Are you sure?

বিজ্ঞান »  ইসলাম ও বিজ্ঞান

আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে কোনটা আগে সৃষ্টি হয়েছে? ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটির চুলচেরা বিশ্লেষণ।

 

বিষয় : আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে কোনটা আগে সৃষ্টি হয়েছে? ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটির চুলচেরা বিশ্লেষণ।

লেখক : সামিউল হাসান তবিব আল-ইনফিরাদী

বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখাটার দৈর্ঘ অনেক বেশি। যদি পড়তে পড়তে বিরক্ত হয়ে যান ও পড়ার ইচ্ছা চলে যায়, তাহলে একদম শেষে গিয়ে উপসংহারটা পড়ে নিন।

ইসলাম অনুযায়ী আকাশ ও পৃথিবীর মধ্য হতে কোনটা আগে সৃষ্টি হয়েছে সেব্যাপারে হাজার বছর যাবত আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক ও মতভেদ হয়ে আসছে। এব্যাপারে আলেমদের মাঝে বহু ধরনের ব্যাখ্যা ও মতামত প্রচলিত আছে।প্রসিদ্ধ সাহাবী মুফাসসির আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) এব্যাপারে একটি ইজতিহাদভিত্তিক তাফসির বা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত সেই ব্যাখ্যাটির বিরোধী কোনোকিছুই কোনো সাহাবির নিকট হতে প্রকাশিত হয়নি, এবং ব্যাখ্যাটিতে এমনো কোনো আলামত নেই যাদ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ব্যাখ্যাটি ইসরাইলি উৎস হতে গ্রহণকৃত কোনো তথ্য দ্বারা কোনোভাবে প্রভাবিত। সুতরাং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্য হতে কোনটা আগে সৃষ্টি হয়েছে এই ব্যাপারে বর্ণিত ও উপস্থাপনকৃত হয়া অন্যান্য সকল বিষয়ের উপর ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।

অতএব, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্য হতে কোনটা আগে সৃষ্টি হয়েছে এপ্রশ্নের সমাধান পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যাটিকে বিবেচনায় আনাই যথেষ্ট, এব্যাপারে অন্যান্য আলেমরা কি বলেছেন না বলেছেন সেটার দিকে দৃষ্টিপাত করাটা অউদো জরুরি না, কারণ এক্ষেত্রে ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটির উপর এমনেতেই অন্য কারোর ব্যাখ্যা অগ্রাধিকার পাবেনা।

ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত ব্যাখ্যাটি নিম্নরূপ, 

عن ابن عباس رضي الله عنه قال : خلق الأرض في يومين، ثمّ خلق السماء، ثمّ استوى إلى السماء، فسواهن في يومين آخرين، ثمّ دحا الأرض، ودحوها أن أخرج منها الماء والمرعى، وخلق الجبال والجمال والآكام وما بينهما في يومين آخرين، فجُعلت الأرض وما فيها من شيء في أربعة أيام، وخُلقت السموات في يومين.

অর্থ :

ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে : তিনি (আল্লাহ) পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই ইয়াওমে, তারপর আকাশ সৃষ্টি করেছেন, তারপর আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছেন এবং সেটাকে (সাত আসমানে) বিন্যাস্ত করেছেন অপর দুই ইয়াওমে, অতপর পৃথিবীকে দাহউন করেছেন, এবং পৃথিবীকে দাহউন করার করার অর্থ হলো তা হতে গাছপালা ও পানি উৎপন্ন করা।এবং তিনি পাহাড়-পর্বত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উচু উচু স্থান ও তাদের মাঝে যা আছে সৃষ্টি করেছেন অপর দুই ইয়াওমে। অর্থাৎ পৃথিবী এবং পৃথিবীর মধ্যে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি হয়েছে চার ইয়াওমে, এবং আকাশ সৃষ্টি হয়েছে দুই ইয়াওমে।

ইবনু আব্বাস (রা) এর এই হাদিসটি ইমাম আল-বুখারী নিজ "সহিহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সহিহুল বুখারীর কিছু কিছু পান্ডুলিপিতে উক্ত হাদিসটি সনদবিহীন মুয়াল্লাকরূপে বর্ণিত হয়েছে এবং কিছু কিছু পান্ডুলিপিতে উক্ত হাদিসটি নিম্নে উল্লেখিত সনদটি ধরে বর্ণিত হয়েছে,_[1]

قال أبو عبد الله: حدثنيه يوسف بن عدي، حَدَّثَنَا عبيد الله بن عمرو، عن زيد بن أبي أُنَيسة، عن المنهال، بهذا

আল-মিনহাল কে বাদ দিয়ে বিবেচনা করলে উক্ত সনদটির বাকি সব রাবিরাই ছিকাহ [2]।

আল-মিনহাল হলেন "আল-মিনহাল বিন উমার আল-আসাদী", উনার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মাঝে মতভেদ বিদ্যমান। একদল মুহাদ্দিস তাঁকে ছিকাহ বলেছেন এবং আরেকদল মুহাদ্দিস তাঁর উপর জারাহ করেছেন। কিন্ত তাঁর উপর কৃত জারাহগুলো হচ্ছে অযথাযথ হুজ্জতবিহীন ভিত্তিহীন অগ্রহণযোগ্য। সুতরাং আল-মিনহালের নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে সঠিক মত হলো এই যে, তিনি ছিকাহ ছিলেন।বহু আলেমরা আল-মিনহালের ব্যাপারে আসা জারাহগুলোর খন্ডন করেছেন এবং তাঁকে ছিকাহ সাব্যস্ত করেছেন, যেমন :

আল-মিনহালের ব্যাপারে,

'বাশার আওয়াদ মারুফ' বলেছেন যে

ثقةٌ، فقد وثقه الأئمة: ابن معين، والنسائي، والعجلي، وذكره ابن حبان في الثقات، ولم يجرح بجرح حقيقي، ...ولذلك أخرج له البخاري في الصحيح_[3]

অর্থ :

সে  ছিকাহ, তাকে ইমামরা ছিকাহ সাব্যস্ত করেছেন , যেমন ইবনু মুয়াইন, আন-নাসাঈ, আল-ইজলী, ইবনু হিব্বান তাকে আছ-ছিকাত গ্রন্থে উল্লেখ্য করেছেন। এবং সে কোনো যথাযথ জারাহ দ্বারা জারাহকৃত হয়নি … এবং একারণে আল-বোখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে তার বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন।

'ইবনু হাজার আল-আসকালানী' বলেছেন যে

الْمنْهَال بن عَمْرو تكلم فِيهِ بِلَا حجَّة _[4]

অর্থ : আল-মিনহাল বিন উমার এর ব্যাপারে হুজ্জতবিহীনভাবে সমালোচনা করা হয়েছে।

'ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুদাইহাশ' বলেছেন যে

والراجح: أنه ثقة؛ لتوثيق من ذُكر، ولم يذكر بجرح قادح. وقد سبقت الإجابة على ترك شعبة، وتضعيف الجوزجاني وغيره. ومما يؤيد توثيقه احتجاج البخاري به في «صحيحه»._[5]

অর্থ :

এবং রাজিহ (অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত) হলো এই যে সে (আল-মিনহাল) ছিকাহ ; এবং তার ব্যাপারে কোনো সমস্যাসাব্যস্তকারী জারাহ বর্ণিত হয়নি। শু'বাহ কর্তৃক তাকে তরক করা এবং আয-যাওযজানী ও অন্যান্যদের কর্তৃক তাকে যইফ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে পুর্বেই জবাব দেয়া হয়েছে। এবং যেই বিষয়টি তাকে ছিকাহ সাব্যস্ত করার ব্যাপারটিকে আরো দৃঢ়তা প্রদান করে সেই বিষয়টি হলো আল-বুখারী কর্তৃক নিজ সহিহ গ্রন্থে তার দ্বারা ইহতিজাজ করা।

আদনান আল-আর'আওর তাঁর "দিয়াওনুস সুন্নাহ কিসমুত তাহারাহ" গ্রন্থে আল-মিনহালের ছিকাহ বা হাসানুল হাদিস হয়ার পক্ষে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন [6]।

মুহাক্কিক 'আব্দুল কাদির বিন আব্দুল কারিম' বলেছেন যে

المنهال بن عمرو الأسدي والراجح فيه إنه ثقة،_[7]

অর্থ : আল-মিনহাল বিন উমার আল-আসাদী, তার ব্যাপারে রাজিহ মত হলো সে ছিকাহ।

শামসুদ্দিন আয-যাহাবী  তাঁর "ذكر أسماء من تكلم فيه وهو موثق" গ্রন্থে আল-মিনহাল বিন উমার এর নাম উল্লেখ্য করেছেন [8]।

সুতরাং, সহিহুল বুখারির কিছু কিছু পান্ডুলিপিতে উল্লেখিত হয়া উক্ত সনদটি সহিহ।

ইমাম আল-বোখারীর পাশাপাশি অন্যান্য মুহাদ্দিসরাও তাদের বিভিন্ন গ্রন্থে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। যেমন,

আত-তাবারানী তাঁর "আল-মুজামুল কাবির" গ্রন্থে, ইবনু মানদাহ তাঁর "আত-তাওহিদ" গ্রন্থে, আল-বায়হাক্বী তাঁর "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" গ্রন্থে, আয-যাহাবী তাঁর "আল-উলুউ" গ্রন্থে, আবুশ শায়খ তাঁর "আল-আযমাহ" গ্রন্থে, আল-বারক্বানী তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে, এবং আল-ফাসাওই তাঁর "আল-মারেফাহ ওয়াত তারিখ" গ্রন্থে। _[9][10][11]

যাই হোক, এবার মুল আলোচনায় আসি। ইবনু আব্বাস (রা) এর উক্ত ব্যাখ্যাটিতেও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার মতো বেশকিছু ব্যাপার স্যাপার রয়েছে। অতএব, এবার ইবনু আব্বাস (রা) কর্তৃক প্রদানকৃত উক্ত ব্যাখ্যাটির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

এক.

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "তিনি (আল্লাহ) পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই ইয়াওমে"।

এই বক্তব্যটি দ্বারা ইবনু আব্বাস (রা) বোঝাতে চাচ্ছেন যে আল্লাহ তায়ালা আকাশ সৃষ্টির পুর্বে সর্বপ্রথম পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন, এবং এতে সময় লেগেছে দুই ইয়াওম। তবে এই পর্যায়ে পৃথিবী মোটেও বসবাসের উপযুক্ত ছিলোনা, তখন পৃথিবীতে পানি, গাছপালা, পাহাড়পর্বত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এসবের কিছুই ছিলোনা ; শুধু যে এসব বিষয়ই অনুপস্থিত ছিলো ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়, বরং তখন পৃথিবীতে কোনোকিছুই ছিলোনা, একদম কোনো কিছুই না! তখন যে কোনোকিছুই পৃথিবীতে ছিলোনা এব্যাপারটা আল-বোখারির এই রেওয়ায়েতটি থেকে বোঝা যাচ্ছেনা, তবে আল-বায়হাক্বী তাঁর "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" গ্রন্থে ও আল-বারক্বানী তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে উক্ত হাদিসটির জন্য এমন একটি সহিহ সনদের রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যা হতে এটা সুস্পষ্ট হয় যে তখন পৃথিবীতে গাছপালা, পানি, পাহাড়পর্বত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এসব বিষয় না থাকার পাশাপাশি অন্যান্য কোনোকিছুও ছিলোনা।

দুই.

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "তারপর (আল্লাহ) আকাশ সৃষ্টি করেছেন"।

ইবনু আব্বাস (রা) এর উক্ত বক্তব্যটিতে এমন দুইটি বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপুর্ণ। সেই দুইটি বিষয় নিম্নরূপ,

(ক). আরবি ভাষায় "আকাশ" অর্থাৎ "سَمٰاءٌ" শব্দটির অর্থ কি? 

(খ). ইবনু আব্বাস (রা) উনার উক্ত বক্তব্যটিতে سَمٰاءٌ শব্দটি দ্বারা আসলে কি বোঝাতে চেয়েছেন? 

এবার এই দুইটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক,

আরবি ভাষায় سَمٰاءٌ শব্দটির প্রকৃত মূল সংজ্ঞা হলো "এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছু যা (ভুপৃষ্ঠ সাপেক্ষে) উপরে বিদ্যমান"।

ভুপৃষ্ঠ হতে উপরের দিকের সকলকিছু সম্মিলিতভাবে আকাশ বা سَمٰاءٌ হতে পারে।

আবার, ভুপৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে বিদ্যমান প্রত্যেকটা বিষয় পৃথক পৃথক ভাবেও سَمٰاءٌ হতে পারে, যেমন আরবিতে মেঘকে আকাশ বা سَمٰاءٌ বলা  হয়, কেননা তা ভুপৃষ্ঠের উপরে থাকে।

আবার ভুপৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে বিদ্যমান কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের সমষ্টিও আকাশ বা سَمٰاءٌ হতে পারে, যেমন سَمٰاءٌ শব্দটি দ্বারা কিছুক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে সাত আসমানকে উদ্দেশ্য করা হয়, অথচ সাত আসমান বাদেও ভুপৃষ্ঠের উপরে অন্যান্য আরো বহু বিষয় রয়েছে।_[12]

আরবি سَمٰاءٌ শব্দটি সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ তথ্য হলো এই যে, سَمٰاءٌ শব্দটি অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ং তারই বহুবচনকৃত রূপ "سَمٰاوٰاتٌ" এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। [13]

প্রসিদ্ধ মুফাসসির মুহাদ্দিস ও বহুশাস্ত্রবিদ 'আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনু জারির আত-তাবারী' তাঁর তাফসিরগ্রন্থে বলেছেন যে,

قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَإِنَّمَا سُمِّيَتِ السَّمَاءُ سَمَاءً لِعُلُوِّهَا عَلَى الْأَرْضِ وَعَلَى سُكَّانِهَا مِنْ خَلْقِهِ، وَكُلُّ شَيْءٍ كَانَ فَوْقَ شَيْءٍ آخَرَ فَهُوَ لِمَا تَحْتَهُ سَمَاءٌ. وَلِذَلِكَ قِيلَ لِسَقْفِ الْبَيْتِ سَمَاؤُهُ_[14]

অর্থ :

আকাশকে سَمَاءً নামকরণের কারণ হলো এর ভুপৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে এবং ভুপৃষ্ঠে বসবাসকারীদের উপরের দিকে অবস্থান করা, এবং এমন যেকোনোকিছু যা অপর কোনোকিছুর উপরে আছে তা তার নিচে যা আছে সেটার সাপেক্ষে سَمَاءٌ (আকাশ)। এবং ঠিক একারণেই বাসার ছাদকে 'বাসার سَمَاءٌ (আকাশ)' বলা হয়।

বহুশাস্ত্রবিদ 'আবুল-হাসান আলি আল-আশয়ারী' তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "الإبانة عن أصول الديانة" তে বলেছেন যে,
وكل ما علا فهو سماء_[15]

অর্থ : এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছু যা উপরে বিদ্যমান, সেটাই  سماء (আকাশ)।

বিভিন্ন শাস্ত্রের বিপুল সংখ্যাক উলামারা তাঁদের বিভিন্ন গ্রন্থে আবুল-হাসান আল-আশয়ারী এর উক্ত বক্তব্যটির অনুরূপ কথা লিখেছেন ; উদাহরণস্বরুপ,

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও বহুশাস্ত্রবিদ 'আবু-বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাক্বী' তাঁর "الإعتقاد" গ্রন্থে এবং "الخلافيات" গ্রন্থে। [16]

ইতিহাসবিদ, ফকিহ এবং অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রসিদ্ধ একজন আরবি ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক,  লিসানুল আরব গ্রন্থের লেখক 'জামালুদ্দিন আবুল-ফাদ্বাল ইবনু মানযুর আল-আনসারী' তাঁর "نثار الأزهار في الليل والنهار" গ্রন্থে। [17]

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইতিহাসবিদ ও বহুশাস্ত্রবিদ 'শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আয-যাহাবী' তাঁর "كتاب الأربعين في صفات رب العالمين" গ্রন্থে। [18]

মুফাসসির মুহাদ্দিস ও ফকিহ 'আবুল-মুযাফফর মানসুর আস-সাময়ানী আত-তামিমী' তাঁর তাফসিরগ্রন্থে। [19]

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও বহুশাস্ত্রবিদ 'আবু উমার ইউসুফ ইবনু আব্দিল বার আল-মালিকী ' তাঁর "التمهيد" গ্রন্থে। [20]

মুফাসসির ভাষাবিদ ও বহুশাস্ত্রবিদ 'নাসিরুদ্দিন আবুল-খায়র আব্দুল্লাহ আল-বাইদ্বাওই' তাঁর "أنوار التنزيل وأسرار التأويل" তাফসিরগ্রন্থে। [21]

মুফাসসির ভাষাবিদ ও বহুশাস্ত্রবিদ 'শামসুদ্দিন মুহাম্মদ আল-খাতিব আশ-শিরবিনী' তাঁর "السراج المنير" গ্রন্থে। [22]

(উদাহরণ দেয়া সমাপ্ত হলো) 

বহুশাস্ত্রবিদ 'তাকিউদ্দিন আবুল-আব্বাস ইবনু তাইমিয়াহ আল-হাররানী' তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'মাজমুয়ুল ফাতাওয়া'(مجموع الفتاوی) তে বলেছেন যে,

وَالسَّمَاءُ اسْمُ جِنْسٍ لِكُلِّ مَا عَلَا ……كُلُّ مَا عَلَا فَإِنَّهُ يُسَمَّى فِي اللُّغَةِ سَمَاءً _[23]

অর্থ : السَّمَاءُ হলো اسْمُ جِنْسٍ, এটা এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছুর জন্য ব্যবহৃত হয় যা কিনা উপরে বিদ্যমান থাকে … এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছু যা কিনা উপরে বিদ্যমান থাকে সেটাকেই আরবি ভাষায় سَمَاءً হিসেবে নামকরণ করা হয়।

আরবি ভাষাবিদ সাহিত্যিক এবং বহুশাস্ত্রবিদ 'শিহাবুদ্দিন আবুল-আব্বাস আস-সানহাজী আল-ক্বিরাফী' তাঁর "نفائس الأصول في شرح المحصول" গ্রন্থে বলেছেন যে,

والسماء ضد الأرض؛ لأن السماء من العلو، فكل ما علا فهو سماء، حتى سقف البيت_[24]

অর্থ : এবং سماء হলো পৃথিবীর বা ভুপৃষ্ঠের বিপরীত, কেননা سماء এসেছে العلو থেকে, এহিসেবে এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছু যা কিনা উপরে বিদ্যমান থাকে সেটাই سماء (আকাশ), এমনকি বাসার ছাদও سماء।

আরবি সাহিত্যিক 'শারফুদ্দিন আহমাদ আল-ক্বাইসী আত-তাইফাশী ' তাঁর سرور النفس بمدارك الحواس الخمس গ্রন্থে বলেছেন যে,

وسميت سماء لعلوها، وكل ما علا فهو سماء، ومنه سماء البيت وسماوته_[25]

অর্থ : سماء এর এই নামকরণের কারণ হলো তার উপরে বিদ্যমান থাকা, এমন যেকোনো কিছু বা সকলকিছু যা কিনা উপরে থাকে সেটাই سماء।

আরবি ভাষাবিদ ও বহুশাস্ত্রবিদ 'আবুল-কাসিম আব্দুর-রহমান আস-সুহাইলী আল-খসয়ামী' তাঁর "نتائج الفكر في النَّحو" গ্রন্থে বলেছেন যে,
قد يرد لفظ السماء عبارة عن كل ما علا _[26]

অর্থ : سماء শব্দটি "উপরে বিদ্যমান থাকা যেকোনোকিছু বা সকলকিছু" অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আরবি ভাষাবিদ 'ফাদ্বিল বিন সালিহ আল-বাদরী আস-সামিরাঈ ' তাঁর لمسات بيانية في نصوص من التنزيل গ্রন্থে বলেছেন যে,

كل ما علا الإنسان فهو سماء لا يشترط أن يظلّك. إذن السماء إما أن تكون واحدة السموات السبع وإما أن تكون لكل ما علاك. الأوسع هي السماء لأن السموات ستكون قسماً من السماء 

অর্থ : এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছু যা মানুষের উপরের দিকে বিদ্যমান থাকে সেটাই আকাশ বা سماء। অতএব, হয় السماء এর অর্থ হবে এই যে তা সাত আসমানের মধ্য হতে কোনো একটি আসমান ; আর নাহয় এর অর্থ হবে এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছু যা আপনার উপরে বিদ্যমান আছে। এবং অর্থের দিক দিয়ে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন হলো السماء, কেননা السموات স্বয়ং السماء এরই অন্তর্ভুক্ত একটি অংশ হতে পারে।

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মুফাসসির ও বহুশাস্ত্রবিদ 'মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন' বলেছেন যে,

فهنا يقسم الله تعالى بالسماء، والسماء هو كل ما علا، فكل ما علاك فهو سماء، حتى السحاب الذي ينزل منه المطر يسمى سماءً، كما قال الله تعالى: {أنزل من السماء ماء فسالت أودية بقدرها} [الرعد: ١٧] . وإذا كان يطلق على كل ما علاك فإنه يشمل ما بين السماء والأرض ويشمل السماوات كلها لأنها كلها قد علتك وهي فوقك_[28][29]

অর্থ : এখানে আল্লাহ سماء (আকাশ) দ্বারা কসম করেছেন, এবং سماء হলো এমন যেকোনোকিছু বা সকলকিছু যা উপরে বিদ্যমান আছে, অর্থাৎ আপনার উপরে থাকা সকলকিছু বা যেকোনোকিছুই হচ্ছে سماء, এমনকি যেই মেঘ হতে বৃষ্টি হয় সেই মেঘকেও আকাশ (سماءً) নামকরণ করা হয়। এবং যেহেতু سماء শব্দটি এমন সকলকিছুর বা যেকোনোকিছুর জন্যই ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য হয় যা কিনা আপনার উপরে বিদ্যমান, সেহেতু
অবশ্যই এরমধ্যে আকাশ ও ভুপৃষ্ঠের মাঝে যা কিছু আছে তাও অন্তর্ভুক্ত হবে, এবং (সাত) আসমানের প্রত্যেকটাই এর অন্তর্ভুক্ত হবে কেননা সাত আসমানের সবগুলোওই আপনার উপরে বিদ্যমান আছে।

ফকিহ, মুফাসসির ও আরবি ভাষাবিদ 'মুহাম্মদ আত-ত্বহির ইবনু আশুর আত-তুনেসী' তাঁর তাফসিরগ্রন্থে বলেছেন যে,

وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ لَفْظُ السَّمَاءِ قَدْ أُطْلِقَ عَلَى جَمِيعِ الْمَوْجُودَاتِ الْعُلْوِيَّةِ الَّتِي يَشْمَلُهَا لَفْظُ السَّماءَ الَّذِي هُوَ مَا عَلَا الْأَرْضَ_[30]

অর্থ:
এবং এমনটা হয়া যায়েয যে سماء শব্দটি সমস্ত উপরস্থ সৃষ্টিসমুহ এর জন্য ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য হবে যা কিনা سماء শব্দটি কর্তৃক শামিলকৃত হয়, এবং سماء হচ্ছে তা যা ভুপৃষ্ঠের উপরের দিকে বিদ্যমান।

ইবনু আব্বাস (রা) এক্ষেত্রে سماء বলতে কি বুঝিয়েছেন এবার সেই আলোচনায় আসা যাক।

ইবনু আব্বাস (রা) বলেছেন,
…ثمّ خلق السماء، ثمّ استوى إلى السماء فسواهن…

অর্থ : …অতপর তিনি (আল্লাহ) আকাশ সৃষ্টি করেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করে সেটাকে "তাসওইয়াহ"(تسوية) করেন …

এখানে এই تسوية করার বিষয়টা নিয়ে কিছু গুরুত্বপুর্ণ কথা আছে, এবং এই تسوية করার বিষয়টার সুত্র ধরেই আমরা জানতে সক্ষম হবো যে এক্ষেত্রে ইবনু আব্বাস (রা) আকাশ বা "সামা"(سماء) বলতে আসলে কি বুঝিয়েছেন।

আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারী তাঁর তাফসিরগ্রন্থে বলেছেন যে,

حَدَّثَنِي عَلِيٌّ، قَالَ: ثنا أَبُو صَالِحٍ، قَالَ: ثني مُعَاوِيَةُ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَوْلُهُ حَيْثُ ذَكَرَ خَلْقَ الْأَرْضَ قَبْلَ السَّمَاءِ، ثُمَّ ذَكَرَ السَّمَاءَ قَبْلَ الْأَرْضِ، وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْأَرْضَ بِأَقْوَاتِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَدْحُوَهَا قَبْلَ السَّمَاءِ، ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَوَاتٍ، ثُمَّ دَحَا الْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ، _[31]

অর্থ :

ইবনু আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, আল্লাহ একস্থানে পৃথিবীর সৃষ্টিকে আকাশের আগে উল্লেখ্য করেছেন, তারপর আকাশের কথা পৃথিবীর আগে উল্লেখ্য করেছেন।এবং এক্ষেত্রে ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে আল্লাহ পৃথিবী ও তার খাদ্যসমুহকে দাহউন করা ব্যাতিত আকাশের পুর্বে সৃষ্টি করেছেন,  অতপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছেন এবং সেটাকে সাত-আসমানরূপে তাসওইয়াহ (تسوية) করেছেন, এবং তারপর পৃথিবীকে দাহউন করেছেন।

আত-তাবারী কর্তৃক বর্ণিত উক্ত বর্ণনাটির সনদ ইবনু আব্বাস (রা) পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য নাকি না সেব্যাপারে মুহাক্কিকদের মাঝে মতভেদ আছে। একদল মুহাক্কিকদের মতে সনদটি ইবনু আব্বাস (রা) পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য হাসান, আরেকদল মুহাক্কিকদের মতে সনদটি ইবনু আব্বাস (রা) পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য নয় বরং যইফ ; এই  সনদটির নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে হয়া মতভেদের প্রেক্ষিতে মুহাক্কিকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের যুক্তি পাল্টা যুক্তি দেখা যায়।

তবে এক্ষেত্রে আত-তাবারীর উক্ত বর্ণনাটি নিশ্চিতভাবেই একটি হাসান বর্ণনা, কেননা এক্ষেত্রে উক্ত বর্ণনাটির পক্ষে সহিহুল বুখারির একটি সহিহ সনদের শাহিদ বর্ণনা আছে যা আমি এই লেখাটির একদম শুরুর দিকেই উল্লেখ্য করেছি।

আত-তাবারির উক্ত বর্ণনাটি হতে স্পষ্ট হয় যে, আকাশকে তাসওইয়াহ করা হয়েছে সাত আসমান হিসেবে বা সাত আসমান রূপে।

এখন আকাশকে সাত আসমানরূপে বা সাত আসমান হিসেবে তাসওইয়াহ করার মানে হচ্ছে "আকাশকে সাত আসমান বানানো",_[32]

সুতরাং, ইবনু আব্বাস (রা) এক্ষেত্রে سماء বলতে এমন কোনোকিছুকে বোঝিয়েছেন, যাকে কিনা পরবর্তীতে সাত আসমান বানানো হয়েছে, অর্থাৎ যাকে সাতটি আসমানে পরিণত করা হয়েছে।

কোরান সুন্নাহ দ্বারা এটা প্রমাণিত যে সাত আসমান হচ্ছে মূলত সাতটা কঠিন ও শক্ত স্তর।

সুতরাং আরো স্পষ্ট করে বলা যায় যে, ইবনু আব্বাস (রা) এক্ষেত্রে سماء বলতে এমন কোনোকিছুকে বোঝিয়েছেন যাকে পরবর্তীতে সাত আসমানের সাতটি শক্ত স্তরে রুপান্তরিত করে সাত আসমান বানানো হয়েছে।

এক্ষেত্রে ইবনু আব্বাস (রা) এর উক্ত আলোচনাতে سماء দ্বারা কোনোভাবেই "মহাশুণ্য" উদ্দেশ্য হয়া সম্ভব নয়, কেননা মহাশুণ্য এমন কিছু না যাকে সাতটি কঠিন শক্ত স্তরে রুপান্তরিত করে সাত আসমান বানানো হয়েছে। যদি এক্ষেত্রে سماء দ্বারা মহাশুণ্য উদ্দেশ্য হয় তাহলে এরমানে দাঁড়াবে এই যে বর্তমানে মহাশুণ্য এর কোনো অস্তিত্ব নেই, কেননা মহাশুণ্যকে তো শুরুর দিকেই সাতটি শক্ত ও কঠিন স্তরে রুপান্তরিত করে সাত আসমান বানিয়ে নেয়া হয়েছে, তাহলে বর্তমানে আপনে মহাশুণ্য পাবেন কোথায় ? একটা গাছকে কেটে রুপান্তরিত করে তাদ্বারা সাতটা আসবাবপত্র বানিয়ে নেয়ার পর অবশ্যই সেই গাছটার আর কোনো অস্তিত্ব থাকবেনা, তাইনা?  একই ধরনের কথাত তাহলে মহাশুণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যদি এক্ষেত্রে ইবনু আব্বাসের (রা) বক্তব্যের سماء শব্দটির অর্থ মহাশুণ্য ধরা হয়।

অথচ মেরাজের প্রসিদ্ধ সহিহ মুতাওয়াতির হাদিস হতে জানা যায় যে রাসুল (সা) যখন আকাশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন, তখন উনাকে সাত আসমানের সাতটি কঠিন শক্ত স্তরের পাশাপাশি অনেক ফাঁকা অঞ্চল অতিক্রম করতে হয়েছিলো। এদ্বারা প্রমাণিত হয় যে আকাশে ফাঁকা স্থান তথা মহাশুণ্য আছে।

সুতরাং, এক্ষেত্রে এমন কোনো সম্ভাবনাই নেই যে ইবনু আব্বাস (রা) উনার এই বক্তব্যে سماء দ্বারা মহাশুণ্য বোঝিয়েছেন।

তাছারা আরেকটা বিষয়, এক্ষেত্রে ইবনু আব্বাস (রা) سماء দ্বারা "মহাকাশীয় বস্তুসমুহ"
(যেমন : গ্রহ, নক্ষত্র, উল্কাপিন্ড, সুর্য, চাঁদ) কে উদ্দেশ্য করেছেন এমনটা হয়াও সম্ভব নয়!  কারণ মহাকাশীয় বস্তুসমুহ মোটেও এমন কিছু না যাকে সাতটি কঠিন শক্ত স্তরে রুপান্তরিত করে সাত আসমান বানানো হয়েছে। যদি মহাকাশীয় বস্তুসমুহকে সাত আসমান বানিয়ে ফেলা হতো, তাহলে আজ এসব মহাকাশীয় বস্তুর অউদো কোনো অস্তিত্বই থাকতো না। অথচ মহাকাশীয় বস্তুসমুহের অস্তিত্ব অকাট্যভাবে প্রমাণিত।

তো এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, ইবনু আব্বাস (রা) এখানে سماء দ্বারা আসলে কি বোঝিয়েছেন? এ প্রশ্নের উত্তরস্বরুপ দুই ধরনের ব্যাখ্যা দেয়া যায়,

প্রথম ব্যাখ্যা :

সুরা আম্বিয়ার আয়াত ৩০ এর উপর নির্ভর করে ইবনু আব্বাস (রা) এর বিখ্যাত শিষ্য মুজাহিদ বিন জাবার (রহ) সহ সালাফদের একটি জামায়াত বা দল সাত আসমান সম্পর্কে একটি "তত্ত্ব" প্রদান করেছেন, তত্ত্বটি নিম্নরূপ,

"পুর্বে সাত আসমান সাতটি স্তর হিসেবে বিভক্ত ছিলোনা, বরং পুর্বে সাত আসমান তথা সাতটি শক্ত স্তর পরস্পরের সহিত সংযুক্ত, মিলিত, ঐক্যবদ্ধ ও এক ছিলো, তখন সাত আসমান তথা সাতটি স্তর সম্মিলিতভাবে একটিমাত্র আসমান বা স্তর হিসেবে বিদ্যমান ছিলো, সাত আসমানের পুর্বের এই একটিমাত্র আসমান বা স্তরকে আমরা সাত আসমানের আদি রূপ বলতে পারি। অতপর এই সাত আসমানের আদিরূপকে সাতটি অংশে বিভক্ত করে তাকে সাত আসমান বানানো হয়। আর এভাবেই সাত আসমান সৃষ্টি হয়। " _[33][34]

ইবনু আব্বাস (রা) উনার এই আলোচনাতে سماء দ্বারা আসলে কি বোঝিয়েছেন তা এই তত্ত্বটি দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। এক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করে বলা যায় যে, ইবনু আব্বাস (রা) উনার উক্ত আলোচনাটিতে سماء দ্বারা উক্ত তত্ত্বটিতে বর্ণিত সাত আসমানের আদিরূপকে উদ্দেশ্য করেছেন।

আর এটা একটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা কেননা উক্ত তত্ত্বটিতে বর্ণিত সাত আসমানের আদিরূপ হচ্ছে এমনকিছু , যাকে পরবর্তীতে সাত আসমানের সাতটি শক্ত স্তরে রুপান্তরিত করে সাত আসমান বানানো হয়েছে।

তাছারা এই প্রথম ব্যাখ্যাটি মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারী কর্তৃক সমর্থিত _[35]

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা :

আকাশ একটা সময় দুখান (ধোয়াজাতীয় কিছু) ছিলো, এ বিষয়টা কোরান সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত, এখন এই ব্যাপারটার উপর ভিত্তি করে কিছু আলেমরা সাত আসমান সম্পর্কে একটা তত্ত্ব দিয়েছেন, তত্ত্বটি নিম্নরূপ,

"পুর্বে সাত আসমান দুখান হিসেবে বিদ্যমান ছিলো, এই দুখানকে আমরা সাত আসমানের আদি অবস্থা বলতে পারি, অতপর সেই দুখানকে রুপান্তরিত করে সাতটি শক্ত স্তরে পরিণত করে তাকে সাত আসমান বানানো হয়। আর এভাবেই সাত আসমান সৃষ্টি হয় "
_[36]।

ইবনু আব্বাস (রা) উনার এই আলোচনাতে سماء বলতে আসলে কি বোঝিয়েছেন তা এই দ্বিতীয় তত্ত্বটি দ্বারাও ব্যাখ্যা করা যায়। এক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করে বলা যায় যে, ইবনু আব্বাস (রা) উনার উক্ত আলোচনাটিতে سماء দ্বারা উক্ত তত্ত্বে বর্ণিত সাত আসমানের দুখান পর্যায়কে উদ্দেশ্য করেছেন।

এটাও একটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা, কেননা উক্ত তত্ত্বটিতে বর্ণিত সাত আসমানের দুখান পর্যায়টিও এমনকিছু, যাকে পরবর্তীতে সাত আসমানের সাতটি শক্ত স্তরে রুপান্তরিত করে সাত আসমান বানানো হয়েছে।

এক্ষেত্রে এদুইটি ব্যাখ্যা ছাড়াও এব্যাপারে আরো সাম্ভাব্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে, তবে অন্য যেকোনো ব্যাখ্যার চেয়ে এই দুইটি ব্যাখ্যা তুলনামুলকভাবে অধিক সুস্পষ্ট ও অধিক সরল। আর যেহেতু এদুইটি ব্যাখ্যা অন্যান্য সকল সাম্ভাব্য ব্যাখ্যার চেয়ে তুলনামুলকভাবে অধিক সুস্পষ্ট ও অধিক সরল, সেহেতু এদুটি ব্যাখ্যাই এক্ষেত্রে অন্যান্য সকল সাম্ভাব্য ব্যাখ্যার উপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।

এক্ষেত্রে স্পষ্টতা ও সরলতাই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হয়ার মানদন্ড, এক্ষেত্রে যেই ব্যাখ্যা যত বেশি স্পষ্ট ও সরল, সেই ব্যাখ্যা তত বেশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, কেননা ইবনু আব্বাস (রা) এর উক্ত আলোচনাটির প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিলো একজন বিভ্রান্ত ব্যাক্তির বিভ্রান্তি দূর করা, জটিল ও অস্পষ্ট কথাবার্তা বলে সেই বিভ্রান্ত লোকটির বিভ্রান্তি বৃদ্ধি করা নয়।

তিন.

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য "অত:পর তিনি (আল্লাহ) আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছেন এবং সেটাকে তাসওইয়াহ করেছেন দুই ইয়াওমে। "

অর্থাৎ আল্লাহ কর্তৃক সাত আসমানের আদিরূপের দিকে মনোনিবেশ করে সেই আদি রূপকে রুপান্তরিত করে সেটাকে সাত আসমান বানানো হয়েছে, সাত আসমানের আদিরূপ হচ্ছে উপরে বর্ণিত প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী সেই একটি স্তর অথবা উপরে বর্ণিত দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী সেই দুখান।

চার.

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য

"অতপর পৃথিবীকে দাহউন করেছেন, এবং পৃথিবীকে দাহউন করার করার অর্থ হলো তা হতে গাছপালা ও পানি উৎপন্ন করা।এবং তিনি পাহাড়-পর্বত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উচু উচু স্থান ও তাদের মাঝে যা আছে সৃষ্টি করেছেন অপর দুই ইয়াওমে।"

ইবনু আব্বাস (রা) এর এই বক্তব্যটিতে শুধুমাত্র একটি এমন বিষয় আছে যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করাটা জরুরি, সেই একটি বিষয় ব্যাতিত উনার উক্ত বক্তব্যের বাকি সকল বিষয়ই একদম সুস্পষ্ট এবং অব্যাখ্যাযোগ্য।

সেই একটা বিষয় হচ্ছে, এই বক্তব্যের "ما بينهما" অংশটি, যার অনুবাদ হিসেবে আমি এখানে বাংলাতে উল্লেখ্য করেছি "তাদের মাঝে যা আছে। " এক্ষেত্রে ما بينهما বলতে কি বোঝানো হয়েছে, সেইটা নিয়ে এবার বিস্তারিত আলোচনা করব।

এখানে "ما بينهما" এর শাব্দিক অর্থ হলো "তাদের দুজনের মাঝে যা আছে", এক্ষেত্রে তারা দুজন বলতে উদ্দেশ্য আকাশ ও পৃথিবী, সুতরাং এখানে ما بينهما দ্বারা বোঝানো হচ্ছে "আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে।"

আশ-শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন এই "আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে" কথাটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে,

وقوْله تَعالَى: {وَمَا بَيْنَهُمَا} البيْنيَّةُ لا تقتضِي التماسَّ، فقَدْ يكونُ الشّيْءُ بيْنَ الشّيئَيْن وهُوَ لا يمسُّ أحدَهما، فهنا الَّذي بيْنَ السّماءِ والأرْض لا يلزمُ أنْ يمَسَّ أحدَهما، لكنَّه يمكِن أن يمسَّ، فعَلى هَذا نقولُ: {وَمَا بَيْنَهُمَا} يشمَلُ السّحابَ والرّياحَ والنّجومَ والشّمسَ والقمرَ وغيرَ ذَلِك مِنَ المخلوقَاتِ العظِيمَةِ التي لا نعلَمُها، وفي التّنْصيصِ عَلَى ذِكْر مَا بيْنَ السّموَاتِ وَالأرْض دليلٌ عَلَى أنَّ ما بَيْنَهُما أمْرٌ عظِيمٌ يُقارَنُ بنَفْسِ السّموَاتِ وَالأرْض، وَهَذا يعلَمُهُ أهْلُ الفلَكِ الَّذِين يَطَّلِعُونَ عَلَى مَا في الأفُقِ مِنَ الآيَات العظِيمَةِ التي تدُلّ عَلَى مَا تدُلّ علَيْه مِنْ كَمالِ الله عَزَّ وَجَلَّ_[37]

অর্থ :

আল্লাহর বক্তব্য { এবং যা তাদের (আকাশ ও পৃথিবীর) মাঝে আছে }, আল-বাইনিয়াহ (মাঝে অবস্থান করার ব্যাপারটি) এর জন্য পরস্পরকে স্পর্শ করা প্রয়োজনীয় নয়, বরং এমনো হয় যে একটা জিনিস অপর দুইটি জিনিসের মাঝে বিদ্যমান আছে এবং তা সেই দুইটি জিনিসের কোনোটিকেই স্পর্শ করছেনা। সুতরাং এখানে যা পৃথিবী ও আকাশের মাঝে আছে তার জন্য আকাশ বা পৃথিবীর মধ্য হতে কোনোটিকেই স্পর্শ করা আবশ্যক নয়, কিন্ত তার জন্য স্পর্শ করাটা সম্ভব। অতএব, এহিসেবে আমরা বলব {এবং যা তাদের (আকাশ ও পৃথিবীর) মাঝে আছে} এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে মেঘ, বাতাস, গ্রহ-নক্ষত্র, সুর্য, চন্দ্র এবং  এসবের পাশাপাশি সেসব মহান সৃষ্টিসমুহ যেগুলোর ব্যাপারে আমরা জানিনা।এবং নুসুসের মধ্যে এইমর্মে দলিল রয়েছে যে আকাশ ও পৃথিবীর তুলনায় তাদের মাঝে যা কিছু আছে, তা মহান ও বিশাল বিষয়। 

(আল-উসাইমিনের বক্তব্য সমাপ্ত)

এখন যেই কথাগুলো বলতে যাচ্ছি, সেগুলো অনেকের নিকট অত্যন্ত অস্পষ্ট, প্যাচানো ও জটিল মনে হতে পারে। কাজেই কথাগুলো যথাযথভাবে বোঝার জন্য ভালোভাবে খেয়াল করুন এবং নিজ মনোযোগ বৃদ্ধি করুন।

আলোচ্য বক্তব্যের অংশ ما بينهما (আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে) এর ক্ষেত্রে ما (যা) কথাটির দুইটি সাম্ভাব্য গ্রহণযোগ্য অর্থ আছে,

(ক) "ما"(যা) দ্বারা আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা কিছুই আছে তার সবকিছুই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

(খ) "ما"(যা) দ্বারা আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা কিছুই আছে তার সবকিছুই উদ্দেশ্য করা হয়নি, বরং তার মধ্য থেকে এক বা একাধিককিছু কিংবা 'বহু কিছু' উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো এই যে, এক্ষেত্রে ما এর কোন অর্থটি সঠিক?

উত্তর :

এক্ষেত্রে ما এর খ নং দ্বিতীয় সাম্ভাব্য গ্রহণযোগ্য অর্থটি সঠিক। অর্থাৎ এখানে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার সকলকিছুকে উদ্দেশ্য করা হয়নি, বরং বহু কিছুকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
আর এই "বহু কিছু " হচ্ছে ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকলকিছু। অর্থাৎ এখানে "আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে" বলতে বোঝানো হয়েছে "ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকলকিছু" কে।

আমার উক্ত দাবির পক্ষে প্রমাণ নিম্নরূপ,

আল-বায়হাক্বী তাঁর "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" গ্রন্থে এবং আল-বারক্বানী তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে ইবনু আব্বাসের (রা) আলোচ্য হাদিসটির এমন একটি সংস্করণ বা রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যেখানে এই আলোচ্য অংশটিতে ما بينهما (আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে) ব্যবহৃত না হয়ে এর বিকল্পস্বরুপ এর স্থলে বর্ণিত হয়েছে "ما فيها" অর্থাৎ "যা তাতে (ভুপৃষ্ঠে) আছে"_[38][39][40]

এবং এদ্বারা প্রমাণিত হয় যে ما بينهما কথাটি এক্ষেত্রে ما فيها বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রশ্ন - "আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে " দ্বারা "ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকলকিছু" কে বোঝানো হয়েছে, এটা কিভাবে সম্ভব!  এটা কিভাবে হতে পারে? 

উত্তর :

ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকলকিছুর জন্যই এই একটা কথা সত্য যে তাদের উপরে আছে আকাশ ও নিচে আছে পৃথিবী, সুতরাং ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান এসকলকিছুই আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে অবস্থিত।

অর্থাৎ ভুপৃষ্ঠের সকলকিছুই এমনকিছু যা কিনা আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে আছে।

সুতরাং "আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা আছে" দ্বারা ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকলকিছুকে উদ্দেশ্য করাটা সম্ভব।

প্রশ্ন - কিন্ত ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকলকিছুত ভুপৃষ্ঠে লেগে আছে, তারাত বাতাসে ভাসমান অবস্থায় বিদ্যমান নেই, তাহলে এমনটা কিভাবে হতে পারে যে তারাও আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে আছে? 

উত্তর :

শায়খ আল-উসাইমিনের উপরে উল্লেখিত বক্তব্যটি হতে একটি নীতি সম্পর্কে জানা যায়, নীতিটি নিম্নরূপ,

"কোনো একটা জিনিস কর্তৃক অপর দুইটি জিনিসের মাঝে অবস্থান করার জন্য সেই অপর দুইটি জিনিসের মধ্য হতে কোনো একটিকে স্পর্শ করা জরুরি না হলেও সম্ভব, এমনটা হতে পারে। "

সুতরাং ভুপৃষ্ঠে অবস্থান করা জিনিসগুলো কর্তৃক ভুপৃষ্ঠকে স্পর্শ করে থাকাটা এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা ই না, এদ্বারা মোটেও এটা সাব্যস্ত হয়না যে ভুপৃষ্ঠকে স্পর্শ করা অবস্থায় ভুপৃষ্ঠে বিদ্যমান থাকা জিনিসগুলো আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে যা কিছু আছে তার অন্তর্ভুক্ত না।

প্রশ্ন - লেখক প্রমাণ হিসেবে উপরে আল-বায়হাক্বী ও আল-বারক্বানীর যেই রেওয়ায়েতটির প্রসঙ্গ টেনে এনেছে সেই রেওয়ায়েতটির সনদ কি অউদো সহিহ নাকি যইফ? 

উত্তর :

আমি উপরে প্রমাণ হিসেবে যেই রেওয়ায়েতটির কথা এনেছি, সেই রেওয়ায়েতটিকে আল-বায়হাক্বী তাঁর "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন নিম্নে উল্লেখিত এই সনদে _[38]

وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْخُوَارِزْمِيُّ بِبَغْدَادَ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبُوشِنْجِيُّ، ثنا أَبُو يَعْقُوبَ يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا

সনদটির প্রথম রাবি 'আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমী', তিনি হলেন একজন সুপ্রসিদ্ধ ছিকাহ মুহাদ্দিস ইমাম, তিনি 'আবু-বকর আল-বারক্বানী' নামে প্রসিদ্ধ।

সনদের দ্বিতীয় রাবি হলেন 'আবুল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ আন-নিসাবুরী', বহু উলামারা এনাকে "ছিকাহ" সাব্যস্ত করেছেন, যেমন : আল-খালিলী, আল-হাকিম, আস-সাময়ানী, আয-যাহাবী, রাশিদুদ্দিন আল-আত্তার এবং ইবনুল-মুলাক্কিন।_[41]

সনদটির তৃতীয় রাবি হলেন 'মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-বুশিঞ্জী', তিনি "ছিকাহ"_[42]

অতপর সনদের বাকি অংশটি আল-বোখারী কর্তৃক বর্ণিত সনদটির অনুরূপ, যা নিয়ে উপরে আলোচনা গত হয়েছে।

সুতরাং এই সনদটি "সহিহ"।

পাচ.

ইবনু আব্বাস (রা) এর বক্তব্য

"অর্থাৎ পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, তা সৃষ্টি হয়েছে চার ইয়াওমে ; এবং আকাশ সৃষ্টি হয়েছে দুই ইয়াওমে। "

ইবনু আব্বাস (রা) এর এই বক্তব্যটিতে ব্যাখ্যা করার মতো শুধু একটি বিষয় আছে, তা হচ্ছে এই যে এক্ষেত্রে "ইয়াওম" অর্থ কি? 

এবার ছয় ইয়াওমের ক্ষেত্রে "ইয়াওম" দ্বারা কি বোঝানো হচ্ছে সেব্যাপারে আলোচনা করা হবে।

কোরআন হাদিসের অসংখ্যা স্থানে বার বার বলা হয়েছে যে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মহাবিশ্বকে ছয় ইয়াওমে সৃষ্টি করেছেন। মুসলিমদের মাঝে এব্যাপারটা মোটামোটিভাবে প্রসিদ্ধ। এই লেখাটিতে, এই ছয় ইয়াওমের অর্থ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ।

বহুশাস্ত্রবিদ 'আমাদুদ্দিন আবুল-ফিদা ইবনু কাসির আদ-দিমাশক্বী' তাঁর "আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ" গ্রন্থে লিখেছেন যে,

وَقَدِ اخْتَلَفَ الْمُفَسِّرُونَ فِي مِقْدَارِ هَذِهِ السِّتَّةِ الْأَيَّامِ عَلَى قَوْلَيْنِ: فَالْجُمْهُورُ عَلَى أَنَّهَا كَأَيَّامِنَا هَذِهِ. وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَمُجَاهِدٍ، وَالضَّحَّاكِ، وَكَعْبِ الْأَحْبَارِ: أَنَّ كُلَّ يَوْمٍ مِنْهَا كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ. رَوَاهُنَّ ابْنُ جَرِيرٍ، وَابْنُ أَبِي حَاتِمٍ، وَاخْتَارَ هَذَا الْقَوْلَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي كِتَابِهِ الَّذِي رَدَّ فِيهِ عَلَى الْجَهْمِيَّةِ، وَاخْتَارَهُ ابْنُ جَرِيرٍ، وَطَائِفَةٌ مِنَ الْمُتَأَخِّرِينَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ_[43]

অর্থ :

"মুফাসসিরগণ এই ছয় ইয়াওমের পরিমাণ সম্পর্কে দুইটি মতে বিভক্ত করে মতভেদ করেছেন, এর প্রেক্ষিতে জুমহুর (অধিকাংশ) উলামারা এই মতের উপর আছেন যে তা আমাদের (পৃথিবীর) দিনের মতই। এবং ইবনু আব্বাস, মুজাহিদ, আদ্ব-দুহহাক, কাব আল-আহবার হতে এমনটা বর্ণিত আছে যে এক্ষেত্রে প্রত্যেকটা ইয়াওম হচ্ছে আমাদের গণনায় হাজার বছরের ন্যায়, এসব বর্ণনা ইবনু জারির ও ইবনু আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন, এবং এই মতটিকে আল-ইমাম আহমদ বিন হাম্বল তাঁর সেই গ্রন্থে পছন্দ করেছেন যেখানে তিনি জাহমিদের উপর রদ্দ করেছেন, তাছারা ইবনু জারির এবং মুতায়াখখির উলামাদের একটি দলও এই মতটিকে পছন্দ করেছেন। এবং আল্লাহই ভালো জানেন "

ইবনু কাসিরের উক্ত বক্তব্যটি হতে প্রমাণিত হয় যে, এক্ষেত্রে ইয়াওমের অর্থ নিয়ে উলামাদের মাঝে মতভেদ আছে, একদলের মতে তাদ্বারা আমাদের দিনের মতই দিন উদ্দেশ্য,আরেকদলের মতে প্রত্যেকটা ইয়াওম দ্বারা হাজার বছরের ন্যায় সময়কাল উদ্দেশ্য।

সাম্ভাব্য আপত্তি -  ইবনু কাসির বলেছেন যে জুমহুরদের মতে ইয়াওম বলতে আমাদের দিনের মতই দিন উদ্দেশ্য, সুতরাং এক্ষেত্রে পৃথিবীর দিন উদ্দেশ্য হয়ার মতটিই সঠিক, যেহেতু তা জুমহুর বা অধিকাংশের মত।

জবাব :

বহুশাস্ত্রবিদ 'বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আলি আশ-শাওকানী' তাঁর গ্রন্থ "ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহক্বিকিল হাক্ব মিন ইলমিল উসুল" এ লিখেছেন,

إِذَا خَالَفَ أَهْلَ الْإِجْمَاعِ وَاحِدٌ مِنَ الْمُجْتَهِدِينَ فَقَطْ فَذَهَبَ الْجُمْهُورُ إِلَى أَنَّهُ لَا يَكُونُ إِجْمَاعًا وَلَا حُجَّةً [44]

অর্থ : "যদি মুজতাহিদগণের মধ্য হতে শুধুমাত্র একজনও আহলুল ইজমার সহিত মতভেদ করেন, সেক্ষেত্রে জুমহুর উলামাদের মতে তা ইজমা হবেনা, এবং অকাট্য কিছুও হবেনা।"

মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানী এর উক্ত বক্তব্যটি হতে প্রমাণিত হয় যে, জুমহুরদের মত অকাট্য কোনোকিছু নয়। যদি শুধুমাত্র কোনো একজন মুজতাহিদও বাকি সবার বিরোধী মত দেন, তাহলেও এই সম্ভাবনা থাকে যে সেই একজন মুজতাহিদই সঠিক ও বাকিরা সবাই ভুল। অথচ এক্ষেত্রে ইমাম আহমদ, আত-তাবারী সহ উলামাদের একটা দল, হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

সুতরাং এক্ষেত্রে আমাদের দিনের মতো দিন উদ্দেশ্য হয়ার মতটি অকাট্য কোনোকিছু নয়। বরং হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটিও সঠিক হতে পারে।

প্রশ্ন - যদি তাই হয়, তাহলে সর্বদা কেন জুমহুরদের মতকে সল্প সংখ্যাকদের মতের উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়ে থাকে? 

উত্তর :

জুমহুরদের মতকে 'সর্বদা' ই সল্পসংখ্যাকদের উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়, এই ধারনা সম্পুর্ণ ভুল। বরং সঠিক তথ্য হচ্ছে এই যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুমহুরদের মতকে সল্পসংখ্যাকদের মতের উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুমহুরদের মতকে সল্পসংখ্যাকদের মতের উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়, কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জুমহুরদের মতের পক্ষের দলিল ও যুক্তিগুলো অধিক শক্তিশালী ও অধিক দৃঢ় হয়ে থাকে, এমনটা হয়ার কারণ মোটেই শুধুমাত্র মতের পক্ষের উলামাদের সংখ্যাধিক্যতা নয়।

এক্ষেত্রে হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটির ভিত্তি আছে, কোরানের কিছু আয়াত ও আরবি ভাষা দ্বারা এটা সমর্থিত। 

সাম্ভাব্য আপত্তি - প্রত্যেক ইয়াওম যদি হাজার বছরের ন্যায় হয়, তাহলে ছয় ইয়াওম হবে বড়জোর ৬০০০ বছর। এরমানে কি এই যে, ইসলাম অনুযায়ী মহাবিশ্ব সৃষ্টি হতে ছয় হাজার বছর লেগেছে? 

জবাব :

বাংলাতে আমরা অনেকসময় "হাজার" কথাটাকে "১০০০" অর্থে ব্যবহার না করে "অনেক/অধিক/প্রচুর" অর্থে ব্যবহার করে থাকি, উদাহরণস্বরুপ : "তারা হাজার বার সাক্ষাত করেছে ", এই বাক্যে "হাজার" শব্দটি "অনেক" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আরবি 'ألْفٌ' (হাজার) শব্দটিরও এইধরনের ব্যবহার আছে, এটাও অনেকসময় "অনেক" বা "প্রচুর" অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

আরবি ভাষাবিদ ও বহুশাস্ত্রবিদ 'মুহাম্মদ আত-তহির বিন আশুর' তাঁর তাফসিরগ্রন্থে লিখেছেন যে,

وألف يجوز أن يستعمل كناية عن الكثرة الشديدة كما يقال: زرتك ألف مرة، وقوله تعالى: يود أحدهم لو يعمر ألف سنة_[45]
অর্থ :

এবং 'হাজার' শব্দটির ক্ষেত্রে এমনটা হয়া বৈধ যে তা পরোক্ষভাবে প্রচন্ড আধিক্য বোঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হবে, যেমন বলা হয় : আমি তোমার সহিত হাজার বার সাক্ষাত করেছি, এবং আল্লাহর বক্তব্য : 'তাদের মধ্যে কেও একজন হাজার বছর বেচে থাকতে চাইতো'।

সুতরাং, প্রত্যেক ইয়াওম কর্তৃক হাজার বছরের অনুরূপ হয়ার মতটির ক্ষেত্রে এমনটা হয়া জরুরি নয় যে হাজার বলতে এক্ষেত্রে "এক হাজার" ই উদ্দেশ্য, কেননা হতে পারে যে এক্ষেত্রে "হাজার" দ্বারা "অনেক" বা "প্রচুর " বোঝানো হচ্ছে।

প্রশ্ন - যদি তাই হয়, তাহলে অনেক আলেমদের কেন দেখা যায় যে উনারা হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটিতে বিদ্যমান থাকা 'হাজার' কথাটিকে 'এক হাজার' ধরে নিয়েছেন এবং বলেছেন যে মহাবিশ্ব ৬০০০ বছরে সৃষ্টি হয়েছে? 

উত্তর :

যাঁরা প্রত্যেক ইয়াওমকে "হাজার বছরের" ন্যায় বলেছেন, তাঁরা এক্ষেত্রে সুরা আল-হাজ্জ এর আয়াত নং 47 এর উপর ভিত্তি করে এমনটা বলেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে,

إنّ يوما عند ربك كألف سنة مما تعدون

অর্থ : নিশ্চয়ই তোমার রবের নিকট যা এক ইয়াওম , তা তোমাদের হিসেবে হাজার বছরের অনুরূপ।

এই আয়াতটিই হচ্ছে হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটির উৎস, এই আয়াত থেকেই মুলত কিছু উলামারা বলেছেন যে ছয় ইয়াওমের প্রত্যেকটা ইয়াওম হাজার বছরের অনুরূপ।

এক্ষেত্রে এমনটা হয়া জরুরি নয় যে উক্ত আয়াতে كألف سنة (হাজার বছরের অনুরূপ) বলতে নির্দিষ্টভাবে এক হাজার বছরই বোঝানো হয়েছে।

বরং এক্ষেত্রে এমনো হয়া সম্ভব ও গ্রহণযোগ্য যে,"এখানে ব্যবহৃত 'হাজার' কথাটি 'এক হাজার' অর্থে ব্যবহৃত হয়নি বরং 'অনেক' বা 'বহু'  অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এবং كألف سنة দ্বারা আল্লাহর নিকট যা এক ইয়াওম সেটাকে হাজার বছরের সহিত উপমা দিয়ে একটি বিশাল তবে অনির্দিষ্ট দৈর্ঘের সময়কালকে বোঝানো হচ্ছে। "

এই সাম্ভাব্য ব্যাখ্যাটি কিছু আলেমদের কর্তৃক প্রদানকৃত [46],

যেমন,

বহুশাস্ত্রবিদ 'বুরহানুদ্দিন ইব্রাহিম বিন উমার ইবনুর রুবাত আল-বাক্বাঈ' তাঁর তাফসিরগ্রন্থ
"নিযমুদ দুরার ফি তানাসিবিল আয়াতি ওয়াস-সুয়ার" এ বলেছেন যে,

 {كألف سنة} ولما كان المقصود هنا التطويل، فعبر بالسنة تنبيها عليه_[47]

অর্থ : {كألف سنة} যেহেতু এখানে উদ্দেশ্য হলো التطويل (দীর্ঘায়িতকরণ), সেহেতু এখানে বছরের বর্ণনা দেয়া হয়েছে এব্যাপারে মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য।

অর্থাৎ উক্ত আয়াতটির كألف سنة অংশটি দ্বারা হয় এক হাজার বছরই বোঝানো হয়েছে, আর নাহয় বিশাল অনির্দিষ্ট দৈর্ঘের সময়কাল বোঝানো হয়েছে ; এক্ষেত্রে এদুটি অর্থই  গ্রহণযোগ্য, এই অংশটিকে উভয় অর্থ দ্বারাই ব্যাখ্যা করা যায়।

যেহেতু উক্ত আয়াতটিকে দুইভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়, সেহেতু ছয় ইয়াওমের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটা ইয়াওমের হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটিকেও এদুইভাবেই ব্যাখ্যা করা যাবে, কারণ হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটি একদম প্রত্যক্ষভাবে সরাসরিভাবে উক্ত আয়াতটি হতেই নির্গত হয়েছে।

অর্থাৎ হাজার বছরের ন্যায় হয়ার মতটির ব্যাখ্যায় এটা বলা গ্রহণযোগ্য যে প্রত্যেক ইয়াওম হচ্ছে এক হাজার বছরের ন্যায়, তদ্রুপভাবে এটাও বলা গ্রহণযোগ্য যে প্রত্যেক ইয়াওম হচ্ছে বিশাল অনির্দিষ্ট দৈর্ঘের সময়কাল।

অপরদিকে, আলেমদের একটি দল এক্ষেত্রে বলেছেন যে ছয় ইয়াওম দ্বারা ছয়টা "সময়কাল" বা "পর্যায়" উদ্দেশ্য করা হয়েছে অথবা করা হয়ে থাকতে পারে, তারা আবার এক্ষেত্রে কোনো "হাজার বছর" এর প্রসঙ্গ আনেন নি[48]। এই মতটা ডক্টর জাকির নায়েক কর্তৃক প্রদানকৃত ছয় ইয়াওম সম্পর্কিত বিখ্যাত তত্ত্বটির অনুরূপ।

উদাহরণস্বরূপ,

মুফাসসির বহুশাস্ত্রবিদ 'মুহাম্মদ সিদ্দিক হাসান খান আল-কিন্নুজী আল-হুসাইনী' তাঁর তাফসিরগ্রন্থ "ফাতহুল বায়ান" এ লিখেছেন যে,

والمراد بالأيام هنا الأوقات، أي في ستة أوقات…[49]

অর্থ : এবং এখানে ইয়াওমসমুহ বলতে সময়কালসমুহ উদ্দেশ্য, অর্থাৎ ছয়টি সময়কালে।

মুফাসসির বহুশাস্ত্রবিদ 'নাসিরুদ্দিন আবুল-খায়র আব্দুল্লাহ আল-বাইদ্বাওই' তাঁর তাফসিরগ্রন্থ "আনওয়ারুত তানযিল" এ বলেছেন যে,

إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّماواتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ أي في ستة أوقات كقوله: وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ أو في مقدار ستة أيام_[50]

অর্থ : "নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় ইয়াওমে" অর্থাৎ ছয়টি সময়কালে অথবা ছয় দিনের সমপরিমাণ সময়ে।

নাসিরুদ্দিন আল-বাইদ্বাওই এর উক্ত বক্তব্যটির সমার্থক কথা লিখেছেন,

আলিম ফকিহ মুফাসসির 'আবুস-সউদ মুহাম্মদ ইবনু মুস্তফা আল-আমাদী' তাঁর তাফসিরগ্রন্থ "ইরশাদুল আকলিস সালিম" এ _[51]

বহুশাস্ত্রবিদ মুহাদ্দিস 'শিহাবুদ্দিন আবুল-আব্বাস আহমদ আল-কাস্তাল্লানী' তাঁর "ইরশাদুস সারী লিশারহে সহিহিল বুখারী" গ্রন্থে _[52]

বহুশাস্ত্রবিদ 'শিহাবুদ্দিন আবুছ-ছানা মাহমুদ আল-আলওয়াসী',যেমনটা 'জামালুদ্দিন আল-কাসিমী' তাঁর "মুহাসিনুত তাওইল" গ্রন্থে আল-আলওয়াসী হতে নক্বল করেছেন [53]।

উল্লেখ্য যে, সুরা আস-সিজদাহর আয়াত নং 5 এবং সুরা আল-মায়ারিজ এর আয়াত নং 4-5 এ মোটেও মহাবিশ্ব সৃষ্টির ছয় ইয়াওমের সহিত সম্পর্কিত কোনোকিছু বলা হয়নি, এই আয়াতগুলোতে যা বলা হয়েছে তা মহাবিশ্ব সৃষ্টির ছয় ইয়াওমের সহিত সম্পুর্ণ অসম্পর্কিত ও অপ্রাসঙ্গিক। ছয় ইয়াওমের সহিত প্রাসঙ্গিক ও সম্পৃক্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে সুরা আল-হাজ্জের 47 নং আয়াতটি। _[54]

ইয়াওম সম্পর্কে এতক্ষণ বলা এতো সব কথার উপসংহার হচ্ছে এই যে,

কোরআনে বর্ণিত ছয় ইয়াওমের ব্যাপারটাকে মোট তিনভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, যথা :

(১) ইয়াওম বলতে আমাদের পরিচিত দিনের সমপরিমাণ দৈর্ঘের দিনই উদ্দেশ্যে।

(২) ইয়াওম বলতে ১০০০ হাজার বছর উদ্দেশ্য।

(৩) ইয়াওম বলতে অনির্দিষ্ট অজানা দৈর্ঘের সময়কাল উদ্দেশ্য।

এই তিনটি ব্যাখ্যার সবগুলোওই গ্রহণযোগ্য, সবগুলোর পক্ষেই বিভিন্ন যুক্তি ও ভিত্তি আছে, সবগুলোওই মুলধারার আলেমদের পক্ষ হতে প্রদান করা হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে ছয় ইয়াওম দ্বারা কি বোঝানো হচ্ছে তা একটা অনিশ্চিত মতভেদপুর্ণ তিন ধরনের সম্ভাবনাবিশিষ্ট ব্যাপার। এক্ষেত্রে উক্ত তিনটি ব্যাখ্যার মধ্য হতে কোনটি সঠিক তা নিশ্চয়তার সহিত জানা ও বলা সম্ভব না,কারণ উক্ত তিনটি ব্যাখ্যার সবগুলোরই সঠিক হয়ার সম্ভাবনা আছে, আবার পরস্পরের বিরোধী হয়ার দরুন উক্ত তিনটি সাম্ভাব্য ব্যাখ্যা একইসাথে সঠিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারছেনা।

অর্থাৎ, উক্ত তিনটি ব্যাখ্যার মধ্য হতে কোনো একটা ব্যাখ্যাই প্রকৃতপক্ষে সঠিক কিন্ত সবগুলোওই সঠিক হয়ার সম্ভাবনাবিশিষ্ট হয়ার দরুন কোনটা আসলেই সঠিক তা নিশ্চয়তার সহিত বলা যায়না।

সুতরাং, ছয় ইয়াওমের ক্ষেত্রে ইয়াওম দ্বারা হয় আমাদের দিনের মতই দিন বোঝানো হয়েছে, আর নাহয় এক হাজার বছর বোঝানো হয়েছে, আর নাহয় অনির্দিষ্ট দৈর্ঘের সময়কাল বোঝানো হয়েছে।

ছয়. 

ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে ৬ ইয়াওমে পৃথিবী, পৃথিবীতে অবস্থিত সকলকিছু এবং সাত আসমান সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো এই যে, মহাকাশীয় উপাদানসমুহ (যেমন : গ্রহ-নক্ষত্র, চাঁদ, সুর্য) কখন সৃষ্টি করা হয়েছে? 

উত্তর : এই প্রশ্ন অবান্তর। কোরান সুন্নাহ দ্বারা এটা প্রমাণিত যে সমগ্র মহাবিশ্বের সকল প্রাথমিক বিষয় ৬ ইয়াওমের মধ্যেই সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে সকল মহাকাশীয় উপাদান অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এই ৬ ইয়াওমের মধ্যেই কোনো এক ফাঁক দিয়ে সকল মহাকাশীয় উপাদান সৃষ্টি হচ্ছিলো, যদিও ইবনু আব্বাস (রা) এব্যাপারে উনার এই আলোচনাটিতে কিছু বলেন নি।

সাত.

ইবনু আব্বাস (রা) এর উক্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিচার করলে, সুরা ফুসসিলাতের আয়াত 9-11 এবং সুরা বাক্বারাহর আয়াত 29 এ ব্যবহৃত "ছুম্মা" (ثُمَّ) শব্দটি "তারপর" বা "অত:পর" অর্থে ব্যবহৃত হয়নি এবং সময়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করেনি।

আমার এই কথাটা দেখে অনেকেরই মাথা গরম হয়ে যাবে, অনেকে ভাববে যে এ এইটা কি বললো! এটা কিভাবে হতে পারে!কিন্ত এটাই বাস্তবতা। ইবনু আব্বাস (রা) এর দেয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিচার করলে ব্যাপারটা আসলেই এমনিই হয়।

এখন কিভাবে ও কেন এমনটা হয়, সেই আলোচনায় আসি।

সুরা ফুসসিলাতের আয়াত 9-12 এর মধ্যে ব্যবহৃত ছুম্মা শব্দটির সময়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশক অর্থ "তারপর" বা "অতঃপর" গ্রহণ করলে এই আয়াতগুলোর মূল বক্তব্য হবে নিম্নরূপ,

"আল্লাহ প্রথমে পৃথিবী সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাতে পাহাড়পর্বত ও অন্যান্য কিছু জিনিস সৃষ্টি করেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন ও তাকে সাত আসমানে বিন্যাস্ত করেন। "

অর্থাৎ পাহাড়পর্বত সৃষ্টির পর আকাশের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে।

অথচ ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যাটি হতে এব্যাপারটা একদম সুর্যের ন্যায় সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য যে পাহাড়পর্বত সৃষ্টির "আগে" আকাশের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে, মোটেও পরে নয়! বিরোধটা অত্যন্ত স্পষ্ট।

আবার, সুরা বাক্বারাহর আয়াত 29 এর মধ্যে ব্যবহৃত ছুম্মা শব্দটির সময়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশক অর্থ "তারপর" বা "অতঃপর" গ্রহণ করলে এই আয়াতটির মূল বক্তব্য হবে নিম্নরূপ,

"আল্লাহ প্রথমে পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। "

অর্থাৎ পৃথিবীর সকলকিছু সৃষ্টি করার পর আকাশের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে।

অথচ ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যা হতে চাঁদের ন্যায় সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য যে পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করার "আগে" আকাশের দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে, মোটেও পরে নয়। বিরোধটা অত্যন্ত স্পষ্ট।

উভয়ক্ষেত্রেই বিরোধটির কারণ হলো উক্ত আয়াতসমুহের মাঝে ব্যবহৃত "ছুম্মা" শব্দটির অর্থ হিসেবে সময়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশক অর্থ "তারপর" বা "অতঃপর" ধরা। যদি ছুম্মার অর্থ হিসেবে সময়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশক অর্থ "তারপর" বা "অতঃপর" না ধরা হয়, তাহলে এক্ষেত্রে ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যার সহিত উক্ত আয়াতগুলোর মূলকথার কোনো বিরোধ থাকবেনা। অপরদিকে আরবিতে অনেকসময় ছুম্মা শব্দটি সময়ের ধারাবাহিকতা বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত না হয়ে নিছকই "এবং" বা "তাছাড়াও" অর্থে ব্যবহৃত হয়।

এটা একদম সুস্পষ্ট যে, ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী উক্ত আয়াতগুলোর মধ্যে ব্যবহৃত ছুম্মা শব্দটি কোনোভাবেই "তারপর" বা "অতঃপর" অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, সময়ের ধারাবাহিকতা বোঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়নি।

সুতরাং ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী এক্ষেত্রে উক্ত আয়াতগুলোতে ব্যবহৃত ছুম্মা শব্দটির অর্থ হবে "এবং" বা "তাছাড়াও"।

আট.

ইবনু আব্বাস (রা) প্রায়সময়ই ইসরাঈলি তথ্যভান্ডার হতে গ্রহণকৃত তথ্য দ্বারা কোরানকে ব্যাখ্যা করতেন । তবে উনার এই ব্যাখ্যাটি মোটেও ইসরাইলি উৎসের সাহায্যে প্রদান করা হয়নি, বরং এই ব্যাখ্যাটির ক্ষেত্রে তিনি নিজে নিজ মেধা দ্বারা কোরআন থেকে ইজতিহাদ করে ব্যাখ্যাটি প্রদান করেছেন। _[55]

উপসংহার :

এতক্ষণ এব্যাপারে অনেক আলোচনা হলো, এবার উপসংহার টানার পালা।

ইবনু আব্বাস (রা) এর উক্ত ব্যাখ্যাটি হতে প্রাপ্ত সকল তথ্যসমুহকে একত্র করলে যা পাওয়া যায় তা নিম্নরূপ,

পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হলো, পৃথিবীতে যেসব উপাদানসমুহ থাকার কথা তার কিছুই এখন পৃথিবীতে নেই, পৃথিবী এখন তার আদি অবস্থায় বিদ্যমান।

অতঃপর আকাশ তথা সাত আসমানের আদিরূপ সৃষ্টি করা হলো, এই আদিরূপ মোটেও মহাশুণ্য বা মহাকাশীয় উপাদানসমুহ নয়! বরং এই আদিরূপটি হচ্ছে একটি একক আদি স্তর অথবা সাত আসমানের দুখান পর্যায়।

সাত আসমানের আদিরূপ সৃষ্টি করার পর উক্ত আদিরূপকে রুপান্তরিত করে সাত আসমান বানানো হয়, অর্থাৎ একক আদি স্তরকে সাতটি স্তর বানানো হয় অথবা দুখান কে রুপান্তরিত করে সাতটি শক্ত স্তর বানানো হয়। আর এভাবেই সাত আসমান সৃষ্টি হয়।

অতঃপর পৃথিবীকে দাহউন করা হয়, পৃথিবীকে দাহউন করার অর্থ হলো তা হতে গাছাপালা ও পানি নির্গত করা, এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবই এই পর্যায়ে সৃষ্টি করা হয়।

সুরা ফুসসিলাতের আয়াত 9-12 ও সুরা বাক্বারাহর আয়াত 29 এর মধ্যে ব্যবহৃত "ছুম্মা" শব্দটি দ্বারা সময়ের ধারাবাহিকতা বোঝানো হচ্ছেনা, "তারপর" বা "অতঃপর" বোঝানো হচ্ছেনা, বরং ইবনু আব্বাস (রা) এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী এক্ষেত্রে ছুম্মা শব্দটি নিছকই "এবং" বা "তাছাড়াও" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

টিকাসমুহ :

[1]আল-আযামী, আল-জামিউল কামিল (11/61-62)

[2]ইবনু হাজার, আত-তাক্বরিব (রাবি নং/ 7872,4327, 2118 এবং 2278)

[3]বাশার, তাহরিরুত তাক্বরিব (3/421-422)

[4]ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী (1/464)

[5]ইব্রাহিম আল-মুদাইহাশ, তাখরিজু আহাদিসি ওয়া আছারি হায়াতাল হাইওয়ান লিদ্দুমাইরী মিনাত তাই ইলাজ জিম (পৃ/1207)  https://shamela.ws/book/97978/1104#p1

[6]আদনান, দিওয়ানুস সুন্নাহ কিসমুত তাহারাহ (13/188)
https://shamela.ws/book/16/7040#p1

[7]আব্দুল কাদির বিন আব্দুল কারিম কর্তৃক তাহকিককৃত ইবনু হাজার (রহ) এর গ্রন্থ "আল-মাতালিবুল আলিয়াহ" এর খন্ড নং 18 এর পৃষ্ঠা নম্বর 548
https://shamela.ws/book/37618/21283

[8]https://shamela.ws/book/1892/347

[9]আদ-দানী আলে যাহওই, আস-সহিহুল মুসনাদ মিন আকওয়ালিস সাহাবাহ ওয়াত তাবিঈন (2/192-193)।
https://shamela.ws/book/10442/533#p1

[10]ইবনু তাইমিয়াহ, আত-তাসয়িনিয়াহ (1/324-328)

[11]আল-ফাসাওই, আল-মারেফাহ ওয়াত তারিখ (1/527-529)

[12]সিদ্দিক হাসান খান, ফাতহুল বায়ান (9/82)

[13] এব্যাপারটার পক্ষে অগণিত সংখ্যাক প্রমাণ ও উদাহরণ দেখানো যাবে। তবে নিম্নে উল্লেখিত এই দুটি প্রমাণই এক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে,

১.  সহিহুল বুখারীর হাদিস নং 7382 এবং কোরআনের সুরা নং 39 এর আয়াত নং 67, এই হাদিসটি এবং এই আয়াতটি একইসাথে দেখুন।

২.  আবু হাফস আন-নিসফী কর্তৃক রচিত গ্রন্থ "আত-তাইসির ফিত তাফসির" এর 10 নং খন্ডের পৃষ্ঠা নম্বর 447 দেখুন।

[14] ইবনু জারির আত-তাবারী, জামিউল বায়ান(1/388)

[15] আল-আশয়ারী,আল-ইবানাহ আন উসুলিত দিয়ানাহ (পৃ/107)।

[16] আল-বায়হাক্বী, আল-ই'তিক্বাদ (পৃ/113) এবং আল-খিলাফিয়াত (6/340)

[17] ইবনু মানযুর, নাছারুল আযহার (পৃ/172)

[18] আয-যাহাবী, কিতাবুল আরবাঈন (পৃ/53)

[19] তাফসিরুস সাময়ানী (1/53)

[20] ইবনু আব্দিল বার, আত-তামহিদ (7/17)

[21] আল-বাইদ্বাওই, আনওয়ারুত তানযিল (1/55)

[22] আল-খাতিবুশ শিরবিনী, আস-সিরাজুল মুনির (2/630)

[23] ইবনু তাইমিয়াহ, মাজমুয়ুল ফাতাওয়া (12/248,15/109)

[24] আল-ক্বিরাফী, নাফাইসুল উসুল (2/796)

[25] আত-তাইফাশী, সুরুরুন নাফস (পৃ/197)

[26] আস-সুহাইলী,নাতাইজুল ফিকর ফিন্নাহু (পৃ/124)

[27]লামসাতুন বায়ানিয়াহ ফি নুসুসিন মিনাত তানযিল (পৃ/273)
https://shamela.ws/book/8312/273

[28] তাফসিরুল উসাইমিন জুযয়ু আম্ম (পৃ/147)
https://shamela.ws/book/151168/141

[29]https://shamela.ws/book/7687/1434

[30] তাফসিরু ইবনে আশুর (17/324 )

[31]আত-তাবারী, জামিউল বায়ান (24/92)

[32]তাফসিরু ইবনে কাছির (1/121)
https://shamela.ws/book/23604/118

[33]আবুশ-শায়খ, আল-আযমাহ (3/1026) ; আত-তাবারী,জামিউল বায়ান (16/256)

[34]আবুশ-শায়খ উনার "আল-আযমাহ" গ্রন্থে যেই সনদ ধরে মুজাহিদ বিন জাবার (রহ) হতে এই "তত্ত্ব" টি বর্ণনা করেছেন, সেই সনদের একজন রাবি হলেন 'সাইদ বিন আবি যাইদুন'। সাইদ বিন আবি যাইদুনের ব্যাপারে কিছু আলেমরা বলেছেন যে তিনি নাকি মাজহুল তথা অজ্ঞাত, যা কিনা সঠিক নয় বরং ভুল। বরং সাইদ বিন আবি-যাইদুন যে অন্ততপক্ষে হাসানুল হাদিস হবেন তা নিশ্চিত।

'সাইদ বিন আবি যাইদুন' হচ্ছেন 'আবু উসমান সাইদ বিন আব্দুস বিন আবি যাইদুন আর-রমলী আল-ক্বাইসারানী'। তাঁর ব্যাপারে 'ইবনু আবি হাতিম' বলেছেন যে সে "ছুদুক", 'মাসলামাহ' বলেছেন যে সে "ছিকাহ", ইবনু ক্বুতলুবাগা তাঁকে "ছিকাহ" হিসেবে গণ্য করেছেন। তাছারা তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন 'দ্বিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসী' নিজ গ্রন্থ "আল-মুখতারাহ" তে, 'ইবনু খুযাইমাহ' নিজ "সহিহ" গ্রন্থে, 'আবু-আওয়ানাহ' নিজ গ্রন্থ "আল-মুস্তাখরাজ" এ।
দেখুন :
আবুত-তাইব নাইফ আল-মানসুরী কর্তৃক রচিত "আল-মাসালিকুল ক্বাওইমাহ বিতারাজিমে রিজালে ইবনে খুযাইমাহ" (1/524)।
https://shamela.ws/book/151171/521#p1

অতএব, আবুশ-শায়খ যেই সনদটি দ্বারা মুজাহিদ হতে এই তত্ত্বটি বর্ণনা করেছেন সেই সনদটির সব রাবিরাই ছিকাহ শুধুমাত্র সাইদ বিন আবি-যাইদুন ব্যাতিত, সাইদ বিন আবি যাইদুন হচ্ছেন হাসানুল হাদিস, সুতরাং আবুশ-শায়খের বর্ণিত এই সনদটি মুজাহিদ পর্যন্ত "হাসান"।

[35]আত-তাবারী, জামিউল বায়ান (1/458)

[36]আত-তাবারী, জামিউল বায়ান (1/460)

[37]তাফসিরুল উসাইমিন - সুরাতুর রুম (পৃ/41)
https://shamela.ws/book/21808/35

[38]আল-বায়হাক্বী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত (2/245)

[39]ইবনু আবি নাসর আল-হুমাইদী, আল-জাময়ু বাইনাস সহিহাইন (2/97-99)

[40]ইবনু তাইমিয়াহ, আত-তাসয়িনিয়াহ (1/324-327) এবং আল-ফাতাওয়াল কুবরা (6/388-390) 

[41] আবুত তাইফ নাইফ আল-মানসুরী, আর-রাওদ্বুল বাসিম ফি তারাজিমে শুয়ুখিল হাকিম (2/839-840)।
https://shamela.ws/book/14463/839#p1

[42] ইবনু হাজার, তাকরিবুত তাহযিব (রাবি/5693)
https://shamela.ws/book/8609/391

[43]ইবনু কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (1/27)

[44]আশ-শাওকানী, ইরশাদুল ফুহুল (1/234)

[45]তাফসিরু ইবনে আশুর (21/214)

[46]আবু-হাইয়ান, আল-বাহরুল মুহিত (7/523)

[47]আল-বাক্বাঈ, নিযমুদ দুরার (13/67)

[48]তাফসিরু ইবনে আশুর (খন্ড 8 এর ২য় অংশ /পৃষ্ঠা 162)

[49]সিদ্দিক হাসান খান, ফাতহুল বায়ান (6/144)

[50]আল-বাইদ্বাওই, আনওয়ারুত তানযিল (3/15)

[51]আবুস-সউদ, ইরশাদুল আকলিস সালিম (3/232)

[52]আল-কাস্তাল্লানী, ইরশাদুস সারী (10/473)

[53]আল-কাসিমী, মুহাসিনুত তা'ওইল (5/67)

[54]ইমাম আহমাদ, আর-রদ্দু আলাজ জাহমিয়াহ (পৃ/69-71)

[55]ড. মুসাঈদ আত-তাইয়ার, ফুসুল ফি উসুলিত তাফসির (পৃ/49)