পবিত্র কোরআন কী প্রচলিত বাইবেলের সত্যায়নকারী?

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীমবর্তমানে সকল খ্রিস্টান মিশনারিরা বিশেষ করে ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টানগণ দাবি করে থাকেন যে, মুসলিমদের কোরআনে পূর্ববর্তী কিতাব অর্থাৎ তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিল অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আবার উল্লেখ্য যে, তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিলের বর্তমান একত্রিত রুপ-ই হলো বাইবেল যাতে আবার আরো ভিন্ন পুস্তকও রয়েছে। এছাড়াও তারা পবিত্র কোরআন থেকেই রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করতে চায় যে, কোরআন-ই নাকি প্রচলিত বাইবেলের সত্যায়নকারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। অতএব কোরআন মানতে গেলে মুসলিমদের বাইবেলও মানতে হবে- যেটা তারা মানে না। অর্থাৎ আধুনিক খ্রিস্টান মিশনারিরা পবিত্র কোরআনের আয়াতের মূল সারমর্ম ও তাৎপর্য না বুঝেই অথবা জেনে বুঝেই অপব্যাখ্যা এবং মিথ্যা অপপ্রচার করে আবার মুসলিমদের উপর দোষারোপ করে তাও আবার কোরআন নিয়ে; আস্তাগফিরুল্লাহ। যাইহোক আমরা মহান আল্লাহর নামে এই সকল অভিযোগের জবাব দিব ইনশাআল্লাহু তা'আলা।

প্রথমত মুসলিমদের পূর্ববর্তী কিতাব অর্থাৎ তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিল কিতাব সমূহের উপর ঈমান (বিশ্বাস) আনতে বলা হয়েছে [1], কিন্তু এটা ফলো করতে বলা হয় নাই। উল্লেখ্য যে, আমরা মুসলিমরাও পূর্ববর্তী গ্রন্থ সমূহের উপর বিশ্বাস করি যে মহান আল্লাহ্ ঐসকল কিতাবগুলো মহান নবীগণের উপর নাযিল করেছিলেন এবং ঐসকল কিতাবের সত্যায়নকারী গ্রন্থ হলো বর্তমান কুরআন মাজীদ। কাজেই মুসলিমদের পবিত্র কোরআন থাকতে পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের অনুসরণ করতে হবে না।
দ্বিতীয়ত পবিত্র কোরআনের মধ্যে এমন কোন আয়াত পাবেন না যেখানে মুসলিমদের একমাত্র ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআন ছাড়া পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহেরও অনুসরণ এবং মানতে বলা হয়েছে অর্থাৎ ওসব গ্রন্থগুলোর উপর আমল করতে বলা হয়েছে। এটা বরং ইহুদি- খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে। প্রমাণ এই দেখুন যেখানে মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা'আলা ইহুদি- খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন:

Al-Ma'idah 5:68
قُلْ يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَىْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا۟ ٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْإِنجِيلَ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّآ أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَٰنًا وَكُفْرًا فَلَا تَأْسَ عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

Bengali - Bayaan Foundation
বল, ‘হে কিতাবীরা, তোমরা কোন ভিত্তির উপর নেই, যতক্ষণ না তোমরা তাওরাত, ইনজীল ও তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা কায়েম কর’। আর তোমার নিকট তোমার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরী বৃদ্ধি করবে। সুতরাং তুমি কাফির কওমের উপর হতাশ হয়ো না।

▪︎ এই আয়াতে মহান আল্লাহ্ ইহুদি-খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, "তোমরা কোন পথেই নেই যদি না তোমরা তাওরাত, ইঞ্জিল ও তোমাদের নিকট তোমাদের রবের থেকে যা নাযিল হয়েছে তা মানো অর্থাৎ পবিত্র কোরআন মাজীদ। এর মানে মহান আল্লাহ্ ইহুদি খ্রিস্টানদের তাওরাত- ইঞ্জিলসহ পবিত্র কোরআন মাজীদও মানতে বলেছেন অন্যথায় তারা কোন পথের উপর থাকতে পারবে না। আয়াতে আল্লাহ্ কোরআন ছাড়া কেবলমাত্র তাওরাত-ইঞ্জিলের অনুসরণ করতে বলেনি তাদের। কিন্তু কেন বলেনি? কারণ এটাও আল্লাহ্ বলে দিয়েছেন। পূর্ববর্তী কিতাবের লেখনীর মধ্যে বিকৃতির কারসাজি চালানো হয়েছে [2]। এই জন্য সাথে সাথে তাদের নবীদের উপর অবতীর্ণ কিতাব তাওরাত-ইঞ্জিলসহ পবিত্র কোরআনও মানতে বলেছেন যেন তারা সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে। কারণ পবিত্র কোরআন পূর্ববর্তী আসল কিতাবের সত্যায়নকারী গ্রন্থ- আল ফুরকান। কাজেই তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত-ইঞ্জিলের যে অংশটুকু কোরআনের সাথে না মিলে তা বর্জন করতে হবে। আর এভাবেই মূলত তারা পরিপূর্ণ ইসলামের দিকে ধাবিত হবে। ওয়াল্লাহু আলাম।

তৃতীয়ত মহান আল্লাহ্ মুসলিমদেরকে ঐসকল পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের উপর ঈমান আনতে বলেছেন যেগুলো মহান নবীগণ যেমন হযরত মুসা আঃ, দাউদ আঃ, ঈসা আঃ এর উপর নাযিল হয়েছিল অর্থাৎ যেগুলো ছিল আসল এবং অবিকৃত কিতাব। বর্তমানে প্রচলিত এবং তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিলের নামে যেসব বিকৃত কিতাব রয়েছে এসবের উপর ঈমান আনতে বলা হয় নাই। এগুলো মূলত ইহুদি- খ্রিস্টানদের হস্তক্ষেপ মূলক বিকৃত কিতাব যাতে রয়েছে সত্য- মিথ্যার মিশ্রণ। কাজেই এটা আসল কিতাব হতে পারে না।
চতুর্থত পবিত্র কোরআন ঘোষণা করেছে যে, পূর্ববর্তী কিতাবের লেখনীর মধ্যে বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। এটাই হলো পবিত্র কোরআনের দাবি যা বাস্তবিক-ই সত্য। এর অসংখ্য বাস্তবিক প্রমাণ ইহুদি- খ্রিস্টানদের কিতাব থেকেই দেওয়া যাবে। এখন কোন খ্রিস্টান কি এটা স্বীকার করতে পারবে কি - তাদের বাইবেল বিকৃত? কোন খ্রিস্টান মিশনারিদের সৎ সাহস থাকলে তারা যীশু খ্রিস্ট অথবা পবিত্র আত্মার নামে শপথ করে বলুক যে, "বাইবেল বিকৃত নয়।" চ্যালেঞ্জ দিলাম- কোন খ্রিস্টান মিশনারিরাই এই কথা সৎ সাহসের সঙ্গে বলতে পারবে না। কারণ তারা নিজেরাও জানেন- আসলে বাইবেলের মধ্যে অনেক ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে যদিও তারা তা চোখে দেখেও অস্বীকার করে। আর আল্লাহ্ এসবও বলেই দিয়েছেন- তারা অর্থাৎ ইহুদি- খ্রিস্টানদের অধিকাংশই সত্য অস্বীকারকারী।

পঞ্চমত ইহুদি- খ্রিস্টানদের কিতাবের মধ্যে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর আগমন, গুণ- বৈশিষ্ট্যের সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেন তারা তাঁর উপর ঈমান আনে, তাঁকে সাহায্য করে; যেগুলো পবিত্র কোরআনে ইহুদি-খ্রিস্টানদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কোন ইহুদি- খ্রিস্টানরা এটা স্বীকার করতে পারবে কি- আসলেই তাদের কিতাবের মধ্যে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে বলা হয়েছে? কোন খ্রিস্টান কি তাঁকে মানে? অবশ্যই মানে না বরং উল্টো মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে তাঁর উপর। নাউযুবিল্লাহ।
এরপরও খ্রিস্টান মিশনারিরা কম জানা সরলমনা মুসলমানদের পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে মূলত খ্রিস্টান ধর্মে দিক্ষীত করতে চায়- যা মূলত তাদের একটা কৌশল। আবার সেইসব খ্রিস্টান মিশনারিরাই কিনা কোরআন থেকে বাইবেল মানার দলিল দেয় অথচ তারা নিজেরাই পবিত্র কোরআনের ঐ অংশকেও ঐশ্বরিক বাণী বলেও বিশ্বাস করে না। মানে প্রতারণার আশ্রয় নেয় তারা।

আচ্ছা যদি খ্রিস্টানদের দাবি অনুযায়ী তারা সততার আশ্রয় নেয় এবং পবিত্র কোরআন বর্তমানে প্রচলিত বাইবেলের সত্যায়নকারী হয়, তাহলে তাদের কাছে আমাদের মুসলিমদের তরফ থেকে পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই- যার স্পষ্ট জবাব তাদের দিতে হবে।
পয়েন্ট নং: ১
মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ তা'আলা সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন মাজীদের ঘোষণা করেছেন:

Aal-e-Imran 3:81-82
وَإِذْ أَخَذَ ٱللَّهُ مِيثَٰقَ ٱلنَّبِيِّۦنَ لَمَآ ءَاتَيْتُكُم مِّن كِتَٰبٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَآءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِۦ وَلَتَنصُرُنَّهُۥۚ قَالَ ءَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَىٰ ذَٰلِكُمْ إِصْرِىۖ قَالُوٓا۟ أَقْرَرْنَاۚ قَالَ فَٱشْهَدُوا۟ وَأَنَا۠ مَعَكُم مِّنَ ٱلشَّٰهِدِينَ فَمَن تَوَلَّىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ
Bengali - Bayaan Foundation
আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছেন- আমি তোমাদেরকে যে কিতাব ও হিকমাত দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের সাথে যা আছে তা সত্যায়নকারীরূপে একজন রাসূল তোমাদের কাছে আসবে- তখন অবশ্যই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করেছ এবং এর উপর আমার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছ’? তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম’। আল্লাহ বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম’। সুতরাং এরপর যারা ফিরে যাবে, তারা তো ফাসিক।

▪︎ এই আয়াতটা বিশদ ব্যাখ্যাযোগ্য। এইজন্য বিস্তারিত পড়তে চাইলে বেশ কয়েকটি তাফসীরগ্রন্থ যেমন তাফসীরে আহসানুল বায়ান, তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ, তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া, তাফসীরে কাবীর পড়তে পারেন। তবে এ আয়াতের ব্যাখ্যার মধ্যে আলী ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, "আল্লাহ্ তা'আলা সব রাসূলগণের কাছ থেকে মুহাম্মাদ ﷺ সম্পর্কে অঙ্গীকার নেন যে, তাঁরা স্বয়ং যদি তার আমলে জীবিত থাকেন, তবে যেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং তাকে সাহায্য করেন। স্বীয় উম্মতকেও যেন এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে যান [তাবারী]। এই জন্য আমরা পবিত্র কোরআনের অন্যত্রে দেখি স্বয়ং ঈসা আঃ নিজেই তাঁর জাতিকে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর আগমনের শুভ সংবাদ শুনিয়েছিলেন। আর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ই একমাত্র রাসূল যিনি পূর্ববর্তী সকল কিতাবের সত্যায়নকারী ছিলেন। আর একমাত্র আমরা মুসলিমরাই পূর্ববর্তী সকল কিতাবের উপর ঈমান এনেছি যা অন্য কোন জাতি আনে নাই।

পয়েন্ট নং: ২
মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্রে আরো বলেছেন:

Al-Ma'idah 5:48
وَأَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِۖ فَٱحْكُم بَيْنَهُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَآءَهُمْ عَمَّا جَآءَكَ مِنَ ٱلْحَقِّۚ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًاۚ وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَٰحِدَةً وَلَٰكِن لِّيَبْلُوَكُمْ فِى مَآ ءَاتَىٰكُمْۖ فَٱسْتَبِقُوا۟ ٱلْخَيْرَٰتِۚ إِلَى ٱللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ
Bengali - Bayaan Foundation
আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যথাযথভাবে, এর পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী ও এর উপর তদারককারীরূপে। সুতরাং আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তুমি তার মাধ্যমে ফয়সালা কর এবং তোমার নিকট যে সত্য এসেছে, তা ত্যাগ করে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরীআত ও স্পষ্ট পন্থা এবং আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তোমাদেরকে এক উম্মত বানাতেন। কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা ভাল কাজে প্রতিযোগিতা কর। আল্লাহরই দিকে তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তনস্থল। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন, যা নিয়ে তোমরা মতবিরোধ করতে।

▪︎ অর্থাৎ এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন মাজীদ পূর্ববর্তী কিতাব তথা তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী এবং ঐসব কিতাব সমূহের বিষয় বস্তুর তদারককারী হলো পবিত্র কোরআন। এর মানে ঐসব কিতাবের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের মধ্যে বলে দেওয়া হয়েছে। কাজেই পবিত্র কোরআন দিয়ে যাচাই বাছাই করলে এর সততা কতটুকু তা জানা যাবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, কুরআন এর পূর্বেকার সমস্ত গ্রন্থের জন্য আমানতদার হিসেবে নির্বাচিত [তাবারী]। সুতরাং অন্যান্য গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে, তা যদি কেউ পরিবর্তন করেও ফেলে কুরআন কিন্তু সেটা ঠিকই একজন আমানতদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সঠিকভাবে বর্ণনা করে দিবে। কাতাদা রাঃ বলেন, এর অর্থ সাক্ষ্য [আত-তাফসীরুস সহীহ]। অর্থাৎ অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে সন্নিবেশিত তথ্যের ব্যাপারে এই কুরআন সাক্ষ্যস্বরূপ।
অর্থাৎ প্রত্যেক আসমানী গ্রন্থ তার পূর্বোক্ত গ্রন্থের সত্যায়ন করে। অনুরূপ কুরআনও পূর্বোক্ত সমস্ত (আসমানী) গ্রন্থের সত্যায়ন করে। আর সত্যায়নের অর্থ হচ্ছে; সমস্ত গ্রন্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু কুরআন সত্যের সাক্ষ্যপ্রদানকারী হওয়ার সাথে সাথে সংরক্ষক, বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী গ্রন্থ। মানে পূর্বোক্ত গ্রন্থগুলিতে পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়েছে; কিন্তু কুরআন এ থেকে সুরক্ষিত আছে। আর এই জন্যই কুরআনের ফায়সালাই সত্য বিবেচিত হবে; কুরআন যাকে সঠিক বলে বিবেচনা করবে, সেটাই সঠিক হিসাবে গণ্য হবে। আর বাকী সবই বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

কোরআন যে পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং বিষয়বস্তু সমূহের সংরক্ষক এর উৎকৃষ্ট কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক। যেমন:
] খ্রিস্টানরা একজন ঈশ্বরের পরিবর্তে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে যা মূলত পূর্ববর্তী কিতাবের মধ্যে নেই। কোরআনও সেটার সাক্ষ্য দিয়েছে।
] খ্রিস্টানরা ঈসা আঃ কে আল্লাহ্ দাবি করে (নাউযুবিল্লাহ) অথচ পূর্ববর্তী কিতাবের মধ্যে এও নেই যেখানে ঈসা আঃ নিজেকে খোদা দাবি করেছেন। কোরআন এর স্পষ্ট সাক্ষ্য দিয়েছে।
] আল্লাহ সকল কিছুর ঊর্ধ্বে অথচ খ্রিস্টানরা আল্লাহর শান-মান মর্যাদাকে মানুষের কাতারে নামিয়ে ফেলেছে যা কিনা পূর্ববর্তী মূল কিতাবগুলোর মধ্যে ছিল না। পবিত্র কোরআন এসবেরও সত্যায়ন করেছে আর তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে।
] মানুষ জন্মগত পাপী নয় যার স্পষ্ট সাক্ষ্য দিয়েছে কোরআন। অথচ খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী তারা জন্মগত পাপী যা মূলত পূর্ববর্তী কিতাবের মধ্যে ছিল না। এভাবে বহু ভ্রান্ত বিশ্বাস রয়েছে তাদের মধ্যে যা পূর্ববর্তী কিতাবের মূল পান্ডুলিপিতে ছিল না। আর পবিত্র কোরআন এসে এসবই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। অর্থাৎ এইভাবে কোরআন পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যায়নকারী হিসেবে নাযিল হয়েছে- তদারককারীরুপে।

এইভাবে অসংখ্য জিনিস রয়েছে যা ইহুদি খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে অথচ তা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর আসল পান্ডুলিপিতে ছিল না। আর পবিত্র কোরআন এসে সেটাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে মূলত ঐসব কিতাবের সত্যায়নকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
পয়েন্ট নং: ৩
পবিত্র কোরআন মাজীদে আরো বলা হয়েছে:

An-Nisa' 4:47
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ ءَامِنُوا۟ بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبْلِ أَن نَّطْمِسَ وُجُوهًا فَنَرُدَّهَا عَلَىٰٓ أَدْبَارِهَآ أَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّآ أَصْحَٰبَ ٱلسَّبْتِۚ وَكَانَ أَمْرُ ٱللَّهِ مَفْعُولًا
Bengali - Bayaan Foundation
হে কিতাবপ্রাপ্তগণ, তোমরা ঈমান আন, তার প্রতি যা আমি নাযিল করেছি তোমাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে। আমি চেহারাসমূহকে বিকৃত করে তা তাদের পিঠের দিকে ফিরিয়ে দেয়া অথবা তাদেরকে লা‘নত করার পূর্বে যেমনিভাবে লা‘নত করেছি আসহাবুস্ সাবতকে। আর আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়েই থাকে।

নোট: দাউদ (আঃ) এর উম্মতের উপর সাবত বা শনিবারে ইবাদত করা ফরয ছিল এবং পরীক্ষাস্বরূপ এ দিনে মাছ শিকার করা নিষিদ্ধ ছিল। এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকার করায় আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আযাবস্বরূপ বানরে পরিণত করেছিলেন।

▪︎ এই আয়াতে আহলে কিতাবীদেরকে পবিত্র কোরআন মাজীদের উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে; যা মূলত তাদের কাছে থাকা কিতাব তথা তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিলের-ই সত্যায়নকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কেননা আহলে কিতাবীগণ এসব কিতাবের উপর বিশ্বাসী ছিল। আর এসব কিতাবের মধ্যেও পবিত্র কোরআনের অনুরূপ কথাগুলো রয়েছে। কাজেই পবিত্র কোরআন যে সত্যায়নকারী গ্রন্থ এটা নিশ্চিত তারা জানে এবং বোঝে; আর পবিত্র কোরআন সত্যায়নকারী গ্রন্থ হিসেবে এসেছে বলে এর আরেক নাম আল ফুরকান তথা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী। এরপরও তারা তা অস্বীকার করলে অভিশপ্ত হিসেবে গণ্য হবে।
পয়েন্ট নং: ৪
এছাড়া তৎকালীন সময়ে অসংখ্য সাহাবী পূর্বে ইহুদি ছিলেন, যারা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাওরাতের মধ্যে নবী ﷺ এর গুণাবলি দেখে। আবার মহান আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া'তাআলা বলেছেন:

Al-A'raf 7:157
ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِىَّ ٱلْأُمِّىَّ ٱلَّذِى يَجِدُونَهُۥ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِى ٱلتَّوْرَىٰةِ وَٱلْإِنجِيلِ يَأْمُرُهُم بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَىٰهُمْ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ ٱلْخَبَٰٓئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَٱلْأَغْلَٰلَ ٱلَّتِى كَانَتْ عَلَيْهِمْۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِهِۦ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَٱتَّبَعُوا۟ ٱلنُّورَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ مَعَهُۥٓۙ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ

Bengali - Bayaan Foundation
যারা অনুসরণ করে রাসূলের, যে উম্মী নবী; যাঁর গুণাবলী তারা নিজদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর তাদের থেকে বোঝা ও শৃংখল- যা তাদের উপরে ছিল- অপসারণ করে। সুতরাং যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং তার সাথে যে নূর নাযিল করা হয়েছে তা অনুসরণ করে তারাই সফলকাম।"

▪︎ এইখানে মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ এর সম্পর্কে কথা বলেছেন যে, তাঁর গুণ-বৈশিষ্ট্যের সম্পর্কে পূর্ববর্তী কিতাব তথা তাওরাত-ইঞ্জিলের মধ্যে অগ্রিম জানিয়ে দিয়েছিলেন, যার জন্য আহলে কিতাবী পন্ডিতগণ তাঁর আবির্ভাবের পূর্ব থেকেই জানতে পেরেছিল; এবং কি তাঁর সম্পর্কে তাওরাত-ইঞ্জিলের মধ্যে যেসব গুণাবলীর কথা বলা হয়েছিল সেসবও প্রকাশ্যে তাঁর (নবী) দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে।

সহীহ হাদিসের মধ্যেও রয়েছে, কোন এক ইহুদি বালককে নবী ﷺ বললেনঃ হে ইয়াহুদী (পিতা), আমি তোমাকে কসম দিচ্ছি সে মহান সত্তার যিনি মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি তাওরাত নাযিল করেছেন, তুমি কি তাওরাতে আমার অবস্থা ও গুণ-বৈশিষ্ট্য এবং আবির্ভাব সম্পর্কে কোন বর্ণনা পেয়েছ? সে অস্বীকার করল। তখন তার ছেলে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি (পিতা) ভুল বলছেন। তাওরাতে আমরা আপনার আলোচনা এবং আপনার গুণবৈশিষ্ট্য দেখতে পাই।"
অন্যত্রে হাদিসের মধ্যে আরো এসেছে যে, আতা ইবনু ইয়াসার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ)-কে বললাম, আপনি আমাদের কাছে তাওরাতে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল ﷺ এর গুণাবলী বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা। আল্লাহর কসম! কুরআনে বর্ণিত তাঁর কিছু গুণাবলী তাওরাতেও উল্লেখ করা হয়েছেঃ ‘‘হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি’’ এবং উম্মীদের রক্ষক হিসাবেও। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহর উপর ভরসাকারী) রেখেছি। তিনি বাজারে কঠোর রূঢ় ও নির্দয় স্বভাবের ছিলেন না। তিনি মন্দর প্রতিশোধ মন্দ দ্বারা নিতেন না বরং মাফ করে দিতেন, ক্ষমা করে দিতেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ততক্ষণ মৃত্যু দিবেন না যতক্ষণ না তাঁর দ্বারা বিকৃত মিল্লাতকে ঠিক পথে আনেন অর্থাৎ যতক্ষণ না তারা (আরববাসীরা) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর ঘোষণা দিবে। আর এ কালিমার মাধ্যমে অন্ধ-চক্ষু, বধির-কর্ণ ও আচ্ছাদিত হৃদয় খুলে যাবে।
পয়েন্ট নং: ৫
মহান আল্লাহ্ মহানবী ﷺ এর সম্পর্কে ঈসা আঃ এর উক্তি তুলে ধরে সারা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিলেন যে:

As-Saf 61:6
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ يَٰبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِنِّى رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَىَّ مِنَ ٱلتَّوْرَىٰةِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُولٍ يَأْتِى مِنۢ بَعْدِى ٱسْمُهُۥٓ أَحْمَدُۖ فَلَمَّا جَآءَهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ قَالُوا۟ هَٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ

Bengali - Mujibur Rahman
স্মরণ কর, মারইয়াম তনয় ঈসা বললঃ হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল এবং আমার পূর্ব হতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রয়েছে আমি উহার সমর্থক এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন আমি তাঁর সুসংবাদদাতা। পরে সে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের নিকট এলো তখন তারা বলতে লাগলঃ এটাতো এক স্পষ্ট যাদু।

▪︎ এখানে ঈসা আঃ এর পরে যাঁর আগমন হবে তাঁর নাম স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে- আহমাদ। আর এটা হলো আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর আরেকটা নাম যেটা মূলত তাঁর মাতা রেখেছিলেন।
■● পুরো বিষয়টির মূল ব্যাখ্যা: এই নিরক্ষর নবীর উপর যারা ঈমান আনবে এবং যারা তাঁকে সাহায্য করবে তারাই কৃতকার্য হবে। পবিত্র আল কোরআন (৩:৮১-৮২) এর আয়াতে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ্ সকল নবী ও রাসূলদের কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার নেন যে, যখন "সেই নবী" আগমন করেন, তখন পূর্ববর্তী নবীরা তাঁর নবুয়তের প্রতি নিজে বিশ্বাস স্থাপন করবেন এবং অন্যকেও বিশ্বাস স্থাপন করার নির্দেশ দিয়ে যাবেন। সর্বশ্রেষ্ঠ ও চূড়ান্ত সত্য নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে এমন ধরণের অঙ্গীকার পূর্ববর্তী নবীগণের নিকট থেকে নিয়েছিলেন। আল্লামা সুরকী বলেন, এ আয়াতে "রাসূল" বলার মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ ﷺ কে নির্দেশ করা হয়েছে। আরেক ভাবেও বোঝা যায় পূর্ববর্তী সকল নবীগণের উপরে নাযিলকৃত কিতাবের সত্যায়ণকারী হলো পবিত্র আল কোরআন। আর এখানে "সত্যায়ণকারী" মানে হলো পূর্ববর্তী কিতাবে যেসব মূল বাণী ছিল অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা সহ যে সমস্ত মৌলিক বিষয়ক সম্পর্কে কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যা কিনা পূর্ববর্তী কিতাবেও ছিল। আর পূর্ববর্তী কিতাবের সেসব বিষয়ের সত্যায়ণকারী হলো পবিত্র কোরআন। আর এসব কারণেই কোরআনকে আবার "সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী অর্থাৎ আল-ফুরকান" বলা হয়েছে। যাই হোক, এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি, যাঁর থেকে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি। আর এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি, যিনি নিজের অনুসারীদেরকে মুহাম্মদ ﷺ এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে ও সাহায্য-সমর্থন করার নির্দেশ দেননি। সকল নবীগণ-ই মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছিলেন এবং তাঁদের অনুসারীদের নিকট তা বলে গেছেন।

আর খ্রিস্টানরা বাইবেলের পরিভাষা পরিবর্তন করে দাবি করে বলে যে, বাইবেল-ই কোরআনে বর্ণিত তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল অর্থাৎ কোরআন বাইবেলের সত্যায়ণকারী হিসেবে দাবি করে। এখন কথা হলো, কোরআনে মহান আল্লাহ্ বলেছেন, পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিলে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে সরাসরি লেখা রয়েছে অর্থাৎ সবাই নবী মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে বলে গেছেন। এখন আমাদের কথা হলো, আমরা মুসলিমরা আপনাদের বাইবেল মেনে নিতে পারি তবে কয়েকটা শর্তের মধ্যে একটা শর্ত তুলে ধরি। আর সেটা হচ্ছে, বাইবেল থেকেই এমন একটা অনুচ্ছেদ দেখান যেখানে সরাসরি নবী মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে বলা হয়েছে অর্থাৎ ভবিষ্যতে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ/আহমদ ﷺ, আল্লাহর নবী/ভাববাদী হয়ে আসবে, যাঁকে দেওয়া হবে সর্বশেষ আসমানী কিতাব অর্থাৎ পবিত্র আল-কোরআন। যদি এমন কোন কথা প্রমাণ দেখাতে না পারেন তাহলে আপনাদের দাবি মিথ্যা ছাড়া সত্য প্রমাণিত হবে না। আর প্রমাণ করতে না পারলে বোঝা যাবে যে, বাইবেল উক্ত কিতাবগুলোর বিকৃত রুপ। কেননা উক্ত কিতাবগুলোতে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর সম্পর্কে সরাসরি লেখা থাকলেও বাইবেলে সরাসরি লেখা নেই। (তারা অনুসরণ করে নিরক্ষর নবীর [ মুহাম্মদ ﷺ] ,যাঁর সম্পর্কে তাওরাত ইঞ্জিলে লেখা রয়েছে" কোরআন ৭:১৫৭)

তথ্যসূত্রঃ-
➤[০১] পবিত্র কোরআন ৪:১৩৬
➤[০২] পবিত্র কোরআনের এসব আয়াতগুলো পড়লেই বোঝা যায় যে পূর্ববর্তী কিতাব বিকৃত যার জন্য এসব আয়াত নাযিল হয়েছিল। ৩:৬৪, ৭০,৭১,৭৮,৮৪; ৫:১৩,১৪,১৫,১৭,১৮,৪২,৪৪,৭৩,৭৫,১১৬,১১৭; ৬:৯১ ।
আরো বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন: কোরআন কি বাইবেলের সত্যায়নকারী? নিচে ক্লিক করুন:
কোরআন-হাদিস কি বাইবেলকে অবিকৃত বলে অথবা বাইবেল অনুসরণ করতে বলে?

Share this:

More articles

অজ্ঞতা : ইসলামে তালাকের অধিকার শুধু পুরুষদের দেয়া হয়েছে। নারীকে তালাক দেয়ার অধিকার দেয়া হয়নি।নারীর ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য নাই এই ধর্মে। অজ্ঞতার জবাব: ইসলামে নারীরা ও তালাক দিতে পারে: তালাক শব্দের অর্থ হচ্ছে বিয়ে বিচ্ছেদ। আর ইসলামি শরিয়তে তালাক নিকৃষ্ট কাজ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাসূল সা: এক হাদিসে বলেন , “তালাক হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হালাল কাজ।” [১] ইসলামে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা শর্ত সাপেক্ষে নারী পুরুষ উভয়কে দেওয়া হয়েছে। তবে নারী ও পুরুষের তালাকের মধ্য কিছুটা পার্থক্য আছে । নারী পুরুষের তালাক দে....
5 Min read
Read more
মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা'আলা পবিত্র কোরআন মাজীদের ১৬ নং সূরা আন নাহলের ৪৪ নং আয়াতে এরশাদ করেছেন: بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَٱلزُّبُرِۗ وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلذِّكۡرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَঅর্থঃ তাদের প্রেরণ করেছিলাম স্পষ্ট নিদর্শন ও গ্রন্থসহ এবং তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তা ভাবনা করে।" [অনুবাদক: মুজিবুর রহমান][We sent them] with clear proofs and ....
7 Min read
Read more
    Fun – মাছ থেকে মানুষের বিবর্তন সকল বিষয়ে নোবেল-বিজয়ী’সহ গ্যালিলিও-নিউটন-আইনস্টাইনের মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের কেউই কোনো ধর্মবিদ্বেষী ছিলেন না, এখনো নেই। গ্যালিলিও ও নিউটন বরং আস্তিক ছিলেন। আর আইনস্টাইন অন্ততঃ স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন না। এদিকে তিনজন বিজ্ঞানী’সহ যে’কজন মুসলিম নামধারী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাঁদের সকলেই ইসলামে বিশ্বাসী।কারন ইসলামের সাথে বিজ্ঞানের কোন বিরোধ তারা পান নি, শুধু বিবর্তনবাদ ছাড়া। ভাবুন তো, বিজ্ঞানের সাথে কোন বিরোধ না থাকা সত্বেও বিবর্তনবাদ একা কেন ইসলামের সাথে শত্রুতা ....
2 Min read
Read more
◾মহানবী মুহাম্মদ সা: তার ৬৩ বছর ৪ দিনের জীবনে মোট ১১টি বিবাহ করেন। রাসূল (সা.) এর ১১ জন স্ত্রীদের মধ্যে দশ জনই ছিলেন হয় বিধবা না হয় তালাক প্রাপ্তা। যথাক্রমে, ◾খাদিজা (রা:)। ◾সওদা বিনতে জামআ (রা:)। ◾আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা:)। ◾হাফসা বিনতে ওমর (রা:)। ◾যয়নব বিনতে খোযায়মা (রা:)। ◾উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবু উমাইয়া (রা:)। ◾যয়নব বিনতে জাহাশ ইবনে রিয়াব (রা:)। ◾যুয়াইরিয়া বিনতে হারেস (রা:)। ◾উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা:)। ◾সাফিয়া বিনতে হুয়াই (রা:)। ◾মায়মুনা বিনতে হারেস (রা:)।  ◾খাদিজা (রা:) - মদি....
20 Min read
Read more
বর্তমান নাস্তিক- ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি প্রশ্ন যে, স্রষ্টা যদি থেকেই থাকেন তবে তিনি কেন মানুষকে এতো দুঃখ, কষ্ট ও বিপদ দেন? স্রষ্টা যদি থাকতেন তবে তার সৃষ্টিকে সাহায্য করতেন! এ ভাবে বিপদের মধ্যে তাকে রাখতেন না? জবাব :-  এই প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নিজেই কুরআনে দিয়েছেন।  وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ  এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-....
13 Min read
Read more
বর্তমান ইসলাম বিদ্বেষীদের একটা কমন অভিযোগ , হাদীসে আছে শীত ও গ্রীষ্মকাল জাহান্নাম নিঃশ্বাসের কারণে হয় এটা অবৈজ্ঞানিক ও হাস্যকর কথা । এর জবাবে আমাদের আজকের পোস্ট । প্রথমে মূল হাদিসটি‌ দেখি । وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ قَالَ....
10 Min read
Read more