বিজ্ঞান ইসলাম ও বিজ্ঞান

আকাশ এবং পৃথিবীর মধ্যে কোনটা আগে সৃষ্টি হয়েছে? এ প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটিকে ব্যাখ্যাকরণ।  

বিষয় : আকাশ এবং পৃথিবীর মধ্যে কোনটা আগে সৃষ্টি হয়েছে? এ প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটিকে ব্যাখ্যাকরণ।  

লেখক : সামিউল হাসান তবিব আল-ইনফিরাদী  

0. সূচিপত্র :-  

1. ভূমিকা।
2. ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটিকে উল্লেখকরণ। 
3. উক্ত ব্যাখ্যাটির সহিত ইবনু আব্বাস (রা) এর সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠিতকরণ। 
4. ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যাটিকে ব্যাখ্যাকরণ। 
5. পরিশিষ্ট। 
6. টীকাসমূহ। 


1. ভূমিকা :-  

আকাশ ও পৃথিবী এর মধ্য থেকে কোনটাকে আগে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ সাহাবি মুফাসসির আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) একটি ইজতিহাদভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এই লেখাটিতে, ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত সেই ব্যাখ্যাটিকেই উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হবে।  

2. ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটিকে উল্লেখকরণ :-  

ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটি নিম্নরূপ, _[1][2][3]  

عن ابن عباس رضي الله عنه قال : خلق الأرض في يومين، ثمّ خلق السماء، ثمّ استوى إلى السماء، فسواهن في يومين آخرين، ثمّ دحا الأرض، ودحوها أن أخرج منها الماء والمرعى، وخلق الجبال والجمال والآكام وما بينهما في يومين آخرين، فجُعلت الأرض وما فيها من شيء في أربعة أيام، وخُلقت السموات في يومين. 

অর্থ : ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে : তিনি (আল্লাহ) পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই ইয়াওমে, তারপর আকাশ সৃষ্টি করেছেন, তারপর আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছেন এবং সেটাকে (সাত আকাশে) বিন্যাস্ত করেছেন অপর দুই ইয়াওমে, অতঃপর পৃথিবীকে দাহউন করেছেন, এবং পৃথিবীকে দাহউন করার করার অর্থ হলো তা হতে গাছপালা ও পানি উৎপন্ন করা।এবং তিনি পাহাড়-পর্বত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উঁচু উঁচু স্থান ও তাদের (আকাশ ও ভুপৃষ্ঠের) মাঝে যা আছে সৃষ্টি করেছেন অপর দুই ইয়াওমে। অর্থাৎ পৃথিবী এবং পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি হয়েছে চার ইয়াওমে, এবং আকাশ সৃষ্টি হয়েছে দুই ইয়াওমে। 

3. উক্ত ব্যাখ্যাটির সহিত ইবনু আব্বাস (রা) এর সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠিতকরণ :-  

উপর্যুক্ত ব্যাখ্যাটিকে আল-বুখারী তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে ইবনু আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেছেন। সহিহুল-বুখারী এর কিছু নুসখাহতে ব্যাখ্যাটি ইবনু আব্বাস (রা) হতে সনদহীন মুয়াল্লাক্বরূপে বর্ণিত হয়েছে এবং সহিহুল-বুখারী এর কিছু নুসখাহতে ব্যাখ্যাটি ইবনু আব্বাস (রা) হতে নিম্নোক্ত এই সনদে বর্ণিত হয়েছে, _[4][5]  

يوسف بن عدي عن عبيد الله بن عمرو عن زيد بن أبي أنيسة عن المنهال عن سعيد بن جبير عن ابن عباس  

অর্থ : ইউসুফ বিন আদীই বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন উমার হতে, তিনি যাইদ বিন আবি-আনিসাহ হতে, তিনি আল-মিনহাল হতে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রা) হতে।  

আল-বুখারীর পাশাপাশি অন্যান্য মুহাদ্দিসরাও উপর্যুক্ত এই সনদটির দ্বারা ইবনু আব্বাস (রা) হতে ব্যাখ্যাটি বর্ণনা করেছেন। 

ইউসুফ বিন আদীই ছিক্বাহ। _[6]  

উবাইদুল্লাহ বিন উমার ছিক্বাহ। _[7]  

যাইদ বিন আবি-আনিসাহ ছিক্বাহ। _[8]  

সাঈদ বিন জুবাইর ছিক্বাহ। _[9]  

আল-মিনহাল বিন উমার আল-আসাদী এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মাঝে মতভেদ বিদ্যমান। অনেক মুহাদ্দিসরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন, পক্ষান্তরে কিছু মুহাদ্দিসরা তাঁর উপর জারাহ (সমালোচনা) করেছেন। 

