কু'রআন কি আদৌ পৃথিবীকে সমতল বলে ?

 

ভিযোগ

কুর'আনে যেহেতু পৃথিবীকে বেড ও কার্পেটের সাথে তুলনা করা হয়েছে সেহেতু পৃথিবীর আকারকে  সমতল মনে করা হয়েছে–অতএব অবৈজ্ঞানিক!  

বাব:

প্রথমত, কুর'আনের কোথাও পৃথিবীর আকারকে সমতল বলা হয়নি। অথচ ‘কুর'আনে পৃথিবীকে  সমতল বলা হয়েছে ’ কুর'আনের বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচারের মধ্যে এটিও একটি এবং যথারীতি সুস্পষ্ট মিথ্যাচার।   দ্বিতীয়ত, কেউ কি অকাট্য যুক্তি-প্রমাণের সাহায্যে কুর'আনের পৃথিবীকে সমতল বানাতে পারবেন? উত্তর হচ্ছে, মোটেও না। কয়েকটি আয়াহ্ দিয়ে এ দাবি করা হয়  যেমন, 

📖Ta Ha 20:53

ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءً فَأَخْرَجْنَا بِهِۦٓ أَزْوَٰجًا مِّن نَّبَاتٍ شَتَّىٰ 

[ It was He who spread out the earth for you and traced routes in it. He sent down water from the sky. With that water We bring forth every kind of plant, ]

🔗www.quran.com/20/53

 

📖Al-Hijr 15:19

وَٱلْأَرْضَ مَدَدْنَٰهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَٰسِىَ وَأَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ شَىْءٍ مَّوْزُونٍ 

[ As for the earth, We have spread it out, set firm mountains on it, and made everything grow there in due balance. ]

🔗www.quran.com/15/19 

 

📖Adh-Dhariyat 51:48

وَٱلْأَرْضَ فَرَشْنَٰهَا فَنِعْمَ ٱلْمَٰهِدُون

[ We spread out the earth- how well We smoothed it out!- ] 🔗www.quran.com/51/48 

 

📖Nuh 71:19

وَٱللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ بِسَاطًا 

[ and how He has spread the Earth out for you ]

🔗www.quran.com/71/19 

তাদের যুক্তি হচ্ছে, কুর'আনে যেহেতু পৃথিবীকে বেড ও কার্পেটের সাথে তুলনা করা হয়েছে সেহেতু কুর'আনে পৃথিবীর আকারকে সমতল মনে করা হয়েছে! কিন্তু এই ধরণের যুক্তিকে কু-যুক্তি ছাড়া অন্য কিছু বলা যেতে পারে না এর  কারণগুলো নিম্নরূপ:  

১। সাদা চোঁখে পৃথিবীকে যেমন সমতল মনে হয় তেমনি আবার কিন্তু বৃত্তাকারও মনে হয়। বরঞ্চ সমতলের চেয়ে বৃত্তাকারই বেশী মনে হয়। কারণ উঁচু কোন পাহাড়ের উপর থেকে পৃথিবীকে কিছুটা হলেও উত্তল দেখায়। তা-ই যদি হয় তাহলে সাদা চোখের জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীর আকারকে কোনভাবেই বেডের সাথে তুলনা করা হতো না। কারণ এই পৃথিবীর কারো বাড়িতে বৃত্তাকার বেড আছে বলে মনে হয় না, যদি না কেউ এই লেখাটি পড়ে তড়িঘড়ি করে একটি বৃত্তাকার বেড বানিয়ে নেয়! সমালোচকরা সারা জীবন ধরে চতুর্ভুজাকৃতির বেডে শুয়ে থেকে কুর'আন পড়তে যেয়ে কুর'আনের পৃথিবীকে জোর করে সমতল বানানোর জন্য সেই বেডকেই আবার ‘বৃত্তাকার’ কল্পনা করে! তাছাড়া তারা হয়তো ‘বেড’ বলতে কাঠ অথবা লোহার তৈরী চতুর্ভুজাকৃতির ফ্রেমকে বুঝে থাকে! ওয়েল, তা-ই যদি হয় তাহলে বেড এর চার পা ও স্ট্যান্ড থাকলেও কুর'আন কোথাও কিন্তু পৃথিবীর চার পা ও স্ট্যান্ড এর কথা বলা হয়নি! অধিকন্তু যাদের বাড়িতে কাঠ অথবা লোহার তৈরী বেড নেই তারা কিন্তু মেঝেতেই শুয়ে থাকে। ফলে তাদের কাছে এই পৃথিবীটাই একটি বেড। যাহোক, বেড বলতে সাধারণত নরম গদিকে বুঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ বেড তাকেই বলা হয় যেখানে আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নেয়া যায়। বেডে মানুষ যতটা আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নিতে পারে, মরুভূমির উত্তপ্ত বালুচরে ততটা আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে মরুভূমির উত্তপ্ত বালুচরকে কিন্তু বেড বলা যাবে না। বেড এর সাথে মরুভূমির পার্থক্য ইতোমধ্যে নিঃশ্চয় পরিস্কার। তাছাড়া বেড সাধারণত প্রটেকটিভ জায়গার মধ্যে রাখা হয় যাতে করে সূর্যের তাপ ও ক্ষতিকর রশ্মি, ঝড়-বৃষ্টি, হিংস্র জন্তু, ও বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের হাত থেকে জীবন বাঁচানো যায়। এবার আসা যাক কুর'আনের ক্ষেত্রে । কুর'আনে পৃথিবীকে বেড বা কার্পেট এর সাথে তুলনা করে পৃথিবীর আকার-আকৃতিকে বুঝানো হয়নি, বরঞ্চ এই তুলনাটা অত্যন্ত যৌক্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।  আমরা সবাই জানি এ পর্যন্ত যতগুলো গ্রহ-উপগ্রহ আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে পৃথিবী একটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রহ, যেখানে পানি-বাতাস ও জীবের অস্তিত্ব আছে। অর্থাৎ পৃথিবী নামক গ্রহে মানুষ ও অন্যান্য জীব-জন্তু-উদ্ভিদ যত সহজে বসবাস করতে পারে, যত সহজে আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নিতে পারে, সর্বোপরি যত সহজে বেঁচে থাকতে পারে, এখনো পর্যন্ত জানা অন্য  গ্রহে যেয়ে তত সহজে বসবাস করা কিন্তু অসম্ভব। বেড এর সাথে উত্তপ্ত মরুভূমির যেমন সম্পর্ক–পৃথিবী নামক গ্রহের সাথে অন্যান্য গ্রহেরও অনুরূপ সম্পর্ক বলা যায়। আর এ কারণেই  কুর'আনে পৃথিবীকে বেড এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কুর'আনে পৃথিবীকে বেড এর সাথে তুলনা করে পৃথিবীকে বসবাস ও জীবন ধারণের উপযোগী বুঝানো হতেই পারে , তবে এখানে  পৃথিবীর আকার-আকৃতিকে বুঝানো হয়নি। আয়াতগুলো পড়লেই বুঝা যায়। বেডকে যেমন প্রটেকটিভ জায়গার মধ্যে রাখা হয় তেমনি পৃথিবীকেও প্রটেকটিভ আবরণের মধ্যে রাখা হয়েছে (২১:৩২)।  

২। কুর'আনের এই আয়াতগুলোতে 'আকার' বা  ‘Shape’ বা 'شكل' অথবা 'সমতল' বা  ‘Flat’ বা 'مسطحة' শব্দ দুটির কোনটিই ব্যবহার করা হয়নি। সুতরাং আয়াতগুলোতে আসলে কী বুঝাতে চাওয়া হয়েছে সেটাই বিবেচ্য বিষয়। প্রথমত, কিছু অনুবাদক ‘কার্পেট’ ও ‘বেড’ শব্দ দুটি ব্যবহারই করেননি। দ্বিতীয়ত, কার্পেটিং করতে হলে রাস্তা-ঘাট সরল রেখার মতো সমতল হতেই হবে, এমন আজগুবি কথা কে বলেছে! পাহাড়ের উপর দিয়ে যে রাস্তা তৈরী করা হয় সেটি তো বক্রাকার বা অর্ধবৃত্তাকার। সেই অর্ধবৃত্তাকার রাস্তায় কি কার্পেটিং করা হয় না? ফলে গোলাকার বস্তুর উপর কার্পেট বিছানো যাবে না কেন? ফুটবলের উপরের চামড়াকেও তো এক অর্থে কার্পেট বলা যেতে পারে। কেস ডিসমিস। ঘরের মেঝেতে মানুষ কার্পেট বিছায় মূলতঃ কিছু কারণে: মেঝে খসখসে হলে; মেঝে ঠান্ডা হলে; মেঝের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য; ইত্তাদি। রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য যেমন কার্পেটিং করা হয়, পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগকেও মানুষের বসবাস ও ফসল ফলানোর উপযোগী করার জন্য কার্পেটিং করা হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যভাগ বসবাস ও ফসল ফলানোর উপযোগী নয়। বেডের উপর মানুষ যেমন বিশ্রাম নিতে পারে তেমনি পৃথিবীর পৃষ্ঠেও বিশ্রাম নিতে পারে। আর এ কারণেই পৃথিবীকে বেডের সাথে তুলনা করা হয়েছে, পৃথিবীর মধ্যভাগ বিশ্রামযোগ্য নয়। অতএব প্রচলিত বেডের আকার সমতল না হয়ে অন্য কিছু হলেও সেই বেডের সাথেই হয়তো তুলনা করা হতো। তাছাড়া স্ফেরিক্যাল বেডও তো অসম্ভব কিছু নয়। পুরো পৃথিবীকে একটি বিশাল স্ফেরিক্যাল বেড ধরে নেয়াটা অযৌক্তিক হবে কেন? আয়াতগুলোতে কিছু শব্দ যেমন Bed, Carpet, Spread out, Expanse ইত্যাদি দেখেই পৃথিবীর আকারকে সমতল ধরে নেয়া হয়েছে! কিন্তু Bed, Carpet, Spread out, Expanse ইত্যাদি বলতে যে সমতল হতেই হবে তার কোন যৌক্তিকতা নেই। কুর'আনের কিছু আয়াত পড়ে অনুমান করা যায় যে, পৃথিবীটা বর্তমান অবস্থায় হুট করে আসেনি। ফলে ‘এক্সপ্যান্ড’ ও ‘স্প্রেড’ শব্দ দুটি কুর'আনের জন্য অর্থবহ।  

৩। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন আনুবাদক বিভিন্ন রকম শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেমন আয়াত ২০:৫৩ এর বিভিন্ন অনুবাদ লক্ষ্যণীয়:

English - Abdul Haleem  

It was He who spread out the earth for you and traced routes in it. He sent down water from the sky. With that water We bring forth every kind of plant,   English - Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran   ˹He is the One˺ Who has laid out the earth for ˹all of˺ you, and set in it pathways for you, and sends down rain from the sky, causing various types of plants to grow,  

 

English - Mufti Taqi Usmani  

(He is) the One who made the earth a cradle for you, and made in it pathways for you to move, and sent down water from the heavens; and We brought forth with it pairs of different vegetations :   English - Pickthall   Who hath appointed the earth as a bed and hath threaded roads for you therein and hath sent down water from the sky and thereby We have brought forth divers kinds of vegetation,   English - Sahih International   [It is He] who has made for you the earth as a bed [spread out] and inserted therein for you roadways and sent down from the sky, rain and produced thereby categories of various plants.   

 

English - Yusuf Ali  

"He Who has, made for you the earth like a carpet spread out; has enabled you to go about therein by roads (and channels); and has sent down water from the sky." With it have We produced diverse pairs of plants each separate from the others.

 

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, পাঁচজন অনুবাদক পাঁচ রকম শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং সবগুলোই আসলে যৌক্তিক, যার ব্যাখ্যা ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অন্ধ-অজ্ঞ সমালোচকদের ‘বিভ্রান্তি’ এড়ানোর জন্য ক্বারিবুল্লাহ ও রাশাদ খলিফা যথাক্রমে ‘ক্রেডল’ ও ‘হ্যাবিটেবল’ ব্যবহার করেছেন। কেস ডিসমিস। অনুবাদের ক্ষেত্রে যে অনুবাদকে সবচেয়ে বেশী যৌক্তিক মনে হবে সেটা গ্রহণ করাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু বিভিন্ন অনুবাদ থেকে নিজের ইচ্ছেমতো কিছু শব্দ বেছে নিয়ে একটি গ্রন্থকে ভুল বা অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করার চেষ্টা করা অযৌক্তিক। কারণ অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘বেনিফিট অফ ডাউট’ কুর'আন বা যে কোন গ্রন্থকেই দিতে হবে। কুর'আনে এমন কোন আয়াত নেই যেখানে থেকে কেউ পৃথিবীর আকারকে অকাট্য যুক্তি দিয়ে সমতল বানাতে পারে। চ্যালেঞ্জ থাকলো।   এবার পজেটিভ অ্যাপ্রোচ নেয়া যাক। একটু চিন্তা করলে বোঝা যাবে কুর'আনের সমতল পৃথিবীর পরিবর্তে বরং স্ফেরিক্যাল পৃথিবীরই ইঙ্গিত আছে।  যেমন:  

(ক) আয়াহ্ ৮৪:৩-৪ তে মহাপ্রলয় দিবস সম্পর্কে বলা হয়েছে,

📖Al-Inshiqaq 84:3-4

(٣) وَإِذَا ٱلْأَرْضُ مُدَّتْ (٤) وَأَلْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ

[ (3) when the earth is levelled out,(4) casts out its contents, and becomes empty, ]

🔗 www.quran.com/84/3-4

কুর'আনের আলোকে পৃথিবীর আকার যদি সমতলই হতো তবে তাকে প্রলয়দিনে আবার সমতল বানানোর প্রশ্ন আসবে কেন, তাই না? সমতল পৃথিবীকে আবার সমতল বানানো এবং সেই সাথে খালি করার প্রশ্ন কিন্তু অবান্তর। পৃথিবীকে সমতল ও খালি করার প্রশ্ন তখনই আসবে যখন পৃথিবীর আকার স্ফেরিক্যাল হবে।  

 

(খ) কিছু স্কলারের মতে আয়াহ্ ৭৯:৩০ তে পৃথিবীকে ডিমের মতো বলা হয়েছে।

  এছাড়া আরো দেখুন:  

📖Luqman 31:29

أَلَمْ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِىٓ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَأَنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ 

do you not see that Allah causes the night to merge into day and the day to merge into night; that He has subjected the sun and the moon, each to run its course for a stated term; that He is aware of everything you do?

🔗www.quran.com/31/29

 

📋Note:

Merging here means that the night slowly and gradually changes to day and vice versa. This phenomenon can only take place if the earth is spherical. If the earth was flat, there would have been a sudden change from night to day and from day to night.  

 

📖Az-Zumar 39:5

خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّۖ يُكَوِّرُ ٱلَّيْلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيْلِۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَۖ كُلٌّ يَجْرِى لِأَجَلٍ مُّسَمًّىۗ أَلَا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفَّٰرُ 

[ He created the heavens and earth for a true purpose; He wraps the night around the day and the day around the night; He has subjected the sun and moon to run their courses for an appointed time; He is truly the Mighty, the Forgiving. ]

🔗 www.quran.com/39/5

📋Note:

The Arabic word used here is Kawwara meaning ‘to overlap’ or ‘to coil’ – the way a turban is wound around the head. The overlapping or coiling of the day and night can only take place if the earth is spherical.  

 

📖Ar-Rahman 55:17-18

(١٧) رَبُّ ٱلْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ ٱلْمَغْرِبَيْنِ (١٨) فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

(17) He is Lord of the two risings and Lord of the two settings. (18) Which, then, of your Lord’s blessings do you both deny?

🔗 www.quran.com/55/17-18

📋Note: The question of two Easts and the two Wests does only arise if the earth is spherical.  

অতএব দেখা যাচ্ছে যে কুর'আনের আলোকে পৃথিবীর আকার আসলে স্ফেরিক্যাল, কোনভাবেই সমতল নয়। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর আকারকে বাস্তবে কোন কিছুর সাথেই তুলনা করা যায় না। কেউ কেউ বলেন কমলালেবুর মতো। কেউ কেউ আবার বলেন কুমড়ার মতো। তবে কোনটাই কিন্তু পুরোপুরি সঠিক নয়। ইন্টারনেটে পৃথিবীর অনেক ইমেজ আছে কিন্তু কমলালেবুর মতো ‘দুই সাইড চ্যাপ্টা এবং কিছুটা ভেতর দিকে ঢুকে গেছে’ এরকম কোন ইমেজ দেখা যায় না। আর তা-ই যদি হয় তাহলে পৃথিবীকে ডিমের সাথে তুলনা করাই বেশী যৌক্তিক। কারণ গুলো হচ্ছে:

(১) কমলালেবুর মতো ডিমও স্ফেরিক্যাল;

(২) কমলালেবুর বোঁটা আছে, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর বোঁটা নেই;

(৩) কমলালেবুর মধ্যে বিচি আছে, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর মধ্যে বিচি নেই;

(৪) কমলালেবুর কেন্দ্রে কিছুটা ফাঁপা, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর কেন্দ্রে ফাঁপা নয়;

(৫) কমলালেবুর মধ্যভাগ অনেকগুলো কোয়ার সমষ্টি এবং কোয়াগুলোকে একে অপর থেকে সহজে পৃথকও করা যায়, কিন্তু ডিম ও পৃথিবীর মধ্যেভাগ কমলালেবুর মতো নয়;

(৬) ডিমের যেমন কয়েকটি স্তর আছে (শেল, শেলের নীচে পাতলা স্তর, সাদা তরল পদার্থের স্তর, হলুদ তরল পদার্থের স্তর, ইত্যাদি) পৃথিবীরও তেমনি কয়েকটি স্তর আছে (Crust, Mantle, Inner core, Outer core, etc.);

(৭) ডিম ও পৃথিবী উভয়েরই পৃষ্ঠভাগ শক্ত পদার্থ এবং মধ্যভাগ নরম ও গলিত পদার্থ দ্বারা গঠিত। নীচের ছবিগুলোতে দেখুন তো পৃথিবীর আকারের সাথে কমলালেবু নাকি ডিমের সাদৃশ্য বেশী।  

📝নোট: কুর'আনে পৃথিবীকে সরাসরি স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেয়ার পেছনে যৌক্তিক একটি কারণ যেটা হতে পারে সেটা হচ্ছে, বিষয় দুটি সেই সময়ের মানুষের কাছে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য মনে হতো এবং যার ফলে তারা হয়তো কুর'আনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতো। এমনকি নিকট অতীতেই গ্যালিলিও ও ব্রুনোর কাহিনী কে না জানে! কারণ একদিকে যেমন সেই সময়ের মানুষের কাছে ‘প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস’ বলতে পৃথিবীটা সমতল ও অনড় ছিল, অন্যদিকে আবার পৃথিবীটা যে সত্যি সত্যি স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান সেটা তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখানোও সম্ভব হতো না। ফলে বিষয় দুটি সত্য হলেও তাদের কাছে কোন তথ্যই বহন করতো না। অতএব কুর'আনের মূখ্য উদ্দেশ্য “পার্থিব ও অপার্থিব গাইডেন্স” ব্যর্থ হতে পারতো। কুর'আনে তেমন কোন উক্তি নেই যেটা সেই সময়ের মানুষের বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং যা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্যও মনে হতে পারে।   এখানকার কোন ব্যাখ্যাতেই কিন্তু রূপক-টুপকের আশ্রয় নেয়া হয়নি। সুস্পষ্ট ভুল-ভ্রান্তি বা অসঙ্গতি বা অবৈজ্ঞানিক তথ্য বলতে যা বুঝায় সেরকম কিছু কুর'আনে নেই। অনুবাদের উপর ভিত্তি করে সংশয় করার মতো যে দু-চারটি বিষয় আছে সেগুলোরও যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে। তবে সেই ব্যাখ্যাগুলো সন্তোষজনক কি-না–সেটা নির্ভর করবে ব্যক্তিবিশেষ ও ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর। সাধারণত প্রবাবিলিস্টিক কোন বিষয়ে বেনিফিট-অফ-ডাউট এর ভিত্তিতে পজেটিভটাকেই বেছে নিতে হয়। এই যখন বাস্তবতা তখন অ্যান্টি-ইসলামিক সাইটের উপর ভিত্তি করে কেউ ব্রেনওয়াশড হলে করার কিছু নাই! অজ্ঞ লোকজনকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অ্যান্টি-ইসলামিক সাইটগুলোতে কুর'আন, হাদিস, ও প্রচলিত বিশ্বাসকে একত্রে গুলিয়ে ফেলে মনের মাধুরি মিশিয়ে শত শত ভুল-ভ্রান্তি ও অসঙ্গতি লিস্ট করে রাখা হয়েছে যেগুলোর প্রায় আটানব্বই ভাগই গার্বেজ!

Share this: