Are you sure?

তুলনামূলক ধর্মতত্ব »  বিবিধ

পর্ব: ২] খ্রিস্টধর্মের অবস্থা ও সাধু পৌলের কর্মকাণ্ড এবং খ্রিস্টানদের পাপের লাইসেন্স

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

বিষয়: খ্রিস্টান বনাম মুসলিম সংলাপ

হাইরে খ্রিস্টধর্মের অবস্থা: সাধু পৌলের কর্মকান্ড!


মানবসভ্যতাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পৌলের উদ্ভাবিত যীশুর নামে প্রচারিত এ ভ্রান্ত মতবাদের স্বরুপ উন্মোচন করা জরুরি। কারণ পৌল পাপাচারের যে দরজা উন্মুক্ত করেছেন তা মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সকল দেশের সকল ধর্মের ধার্মিক মানুষগুলো অন্তত মিথ্যা, নরহত্যা, ব্যভিচার, মাদকতা ও সকল প্রকার মহাপাপ থেকে নিজেদের কে মুক্ত রাখতে চেষ্টা করেন। পক্ষান্তরে পৌলের খ্রিস্টধর্মে এ সকল পাপাচারকে খোলামেলা উৎসাহ দেয়া হয়েছে। বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান আদম আঃ থেকে শুরু করে ঈসা আঃ পর্যন্ত সকল নবীগণ শিক্ষা দিয়েছেন যে:

16. সন্তানের জন্য পিতার, কিম্বা পিতার জন্য সন্তানের প্রাণদণ্ড করা যাইবে না; প্রতিজন আপন আপন পাপপ্রযুক্তই প্রাণদণ্ড ভোগ করিবে।" [দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/deu.24.16.ROVU

এইখানে বলা হয়েছে, সন্তানের জন্য পিতা এবং পিতার জন্য সন্তান পাপের বোঝা বহন করবে না অর্থাৎ যার যার পাপের বোঝা তার তার-ই বহন করতে হবে। আর এটাই লজিক্যাল কথা। আবার বাইবেলের অন্যত্রে [যিহিষ্কেল ১৮ অধ্যায় জুড়ে] "ঈশ্বরের নায্য বিচার ও মন পরিবর্তনার্থে আহ্বান" পুরো শিরোনামে বলা হয়েছে ,"কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না।" অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন: 

https://bible.com/bible/1791/ezk.18.1-32.ROVU

20. যে প্রাণী পাপ করে, সেই মরিবে; পিতার অপরাধ পুত্র বহন করিবে না; ও পুত্রের অপরাধ পিতা বহন করিবে না; ধার্মিকের ধার্মিকতা তাহার উপরে বর্তিবে, ও দুষ্টের দুষ্টতা তাহার উপরে বর্তিবে।"
[যিহিষ্কেল ১৮:২০] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/ezk.18.20.ROVU

এইখানেও একই কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে। যার যার কর্মফল তার-ই ভোগ করতে হবে। কেউ খারাপ কাজ করলে তার জন্য সে দায়ী এবং ভাল কাজ করলেও সেই দায়ী থাকবে। আবার আরো বলা হয়েছে:

29. সেই দিনের লোকেরা আর কেউ বলবে না,"বাবারা টক আঙ্গুর খেয়েছেন, কিন্তু সন্তানদের দাঁত টকে গেছে।"
30. কারণ প্রত্যেকে নিজের পাপের জন্যই মরবে; যে টক আঙ্গুর খাবে তারই দাঁত টকে যাবে।"
[যিরমিয় ৩১:২৯-৩০] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/jer.31.29-30.ROVU

এখানে (যিরমিয় ৩১:২৯-৩০) পদে উপমার মাধ্যমে বর্ণনা করে বোঝানো হয়েছে যে :-"বাবারা টক আঙুর খেলে সেই টকের স্বাদ কেবলমাত্র বাবারাই পাবে কিন্তু তার সন্তানেরা সেই টকের স্বাদ পাবে না যা একটি যৌক্তিক কথা।" অর্থাৎ এটা থেকেই প্রমাণ হয় যে যারা পাপ করবে সেই পাপের জন্য তারা নিজেরাই দায়ী হবে কিন্তু অন্যরা সেই পাপের জন্য দায়ী হবে না অর্থাৎ একের জন্য আরেকজন পাপী হবে না। আর প্রত্যেকেই নিজের পাপের জন্য মরবে। কিন্তু কেউই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। আর এইজন্য উপমার মাধ্যমে বলা হয়েছে:-"যে টক খাবে তারই দাঁত টকে যাবে।"

বাইবেলের মধ্যে আরো বলা হয়েছে

6. কিন্তু তিনি মোশির ব্যবস্থাগ্রন্থে লিখিত কথানুসারে সেই হত্যাকারীদের সন্তানদিগকে বধ করিলেন না, যেমন সদাপ্রভু আজ্ঞা দিয়াছিলেন, ‘‘সন্তানের জন্য পিতার, কিম্বা পিতার জন্য সন্তানের প্রাণদণ্ড করা যাইবে না; প্রতিজন আপন আপন পাপ প্রযুক্তই মরিবে।
[২ রাজাবলি ১৪:৬; এই একই কথাটি ২ বংশাবলি ২৫:৪ ভার্সেও আছে] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/2ki.14.6.ROVU

এখানেও বলা হয়েছে একের অপরাধের জন্য আরেকজন নির্দোষ ব্যক্তি কে শাস্তি দেওয়া যাবে না অর্থাৎ অন্যের পাপের বোঝা সে বহন করবে না। আর এরুপ অসংখ্য প্রমাণ বাইবেলের পুরাতন নিয়মের মধ্যে পাওয়া যায়। নতুন নিয়মের মধ্যেও যীশুর এমন বক্তব্য পাওয়া যায়।

এখানে এক কথায় বলা হয়েছে কেউই কারো পাপের বোঝা বহন করবে না, যার যার পাপের বোঝা তার তার-ই বহন করতে হবে যা পবিত্র কোরআনের মধ্যেও একাধিক জায়গায় বলা হয়েছে সর্বশক্তিমান স্রস্টা মহান আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা'আলা পবিত্র কোরআন মাজীদের ১৭ নং সূরা বনী-ইসরাঈল (الإسرا), আয়াত: ১৫ তে এরশাদ করেছেন: 

مَّنِ ٱهْتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهْتَدِى لِنَفْسِهِۦ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا
অর্থঃ যারা সৎ পথ অবলম্বন করবে তারাতো নিজেদেরই মঙ্গলের জন্য তা অবলম্বন করবে এবং যারা পথভ্রষ্ট হবে তারাতো পথভ্রষ্ট হবে নিজেদেরই ধ্বংসের জন্য এবং কেহ অন্য কারও পাপের ভার বহন করবে না; আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কেহকেও শাস্তি দিই না" [অনুবাদক: মুজিবুর রহমান]
উক্ত আয়াতের তাফসীর পড়তে ক্লিক করুন:
https://www.hadithbd.com/quran/email/?id=2044

আর সহীহ হাদিসেও বলা হয়েছে:-"পিতার অপরাধের জন্য পুত্র দায়ী হবে না এবং পুত্রের জন্য পিতা দায়ী হবে না। প্রত্যেকেই যার যার অপরাধের জন্য দায়ী হবে।" [সুনানে আন নাসাই, কাসামাহ অধ্যায়, একজনের অপরাধে অন্যকে দায়ী করা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৮৩২; সুনানে আবু দাউদ, রক্তমূল্য অধ্যায়, হত্যার বদলে হত্যা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৪৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ,রক্তপণ অধ্যায়, ১৫/২৬ অনুচ্ছেদ এর হাদিস নং ২৬৬৯, ১৯/৭৬ এর হাদিস নং ৩০৫৫ সহ ইত্যাদি দ্রষ্টব্য]

অর্থাৎ কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না।" (পবিত্র কোরআন ১৭:১৫; ৩৫:১৮; ৩৯:৭) [কোরআনের অন্যত্র এই একই বিষয়ে বলা হয়েছে, পবিত্র আল কোরআন ৪১:৪৬; ৪৫:১৫; ৩০:৪৪; ৬:১০৪; ৩৯:৪১; এভাবে কোরআনের বহু জায়গায় বলা হয়েছে কেউই জন্মগত পাপী নয় বরং নিজের পাপের জন্য সে দায়ী কিন্তু অন্যরা নয়)। (আর মহান আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা'আলা হযরত আদম আঃ এর পাপ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, পবিত্র কোরআন ২:৩৭)

সুতরাং সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন তো বলেই দিয়েছে কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করে না। আর কেউ যদি কারো পাপের বোঝা বহন করতে না পারে তাহলে আদম আঃ এর জন্য সবাই পাপী হবে এই প্রশ্নই আসে না লজিক্যালি।

কিন্তু ত্রিত্ববাদ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধু পৌল "যীশুর তথাকথিত ক্রুসিফিকশনের" পরে এসে এসব শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত শিক্ষা দিল যে,"যীশু সকলের পাপের বোঝা বহন করবে" যা মূলত [দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬; যিহিষ্কেল ১৮:১-৩২; যিরমিয় ৩১:২৯-৩০; ২ রাজাবলি ১৪:৬; ২ বংশাবলি ২৫:৪ ইত্যাদি দ্রষ্টব্য] শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী বক্তব্য। অর্থাৎ যীশুর পূর্ববর্তী নবীগণের শিক্ষা + তার সময়ের শিক্ষা ছিল,"কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না" যা আমরা বাইবেলের পুরাতন নিয়মের মধ্যে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখতে পাই। যীশু নিজেই ওল্ড টেস্টামেন্ট পালন করা + মানার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি বলছেন:

17. মনে করিও না যে, আমি ব্যবস্থা কি ভাববাদী গ্রন্থ লোপ করিতে আসিয়াছি; আমি তাহা লোপ করিতে আসি নাই, কিন্তু পূর্ণ করিতে আসিয়াছি।

এইখানে যীশু নিজেই পূর্ববর্তী নবীগণের শরিয়ত লোপ নয় বরং তা পূর্ণ করতে এসেছেন যা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এর মানে যীশু নিজেই [দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬; যিহিষ্কেল ১৮:১-৩২; যিরমিয় ৩১:২৯-৩০; ২ রাজাবলি ১৪:৬; ২ বংশাবলি ২৫:৪] তে থাকা উদ্ধৃতির এই শিক্ষাগুলো মানত + বিশ্বাস করত যার সাক্ষ্য তিনি দিয়েছেন। আর যদি তিনি "একের পাপের বোঝা অন্যজন বহন করবে না" শিক্ষায় বিশ্বাস না করত তাহলে তিনি কিভাবে বলতে পারতেন যে,"ভাব্বাদী গ্রন্থ তথা তাওরাত/মুসা আঃ এর শরিয়তের বিধান লোপ করতে নয় বরং তা পূর্ণ করতে এসেছি?" এখন মুসা আঃ এর শরিয়ত তথা তাওরাতের ব্যবস্থা পূর্ণ করতে গেলে তো তাঁকে বিশ্বাস + তাঁর অনুসারীদের শিক্ষা দিতে হবে যে,"কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না।" আর এই শিক্ষাটাও যীশু তাঁর শিষ্যদের কে দিয়েছিলেন যার প্রমাণ রয়েছে বাইবেলের মধ্যে।

18. কেননা আমি তোমাদিগকে সত্য কহিতেছি, যে পর্যন্ত আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত না হইবে, সেই পর্যন্ত ব্যবস্থার এক মাত্রা কি এক বিন্দুও লুপ্ত হইবে না, সমস্তই সফল হইবে।
19. অতএব যে কেহ এই সকল ক্ষুদ্রতম আজ্ঞার মধ্যে কোন একটি আজ্ঞা লঙ্ঘন করে, ও লোকদিগকে সেইরূপ শিক্ষা দেয়, তাহাকে স্বর্গরাজ্যে অতি ক্ষুদ্র বলা যাইবে; কিন্তু যে কেহ সেই সকল পালন করে ও শিক্ষা দেয়, তাহাকে স্বর্গ-রাজ্যে মহান বলা যাইবে।
20. কেননা আমি তোমাদিগকে কহিতেছি, অধ্যাপক ও ফরীশীদের অপেক্ষা তোমাদের ধার্মিকতা যদি অধিক না হয়, তবে তোমরা কোন মতে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে না।
[মথি ৫:১৭-২০] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/mat.5.17-20.ROVU

এইখানে যীশু বলেছেন যে, আজ্ঞা বিধান বা শরিয়তের সামান্য কিছু অস্বীকার + তা পালন করার শিক্ষা দিলে তারা কেউই স্বর্গ তথা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। কেননা জান্নাতে প্রবেশ করার উপায় হিসেবে অধ্যাপক ও ফরিশীদের অপেক্ষা বেশি ধার্মিক হতে হবে- শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর এইখানে অধ্যাপক বলতে ধর্ম বিশেষজ্ঞ তথা ইহুদি আলেমদের বোঝানো হয়েছে। আর ইহুদিরা মূলত মুসা আঃ এর শরিয়তে বিশ্বাসী অর্থাৎ তাওরাতের উপর। আর তাওরাতের বিধান হচ্ছে:-"কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না।" আর এই কথাটাও বিশ্বাস করতে হবে + মানতে হবে যা কিনা যীশু বলে দিয়েছেন অর্থাৎ "মনে করিও না যে, আমি ব্যবস্থা কি ভাববাদী গ্রন্থ লোপ করিতে আসিয়াছি; আমি তাহা লোপ করিতে আসি নাই, কিন্তু পূর্ণ করিতে আসিয়াছি।" [মথি ৫:১৭]

আসুন এখন দেখি ত্রিত্ববাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধু পৌল এর বিপরীতে কী শিক্ষা দিয়েছেন? তিনি বলেছেন:

7. কিন্তু ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁহার নিজের প্রেম প্রদর্শন করিতেছেন; কারণ আমরা যখন পাপী ছিলাম, তখনও খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত প্রাণ দিলেন।"
[রোমীয় ৫:৮; এমন কথা আরো বলা হয়েছে ৬,৮-১০, ৪:২৫;...এক কথায় এই অধ্যায় জুড়েই পৌল মূলত এই শিক্ষা দিয়েছেন যে,"একের পাপের বোঝা অন্যজন বহন করে অর্থাৎ যীশু সকলের পাপের বোঝা বহন করেছেন" এই শিক্ষা দিয়েছেন তিনি, যা মূলত পূর্ববর্তী ভাব্বাদীদের বিপরীত শিক্ষা। ] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/rom.5.8.ROVU

বাইবেলের মধ্যে "আদমের পাপের ফল ও যীশুর ধার্মিকতার ফল" শিরোনামে বলা হয়েছে:-

12. অতএব যেমন এক মনুষ্য দ্বারা পাপ ও পাপ দ্বারা মৃত্যু জগতে প্রবেশ করিল; আর এই প্রকারে মৃত্যু সমুদয় মনুষ্যের কাছে উপস্থিত হইল, কেননা সকলেই পাপ করিল;
13. কারণ ব্যবস্থার পূর্বেও জগতে পাপ ছিল; কিন্তু ব্যবস্থা না থাকিলে পাপ গণিত হয় না।
14. তথাপি যাহারা আদমের আজ্ঞালঙ্ঘনের সাদৃশ্যে পাপ করে নাই, আদম অবধি মোশি পর্যন্ত তাহাদের উপরেও মৃত্যু রাজত্ব করিয়াছিল। আর আদম সেই ভাবী ব্যক্তির প্রতিরূপ।
15. কিন্তু অপরাধ যেরূপ, অনুগ্রহ-দানটি সেইরূপ নয়। কেননা সেই একের অপরাধে যখন অনেকে মরিল, তখন ঈশ্বরের অনুগ্রহ এবং আর এক ব্যক্তির- যীশু খ্রীষ্টের- অনুগ্রহে দত্ত দান, অনেকের প্রতি আরও অধিক উপচিয়া পড়িল।
16. আর, এক ব্যক্তি পাপ করাতে যেমন ফল হইল, এই দান তেমন নয়; কেননা বিচার এক ব্যক্তি হইতে দণ্ডাজ্ঞা পর্যন্ত, কিন্তু অনুগ্রহ-দান অনেক অপরাধ হইতে ধার্মিক-গণনা পর্যন্ত।
17. কারণ সেই একের অপরাধে যখন সেই একের দ্বারা মৃত্যু রাজত্ব করিল, তখন সেই আর এক ব্যক্তি অর্থাৎ, যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা, যাহারা অনুগ্রহের ও ধার্মিকতা দানের উপচয় পায়, তাহারা কত অধিক নিশ্চিতরূপে জীবনে রাজত্ব করিবে।
18. অতএব যেমন এক অপরাধ দ্বারা সকল মনুষ্যের কাছে দণ্ডাজ্ঞা পর্যন্ত ফল উপস্থিত হইল, তেমনি ধার্মিকতার একটি কার্য দ্বারা সকল মনুষ্যের কাছে জীবনদায়ক ধার্মিক-গণনা পর্যন্ত ফল উপস্থিত হইল।

19. কারণ যেমন সেই এক মনুষ্যের অনাজ্ঞাবহতা দ্বারা অনেককে পাপী বলিয়া ধরা হইল, তেমনি সেই আর এক ব্যক্তির আজ্ঞাবহতা দ্বারা অনেককে ধার্মিক বলিয়া ধরা হইবে।"

[রোমীয় ৫:১২-১৯] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/rom.5.12-19.ROVU

25. আমাদের পাপের জন্য সেই যীশুকে মৃত্যুর হাতে সমর্পণ করা হল...।" [রোমীয় ৪:২৫]

অর্থাৎ পৌলের মূল বক্তব্য হল যীশু ক্রুশকাষ্ঠে প্রাণ দিয়ে খ্রিস্টানদের সমস্ত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে গিয়েছেন; যা মূলত বাইবেলের নতুন নিয়মের সম্পূর্ণ বিরোধী বক্তব্য অর্থাৎ পৌল এইখানে মিথ্যা দাবি করে বসেছেন।

এখানে পৌল বলতে চেয়েছেন সকলেই আদমের পাপের কারণে জন্মগত পাপী হওয়ায় যীশু খ্রিস্ট তাঁর ক্রুশবিদ্ধ মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন যা পুরাতন নিয়মে উল্লেখিত নবীগণের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত ; কেননা তাঁদের শিক্ষা ছিল,"কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না নিজ নিজ বোঝা ছাড়া" [দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬; যিহিষ্কেল ১৮:১-৩২; যিরমিয় ৩১:২৯-৩০; ২ রাজাবলি ১৪:৬; ২ বংশাবলি ২৫:৪]। আর কোরআনের বহু জায়গায় বলা হয়েছে কেউই জন্মগত পাপী নয় বরং নিজের পাপের জন্য সে দায়ী কিন্তু অন্যরা নয়, ১৭:১৫; ৩৫:১৮; ৩৯:৭)। আর মহান আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা'আলা হযরত আদম আঃ এর পাপ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন যা পবিত্র কোরআনে ২:৩৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে:

فَتَلَقَّىٰٓ ءَادَمُ مِن رَّبِّهِۦ كَلِمَٰتٍ فَتَابَ عَلَيۡهِۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ
অনুবাদ: অতঃপর আদম স্বীয় রব্ব হতে কতিপয় বাণী শিক্ষা লাভ করল, আল্লাহ তখন তার প্রতি কৃপা দৃষ্টি দিলেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, করুণাময়!" [অনুবাদক: মুজিবুর রহমান]

সুতরাং সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন তো বলেই দিয়েছে:-"কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবৈ না। আর কেউ যদি কারো পাপের বোঝা বহন করতে না পারে তাহলে আদম আঃ এর জন্য সবাই পাপী হবে এই প্রশ্নই আসে না লজিক্যালি।

অপরদিকে যীশু তথা ঈসা আঃ এর শিক্ষা প্রাথমিক ও অপরিপক্ক। তাঁর শিক্ষা প্রাইমারীর আর পৌলের শিক্ষা হাইস্কুলের। অবশ্যই ত্রিত্ববাদীদের জন্য মসীহের শিক্ষাকে অপরিপক্ক বলা ছাড়া উপায়ই নেই। তাদের ধর্মের একটি আকীদাও মসিহের শিক্ষার মধ্যে সুস্পষ্ট নেই। কাজেই তাকে অপূর্ণ এবং পৌলকে পূর্ণ বলা ছাড়া উপায় নেই তাদের। মানবতাবিরোধী অযৌক্তিক এই মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে পৌল দাবী করলেন যে,"মানুষ জন্মগত ভাবে পাপী"-এবং যীশুর মাধ্যমেই মানুষ মুক্তি পায় যার প্রমাণ উপরেই দিয়েছি। তবুও আরো ভাল করে বুঝিয়ে বলছি :

আদম নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করে মহাপাপ করেন। এজন্য কিয়ামত পর্যন্ত সকল আদম সন্তানের শাস্তি ও অনন্ত মৃত্যু পাওনা হয়। "পিতার অপরাধে সকল সন্তানের নরক গমনের "-এ ব্যবস্থায় দয়াময় স্রস্টা অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়েন। বিনা রক্তপাতে ক্ষমা করতে অক্ষম হয়ে তিনি নিজের পুত্রকে কুরবানী করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ পাপের জন্য পাপী নিজের বা পাপীর সন্তানগণ রক্তপাত করলে হবে না। বরং নিরপরাধ নিষ্পাপ কাউকে ধরে কুরবানী দিতে হবে। এজন্য স্রস্টা নিজের আপন পুত্রকে কুরবানী হিসেবে পৃথিবীতে পাঠান। তিনি ক্রুশে মরে অভিশপ্ত হয়ে তিনদিন নরক যন্ত্রণা ভোগ করেন এবং শয়তানের হাত থেকে নরকের চাবি কেড়ে নিয়ে মানুষদেরকে চিরতরে মুক্তি করে দেন। এখন "মানুষ যত পাপই করুক না কেন যীশুর ঈশ্বরত্বে ও কুরবানীতে বিশ্বাস করলেই নরক থেকে চিরমুক্তি" (রোমীয় ১০:৯)। পৌলের ভাষায়:

18. অতএব যেমন এক অপরাধ দ্বারা সকল মনুষ্যের কাছে দণ্ডাজ্ঞা পর্যন্ত ফল উপস্থিত হইল, তেমনি ধার্মিকতার একটি কার্য দ্বারা সকল মনুষ্যের কাছে জীবনদায়ক ধার্মিক-গণনা পর্যন্ত ফল উপস্থিত হইল।

19. কারণ যেমন সেই এক মনুষ্যের অনাজ্ঞাবহতা দ্বারা অনেককে পাপী বলিয়া ধরা হইল, তেমনি সেই আর এক ব্যক্তির আজ্ঞাবহতা দ্বারা অনেককে ধার্মিক বলিয়া ধরা হইবে।" [রোমীয় ৫:১৮-১৯]
অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/rom.5.18-19.ROVU

অর্থাৎ একটা পাপের মধ্যে দিয়ে যেমন সমস্ত মানুষকেই আযাব পাবার যোগ্য বলে ধরা হয়েছে, তেমনি একটা নায্য কাজের মধ্যে দিয়ে সমস্ত মানুষকেই নির্দোষ বলে গ্রহণ করবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।...যেমন একজন মানুষের (হযরত আদম আঃ) অবাধ্যতার মধ্যে দিয়ে অনেকেই পাপী হয়েছিল ,তেমনি একজন মানুষের (হযরত ঈসা আঃ) বাধ্যতার মধ্যে দিয়ে অনেকেই নির্দোষ বলে গ্রহণ করা হবে। অথচ [দ্বিতীয় বিবরণ ২৪:১৬; যিহিষ্কেল ১৮:১-৩২; যিরমিয় ৩১:২৯-৩০; ২ রাজাবলি ১৪:৬; ২ বংশাবলি ২৫:৪] ভার্সে এর বিপরীতে বলা হয়েছে যে "কেউই অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না। যে কেউ অপরাধ করলে তার ফল সে ভোগ করবে এবং ভাল কাজ করলেও তার ফলও সে ভোগ করবে। যার যার কর্মফল তার তার।"

আবার পৌল বলেছেন:

22. আর ব্যবস্থানুসারে প্রায় সকলই রক্তে শুচিকৃত হয়, এবং রক্তসেচন ব্যতিরেকে পাপমোচন হয় না।"
[ইব্রীয় ৯:২২] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/heb.9.22.ROVU

25. আমাদের পাপের জন্য সেই যীশুকে মৃত্যুর হাতে সমর্পণ করা হল এবং আমাদের ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্মিক প্রতিপন্ন করার জন্য যীশু মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠলেন৷" [রোমীয় ৪:২৫]

অর্থাৎ রক্তপাত না হলে পাপের ক্ষমা হয় না।"(ঐ,ইব্রীয় :৯/২২)। পুনশ্চ:(রোমীয় ৪:২৫; ১০:৯; গালাতীয় ৩:১০-১৩; ইফিষীয় ১:৭; ১ করিন্থীয় ১৫:২১-২২)।

চিন্তা করুন সর্বশক্তিমান মহান ঈশ্বর আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা'আলা একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দিবেন? পাপী ক্ষমা চাইলেও ক্ষমা করতে পারবেন না? পাপী বা তার সন্তানগণ কাফ্ফারা বা কোরবানি দিলে হবে না বরং পাপীর অপরাধে আরেকজন নিষ্পাপ কে কোরবানি দিতে বাধ্য (নাঊযুবিল্লাহ মিনযালিক)। এজন্য একজন খ্রিস্টান লেখক লিখেছেন যা শাইখ আহমেদ দিদাদ তাঁর বইতে উদ্ধৃতি টেনেছেন :-

"কোন নাস্তিক জংলি উপজাতিও এরুপ উদ্ভট বিশ্বাস পোষণ করে না যে, মানুষ জন্মগত ভাবে পাপের কলঙ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং এ কলঙ্ক যার জন্য সে নিজে দায়ী নয়, তার জন্য কাফ্ফারা বা কোরবানি দিতে হবে এবং এ রহস্যময় অভিশাপকে অকার্যকর করতে সকল কিছুর মহান স্রস্টা নিজের একমাত্র ঔরসজাত সন্তানকে কোরবানি দিতে বাধ্য হলেন।" (Ahmed Deedat :The Choice ,Volume 2,page 165)

আর অগ্রিম পাপের ক্ষমা করা মানেই পৃথিবীতে অরাজকতা, হিংসা-বিদ্বেষ, খুন-খারাবি, চুরি-ডাকাতি, যিনা-ব্যভিচার-ধর্ষণ সহ ইত্যাদি অশ্লীল অপকর্ম ত্বরান্বিত হারে বৃদ্ধি পাওয়ার লাইসেন্স দেওয়া। আর এই পৌল মহাশয় এই লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা-অশান্তি সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন ধর্মীয় বিধিবিধানের নামে। কারণ অগ্রিম পাপ ক্ষমা করা হলে কারো মধ্যে অপরাধের জন্য পাপবোধ জাগ্রত হবে না। ফলে সে খারাপ কর্মের দিকে ধাবিত হতেও পিছপা হবে না। কারণ সে জানে যতই খুন খারাবি ধর্ষণ ইত্যাদি অশ্লীল অপকর্ম করুক না কেন, তার পাপ অগ্রিম ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। আর এই চিন্তাবোধ থেকেই আজকের খ্রিস্টান দেশগুলোতে যতসব অশ্লীল বেহায়াপনা উলঙ্গতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া অনুসারীদের সংখ্যা বাড়াতে ও মানুষদেরকে জাহান্নামী করতে পৌল ও তাঁর অনুসারীরা শিক্ষা দিয়েছে যে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস ও শরিয়ত পালনের কোন মূল্য নেই বরং শুধু ঈসা আঃ এর ক্রুশবিদ্ধ মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস করলেই মুক্তি মিলবে।

9. কারণ তুমি যদি ‘মুখে’ যীশুকে প্রভু বলিয়া স্বীকার কর, এবং ‘হৃদয়ে’ বিশ্বাস কর যে, ঈশ্বর তাঁহাকে মৃতগণের মধ্য হইতে উত্থাপন করিয়াছেন, তবে পরিত্রাণ পাইবে।"
[রোমীয় ১০:৯] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/rom.10.9.ROVU

এইখানে পৌল মুক্তি পাওয়ার ভিত্তি বলে দিয়েছেন। আর সেটা হলো যীশু কে মুখে প্রভু বলে স্বীকার করা এবং এটা বিশ্বাস করা যে, ঈশ্বর তাঁকে মৃতদের মধ্যে থেকে আবার জীবিত করেছেন। এটাই হলো পৌলের থিওরি যা মূলত যীশু খ্রিস্টের নিজের বক্তব্যের বিরোধী। ইঞ্জিলের মধ্যে বিদ্যমান যীশু তথা ঈসা মসীহের বক্তব্য পৌলের বচনের সাথে সাংঘর্ষিক। শুধু বিশ্বাসেই মুক্তি মিলবে মসীহ্ এটা বলেন নাই। শত বিশ্বাস থাকলেও সামান্যতম শরিয়ত লঙ্ঘন করলেও তার জান্নাত মিলবে না বলে প্রচার করেছেন [মথি ৫:১৭-২০]।

যদি কেউ শরিয়ত পালন করে তবে তার জন্য মুক্তির পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। "ব্যবস্থা বা শরিয়তের" বিরুদ্ধে পৌলের দার্শনিক ও মারফতি বক্তব্য অনেক। মন শুদ্ধ হলেই হলো। শরিয়ত তো বিশ্বাস ঠিক করার জন্য; বিশ্বাস ঠিক হলে আর কিছুই লাগে না। শরিয়তই পাপ কর না বলে পাপের কথা মনে করিয়ে দেয়। শরিয়ত তুলে দিলে আর পাপ থাকবে না!!! ইত্যাদি। সাধু পৌলের কয়েকটা বচন শুনুন:

"...মানুষ ঈশ্বরের সামনে বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা নয় বরং যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হয়, তাই আমরা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করেছি, যাতে আমরা ঈশ্বরের সামনে বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা নয় বরং খ্রীষ্টে বিশ্বাসী বলেই নির্দোষ গণিত হই৷ কারণ কেউই বিধি-ব্যবস্থা পালনের দ্বারা ঈশ্বরের সামনে নির্দোষ গণিত হয় না৷" [গালাতীয় ২:১৬]

অর্থাৎ বিধি-ব্যবস্থা বা মুসার শরিয়ত পালন করার জন্য ঈশ্বর মানুষকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করেন না বরং ঈসা মসিহের উপর ইমান আনবার জন্যই তা করেন; এর মানে হচ্ছে বিধি ব্যবস্থা পালন করেও কোন লাভ নেই। অথচ যীশু এর উল্টো বলেছেন।

কেননা আমাদের মীমাংসা এই যে, ব্যবস্থার কার্য ব্যতিরেকে বিশ্বাস দ্বারাই মনুষ্য ধার্মিক গণিত হয়।" [রোমীয় ৩:২৮]
অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/rom.3.28.ROVU

অর্থাৎ ঈশ্বর ইমান/বিশ্বাস আনবার জন্যই মানুষকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করেন কিন্তু মুসার শরিয়ত পালন করবার জন্য নয়।

10. যাঁরা ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন হতে (মুসার ব্যবস্থা অর্থাৎ তাওরাত) বিধি-ব্যবস্থা পালনের ওপর নির্ভর করে, তাদের ওপর অভিশাপ থাকে৷ কারণ শাস্ত্র বলে: ‘বিধি-ব্যবস্থায় যে সকল লেখা আছে তার সব কটি যে পালন না করে সে শাপগ্রস্ত!
11. এখন এটা পরিষ্কার য়ে বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের কাছে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায় না৷ কারণ শাস্ত্র বলে: ‘ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের জন্যই বাঁচবে৷"
13 বিধি-ব্যবস্থা আমাদের ওপর য়ে অভিশাপ চাপিয়ে দিয়েছে তার থেকে খ্রীষ্ট আমাদের উদ্ধার করেছেন৷ খ্রীষ্ট আমাদের স্থানে দাঁড়িয়ে নিজের ওপর সেই অভিশাপ গ্রহণ করলেন৷ কারণ শাস্ত্র বলছে: ‘যার দেহ গাছে টাঙ্গানো হয় সে শাপগ্রস্ত৷" [গালাতীয় ৩:১০-১৩]

অর্থাৎ যারা শরিয়ত পালন করবার উপর নির্ভর করে ,তাদের সকলের উপর এই অভিশাপ রয়েছে।...ইমানের সাথে শরিয়তের কোন সম্বন্ধ নেই। শরিয়ত অমান্য করবার দরুন যে অভিশাপ আমাদের উপর ছিল, মসীহ্ সেই অভিশাপ নিজের উপর নিয়ে আমাদের মুক্ত করেছেন।

24. খ্রীষ্টের কাছে আসার জন্য বিধি-ব্যবস্থাই ছিল আমাদের কঠোর অভিভাবক, যেন বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্মিক বলে গণিত হই৷" [গালাতীয় ৩:২৪]

আচ্ছা ধার্মিক কিভাবে হয়? ধর্মীয় কোন বিধিবিধান বিশ্বাস করার সঙ্গে তা কর্মের মাধ্যমে পালন করাটাকেই তো ধার্মিক বলে। আর কোন কিছু বিশ্বাস করলাম ঠিক কিন্তু তা পালন করলাম না, তাহলে কী সেটাকে ধার্মিক বলা যায়? অবশ্যই নয়। কেননা, ধরুন আমি বিশ্বাস করি, ধর্মীয় একটা বিধান হলো কোন নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করো না, এটা নিষিদ্ধ। এইটা আমি বিশ্বাস করি কিন্তু তা পালন করলাম না বরং কোন নারীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হলাম। কিন্তু বিশ্বাস করি ব্যভিচার করা যাবে না। বিশ্বাস ঠিক রয়েছে কিন্তু কর্ম ঠিক নেই। তাহলে কী এটাকে ধার্মিক বলা যায়? অবশ্যই না। তাহলে পৌল কিভাবে বলল বিধিবিধান পালন নয় বরং কেবলমাত্র বিশ্বাস দিয়ে ধার্মিক হওয়া যায়।

15 কারণ বিধি-ব্যবস্থা মেনে চলা না হলে তা শুধুই ঈশ্বরের ক্রোধ নিয়ে আসে৷ বিধি-ব্যবস্থা যেখানে নেই, সেখানে তার লঙঘন নেই।" [রোমীয় ৪:১৫]

এখানে পৌল বলতে চাইলেন যে, মুসার শরিয়তের ব্যবস্থা তথা বিধিবিধান মেনে না চললে ঈশ্বরের ক্রোধ তথা শাস্তি নেমে আসবে; যা যীশুও বলেছেন [মথি ৫:২৮-২৯]। কিন্তু যেখানে বিধিবিধান থাকবে না/নেই সেখানে তা পালন করার প্রশ্নই আসে না (অর্থাৎ যা নেই তা পালন করব কেন), যার ফলে তা লঙ্ঘন করার সুযোগ হবে না। এর মানে বিধি ব্যবস্থা বাতিল করে দিলে তা লঙ্ঘনের ভয় থাকবে না। সুতরাং মুসার শরিয়ত বাতিল। বাতিল হবার জন্য এটা আর পালন করতে হবে না।

1. খ্রীষ্ট আমাদের স্বাধীন করেছেন, যেন আমরা স্বাধীনভাবে থাকতে পারি; তাই শক্ত হয়ে দাঁড়াও, দাসত্বে ফিরে য়েও না৷

অর্থাৎ যীশু খ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের কে শরিয়ত পালন থেকে মুক্ত করেছেন, যার অর্থ বোঝায় মুসার শরিয়ত আর পালন করার দরকার নেই বরং তা বাতিল। আমরা এ থেকে স্বাধীন [গালাতীয় ৩:২৩]। আর যে কেউই শরিয়ত পালন করতে যাবে সে মূলত আবার দাসত্বে ফিরে যাবে, যার ফলে সে অভিশপ্ত হবে আবার [গালাতীয় ৩:১০,১৩]। আমরা আর শরিয়তের অধীনে নেই [গালাতীয় ৩:২৫]

2. শোন! আমি পৌল বলছি৷ যদি তোমরা সুন্নতের মাধ্যমে আবার বিধি-ব্যবস্থায় ফিরে যাও, তবে তোমরা খ্রীষ্টেতে লাভবান হবে না৷
3. আবার আমি প্রত্যেক মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছি৷ তোমরা যদি সুন্নত করাতে চাও, তবে বিধি-ব্যবস্থার সবটাই তোমাদের পালন করতে হবে৷
4. তোমরা যাঁরা বিধি-ব্যবস্থার দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ গণিত হতে চেষ্টা করছ, তারা খ্রীষ্টের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করেছ এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছ৷
5. কিন্তু আমরা বিশ্বাসের দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ বলে গণিত হবার জন্য অধীর আগ্রহে আত্মায় অপেক্ষা করছি৷" [গালাতীয় ৫:২-৫]

এইখানে পোল বলতে চেয়েছেন,"তোমরা যারা মুসার শরিয়ত পালন করে খোদার গ্রহণযোগ্য হতে চাও ,তোমরা তো মসিহের নিকট হতে আলাদা হয়ে গিয়েছ, খোদার রহমত থেকে সরে গিয়েছ।" অথচ এই সুন্নত-ই ছিল খোদার রহমত পাবার চিহ্ন [পড়ুন, আদিপুস্তক ১৭:১-১৪; পারলে সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়ে দেখতে পারেন- https://bible.com/bible/1791/gen.17.1-14.ROVU ]। আর যীশুও খোদার রহমত পাবার জন্য তাঁর জন্মের অষ্টম দিনে সুন্নতে খাতনা করানো হয় [লুক ২:২১]

তিনি দাবি করেন যে, শরিয়তই সকল শত্রুতা ও হানাহানির কারণ এবং যীশু শরিয়ত বিলুপ্ত করতে এসেছিলেন। তিনি তাঁর ক্রুশের উপর মেরে ফেলা দেহের মধ্যে দিয়ে সমস্ত হুকুম নিয়ম শুদ্ধ মুসার শরিয়তের শক্তি বাতিল করেছেন। তাহলে পৌলের মতে:-"শুধু মনের বিশ্বাস ও মুখে স্বীকারোক্তি মুক্তির জন্য যথেষ্ট, শরিয়ত পালন শুধু অপ্রয়োজনীয়ই নয়; উপরোক্ত তা মুক্তির পথে প্রতিবন্ধক। পৌলের ভাষায়:

20. কারণ বিধি-ব্যবস্থা পালন করলেই য়ে ঈশ্বরের সামনে ধার্মিক প্রতিপন্ন হওয়া যায় তা নয়, বিধি-ব্যবস্থা কেবল পাপের জ্ঞান জন্মে।" [রোমীয় ৩:২০]

তাহলে পৌলের বক্তব্য অনুযায়ী কী দাঁড়াল? সেটা হলো: শরিয়ত সকলকেই পাপের মধ্যে আবদ্ধ করে, শরিয়তই পাপের উৎস, শরিয়ত পালন করে কেউই ধার্মিক হতে পারে না; বরং পাপী ও অভিশপ্ত হয় ।শরিয়ত পালনকারী ঈসা আঃ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত। অর্থাৎ ঈসা সহ সকল নবী ও তাদের অনুসারীরা পাপী, অভিশপ্ত ও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত! (নাউযুবিল্লাহ)। পাঠক আপনি কি জানেন সাধু পৌল যাকে অভিশাপ, শত্রুতা, গজব, পাপ বলে আখ্যায়িত করলেন সেই শরিয়ত বা বিধিবদ্ধ আজ্ঞাগুলো কি??

ঈশ্বর মুসা আঃ কে দশ আজ্ঞা দিয়েছিলেন, পড়ুন দ্বিতীয় বিবরণ ৪ অধ্যায়; যাত্রাপুস্তক ৩৪:২৮। মুসা আঃ এর দশ আজ্ঞা Ten Commandments) নিন্মরুপ: মুসা আঃ বললেন ঈশ্বর এই সকল কথা বললেন যা মেনে চলার কথা বলেছেন (দ্বিতীয় বিবরণ ৫:১]। সেগুলো হলো:

3. আমাকে ছাড়া তোমরা আর কোনও দেবতাকে উপাসনা করবে না।"
4. তোমরা অবশ্যই অন্য কোন মূর্তি গড়বে না যেগুলো আকাশের, ভূমির অথবা জলের নীচের কোন প্রাণীর মত দেখতে।
7. তোমরা তোমাদের প্রভু ঈশ্বরের নাম ভুল ভাবে ব্যবহার করবে না।যদি কেউ তা করে তাহলে সে দোষী এবং প্রভু তাকে নির্দোষ সাব্যস্ত করবেন না।
8. বিশ্রামের দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে মনে রাখবে।
12. তুমি অবশ্যই তোমার পিতামাতাকে সম্মান করবে...।
13. কাউকে হত্যা কোরো না।
14. ব্যাভিচার কোরো না।
15. চুরি কোরো না।
16. অন্যদের সম্বন্ধে মিথ্যা বলো না।
17. তোমাদের প্রতিবেশীর ঘর-বাড়ীর প্রতি লোভ কর না। তার স্ত্রীকে ভোগ করতে চেও না। এবং তার দাস-দাসী, গবাদি পশু অথবা গাধাদের আত্মসাত্‌ করতে চেও না। অন্যদের কোন কিছুর প্রতি লোভ করো না।" [যাত্রাপুস্তক ২০:৩-১৭; পারলে এই অধ্যায় সম্পূর্ণ পড়তে পারেন] (আরো পড়ুন: দ্বিতীয় বিবরণ ৫:১-২১) অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন: https://www.wordproject.org/bibles/ben/05/5.htm#0

উল্লেখ্য যে, যীশু নিজেই এই দশ আজ্ঞা পালন করতেন এবং অন্যকেও কঠোর ভাবে তা মানার উপদেশ দিতেন। তো এই দশ আজ্ঞা সম্পর্কে যীশুর সাক্ষ্য কী ছিল? জানতে ক্লিক করুন:
[মথি ৫:১৭-২০] অনলাইন সোর্স থেকে পড়তে ক্লিক করুন:
https://bible.com/bible/1791/mat.5.17-20.ROVU

আর সেন্ট পৌল-ই কিনা মুসা আঃ এর শরিয়ত ব্যবস্থা কে অভিশপ্ত বলে বাতিল করে দিল যাকে মুক্তি পাওয়ার ভিত্তি বলেছেন যীশু খ্রিস্ট। তাহলে পৌলীয় খ্রিস্টধর্মে এগুলো মান্য করা পাপ, গজব, অভিশাপ ও আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হওয়ার মূল কারণ! তাহলে অভিশাপ হতে মুক্ত হতে এবং আল্লাহর রহমত বেশি বেশি পেতে অবশ্যই শিরক করতে হবে, ব্যভিচার করতে হবে, নর হত্যা করতে হবে, চুরি করতে হবে, পিতা মাথাকে সমাদর করা যাবে না, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হবে, প্রতিবেশীর স্ত্রী ও তাঁর সম্পদের উপরে লোভ থাকতেই হবে। এসকল পাপ যে যত বেশি করবে সে তত বেশি আল্লাহর রহমত বেশি বেশি পাবে। এজন্যই পশ্চিমা বিশ্বের খ্রিস্টান দেশগুলোতে এসবের হার অধিক পরিমাণে লক্ষ্য করা যায়। আর সেখানে তো যিনা ব্যভিচারে ছয়লাভ হয়ে গেল অর্থাৎ সাধারণ একটা কালচারে পরিণত হয়েছে।

শরিয়ত ই পাপ করা বন্ধ করে দেয়। আর একমাত্র শরিয়ত ই বলে এবং স্মরণ করিয়ে দেয় পাপ না করতে অথচ শরিয়ত বাতিল করে দিলে তো পৃথিবীতে পাপের অন্ধকারে মানুষ নিমজ্জিত হবে। আর হারাম কাজে আরাম বেশি। এই জন্যই তো দেখা যায় যে বর্তমান তথাকথিত আধুনিক খ্রিস্টানরা যীশুর শিক্ষা কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তার সমালোচক সেন্ট পৌলের শিক্ষা কে গ্রহণ করে নিয়েছে যার জন্য তথাকথিত খ্রিস্টানরা যীশুর শরিয়ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর পৌল সুকৌশলে যীশুর শরিয়ত বাতিল করার কারণেই তো বর্তমান আধুনিক খ্রিস্টান বিশ্বে উলঙ্গ-বেহায়াপনা, নগ্নতা অশ্লীলতাসহ বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত তারা। এছাড়া এরা পালন করে পৌলের শিক্ষা আর মুখে মুখে যীশু যীশু বলে ফ্যানা উঠিয়ে ফেলে। কিন্তু আপনি নিজেই খ্রিস্টানদের আচরণ বিধিগুলো লক্ষ করে দেখুন কোন খ্রিস্টানদের মধ্যে যীশুর শিক্ষার কোন বালাই পরিস্ফুট নেই বরং পৌলের শিক্ষা টাই তাদের মাঝে লক্ষণীয়। মূলত খ্রিস্টানরা পৌলের শিক্ষার কাছে হার মেনে যীশুর শিক্ষা কে ত্যাগ করেছে।