নবুওয়াতের সত্যতা: রোম-পারস্য যুদ্ধ

নবী মুহাম্মদ (সা.) কী সত্যিই আল্লাহর নবী ছিলেন? তিনি নবী ছিলের এর কোন প্রমাণ আছে আপনার কাছে? 

নবুওয়াতের সত্যতা: পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা সূরা রূমে রোম-পারস্য যুদ্ধ নিয়ে একটি ভবিষ্যতবাণী করেন। যা অক্ষরে-অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:                                                                                          রো-পারস্য যুদ্ধ                রোমানদের সাথে পারস্য-বাসীর যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে পারস্য-বাসী বিজয় লাভ করে। পারস্য সম্রাট সাবুর সিরিয়া রাজ্য ও জযীরার আশে পাশের শহরগুলোর উপর বিজয় লাভ করেন এবং রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস পরাজিত হয়ে কনস্টান্টিনোপলে অবরুদ্ধ হন। দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ চলতে থাকে। এই যুদ্ধে রোমানদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। রোমানরা পারস্যের কাছে যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে এবং এই যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার কারণে রোমানদের বেশ কিছু অঞ্চল পারস্যের হাতে চলে যায়। উল্লেখ্য যে, পারস্যের প্রায় সব-লোকই ছিল মুশরিক। তারা অগ্নিপূজা, মূর্তিপূজা-সহ বেশ কিছু কর্মে লিপ্ত ছিল। পারস্য-রোম যুদ্ধের সময় মক্কার কোরাইশ মুশরিকরা পারস্যকে সমর্থন দেয়। কারণ পারস্য-বাসী ছিল তাদেরই অনুরূপ মূর্তিপূজারী। মক্কার কোরাইশরা চাচ্ছিল এই যুদ্ধে পারস্য জয়ী হোক। অপরদিকে মুসলিমরা চাচ্ছিল রোমানরা বিজয়ী হোক। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে পারস্য বিজয় লাভ করে। এই সংবাদ শুনে মক্কার কাফির-মুশরিকরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়। অপর দিকে মুসলিমরা এই সংবাদ শুনে ব্যথিত হয়। মহান আল্লাহ তাআলা তখন মক্কার অবিশ্বাসীদের জন্য কুরআনে একটি অলৌকিক নির্দশন উপস্থাপন করেন।              মহান আল্লাহ তাআলা ভবিষ্যতবাণী করেন, 

আলিফ-লাম-মীম, রোমকরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর অতিসত্বর বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। অগ্র-পশ্চাতের কাজ আল্লাহর হাতেই। সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে। আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হয়ে গেছে। আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতি খেলাফ করবেন না। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না। [1]

এই সূরার আয়াত-গুলোতে মহান আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ভবিষ্যতবাণী করে দিয়েছেন যে, রোমানরা পরাজিত হয়েছে কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই রোমানরা পারস্যের বিরুদ্ধে জয়ী হবে। তখন মুসলিমরা আনন্দিত হবে। এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি যা সত্য হবেই। আলহামদুলিল্লাহ তা অক্ষরে-অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই রোমানরা আবারও পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী পারস্যের সাথে রোমানদের আবার যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ৬২২-৬২৭ সালে এই যুদ্ধে পারস্য রোমানদের কাছে পরাজিত হয়।[2] পরিস্থিতি তখন এমন ছিলো যে, কেউ ভাবতেও পারেনি রোমানরা এতো ক্ষয়-ক্ষতির পরেও পারস্যের সাথে যুদ্ধে ঠিকে থাকতে পারবে এবং বিজয় লাভ করবে। প্রিয় পাঠক, আপনি ধর্মীয়-দৃষ্টিকোণ বাদ দিন। আপনি ইতিহাস ঘেটে দেখুন, রোমানরা দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় পারস্যদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে। পারস্যবাসী পরাজিত হয় এবং কুরআনের ভবিষ্যতবাণী সত্য প্রমাণিত হয়। রোমানদের বিজয়ী হওয়ার খবর শুনে মুসলিমরা অনেক খুশি ও আনন্দিত হয়। অন্যদিকে চিন্তার বাজ পড়ে মক্কার মুশরিকদের ওপর। তারা খুব ভালো করেই জানতো যে, কুরআনে রোমানদের বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছিল। মক্কার মুশরিকরা এই ভবিষ্যতবাণী নিয়ে অনেক হাসাহাসি করেছিল। তারা এই ভবিষ্যতবাণী নিয়ে মুসলিমদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো। তাফসীর ইবনে কাসিরে বর্ণিত আছে, আবু বকর (রা.)  মুশরিকদের একজনের সাথে এ ভবিষ্যতবাণী সত্য হওয়ার ব্যাপারে উট পর্যন্ত বাজী ধরে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আবু বকর (রা.) বিজয়ী হোন। রোমানদের বিজয়ী হওয়ার খবর শুনে মক্কার মুশরিকরা অবাক হয়ে যায়। তাফসীর ইবনে কাসীরে আরও বর্ণিত আছে, রোমানদের কাছে পারস্যের হারের সংবাদ শুনার পর মক্কার অসংখ্য অমুসলিমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অসংখ্য অমুসলিম তখন ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে বুঝতে পেরে ইসলাম গ্রহণ করে।[3] অধিকাংশ স্কলারদের মতে, মুসলিমরা যেদিন বদরের যুদ্ধে বিজয়ী হয় সেদিন রোমানরা পারস্যের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়। এই সংবাদ শুনে মুসলিমরা তখন আনন্দিত হয়। কারণ পারস্য-বাসী ছিল অগ্নি উপাসক, মূর্তিপূজারী। অপরদিকে রোমানরা কিতাবে বিশ্বাসী ছিল। 

 

Reference :

  • [1] সূরা: রূম আয়াত: ১-৬
  • [2] Wikipedia.
  • [3] সূরা রূমের তাফসীর: ইবনে কাসীর। 
Share this:

MH Emon