কুরআন কি বিজ্ঞানসম্মত নাকি তারও ঊর্ধ্বে?

বর্তমান আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে এসে আমরা সবাই অত্যাধিক পরিমাণে বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল বলে সকল কিছুর প্রমাণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের যুক্তি-প্রমাণকে অগ্রাধিকার দেই সবার আগে। যদিও আমরা নিজেরাই বিজ্ঞানীদের মত অগাধ পরিমাণে কোন রিসার্চ ছাড়াই তাদের থেকে আসা যে কোন তথ্যকেই নির্ভেজাল তথ্য-প্রমাণ হিসেবে বিশ্বাস করে থাকি, কারণ এটা বিজ্ঞানের উপর আমাদের বিশ্বাস। কেননা এটা আমাদের মানব জাতির এক প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে এই যুগে এসে। এখন আমরা এমনই এক সময়ে বসবাস করছি যখন কিনা ধর্ম এবং বিজ্ঞান উভয়েই সমানতালে চলছে। তো ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের কিছু দ্বন্দ্ব রয়েছে আমাদের অনেকের মাঝে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। অনেকেই বলে থাকে ধর্ম এবং বিজ্ঞান উভয়েই একসাথে কখনোই মানা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে তারা বলে যে, ধর্ম এবং বিজ্ঞান নাকি সব কিছুতেই পরস্পর বিরোধী। আসলেই কি তাই? কি জন্য তারা এমনটা বলে থাকে? আসলে তারা ধর্মের সকল কিছুর সঙ্গে বস্তুবাদী বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রমাণ দেখতে চায়, যেটা সকল ক্ষেত্রে সম্ভব নয় কারণ ধর্মের অনেক কিছুই আধ্যাত্মিক। তো আমরাও বলি ধর্মের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রমাণ সকল কিছুতেই খাটে না। এটাকেও আমাদের নিরপেক্ষ জ্ঞান থেকে মেনে নিতে হবে। যেমনটা আমরা প্রকৃতির মাঝে অনেক আশ্চর্য জিনিস বা ঘটনাবলি ঘটতে দেখে থাকি যার অনেক কিছুর যুক্তি প্রমাণ বিজ্ঞান দিতে পারে না। এটা বিজ্ঞানের ব্যর্থতা নয় বরং এটাই বিজ্ঞানের আসল সৌন্দর্য। কারণ বিজ্ঞান কখনোই বলে না যে, তাকে সকল কিছুর যুক্তি প্রমাণ দিতে হবে। তো যাইহোক ধর্মের সকল কিছুই যে বিজ্ঞানের সাথে পরস্পর বিরোধী এটাও পরিপূর্ণ সত্য নয়। তবে হ্যাঁ অনেক কিছুই রয়েছে যার যুক্তি প্রমাণ বিজ্ঞানের ঊর্ধ্বে- যেটাকে আমরা মুসলিমরা বলে থাকি ঈমান। এটা কেবলমাত্রই বিশ্বাস। আর বিশ্বাস জিনিসটা বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রমাণ দিয়ে হয় না। তো আমরা ধর্ম এবং বিজ্ঞানের দুইটি জিনিস দেখতে পাই। যেমন:

  • ধর্মের কিছু অংশ বিজ্ঞানের সাথে মিলে;
  • ধর্মের কিছু অংশ বিজ্ঞানের সাথে মিলে না।

আর এ সকল ধর্মের মধ্যে ইসলাম হচ্ছে অন্যতম প্রধান একটি ধর্ম। আমাদের মুসলিমদের মধ্যেও এই প্রবণতা রয়েছে যে, ইসলামের সকল কিছুর সঙ্গে বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রমাণ থাকতে হবে। আর এরই আলোকে অনেকেই পবিত্র কুরআনের সকল কিছুকেই বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রমাণের আলোকে দেখতে চায় তারা। এটা দ্বারা তারা আসলে বোঝাতে চায় যে, কুরআন কতটাই অলৌকিকতা বহন করে। তো আমরা এখন জানব কোরআনের কথা নিয়ে। কুরআন কিভাবে কথা বলে? কুরআন মূলত কথা বলে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে। যেমন:

  • মানব দৃষ্টিকোণ এবং
  • আল্লাহর দৃষ্টিকোণ।

এই দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে আয়াতগুলো কথা বলে। কখনো কখনো আয়াতগুলো কথা বলে আপনার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী। আপনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, রাত্রি সূর্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অর্থাৎ রাত এসে দিনকে ঢেকে দেয়। আপনার দৃষ্টিকোণ থেকে এরকমই মনে হয় এবং এভাবেই কুরআন এটাকে বর্ণনা করেছে। কখনো আল্লাহ কথা বলেন তাঁর নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে। আর সেই দৃষ্টিকোণটি বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণেরও ঊর্ধ্বে। অন্য কেউ এই দৃষ্টিকোণের অধিকারী নয়। আর এরকম সাধারণত দেখা যায় যখন তিনি আধ্যাত্মিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন; এমন বাস্তবতা যা আমাদের দৃষ্টি-ক্ষমতার অনেক ঊর্ধ্বে। এভাবেই আল্লাহ তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে কথা বলেছেন। আর তিনি যখন তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে কথা বলেন, এর মাধ্যমে তিনি শুধু আমাদেরকে জানিয়ে দেন যে, এই বাস্তবতা তোমাদের অনুধাবন করা সম্ভব না, এটা সম্পর্কে তোমরা তেমন কিছুই জানো না। কাজেই তোমরা যারা মহান আল্লাহর উপর ঈমান এনেছ, তাঁরাই তাঁর এ সকল কিছুই বিনা দ্বিধায় মেনে নাও

একটি বিষয় হলো, স্বাভাবিক ভাষার ক্ষেত্রে, জনসাধারণে প্রচলিত ভাষার ক্ষেত্রে, আমরা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় কথা বলি না। এভাবে মানুষ ভাবের আদান-প্রদান করে থাকে না। এটা ঠিক যে আমরা বৈজ্ঞানিক যুগে বসবাস করছি। কিন্তু তার পরেও আমরা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় কথা বলি না। যদি কেউ অন্য কাউকে অপমান করে আর আপনি বলেন যে, “তাকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে”। বৈজ্ঞানিকভাবে এখানে কোনো পোড়া দাগ দেখা যাচ্ছে না। আপনাকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে না। কিন্তু তার পরও আপনি বলেন, "সে জ্বলে যাচ্ছে"। মানুষের ভাষা এরকমই। আমরা ব্যবহার করি উপমা, আমরা ব্যবহার করি উদাহরণ, আমরা ব্যবহার করি রূপক, আমরা এমন ক্রিয়াপদ ব্যবহার করি যা কখনো ভিন্ন জিনিসের ইঙ্গিত প্রদান করে; তাই না ? যেমন, “বাস্কেটবল খেলায় সে আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে”, “দৃশ্যটা যখন দেখলাম, আমি মারা গেলাম”, ইত্যাদি। আপনি মারা যাননি, স্পষ্টভাবেই আপনি এখনো জীবিত আছেন। আমরা এই ধরণের কথা বলে থাকি। এই বিষয়ে আমার প্রিয় উদাহরণটি হলো, যখন দাদা-দাদীরা বলেন, “নাতি-নাতনীরা আমার হৃদয় চুরি করেছে”। হৃদয়টি কিন্তু এখনো এখানেই রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

তো এখানে মূল বিষয় হলো, আমাদেরকে এত বেশি আচ্ছন্ন হয়ে গিয়ে কুরআনে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব খুঁজতে যাওয়া উচিৎ না। হ্যাঁ, হয়তো এটাতে বহু বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব রয়েছে। কিন্তু এরকম করাটা অতি-আচ্ছন্নতা; কারণ সাধারণত আমরা মনে করে থাকি যে এই যুগে জীবন সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিই হলো উৎকৃষ্টতম পন্থা। তাই কুরআন যুক্তিসম্মত হবে যদি আমরা বেশি থেকে বেশি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কুরআনে খুঁজে পাই - এটা দুর্বল চিন্তাপদ্ধতি, অবশ্যই দুর্বল ধরণের চিন্তা। এর ফলে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়ে যায় যে, যে কোনো ভাবে, আল্লাহর বাণীকে আধুনিক বিজ্ঞানের মান অনুযায়ী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত এটা তা না করে, এটা আসলে ততটা শক্তিশালী বিবেচিত হবে না, অথবা এটা খুব একটা সন্তোষজনক হবে না। এটা একটা সমস্যাজনক চিন্তাপদ্ধতি; বেশ কয়েকটি কারণে। কারণ, বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। বিজ্ঞান পরিবর্তিত হচ্ছে এক শতাব্দী থেকে পরের শতাব্দীতে, এরপর পরের শতাব্দীতে। বল এবং গতি নিয়ে এখনকার সুপ্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব, অথবা, পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্বগুলোই হয়তো একশ বছর পরে পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে; আমরা জানি না। কারণ একশ বছর আগেরগুলোও সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। আর সেই সময়, পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞানীগণ সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত ছিলেন যে, এটাই হলো সত্য। তখন কেউ তাদের সাথে দ্বিমত করলে এর জন্য সে নির্বোধ সাবস্ত্য হত। আর সেই একই তত্ত্বগুলো এই যুগে রূপকথা হিসেবে বিবেচিত। তো আমরা যদি কুরআনকে বিজ্ঞানের সাথে গেঁথে ফেলি কুরআনের অলৌকিকতা প্রদর্শণ করার জন্য, আর তারপর যদি বিজ্ঞান স্থান পরিবর্তন করে সামনে যায়, তখন আমরা কুরআনকেও পেছনে ফেলে যাচ্ছি। কারণ এর ফলে আপনি কুরআনকে এমন তত্ত্বের সাথে বেঁধে রাখছেন যা আর বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য নয়। হ্যাঁ, হয়তো প্রকৃতি এবং বিজ্ঞান নিয়ে খুবই সুস্পষ্ট কিছু বিষয় রয়েছে যা থেকে আমরা হয়তো বলতে পারি যে, এখানে কিছুটা যোগসূত্র রয়েছে। যেমন উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ বলেছেন, চাঁদ হল সূর্যের অনুগত। যা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মোটামুটি সত্য। চাঁদের আলো সূর্যের আলোর উপর নির্ভরশীল, এটা সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে। আর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিবেচনায়, সূর্য হলো সৌরজগতে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী সত্ত্বা, আর অন্য সবকিছু তার অধীনস্ত, সেগুলো এটার অনুসরণ করছে। তো এই বিবেচনায় এটা সত্য। কিন্তু এটাকে এর থেকে আরো দূরে নিয়ে যাওয়া হল সমস্যাজনক। অথবা এটা ব্যবহার করে এরকম বলা যে, এর দ্বারা কুরআন এমন সত্য প্রকাশ করছে যা এর আগে অন্য কেউ আবিষ্কার করেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, এই পথে অগ্রসর হওয়াটা বিপজ্জনক। আসলেই বিপজ্জনক।

তাহলে কুরআনের মুযিজার আসলে কোথায়? কুরআনের মুযিজার বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, এটা সময়ের ঊর্ধ্বে। মুজিযার জন্য এটাকে কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল অথবা সম্পর্কিত করা উচিৎ নয়। আপনি কুরআনকে সত্যায়িত করতে পারেন এর নিজের মধ্য থেকে, আর তারপর আপনি কুরআনকে সত্যায়িত করতে পারেন বাইরের কিছু জিনিস দ্বারা। বিজ্ঞান হল বাইরের জিনিস। কুরআনের প্রথম সত্যায়ন হল এর নিজের মধ্য থেকে, এর নিজের বক্তব্যের মধ্যে, এর নিজের শক্তিশালী বাণীতে, এর নিজের ভাষাগত মাধুর্য্যে - এমন কিছু এতে রয়েছে যা সময়ের ঊর্ধ্বে; কেউ যদি তা নিয়ে গভীর চিন্তা করে, সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হবে যে যেভাবে মহান আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা আলা

An-Nisa 4:82
وَ لَوۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ غَیۡرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوۡا فِیۡهِ اخۡتِلَافًا کَثِیۡرًا

আর যদি তা (কোরআন) আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক অমিল খুঁজে পেত।

▪︎ অর্থাৎ তার মধ্য এই প্রত্যয় জন্মাবে যে এটা শুধুই সৃষ্টিকর্তার বাণী। অর্থাৎ এর অন্তর্নিহিত যুক্তিগুললোই হল এর মৌলিক যুক্তি। তারপর আসছে দ্বিতীয় স্তর। দ্বিতীয় স্তরটি হল যেখানে মহান আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন:

Fussilat 41:53
سَنُرِيهِمْ ءَايَٰتِنَا فِى ٱلْءَافَاقِ وَفِىٓ أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ ٱلْحَقُّۗ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدٌ

Bengali - Mujibur Rahman
আমি শীঘ্র তাদের জন্য আমার নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করব বিশ্বজগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে। ফলে তাদের নিকট সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে ওটাই সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার রব্ব সর্ব বিষয়ে অবহিত?

▪︎ অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ তাদেরকে প্রত্যক্ষ করাবেন দিগন্তজুড়ে, এবং তাদের হৃদয়ের গহীনেও, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এটাই প্রকৃত সত্য। অন্য কথায়, কিছু জিনিস আল্লাহ আমাদের নিজেদের সম্পর্কে বলছেন। কিছু জিনিস আল্লাহ বলছেন আমাদের চারপাশের জগতের প্রকৃতি এবং ইতিহাস নিয়ে, যা নিজে থেকে প্রকাশিত হবে, যা সত্যে পরিণত হবে। আর যখন এগুলো সত্যে পরিণত হবে, মানুষ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যয়দীপ্ত হয়ে উঠবে যে, এটাই আসলে সত্য। কিন্তু আমি যদি এগুলোকে সাজাই, তহলে কুরআনের প্রথম মহা-যুক্তি হল এটি নিজে। কুরআনের দ্বিতীয় মহা-যুক্তি হল যেভাবে এটা আমাদের মানব-প্রকৃতিতে অনুরণিত হয়। মানব যুক্তি নয়, বরং মানব-প্রকৃতি। এটা আপনার সাথে এমনভাবে কথা বলে যে, আপনার ভেতর থেকে কিছু একটা বলে ওঠে - এটাই সত্য। এটাই আমি সবসময় অনুভব করে এসেছি। এটার প্রতিই আমি সবসময় অনুরক্ত হয়েছি। এটাকে বলা যায় আধ্যাত্মিক যুক্তি; এটা গাণিতিক যুক্তি নয়। এটা এমন কিছু যা আল্লাহ আমাদের ভিতরে দিয়ে দিয়েছেন। সুবহান আল্লাহ্।

কৃতজ্ঞতায়: উস্তাদ নোমান আলী খান
- বায়্যিনাহ টিভি 

Share this:

More articles

আস্তিকদের সাথে যুক্তি-তর্ক করে তেমন একটা মজা পাওয়া যায় না। তাদের নাকি শেষ একটা ‘অস্ত্র’ আছে, আর সেটি হচ্ছে ‘বিশ্বাস।’ কতই না সুবিধা, তাই না! যখনই কেউ যুক্তি-তর্কের এক পর্যায়ে ‘বিশ্বাস’ নামক অস্ত্রের আশ্রয় নেয় তখন আর এগোনো সম্ভব হয় না। নাস্তিকদেরও সে'রকম কোন ‘অস্ত্র’ আছে কি-না, কে জানে! দেখা যাক দেখি…  এই মহাবিশ্বের স্রষ্টায় বিশ্বাস একটি 'অন্ধ বিশ্বাস' কি-না – একজন সংশয়বাদী ও সত্য সন্ধানী হিসেবে বিষয়টা নিয়ে এক বন্ধুর সরণাপন্ন হয়েছিলাম। বন্ধুটি যা বলেছে তার সারমর্ম প্রথমে পাঁচ তারার মধ্যে তুলে ধর....
40 Min read
Read more
॥ ১॥ আল কুরআন নাজীলের সূচনা ৬১০ খৃষ্টাব্দে । আল কুরআন রাসুলুল্লাহর  (ﷺ) জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়বস্তু নিয়ে নাজীল হয়েছে খণ্ডে খণ্ডে, দীর্ঘ ২৩ বছরে। কুরআন পরিপূর্ণ রূপ পায় ৬৩২ ঈসায়ী সালে। কুরআনের প্রথম আয়াত সমুহ বদলে দেয় নবীজীর (ﷺ) জীবন। এরপর নবীজী (ﷺ) ও সাহাবীদের (رضي الله عنه) জীবন আবর্তিত হয় আল্লাহর কালাম তথা  কুরআনকে ঘিরেই । তাই সে সময় থেকেই কুরআনের প্রতিটি আয়াত বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণে প্রচেষ্টার কোনো কমতি ছিল না।  কুরআনের আয়াতাংশ, আয়াত, সূরা—যখনই যা নাজিল হতো, তখনই নবীজী (ﷺ) তা নিজে বার বার তেলাওয়াত ....
15 Min read
Read more
 ১] পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে...! অনেকেই জিজ্ঞেস করে পবিত্র কোরআন মাজীদে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? এটা সমতল নাকি গোলাকারের ন্যায় বস্তু? তো তাদের উদ্দেশ্যে বলি, সর্বোত্তম রব মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়াতা’আলা সরাসরি পবিত্র কোরআন মাজীদে পৃথিবীকে গোলাকার বলেননি। হতে পারে আমাদের পিতৃপুরুষদের বিশ্বাস তারা পৃথিবীকে সমতল ভাবত সেহেতু হঠাৎ করেই পৃথিবীকে গোলক বলে দিলে তারা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ইসলাম ত্যাগ করত। ফলে আমরাও এই সত্য ও শাশ্বত শান্তির ধর্মে জন্ম নেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারতাম না....
23 Min read
Read more
 এক. মুসলিম মাত্রই বিশ্বাস করেন যে কুরআন আল্লাহ প্রেরিত গ্রন্থ। তারা এও বিশ্বাস করেন, কুরআনে যেহেতু আল্লাহপাক বলেছেন তিনি কুরআনকে সংরক্ষণ করবেন, কাজেই কুরআন অবশ্যই অবিকৃত ও অপরিবর্তিত আছে  এবং থাকবে।  কিন্তু কথা হলো,  এই যে কুরআনে বলা আছে যে, কুরআন আল্লাহপাক সংরক্ষণ করবেন, এই কথাটিই যে অবিকৃত ও অপরিবর্তিত আছে, তার প্রমাণ কী? পূর্ববর্তী কোন আসমানী কিতাবই তো অবিকৃত ও অপরিবর্তিত নেই।  বলা হতে পারে,  উসমান(রা.) যে কুরআনের কপি তৈরি করেছিলেন, সেটা তো অদ্যাবধি সংরক্ষিত আছে।  সেই কপির সাথে বর্তমানে আমা....
9 Min read
Read more
পবিত্র কোরআনে চাঁদের আলো সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? এটার কী নিজস্ব আলো আছে নাকি নেই? আসুন এ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যাক: প্রাচীন সভ্যতাগুলো বিশ্বাস করত যে, চাঁদ নিজেই নিজের আলো ছড়ায় কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আজ আমাদের বলে যে, চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই বরং চাঁদের যে আলো তা হলো প্রতিফলিত আলো অর্থাৎ (Reflection Light)। আর মহিমান্বিত ঐশীগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন ১৪০০+ বছর আগে থেকেই এই ধ্রুবক সত্য বৈজ্ঞানিক তথ্যটি আমাদের কে জানিয়ে দিয়েছে ২৫ নং সূরা আল ফুরকান (الفرقان), আয়াত: ৬১-তে মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন:- ت....
7 Min read
Read more
◾মহানবী মুহাম্মদ সা: তার ৬৩ বছর ৪ দিনের জীবনে মোট ১১টি বিবাহ করেন। রাসূল (সা.) এর ১১ জন স্ত্রীদের মধ্যে দশ জনই ছিলেন হয় বিধবা না হয় তালাক প্রাপ্তা। যথাক্রমে, ◾খাদিজা (রা:)। ◾সওদা বিনতে জামআ (রা:)। ◾আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা:)। ◾হাফসা বিনতে ওমর (রা:)। ◾যয়নব বিনতে খোযায়মা (রা:)। ◾উম্মে সালমা হিন্দ বিনতে আবু উমাইয়া (রা:)। ◾যয়নব বিনতে জাহাশ ইবনে রিয়াব (রা:)। ◾যুয়াইরিয়া বিনতে হারেস (রা:)। ◾উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা:)। ◾সাফিয়া বিনতে হুয়াই (রা:)। ◾মায়মুনা বিনতে হারেস (রা:)।  ◾খাদিজা (রা:) - মদি....
20 Min read
Read more