বিজ্ঞান

সুরা নং ৩৫ এর আয়াত নং ৪১ দ্বারা কি মহাশুন্যের সকল কিছু ও পৃথিবী স্থীর প্রমানিত হয়?

সআ
সামিউল হাসান তবিব আল-ইনফিরাদী
৯ মার্চ, ২০২২ · 3 মিনিট
৯ মার্চ, ২০২২ 3 মিনিট

অভিযোগ: - " সুরা ৩৫ এর আয়াত ৪১ অনুযায়ী আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী স্থীর, এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল "।

 

জবাব : কোর'আনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : 

 

إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا وَلَئِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا…[1] 

অর্থাৎ : নিশ্চই আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও ভুপৃষ্ঠকে ধরে রাখেন যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়।

…… 

 

এই আয়াতে ব্যবহৃত السَّمَاوَاتِ এর জন্য এক্ষেত্রে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপুর্ণ মানানসই অর্থটি হবে 'সাত আসমানের সাতটি স্তর '। অর্থাৎ সাত আসমানের সাতটি স্তরকে আল্লাহ তায়ালা ধরে স্থীর রাখেন। আর সাত আসমানের সাতটি স্তর বর্তমানের বিজ্ঞানের নাগালের বাহিরের বিষয়। কাজেই এখানে বৈজ্ঞানিক অবৈজ্ঞানিক হয়ার কোনো প্রশ্ন আসেনা।

 

অপরদিকে যদি কথা আসে আল-আর্দের স্থীর হয়া প্রসংগে, সেক্ষেত্রে আল-আর্দ কথাটির দুটি অর্থ হয়,  একটা হচ্ছে সমগ্র পৃথিবী ও আরেকটা হচ্ছে পৃথিবীর পৃষ্ঠ তথা উপরিভাগ। কোরানের অন্যান্য বিভিন্ন আয়াতে 'পৃথিবীর পৃষ্ঠ' কে স্থীর বলা হয়েছে, যার অর্থ এক্ষেত্রে আল-আর্দের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত অর্থটি হবে 'পৃথিবীর পৃষ্ঠ'। অর্থাৎ পৃথিবীর পৃষ্ঠ স্থীর। পৃথিবীর পৃষ্ঠ স্থীর হয়ার বিষয়টি তখন বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে যখন পৃথিবীতে অবস্থিত একজন মানুষকে প্রসংগবিন্দু ধরে এই প্রসংগবিন্দু সাপেক্ষে এমনটা বলা হবে ; আর কোরান সুন্নাহর অসংখ্যা বিষয় পরোক্ষভাবে এটা প্রমাণ করে যে কোরান সুন্নাহতে সবকিছু বর্ণিত হয়েছে মানুষ ও মানবইন্দ্রীয়সমুহকে ফ্রেইম অফ রেফারেন্স বা প্রসংগবিন্দু ধরে নিয়ে। যার অর্থ কোরান যদি বলে পৃথিবীর পৃষ্ঠ স্থীর তাহলে তা কোনো অবৈজ্ঞানিক বিষয় হবেনা।

 

এখন কেও এসে বলতে পারে : " এরমানেকি সাত আসমানের সাতটি স্তর পৃথিবীর উপর পতিত হতে পারে? এই দেখো!  এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অমুক মুফাসসির অমুক গ্রন্থে বলেছেন যে এরদ্বারা বোঝানো হয়েছে যে আল্লাহ আকাশকে ধরে স্থীর রাখেন যাতে তা যমিনের উপর পতিত না হয় " 

 

এর প্রতিউত্তর নিম্নরুপ :

 

একশ্রেণীর আলেম উক্ত আয়াতকে সুরা আল-হাজ্জের আয়াত নং  65 দ্বারা ব্যাখ্যা করে এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে সব মুফাসসির এমনটা করেন নি, এমনকি এমনটাত অধিকাংশ মুফাসসিরদেরও মত নয়, এরকম ব্যাখ্যা বাদ দিয়েও উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করা যায়, বিপুল সংখ্যাক মুফাসসির এমন রয়েছেন যারা আলোচ্য আয়াতটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সুরা আল-হাজ্জের সেই আয়াতটিকে এনে এমন ব্যাখ্যা দেন নি। কাজেই আলোচ্য আয়াতের ক্ষেত্রে এমনটা হয়া জরুরি না যে একে সুরা আল-হাজ্জের সেই আয়াতটি দিয়ে ব্যাখ্যা করা লাগবে।

 

সাহাবি ইবনু মাসউদ (রা) এই আয়াতটিকে পরোক্ষভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই আয়াত হতে তিনি যা বুঝেছেন, সেই বুঝের সারমর্ম হলো এই যে সাত আসমানের স্তরগুলো স্থির হয়ে আছে [2]। যেখানে সাহাবি ইবনু মাসউদ (রা) আলোচ্য আয়াত হতে প্রাপ্ত এতটুকু বিষয়কেই ব্যাখ্যা হিসেবে যথেষ্ট মনে করেছেন, সেখানে এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে আলোচ্য আয়াতের প্রকৃত ব্যাখ্যা বা সম্পুর্ণ ব্যাখ্যা সুরা আল-হাজ্জের সেই আয়াতটিতে আছে।

 

 টিকাসমুহ : 

 

[1]সুরা ফাতির, আয়াত 41 

 

[2]তাফসিরুত তাবারী (19/391-392) ; আছ-ছা'লাবী, আল-কাশফু ওয়াল বায়ান (8/115);ইবনু মানদাহ, আত-তাওহিদ (64) ; সুনানু সাঈদ বিন মানসুর তাকমিলাতুত তাফসির (7/124) ; তাফসিরু ইবনু আতিয়াহ (7/227)।

 

 

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

সআ
সামিউল হাসান তবিব আল-ইনফিরাদী
75 আর্টিকেল

দ্রষ্টব্য : 22 November 2023 এ আমি ফেসবুক ব্যবহার করা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছি এবং 22 November 2023 এর পর আমি আর কখনোই ফেসবুকে ফিরে আসিনি এবং আসবনা। 22 November 2023 এর পর কেউ যদি কখনো ফেসবুকে দাবি করে যে সে আমি, তাহলে অবশ্যই ধরে নিতে হবে যে সে আমি না বরং সে আমি হওয়ার অভিনয় করছে। আমার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে ফ্রম মুসলিমস এর লেখক Ashraful Nafiz ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন।