পর্ব ১২//: কে এই পৌল?খ্রিস্টধর্মে কিভাবে তার আবির্ভাব হলো?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 

খ্রিস্টান বনাম মুসলিম সংলাপ 

বিষয়:-"যীশু তথা ঈসা আঃ কতৃক বিঘোষিত সাহায্যকারী কে?পবিত্র আত্মা নাকি শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাঃ?

আলোচনা:-"কে এই পৌল?খ্রিস্টধর্মে কিভাবে তার আবির্ভাব হলো?

Who is this Paul? How did he come to Christianity?

\___________________________________/

খ্রিস্টধর্মে সাধু পৌল হচ্ছেন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি ।তিনি বাইবেলের মধ্যে গুরুত্বর স্ববিরোধী বক্তব্যের প্রবর্তক।পৌল (ওরফে শৌল) সিলিসিয়া (বর্তমানে তুরস্ক) দেশের টারসাস নগরে এক ইয়াহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। 

যীশু খ্রিস্টের মনোনীত ১২ জন প্রধান শিষ্যের [ প্রেরিতের] নামের তালিকায় (মথি ১০:১-৪; লুক ৬:১৩-১৬;  প্রেরিত ১:১৩ এবং বার্ণবা লিখিত ইঞ্জিলের ১৪ নং অধ্যায় দ্রষ্টব্য) পৌলের নাম নেই।পৌল হলেন কেবল একজন স্বঘোষিত প্রেরিত [নবী]।তিনি নিজেকে অ-ইয়াহুদিদের নিকট প্রেরিত বলে দাবি করতেন। 

 

পৌল করিন্থীয়দের নিকট লিখিত এক পত্রে দাবি করলেন:-"  .........তবে আমার কথা তোমরা মেনে নাও না কেন?আমার তো মনে হয় না যে,আমি কোন দিক দিয়ে ঐ সমস্ত "বিশেষ "প্রেরিতের চেয়ে পিছনে পড়ে আছি ।যদিও আমি ভালো করে কথা বলতে পারি না,তবুও আমার যথেষ্ট জ্ঞান আছে...............(২ করিন্থীয় ১১:৫-৬)।

 

পৌলের ইয়াহুদি নাম ছিল শৌল (Saul)।তিনি ছিলেন একজন গোঁড়া ইয়াহুদি।শৌল ছিলেন হযরত ঈসা আঃ এবং তাঁর সাহাবাদের শত্রু,তাঁর ধর্মমতের ঘোর বিরোধী।শৌলের নিজের কথায় শুনুন:-" ঈসার পথে যারা চলত,আমি তাদের উপর অত্যাচার করে মেরে ফেলতাম।পুরুষ ও স্ত্রী লোকদের ধরে জেলে দিতাম (প্রেরিত ২২:৪)।.............কি ভীষণ ভাবে আমি খোদার মন্ডলীর উপর অত্যাচার করতাম ও তা ধ্বংস করবার চেষ্টা করতাম (ইঞ্জিল শরিফ,গালাতীয় ১:১৩, আরো দেখুন প্রেরিত ৯:১-২, ১৩-১৪; ২২:১৯-২০)। 

 

ঈসা আঃ এর অন্তর্ধানের পর তাঁর প্রেরিত,সহচর ও অনুসারীরা তাঁর সত্য ধর্ম কে আঁকড়ে ধরে রাখেন।কিন্তু ইয়াহুদিরা শত্রুতাবশত যীশু তথা ঈসা আঃ এর প্রচারিত সত্য ধর্ম কে সমূলে বিনষ্ট করার চেষ্টা করে।বিশেষত তাঁর ঊর্ধ্বে আরোহণের পর একে বিকৃত করার জন্য তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করে এবং ঈসা আঃ এর অনুসারীদের উপর ভীষণ নির্যাতন চালায়।"শৌল (Saul ) নামের এই সুচতুর ও ধূর্ত লোক এরুপ ইয়াহুদি ছিলেন যীশু তথা ঈসা আঃ এর শত্রুদের মধ্যে অন্যতম"।তিনি তৎকালীন ক্ষমতার প্রশাসনিক অধিকারী ছিলেন।শৌল ভালোভাবেই বুঝতে পারলেন যে,যীশুর অনুসারীদের উপর এরুপ উৎপীড়ন করে তাদের অন্তরের বদ্ধমূল ধর্মমতকে বিকৃত করা সম্ভব নয়।তাই তিনি প্রকাশ্যে বল প্রয়োগ করে যীশুর দ্বীনকে বিকৃত করতে না পেরে মিত্রবেশে একে মিথ্যারুপে রূপান্তরিত করার জন্য মুনাফিকের রাস্তা অবলম্বন করেন।শৌল ইয়াহুদি ধর্ম পরিত্যাগ করত: নিজেকে সুচতুর ভাবে "খ্রিস্টধর্মে "-দীক্ষিত বলে প্রকাশ করেন। 

 

"পৌল কি রুপে যীশুর শিষ্য হলেন?"

 \____________________________/

বিশেষত:এ সময়ে যীশুর বারোজন প্রধান শিষ্যের মধ্যে "জুদাসের শূন্য"- পদটি পূর্ণ করার অজুহাত পাওয়া গেল।বনী ইসরাইলের ১২ টি গোত্রের বিচার বিবেচনা করার জন্য স্বর্গে নাকি ১২ জন শিষ্যের জন্য ১২ টি সিংহাসন রয়েছে (লুক ২২:৩০ দ্রষ্টব্য)।

শৌল এ শূন্য পদটি পূর্ণ করার সুযোগ পেয়ে,যীশুর ত্রয়োদশতম প্রেরিত বলে দাবি করে বসলেন (কলসীয় ১:১, গালাতীয় ১:১ দ্রষ্টব্য ।

 

[বিঃদ্রঃ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে,যীশুর প্রেরিতগণ শৌলের ধর্মান্তরিত হওয়া সম্বন্ধে সন্দিহান ছিলেন।তাঁরা শৌলের দাবী অনুসারে, তার প্রতি অবতীর্ণ প্রত্যাদেশ কে অবিশ্বাস্য বিবেচনা করতেন।অনেকেই খুব সম্ভবত:সন্দেহ করত যে,-সে যীশুর অনুসরণ করার ভঙ্গীকারী একজন গোয়েন্দা ব্যতীত আর কিছুই ছিলেন না। (Johannes Lehmann,The Jesus Report,Page:123)...!)

 

"এরুপ ছদ্মবেশ ধারণ করে শৌল যীশুর খাঁটি ধর্ম কে বিকৃত করার প্রয়াস পেলেন।"শৌল তার প্রেরিত পদ লাভ ও ধর্মপ্রচারের দাবির বৈধতা প্রমাণ করে সমাজের নিকট বিশ্বাস ভাজন হবার জন্য এক অভিনব ফন্দি আটলেন। তিনি রাজা অগ্রিপের কাছে গিয়ে বললেন:একবার প্রধান ইমামের নিকট থেকে অধিকার ও হুকুম নিয়ে আমি দামেস্কে যাচ্ছিলাম।:-

 

"মহারাজ,তখন বেলা প্রায় দুপুর। পথের মধ্যে সূর্য থেকেও উজ্জ্বল একটা আলো বেহেশত থেকে আমার ও আমার সঙ্গীদের চারিদিকে জ্বলতে লাগল।আমরা সকলে মাটিতে পড়ে গেলাম এবং আমি শুনলাম ,ইব্রাণী ভাষায় কে যেন আমাকে বলছে,"শৌল,শৌল,কেন তুমি আমাকে কষ্ট দিচ্ছ?কাঁটা বসান লাঠির মুখে লাথি মারতে কি তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে না?"(প্রেরিত ২৬:১৩-১৪)।

 

ভালো করে ছক নং এ খেয়াল করুন।তিন সুসমাচারে তিন রকম বিবরণ পাওয়া যায়। 

\__________________________________/

১)লুক বলেছেন:-"তাহার (পৌলের) সহযাত্রীরা নির্বাক হইয়া দাঁড়াইয়া রইল,তাহারা সেই বাণী শুনিলো,কিন্তু কাহাকেও দেখিতে পাইলো না।(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু খ্রিস্টের নূতন নিয়ম,প্রেরিত ৯:৭)

২)পৌল আরো বলেছেন:-"আমরা সকলে মাটিতে পড়িয়া গেলাম এবং আমি শুনিলাম, ইব্রাণী ভাষায় কে যেন আমাকে বলিতেছেন............,ইঞ্জিল শরিফ,প্রেরিত ২৬:১৪)।

৩)পৌল বলেছেন:-"আর যারা আমার সঙ্গে ছিল,তাহারা সেই আলো দেখিতে পাইল বটে,কিন্তু যিনি আমার সহিত কথা বলতেছিলেন,তাহার বাণী শুনতে পাইল না।"( পবিত্র বাইবেল,পুরাতন ও নূতন নিয়ম, প্রেরিত ২২:৯)।

 

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা,উপরের উদ্ধৃতিগুলো ভালো করে লক্ষ্য করুন:

 

i)প্রেরিত ৯:৭

১)পৌলের সহযাত্রীরা "নির্বাক " হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল। 

২)তাহারা "বাণী শুনিল "

৩)"তাহারা কাউকে দেখতে পাইল না "

৪)যীশু অননীয়কে বললেন:-"পৌলকে তার কর্তব্য :"আমি তার নিকট প্রকাশ করব। "(প্রেরিত ৯:১৬)।

 

ii)আবার,প্রেরিত ২২:৯

১).....................................................................

২)তাহারা যীশুর বাণী "শুনিতে পাইল না।"

৩)"তাহারা সেই আলো দেখিতে পাইল "

৪)যীশু পৌলকে বললেন:-"তুমি দামেস্কে যাও,তোমার কর্তব্য সেখানেই বলে দেয়া হবে। "(প্রেরিত ২২:১০)

 

iii)প্রেরিত ২৬:১৪

১)"আমরা সকলে মাটিতে পড়িয়া গেলাম "

২)পৌল "একাই সেই বাণী শুনিলো "

৩)..................................................................

৪)পৌলকে কি করতে হবে যীশু তখনই তা বলে দিলেন (প্রেরিত ২৬:১৬-১৭)"

 

এটা কী সাধু পৌলের স্ববিরোধি কথা নাকি তথাকথিত পবিত্র আত্মার অজ্ঞতার ফল?জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনায় কী কোন সাধারণ সুস্থ মানুষ এত স্ববিরোধি কথা বলতে পারে?যাই হোক উপরের উল্লিখিত উদ্ধৃতিগুলোতে স্ববিরোধী ও অসংগত বিবরণ থেকে এটাই মনে হয় যে,বাইবেলে উল্লিখিত পৌলের  এ ঘটনাটি সম্ভবত:পৌলের পরিকল্পিত উপায়ে বানানো মিথ্যা উদ্ভাবন ছাড়া আর কিছুই না ।অনেক আধুনিক বাইবেল পন্ডিতগণই পৌলের "প্রেরিত পদ লাভ" এবং যে বাণী সে যীশুর মুখে তুলে দিয়েছেন তার প্রামাণিকতা সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ করেন। (জার্মান পন্ডিত ড:মিয়ারের মন্তব্য:যীশু,না পৌল?পৃষ্ঠা নং-১২২ দ্রষ্টব্য)।

 

এ সকল স্ববিরোধি বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য?নাকি সবই মিথ্যা দুনিয়ার যে কোন বিচারালয়ে পেশ করলে এই নাটক মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতে পারে এবং "পৌলকে একজন মিথ্যাবাদীদের মধ্যে সাবস্ত্য করা যেতে পারে।"

 

তখন আমি বললাম,"প্রভু,আপনি কে?প্রভু বললেন,"আমি যীশু(ঈসা) যাঁকে তুমি কষ্ট দিচ্ছ। এখন উঠ,তোমার পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াও।"সেবাকারী ও সাক্ষী "হিসেবে তোমাকে নিযুক্ত করবার জন্য আমি তোমাকে দেখা দিলাম...............(প্রেরিত ২৬:১৫-১৬)।

 

এখানে পৌল তাকে না চিনে কিভাবে "প্রভু"-বললেন?

 

পৌলের শিষ্য লুক লিখেছেন:-"যীশু অননীয়কে বললেন,"তুমি যাও,কারণ অ-ইয়াহুদিদের ও তাদের রাজাদের এবং ইসরাইলীদের নিকট আমার সম্বন্ধে প্রচার করবার জন্য  আমি এই লোক (শৌল) কেই "বেছে নিয়েছি "(প্রচলিত ইঞ্জিল শরিক,প্রেরিত ৯:১৫)।

 

যীশু "পৌলকে সেবাকারী ও সাক্ষী হিসেবে বেছে নিলেন"-অর্থাৎ নিজের শিষ্যদের সঙ্গে নবুয়তের ভাগ বসানোর অধিকার দিলেন।"

 

আপনাকে জিজ্ঞেস করি:আপনার শত্রু এসে আপনাকে বলল,"আপনার মৃত পিতা তার সম্পত্তিতে আপনাদের সঙ্গে আমার ভাগ বসানোর অধিকার দিয়েছেন। " আপনারা ভাই বোন কি তাকে আপনাদের সম্পত্তিতে কি ভাগ দিবেন?অবশ্যই দিবেন না। সুতরাং পৌলের যীশুর নবুয়তে ভাগ বসানোর দাবি হাস্যকর।"

 

অথচ যীশুর জীবদ্দশায় পৌল তাকে কোন দিন চিনতও না। তাঁর সঙ্গে পৌলের কোনদিনই সাক্ষাৎ হয়নি। বরং পৌল ছিলেন যীশুর ধর্মমতের প্রবল বিরোধী। যীশুর হাতে গড়া প্রেরিত,তাঁর প্রিয় সঙ্গী সাথী এবং আপন আত্মীয় স্বজন তাঁর বিরহ বেদনায় ছিলেন জর্জরিত  ও মর্মাহত। কিন্তু কি আশ্চর্য!যীশু তাদের সাথে দেখা দিলেন না,বরং দেখা দিলেন এমন একজন লোকের সঙ্গে যিনি ছিলেন যীশুর এবং তাঁর শিষ্যদের চরম ও নির্মম শত্রু ও তাঁর ধর্মমতের চরম বিরোধী ও বিকৃতকারী।এছাড়া পৌল ছিলেন স্ব-স্বীকৃত মিথ্যাবাদী ,তিনি জোর গলায় বলেছেন যে,"ঈশ্বরের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মিথ্যা বললে সুবিধা তথা পাপ নেই (রোমীয় ৩:৭)।তিনি যে বহুরূপী তা অন্যত্রেও স্বীকার করেছেন (১ করিন্থীয় ১:১৯-২১) এবং কী প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ম প্রচার করেছেন (১ করিন্থীয় ৯:২০-২৩)।"

 

যাইহোক মূল আলোচনায় আসি।কিছু দিন পূর্বেই যীশু আপন অনুসারীদেরকে শিক্ষা দিলেন:-"ইস্রায়েল কুলের হারানো মেষ [ইয়াহুদিদের] ছাড়া আর কারো নিকটে আমি প্রেরিত হইনি। "(মথি ১৫:২৪)।"অতএব তোমরা "অ-ইয়াহুদিদের "বা "শমরীয়দের কোন গ্রামে যেও না,বরং ইস্রায়েল জাতির হারানো মেষদের নিকটে যেও। "(মথি ১০:৫-৬)।

 

কিন্তু কি আশ্চর্য!কিছু দিন পরেই কি যীশু এসে পৌলের কাছে এসে বলে গেলেন:-"আমি তোমাকে" অ-ইয়াহুদিদের" নিকট পাঠাব?" দ্বিতীয়ত:কিছুদিন পূর্বেই তিনি শিষ্যদের কাছে নিশ্চয়ই বলে গেলেন:-"আমি মুসার শরিয়ত বাতিল করতে আসিনি বরং" তা পূর্ণ করতে এসেছি। "(মথি ৫:১৭)।কিছু দিন পরেই কি যীশু এসে পৌলের কাছে এসে বলে গেলেন :-"তুমি মুসার শরিয়ত বাতিল করে ফেল?

পৌলের মুসা আঃ এর শরিয়ত বাতিল সম্পর্কে পড়তে লিংকে ক্লিক করুন:

https://www.facebook.com/104106391067326/posts/242587807219183/

 

মাত্র কয়েক বছর পরেই কি যীশু নিজের হাতে গড়া শিষ্যদের বিরুদ্ধে পৌলের পক্ষ নিলেন? এমন পৌলের ধর্মের বাণী কিরুপে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে?"খ্যাতনামা ফরাসি বিজ্ঞানী  ও চিন্তাবিদ ড:মরিচ বুকাইলী পৌল সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন:-

 

"পৌল হচ্ছে খ্রিস্টধর্মের সর্বাধিক বিতর্কিত ব্যক্তি। যীশু খ্রিস্টের পরিবারের নিকট তো বটেই,যীশুর যেসব সঙ্গী ও সাথী এবং প্রেরিত জেরুজালেমে জেমসের সঙ্গে ছিলেন,তাঁদের নিকটেও পৌল বিবেচিত হয়েছেন যীশুর ধর্মীয় মতবাদের প্রতি "বিশ্বাসঘাতক হিসাবেই। আসলে যীশু খ্রিস্ট যেসব লোককে তাঁর ধর্মমত প্রচারের জন্য নিজের নিকট জড়ো করেছিলেন,তাদের বর্জন করেই পৌল "এক আলাদা খ্রিস্ট ধর্মমত"প্রতিষ্ঠা করেন। যীশুর জীবদ্দশায় পৌলের সাথে তাঁর কখনো সাক্ষাৎ বা পরিচয় ঘটেনি।কিন্তু পৌল তার ধর্মমতের বৈধতা প্রচার করেছেন এইভাবে যে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থানের পর দামেস্কে যাওয়ার পথে যীশু তার নিকট আবির্ভূত হয়েছিলেন। "(বাইবেল,কোরআন ও বিজ্ঞান,পৃষ্ঠা নং-৮৮)।

 

দামেস্কের পথের ঘটনার পর পৌল দাবী করলেন যে,তিনি যীশুতে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং যীশু তাকে প্রেরিত [নবী] পদ দিয়েছেন। "অতএব বিলম্ব না করে বিভিন্ন সমাজ-গৃহে যীশুর বিষয় ঘোষণা করতে লাগলেন যে," যীশুই ঈশ্বরের পুত্র।"(ত্রাণকর্তা প্রভু যীশু খ্রিস্টের নূতন নিয়ম,প্রেরিত ৯:২০)।

 

পৌলের সম্পর্কে ঈসা আঃ এর শিষ্য বার্ণবাসের মন্তব্য:

 

মহান ও কুদরতময় আল্লাহর নিকট অতীতের দিনগুলিতে তাঁর নবী ঈসা কে আমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছিলেন এবং তখন অলৌকিক ঘটনাবলী ও শিক্ষা উপস্থাপিত হচ্ছিলো; কিন্তু আজ তার প্রতিক্রিয়াতেই অনেকেই শয়তান কর্তৃক প্রতারিত হয়ে বর্তমানে ধার্মিকতার নামে অত্যন্ত অধার্মিক মতবাদসমূহ প্রচার করছেন, যথা--- ঈসা আল্লাহর পুত্র, আল্লাহর নির্দেশিত চিরস্থায়ী বিধান খৎনা (ত্বকচ্ছেদ) রদ করে দিয়ে অপবিত্র খ্যাদ্যভক্ষণের অনুমতি দিচ্ছেন। আমি অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করছি যে স্বয়ং পলও এমনি একজন প্রতারিত ব্যক্তি, যে কারণে আমাকে সেই সমস্ত সত্যবাণী লিপিবদ্ধ করতে হচ্ছে যা আমি স্বকর্ণে প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষ ভাবে দেখেছি এবং শুনেছি এবং সেই সকল ঘটনা যা ঈসার সঙ্গে থেকে আমি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ  করেছি শুধু এই জন্যই যে অন্যেরা মিথ্যাচার থেকে রক্ষা পাবে, শয়তান কর্তৃক প্রতারিত হবে না এবং আল্লাহর  বিচারাদালতে অপরাধী হয়ে নিশ্চিহ্নও হবে না। সাবধান, সেই সমস্ত প্রচারক থেকে, যারা এই গ্রন্থের বিপরীত ও বাড়তি নতুন কথা শোনাতে আসে-- অনন্তকালে যারা আত্মরক্ষা করতে চান, তাদের প্রতি এই হচ্ছে আমার সাবধান-বাণী। জানি হয় তো বা আমার এ সাবধান বাণী কেও শয়তানের পুত্ররা বিকৃত করার অনেক প্রচেষ্টা চালাবে কিন্তু লাভ হবে বৈ কি বলে মনে হচ্ছে না। কারন ভবিষ্যতে সেই সুমহান পয়গম্বরের কিতাবে পুর্ববর্তী নবী রাসুল সহ তাদের উপর অবতীর্ন হওয়া সকল কিতাবে স্বাক্ষ্য দাতা কিতাব সেসকল কিছু পুনরায় উদঘাটন করবে এবং সত্য কে পুনরায় স্থাপন করে কিয়ামত পর্যন্ত জারি রাখবে।"(— বার্নাবাসের সুসমাচারের সূচনা [৫][১৩])

 

[নোট:শিষ্য বার্ণবা হলেন সাধু পৌলের মামা]

Share this: