাহলে কিবতীগণের পাপ আপনার উপরেই বর্তাবে। হে কিবতীগণ! একটি বিষয়ের দিকে আসো -যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান। তা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো মুসলিম।" হুদাইবিয়া সন্ধির পর রাসূল (সা.) বিভিন্ন অঞ্চলের সম্রাট ও গভর্নরদের চিঠি পাঠানো শুরু করেন। তারই অংশ হিসেবে তিনি এই পত্রটি পাঠান মিশরের বায়জেন্টাইন গর্ভনর জুরাইজ বিন মাত্তার নিকট। তার পদবী ছিল ‘মুকাওকিস’। জুরাইজ চিঠিটি খুব সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন। তিনি তা হাতির দাঁতের তৈরি একটি বাক্সে রাখলেন এবং তাতে সীলমোহর লাগিয়ে তা যত্ন সহকারে রাখতে একজন দাসীকে নির্দেশ দিলেন। তারপর রাসূল (সা.) এর পত্রের জবাবে লিখলেন-

"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ্‌র প্রতি কিব্‌ত প্রধান মুকাওকিসের পক্ষ থেকে-

আপনি আমার সালাম গ্রহণ করুন। অতঃপর আপনার পত্র আমার হাতে এসেছে। পত্রে উল্লেখিত কথাবার্তা ও দাওয়াত আমি উপলব্ধি করেছি। এখন যে একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে সে বিষয়ে আমার ধারণা রয়েছে। আমার ধারণা ছিল যে, শাম রাজ্য থেকে উনি আবির্ভূত হবেন। আমি আপনার প্রেরিত লোকের যথাযোগ্য সম্মান ও ইজ্জত করলাম। আপনার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ দুটি দাসী প্রেরণ করলাম। কিবতীদের মধ্যে যারা বড় মর্যাদার অধিকারিণী। অধিকিন্তু, আপনার পরিধানের জন্য কিছু পরিচ্ছদ এবং বাহন হিসেবে একটি খচ্চর পাঠালাম উপহার হিসেবে। আপনার খিদমতে পুনরায় সালাম পেশ করলাম।"[1]

আজকের লেখা মুকাওকিসের পত্রের “আমার গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ দুটি দাসী প্রেরণ করলাম” এই অংশ থেকে শুরু। উল্লেখিত দাসী দুইজনের নাম হচ্ছে মারিয়া এবং শিরীন। রাসূল (সা.) নিজের জন্য মারিয়া (রা.)-কে রাখেন এবং শিরীনকে হাস্‌সান বিন সাবিত (রা.) এর কাছে দিয়ে দেন। দুইজনই সম্ভ্রান্ত বংশের নারী ছিলেন। সমালোচকরা প্রশ্ন করতে পারেন যে, সম্ভ্রান্ত হলে তারা আবার দাসী কী করে হয়? বনী ইসরাইলে নিজ সন্তানকে প্রার্থনালয়ে সেবার জন্য উৎসর্গ করে দেয়ার প্রথা ছিল। কুর’আনে এর উল্লেখও রয়েছে। মরিয়াম (আ.) এর মা হিন্না বিনতে ফাকুয আল্লাহ্‌র নিকট দুয়া করেছিলেন:

“হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। আমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাত।” [2] খ্রিষ্টানদের কাজই ছিল ইহুদীদের প্রথাগুলোকে বিকৃত করা। ইহুদীরা শুধু উপাসনালয়ের জন্য উৎসর্গ করলেও খৃষ্টানরা নিজ সন্তানদের দাসী হিসেবে ধর্ম-যাজকদের উপহার দিত। যাতে করে তারা দাসী হিসেবে সেবা করতে পারে। যাজকরা চাইলে তাদের ভিন্ন কাজেও ব্যবহার করতে পারতেন। সম্ভবত মারিয়া এবং শিরীন উচ্চ বংশের হয়েও এ কারণেই পিতামাতা কর্তৃক দাসী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন।

নাস্তিকদের অপব্যাখার খন্ডন:-

নাস্তিকরা নিম্নোক্ত হাদিস দেখিয়ে প্রমাণ করতে চায় যে মারিয়া কিবতিয়া (রা.) নবিজির দাসী ছিলেন! চলুন দেখে নিই সেই হাদিসটি।

ইবরাহীম ইবন ইউনুস ইবন মুহাম্মাদ হারামী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একজন বাদি ছিল যার সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাস করতেন। এতে আয়েশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে লেগে থাকলেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বাদিটিকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। [3] এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করেন:

(يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ)                            “হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা আপনি নিজের জন্য কেন হারাম করে নিয়েছেন। [4]

● পাঠকগণ, উক্ত হাদিসের ব্যাখা নাস্তিকরা খুব সূক্ষ্ম জালিয়াতি করে প্রচার করে যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাই তারা নাস্তিকদের প্রতারণার শিকার হয়। খেয়াল করে দেখুন, এই হাদিসে কিন্তু বলা নেই যে "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একজন বাদি ছিলো"। বরং বলা আছে " রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একজন বাদি ছিলো"। মূল টেক্সট  আরবিরও সঠিক বঙ্গানুবাদ এটাই। এই হাদিসে আরবিতে "أَمَةٌ (আমাত)" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যেটা দ্বারা সবার আগে আল্লাহর বান্দী বা দাসীকে বোঝায়। আর প্রত্যেক মুসলিম নারীই আল্লাহর বান্দী। আরবগণ, পার্সিগণ ও উর্দুভাষীগণ হরহামেশা তাদের কথায় যাকে তাকেই বান্দা-বান্দী বলে সম্বোধন করে থাকেন। এটা দ্বারা জেনারেল বা সাধারণ মানুষকেই তারা বোঝায়। মানুষের দাসী অর্থে এর প্রয়োগ খুবই কম। আর এই হাদিসে তো বলাই আছে যে "রাসুল (সা.) এর কাছে একজন বাদী ছিলেন"।  অর্থাৎ আল্লাহর বান্দী ছিলেন।"রাসুল (সা.) এর একজন বাদী ছিলেন" কিন্তু বলা নেই!

মারিয়া কিবতিয়া (রা.) রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী ছিলেন এ মর্মে অসংখ্য রেফারেন্স রয়েছে। নিম্নে ৫ টি রেফারেন্স পেশ করা হলো :-

(১)

ফাতহুল বারী ১/৩৭৮ এ হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণিত সহিহ হাদিসে মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-কে নবিজির স্ত্রীগণের কাতারে রাখা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় তিনি মুহাম্মাদ (সা.)-এর স্ত্রী ছিলেন।

 (২)

আবূ যার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অদূর ভবিষ্যতে এমন এক এলাকা জয় করবে, যেখানে ক্বীরাত্ব (এক দীনারের ২০ ভাগের একভাগ স্বর্ণমুদ্রা) উল্লেখ করা হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তোমরা অচিরে মিসর জয় করবে এবং এটা এমন ভূখণ্ড যেখানে ক্বীরাত্ব (শব্দ) সচরাচর বলা হয়। (সেখানে ঐ মুদ্রা প্রচলিত।) তোমরা তার অধিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব (অধিকার ও মর্যাদা) এবং আত্মীয়তা রয়েছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সুতরাং যখন তোমরা তা জয় করবে, তখন তার অধিবাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব,অধিকার ও মর্যাদা এবং আত্মীয়তা রয়েছে।’’ অথবা বললেন, ‘‘দায়িত্ব, অধিকার ও মর্যাদা এবং বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। [5]

● এই হাদিসের শেষের অংশ পড়ে দেখুন। রাসুল (সা.) বলেছেন, মিশরের লোকজনের সাথে তাঁর আত্মীয়তা, দায়িত্ব ও বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য যে, মারিয়া কিবতিয়া (রা.) বাদে রাসুল (সা.)-এর অন্য কোনো সহধর্মিণীই মিশরের অধিবাসী ছিলেন না। তাই এখানে স্পষ্টতই মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-এর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ও তার সূত্র ধরে মিশরের লোকজনের সাথে আত্মীয়তাকে বোঝানো হয়েছে। রাসুল (সা.) এর বিশিষ্ট ওহী লেখক সাহাবি ও মুসলিম জাহানের খলিফা হযরত আমীরে মুয়াবিয়া(রা) তাঁর খেলাফতকালে মিশরের অধিবাসীদের জিজিয়া কর মাফ করে দেন মিশর রাসুল (সা.)-এর শশুড়বাড়ি হওয়ার কারণে। 

(৩)

আমর ইবনু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর সময় কোনো দিনার, দিরহাম, দাস-দাসী রেখে যাননি।কেবলমাত্র একটি সাদা খচ্চর যার উপর তিনি আরোহণ করতেন এবং তাঁর যুদ্ধাস্ত্র আর একখন্ড যমীন যা মুসাফিরদের জন্য দান করে গেছেন। [6]

● রাসুল (সা.) তার সাহাবিদের সহায়তায় আজাদ করার উদ্দেশ্যে কাফেরদের থেকে অসংখ্য দাসদাসী ক্রয় করেছেন। এছাড়া মিশরের খ্রিস্টান রাজা মুকাউকিস রাসুল (সা.)-কে দুজন দাসী উপহার দিয়েছিলেন যারা পরস্পর বোন ছিলো। তারা উভয়ই রাসুল (সা.)-এর নিকট পৌঁছানোর আগে পথেই জনৈক সাহাবির দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলামে দুই বোনকে একত্রে বিবাহ হারাম (কুরআন ৪:২৩)। তাই রাসুল (সা.) শুধু মারিয়া কিবতিয়া (রা.) কে নিজের জন্য রেখে তার বোন শিরীন (রা)-কে হাসান বিন সাবিত (রা.) নামক সাহাবির সাথে বিয়ে দেন। রাসুল (সা.) তাঁর মৃত্যুর সময় কোনো দাসদাসী রেখে যাননি। অর্থাৎ সবাইকে আজাদ করে গিয়েছিলেন। আর মারিয়া কিবতিয়া (রা.) রাসুলের মৃত্যুর পরও ৫ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তার মানে রাসুল (সা.) মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-কে আগেই আজাদ করে বিবাহ করেছিলেন। আর এটাই ছিলো তাঁর মোহরানা। অতএব, মারিয়া কিবতিয়া (রা.) রাসুল (সা.)-এর বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন। বি:দ্র: কিছু হাদিস ও ইতিহাসগ্রন্থে উল্লেখ আছে যে মারিয়া কিবতিয়া (রা.) রাসুল (সা.)-এর সন্তান ইব্রাহিম (রা.)-কে জন্ম দেয়ার পর আজাদ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সবগুলো বর্ণনাই জঈফ, তার শক্ত প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে।

(৪)

মারিয়া কিবতিয়া (রা) তাঁর একজন খোজা সেবক (অন্ডকোষ কর্তিত ব্যাক্তি) ব্যাতীত সবার থেকে পরিপূর্ণ পর্দা করতেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর খলিফা উমর (রা.) স্বয়ং তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান। তাঁকে নবিজির অন্যান্য স্ত্রীদের সাথে একই গোরস্থানে (জান্নাতুল বাকীতে) দাফন করা হয়। [7]

এটিও মারিয়া কিবতিয়া (রা.) এর নবিজির স্ত্রী হওয়ার একটি প্রমাণ।                              

(৫)

আব্দুল্লাহ আল জুহাইরিয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সা.) শামউন এর কন্যা মারিয়াকে বিয়ে করেন। এই হলো সেই মারিয়া যাকে আলেকজান্দ্রিয়ার রাজা মুকাওকিস রাসুল (সা.)-এর নিকট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। [8]

● নাস্তিকরা আরেকজন নারীকে মুহাম্মাদ (সা.)-এর দাসী অপবাদ দিয়ে থাকে। তিনি হলেন সমস্ত মুসলিমের মাতা হযরত রায়হানা (রা.)। তিনি বনু মুস্তালিক যুদ্ধে বন্দী হয়ে আসেন। রাসুল (সা.) তাঁকে বিবাহ করেন এবং ৫০০ দিরহাম মোহরানা প্রদান করেন। [9]

নাস্তিকদের অপব্যাখার খন্ডন করা হলো এবং ইসলামে যে দাসপ্রথা নেই, তা প্রমাণিত হলো। আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত  করুন। আমিন।

 

Reference :

  • [1] আর রাহিকুল মাখতুম,পৃষ্ঠা ৪০৬৷ 
  • [2] সূরা: আল ইমরান আয়াত: ৩:৩৫। 
  • [3] সূনান নাসাঈ, হাদিস ৩৯৬১। 
  • [4] সূরা: তাহরীম আয়াত: ১। 
  • [5] হাদীস সম্ভার, হাদিস নম্বরঃ ১৭৫৩।
  • [6] সহীহ বুখারী, হাদিস ৪৪৬১। 
  • [7] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া;খন্ড ৫,পৃষ্ঠা ৪৯৯।
  • [8] সহিহ আল মুস্তাদরাকে হাকিম, হায়দারাবাদ প্রকাশনী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৬। 
  • [9]  আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খন্ড ৫,পৃষ্ঠা ৫০১।

লিখেছেন : Nabil Khan Nebuda

Share this:

MH Emon