আল-মিনহাল এর ব্যাপারে বর্ণিত হওয়া জারাহগুলো অত্যন্ত দূর্বল, অগ্রহণযোগ্য এবং তাঁর নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য অযথেষ্ট।  

সুতরাং, আল-মিনহাল এর ব্যাপারে বর্ণিত হওয়া জারাহগুলো এক্ষেত্রে অবিবেচ্য ও অধর্তব্য। 

অর্থাৎ, আল-মিনহাল এর ক্ষেত্রে সঠিক মত হচ্ছে এই যে, তিনি ছিক্বাহ। 

ইবনু হাজার আল-আসক্বালানী বলেছেন যে,_[10]  

المنهال بن عمرو، تكلم فيه بلا حجة 

অর্থ : আল-মিনহাল বিন উমার এর উপর হুজ্জত (প্রমাণ) ছাড়া সমালোচনা করা হয়েছে। 

শামসুদ্দিন আয-যাহাবী, আল-মিনহালকে তাঁর ذكر أسماء من تكلم فيه وهو موثق (তাঁদের নাম উল্লেখকরণ যারা নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সমালোচিত) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। _[11]  

নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী বলেছেন যে,_[12]  

المنهال بن عمرو ثقة من رجال البخاري، وفيه كلام لا يضر 

অর্থ : আল-মিনহাল বিন উমার ছিক্বাহ, আল-বুখারীর রিজালদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা আছে তবে তা সমস্যা না। 

বাশশার আওয়াদ মারুফ এবং শুয়াঈব আল-আরনাউত বলেছেন যে,_[13]  

ثقة، فقد وثقه الأئمة: ابن معين، والنسائي، والعجلي، وذكره ابن حبان في الثقات، ولم يجرح بجرح حقيقي 

অর্থ : (আল-মিনহাল) ছিক্বাহ, তাকে ইমামরা ছিক্বাহ সাব্যস্ত করেছেন, যেমন : ইবনু মুয়াঈন, আন-নাসাঈ, আল-ইজলী, এবং ইবনু হিব্বান তাঁকে আছ-ছিক্বাত এ উল্লেখ করেছেন, এবং তিনি কোনো প্রকৃত জারাহ দ্বারা জারাহকৃত হন নি।  

ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুদাইহাশ বলেছেন যে, _[14]  

والراجح: أنه ثقة؛ لتوثيق من ذكر، ولم يذكر بجرح قادح …ومما يؤيد توثيقه احتجاج البخاري به في «صحيحه». 

অর্থ : এবং রাজিহ (অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত) হচ্ছে এই যে, তিনি (আল-মিনহাল) ছিক্বাহ, যাদের থেকে তাওছিক্ব (ছিক্বাহ সাব্যস্তকরণ) উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের তাওছিক্ব এর কারণে, এবং তাঁর ব্যাপারে কোনো সমস্যা সাব্যস্তকারী জারাহ উল্লেখ করা হয়নি … যেসব বিষয় তাঁর তাওছিক্ব কে সমর্থন করে সেসব বিষয়ের একটা হচ্ছে আল-বুখারী কর্তৃক তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে তাঁর (আল-মিনহালের) দ্বারা ইহতিজাজকরণ।  

সুতরাং,উপর্যুক্ত সনদটি "সহিহ" অথবা "হাসান"। 

সুতরাং, উক্ত ব্যাখ্যাটির সহিত ইবনু আব্বাস (রা) এর সম্পৃক্ততা সহিহ অথবা হাসান সনদ দ্বারা প্রমাণিত এবং প্রতিষ্ঠিত। 

4. ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যাটিকে ব্যাখ্যাকরণ :-  

এক. 

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "তিনি (আল্লাহ) পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন দুই ইয়াওমে।"  

অর্থাৎ, আকাশ সৃষ্টির পূর্বে, পৃথিবীকে দাহউন (دحو) না করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। 

দাহউনপরবর্তী পৃথিবীর তুলনায় দাহউনপূর্ব পৃথিবী ছিল অতিভিন্ন। দাহউনকৃত পৃথিবীতে বিদ্যমান বহুকিছুই অদাহউনকৃত পৃথিবীতে অনুপস্থিত ছিল।  

দুই. 

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "তারপর তিনি (আল্লাহ) আকাশ সৃষ্টি করেছেন।"  

অর্থাৎ, পৃথিবীর দাহউনপূর্ব আদিরূপকে সৃষ্টি করার পর আকাশকে সৃষ্টি করা হয়েছিল।  

ভূপৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে বিদ্যমান যেকোনোকিছুই বা সকলকিছুই হলো আকাশ [15]। এবং ইবনু আব্বাস (রা) এক্ষেত্রে আকাশ বলতে সমগ্র মহাবিশ্বের পরিবেষ্টক-সীমানারূপে কার্যরত সপ্তম আকাশস্তরকে নির্দেশ করেছেন [16]।  

তিন. 

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "তারপর আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছেন এবং সেটাকে (সাত আকাশে) বিন্যাস্ত করেছেন অপর দুই ইয়াওমে।" 

অর্থাৎ, সপ্তম আকাশস্তর থেকে অপর ছয় আকাশের প্রতিটির জন্য একটি করে মোট ছয়টি আকাশস্তর নির্গত হওয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে ষষ্ঠ, পঞ্চম, চতুর্থ, তৃতীয়, দ্বিতীয়, এবং প্রথম আকাশমণ্ডলীর উৎপত্তি ঘটে।  

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, ইবনু আব্বাস (রা) এর প্রত্যক্ষ শিষ্য তাবেঈ মুফাসসির মুজাহিদ বিন জাবার এবং ধ্রুপদী ধারার ঐতিহ্যিক মুফাসসিরদের একটি দল সুরাতুল-আম্বিয়া এর ত্রিশ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে সাত আকাশকে তৈরি করা হয়েছে একটি মৌলিক আকাশস্তর কে সাতটি পৃথক আকাশস্তরে বিভক্তকরণের মাধ্যমে।_[17][18]  

চার. 

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "অতঃপর পৃথিবীকে দাহউন করেছেন, এবং পৃথিবীকে দাহউন করার করার অর্থ হলো তা হতে গাছপালা ও পানি উৎপন্ন করা।"  

অর্থাৎ, আকাশকে (সাত আকাশে) বিন্যাস্তকরণের পর পৃথিবীকে দাহউন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দাহউন করার অর্থ হলো পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশকে গাছাপালা, পানি, খাদ্য, এবং এজাতীয় অন্যান্য জিনিস ধারণের যোগ্যতা প্রদান করা। 

পাঁচ.  

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "এবং তিনি পাহাড়-পর্বত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উঁচু উঁচু স্থান ও তাদের (আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের) মাঝে যা আছে সৃষ্টি করেছেন অপর দুই ইয়াওমে।"  

ইবনু আব্বাস (রা) এর উক্ত বক্তব্যটি অনুযায়ী, মহাবিশ্বের পরিবেষ্টক-সীমানা সপ্তম আকাশস্তর এবং ভূপৃষ্ঠ এর মাঝে যা আছে তা তথা সকল মহাজাগতিক জিনিস সৃষ্ট হয়েছে সৃষ্টিকার্যের মোট ছয় ইয়াওমের সর্বশেষ দুই ইয়াওমে অর্থাৎ পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পরে, যা কিনা আধুনিক বিজ্ঞান এর সহিত সরাসরিভাবে সাংঘর্ষিক। উক্ত সাংঘর্ষিকতার একটি সম্ভাব্য সমাধান একটু পরেই দেওয়া হবে। 

ছয়. 

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "অর্থাৎ পৃথিবী এবং পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি হয়েছে চার ইয়াওমে, এবং আকাশ সৃষ্টি হয়েছে দুই ইয়াওমে।" 

সৃষ্টিকার্যের ছয় ইয়াওমের স্বরূপ প্রসঙ্গে আমার একটি পৃথক লেখা আছে [19]। 19 নং পদটীকা হতে সেটি একটু দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইল। 

সৃষ্টিকার্যের ছয় ইয়াওমের ক্ষেত্রে একটি বৈধ সম্ভাবনা এই যে, উক্ত ইয়াওমগুলি অন্ততপক্ষে আংশিকভাবে হলেও সমান্তরাল তথা অধারাবাহিক। উক্ত সম্ভাবনাটিকে আপাতদৃষ্টিতে খুবই অবান্তর বলে মনে হতে পারে। তবে সময়ের বৈজ্ঞানিক আপেক্ষিকতাকে এবং একইসাথে আল্লাহর সক্ষমতার অলৌকিকত্বকে বিবেচনায় নিয়ে বিচার করলে উক্ত সম্ভাবনাটিকে তেমন অগ্রহণযোগ্য মনে হওয়ার কথা না।  

যদি সৃষ্টিকার্যের ছয় ইয়াওম এর প্রেক্ষিতে উক্ত বৈধ সম্ভাবনাটিকে গ্রহণ করে নেওয়া হয় তাহলে ইবনু আব্বাস (রা) এর আলোচনাধীন ব্যাখ্যাটি এবং আধুনিক বিজ্ঞান এর মাঝে বিদ্যমান উক্ত সাংঘর্ষিকতাটি অনাবশ্যক হয়ে উঠবে। 

সাত. 

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, আরবি ثُمّ শব্দটি সময়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশ না করেও ব্যবহৃত হতে পারে ও হয়ে থাকে।_[20]  

5. পরিশিষ্ট :-  

ইবনু আব্বাস (রা) এর নানাভাবে অনুধাবনযোগ্য উক্ত ব্যাখ্যাটির সম্ভাব্য বহু ব্যাখ্যার মধ্য থেকে একটি হলো আমার এই আলোচনাটি। আমি এটা দাবি করি না যে আমার এই আলোচনাটিই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত ধ্রুবসত্য। বরং আমি কেবল এতটুকু দাবি করি যে আমার এই ব্যাখ্যাটি একটি বৈধ সম্ভাবনা যেটাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়াটা হবে অসঠিক ও অনুচিত।

 

6. টীকাসমূহ :-  

[1] 
سلسلة الأثار الصحيحة أو الصحيح المسند من أقوال الصحابة والتابعين  لأبي عبد الله الداني (دار الفاروق ، الجزء الثاني ،صفحة 192 و 193) 

[2] 
المعرفة و التاريخ ليعقوب بن سفيان الفسوي (مطبعة الإرشاد ،الجزء الأول ، صفحة 527-529) 

[3] 
التسعينية لابن تيمية (مكتبة المعارف ، الجزء الأول ، صفحة 324-328) 

[4] 
قال محمد ضياء الرحمن الأعظمي في الجامع الكامل (دار السلام ،11/62) : هكذا ذكره الإمام البخاري معلقا في كتاب التفسير. وجاء في بعض نسخ البخاري: "قال أبو عبد الله: حدثنيه يوسف بن عدي، حدثنا عبيد الله بن عمرو، عن زيد بن أبي أنيسة، عن المنهال، بهذا". هكذا جاء أيضا في فتح الباري 

[5] 
انظر : صحيح البخاري (دار ابن كثير ، صفحة 1213) وصحيح البخاري (بتحقيق البغا ، 4/1815) و صحيح البخاري بحاشية السهارنفوري (بتحقيق تقي الدين الندوي ،9/692) و المختصر النصيح لابن أبي صفرة (بتحقيق أحمد السلوم ،4/313) و عمدة القاري لبدر الدين العيني (19/151) و الكواكب الدراري لشمس الدين الكرماني (دار إحياء التراث العربي ،18/76) و التوضيح لشرح الجامع الصحيح لابن الملقن (دار النوادر ،23/194) و منحة الباري لزكريا الأنصاري (مكتبة الرشد ،8/123) و التوشيح شرح الجامع الصحيح للسيوطي (مكتبة الرشد ،7/3015) و إرشاد الساري للقسطلاني (المطبعة الكبری الأميرية ،7/327) و فتح الباري لابن حجر (المكتبة السلفية ،8/556) و الكوثر الجاري لأحمد الكوراني (دار الإحياء التراث العربي ،8/256) و فيض الباري للكشميري (دار الكتب العلمية ،5/379) و تحفة الأشراف للمزي (بتحقيق عبد الصمد، 4/452) و غيرهم  

[6] 
تقريب التهذيب لابن حجر (دار الرشيد ، صفحة 611) 

[7] 
تقريب التهذيب لابن حجر (دار الرشيد ، صفحة 373) 

[8] 
تقريب التهذيب لابن حجر (دار الرشيد ، صفحة 222) 

[9] 
تقريب التهذيب لابن حجر (دار الرشيد ، صفحة 234) 

[10] 
هدي الساري مقدمة فتح الباري لابن حجر (المكتبة السلفية ،صفحة 464)  

[11]
ذكر أسماء من تكلم فيه وهو موثق للذهبي (مكتبة المنار ، صفحة 182) 

[12] 
سلسلة الأحاديث الصحيحة لناصر الدين الألباني (مكتبة المعارف ،6/961) 

[13] 
تحرير تقريب التهذيب لابن حجر (المحرران : بشار و الأرناؤوط ، مؤسسة الرسالة ، 3/421) 

[14] 
الأحاديث المرفوعة والموقوفة في كتاب حياة الحيوان الكبرى للدَّمِيري من بداية حرف التاء إلى نهاية حرف الجيم تخريجاً ودراسة لإبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش (صفحة 1207) 

[15]
https://islamicauthors.com/article/308 

[16] 
كلمة "بينهما" من قوله التالي "....وما بينهما في يومين آخرين..." تشير بقوة إلى ما ادعيته 

[17] 
انظر : تفسير الطبري (دار هجر 16/256) وتفسير الماوردي (دار الكتب العلمية 3/444) وتفسير القرطبي (دار الكتب المصرية 11/283) وتفسير الواحدي (عمادة البحث العلمي 15/59) والتيسير لأبي حفص النسفي (دار اللباب 10/387) ومعاني القران للزجاج (عالم الكتب 3/390) وغيرهم إلخ.. 

[18]  

قال أبو جعفر محمد بن جرير الطبري في تفسيره (دار هجر 16/256) : "حدَّثني محمدُ بنُ عمرٍو، قال: ثنا أبو عاصمٍ، قال: ثنا عيسى، وحدَّثنى الحارثُ، قال: ثنا الحسنُ، قال: ثنا ورقاءُ، جميعًا عن ابن أبي نجيحٍ، عن مجاهدٍ في قول الله ﵎: ﴿رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا﴾: مِن الأرضِ ستَّ أَرَضِين معها، فتلك سبعُ أرَضِين معها، ومن السماءِ سِتَّ سماواتٍ معها، فتلك سبعُ سماواتٍ معها. قال: ولم تكنِ الأرضُ والسماءُ مُتماسَّتَين .حدَّثنا ابن عبدِ الأعلى، قال: ثنا محمدُ بنُ ثورٍ، عن معمرٍ، عن ابن أبي نجيحٍ، عن مجاهدٍ: ﴿رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا﴾. قال: فتَقَهُنَّ سبعَ سماواتٍ، بعضُهنَّ فوقَ بعضٍ، وسبعَ أَرَضِين، بعضُهنَّ تحتَ بعضٍ . حدَّثنا القاسمُ، قال: ثنا الحسينُ، قال: ثني حجاجٌ، عن ابن جريجٍ، عن مجاهدٍ نحوَ حديثِ محمدُ بنُ عمرٍو، عن أبي عاصمٍ." 

وقال أبو الشيخ الأصبهاني في كتابه العظمة (دار العاصمة 3/1026) : "حدثنا إبراهيم بن محمد بن الحسن، حدثنا سعيد بن أبي زيدون، حدثنا الفريابي، عن ورقاء، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد رحمه الله تعالى {كانتا رتقا، ففتقناهما} [الأنبياء: ٣٠] قال: «من الأرضين معها ست، فتلك سبع، ومن السماء ست سماوات معها، فتلك سبع سماوات، ولم تكن الأرض والسماء مماستين." 

[19] 
https://islamicauthors.com/article/398 

[20]
قال أبو عبد الله بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي في البرهان في علوم القرآن (دار إحياء الكتب العربية ، الجزء الرابع ،صفحة 267-268): وقوله: {ثم كان من الذين آمنوا} قال جاء بـ "ثم" لتراخي الإيمان وتباعده في الرتبة والفضيلة على العتق والصدقة لا في الوقت لأن الإيمان هو السابق المقدم على غيره.وقال الزمخشري في قوله تعالى: {ثم أوحينا إليك أن اتبع ملة إبراهيم حنيفا} أن ثم هذه فيها من تعظيم منزلة النبي صلى الله عليه وسلم وإجلال محله والإيذان بأنه أولى وأشرف ما أوتي خليل الله إبراهيم من الكرامة وأجل ما أوتي من النعمة أتباع رسول الله صلى الله عليه وسلم في ملته.واعلم أنه بهذا التقدير يندفع الاعتراض بأن ثم قد تخرج عن الترتيب والمهلة وتصير كالواو لأنه إنما يتم على أنها تقتضي الترتيب الزماني لزوما أما إذا قلنا إنها ترد لقصد التفاوت والتراخي عن الزمان لم يحتج إلى الانفصال عن شيء مما ذكر من هذه الآيات الشريفة لا أن تقول إن ثم قد تكون بمعنى الواو.والحاصل أنها للتراخي في الزمان وهو المعبر عنه بالمهلة وتكون للتباين في الصفات وغيرها من غير قصد مهلة زمانية بل ليعلم موقع ما يعطف بها وحاله وأنه لو انفرد لكان كافيا فيما قصد فيه ولم يقصد في هذا ترتيب زماني بل تعظيم الحال فيما عطف عليه وتوقعه وتحريك النفوس لاعتباره.

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Are you sure?