Are you sure?

ইতিহাস »  সিরাত

এটা কি সুস্পষ্ট হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে মুহাম্মাদ ﷺ যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করেছিলেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছর ছিল?   

বিষয় : এটা কি সুস্পষ্ট হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে মুহাম্মাদ ﷺ যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করেছিলেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছর ছিল?   

লেখক : সামিউল হাসান তবিব আল-ইনফিরাদী 


সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে আয়িশাহর (রা) বয়স যখন নয় বছর ছিল তখন মুহাম্মাদ ﷺ তাঁকে নিজ স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলেছিলেন। তবে মুহাম্মাদ ﷺ ও আয়িশাহ (রা) এর মাঝে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সহবাস সংঘটিত হওয়ার সময় আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছরই ছিল এইমর্মে কোনো সুস্পষ্ট নির্ভরযোগ্য হাদিস নেই। একটি হাদিস দেখিয়ে দাবি করা হয় যে হাদিসটিতে নাকি একদম সুস্পষ্টভাবেই বলে দেওয়া হয়েছে যে আয়িশাহর (রা) বয়স যখন নয় বছর ছিল মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর সহিত ঠিক তখনই সহবাস করেছিলেন। হাদিসটি নিম্নরূপ :-  

"আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে যে আয়িশাহ (রা) যখন ছয় বছর বয়সী ছিলেন তখন রাসূল (সা) তাঁকে বিয়ে করেন এবং তিনি যখন নয় বছর বয়সী ছিলেন তখন রাসূল (সা) তাঁর সহিত সহবাস করেন।" _[1]  

উক্ত হাদিসে কি এরকম কিছু অউদো সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কিনা সেটাই আমার এই লেখার মূল আলোচ্য প্রসঙ্গ।  

উক্ত হাদিসটির মূলপাঠটির জন্য ছোটোখাটো পার্থক্যযুক্ত বিপুল সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন রূপ বিদ্যমান যার মধ্য থেকে কিছু কিছু রূপ উপর্যুক্ত মূলপাঠটির চেয়ে অধিকতর বিস্তারিত এবং উক্ত মূলপাঠটিতে অনুপস্থিত কিছু অতিরিক্ত তথ্যকে ধারণকারী। তাছাড়া উক্ত হাদিসটি অনেকগুলো সনদ-উপসনদ এর সূত্র ধরে বর্ণিত হয়েছে।  

উক্ত হাদিসটির যে অংশটি "সহবাস করা" হিসেবে অনেকক্ষেত্রে অনুবাদকৃত হয়ে থাকে সে অংশটির আছে পাঠান্তরজনিত একাধিক প্রচলিত রূপভেদ যার মধ্য থেকে প্রত্যেকটিই আবার ভাষাগতভাবে কিছুটা দ্ব্যর্থক। "সহবাস করা" হিসেবে অনূদিত অংশটির প্রতিবেশে উক্ত হাদিসটির একাধিক পাঠ্যরূপের প্রতিটিতেই এমন কোনো না কোনো কথা ব্যবহৃত হয়েছে যা সহবাস সংঘটিত হওয়াকে বুঝিয়ে কিংবা না বুঝিয়ে কোনো স্বামী কর্তৃক তার নিজ স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে সংসার আরম্ভ করার ব্যাপারটিকে নির্দেশ করে। 

"সহবাস করা" হিসেবে অনূদিত অংশটির প্রতিবেশে ব্যবহৃত এবং একইসাথে উক্ত হাদিসটির পাঠ্যরূপসমূহ জুড়ে বহুল প্রচলিত এমন মোট পাঁচটি আরবি উক্তি পাওয়া যায়, যথা : الدخول بِ ، الدخول علی ، البناء بِ ، الاهتداء إلی ، زف।  

সাধারণত, কোনো স্বামী কর্তৃক তার নিজ স্ত্রীর সহিত الدخول بِ করা বলতে তাদের মাঝে সহবাস সংঘটিত হওয়াকেই কিছুটা সূভাষণমূলকভাবে নির্দেশ করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি অতিসুক্ষ্ম জটিলতা আছে যা একটু পরেই স্পষ্ট হবে। 

আলোচনাধীন হাদিসটির কোনো পাঠ্যরূপে বক্তাপক্ষ আয়িশাহ (রা) কর্তৃক "دخل بي" (তিনি আমার সাথে الدخول بِ করেছেন) কথাটিকে বলার দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে এবং অকাট্যভাবে এটা প্রমাণিত হয়ে যেতো যে উক্ত হাদিসে আয়িশাহ (রা) এবং মুহাম্মাদ ﷺ এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হওয়ার কথাই বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে যে কারণে এমনটা এভাবে প্রমাণিত হবে না সে কারণটা এই যে, বক্তাপক্ষের দৃষ্টিকোণ হতে বর্ণিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও হাদিস-বর্ণনাকারীগণ তথা রাবীগণ হাদিসের মূল প্রকৃত রূপের আক্ষরিকতাকে হুবুহু বজায় রাখার খুব একটা চেষ্টা করতেন না বরং সামগ্রিক অর্থটাকে ধ্রুব রাখতে পারাটাকেই যথেষ্ট মনে করতেন।  

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ফক্বিহ আবু-বকর ইবনুল-আরাবী তাঁর "আহকামুল কোরআন" গ্রন্থে তালাকের প্রেক্ষাপটে সহবাসের বিবেচ্যতা সংক্রান্ত এমন একটি ফিক্বহী আলোচনা প্রদান করেছেন যা থেকে الدخول ب সম্পর্কে এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় [2]। যথা :- 

(১) যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্য থেকে অন্ততপক্ষে কোনো একজন স্বীকার করে যে তাদের মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়েছে এবং অপরজন তা অস্বীকার করা হতে বিরত থাকে তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে উক্ত স্বামী তার উক্ত স্ত্রীকে الدخول ب করেছে।  

(২) স্বামী কর্তৃক তার স্ত্রীকে নিয়ে কোনো কক্ষে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলে এবং উক্ত কক্ষে তারা দুইজন ব্যতীত অন্য আর কেউ অনুপস্থিত থাকলে ধরে নেওয়া হবে যে উক্ত স্বামী তার উক্ত স্ত্রীকে الدخول ب করেছে। 

(৩) الدخول بِ সংঘটিত হওয়া সহবাস সংঘটিত হওয়াকে আবশ্যক করে না। 

আলোচনাধীন হাদিসটির যে অংশটি "সহবাস করা" হিসেবে অনূদিত হয় সে অংশটির প্রতিবেশে আয়িশাহ (রা) যদি প্রকৃতপক্ষে এমনকিছু বলে থাকেন যা সহবাস সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য দেওয়া হতে বিরত থেকে নিছক ও কেবল এতটুকু ব্যক্ত করে যে মুহাম্মাদ ﷺ ও আয়িশাহ (রা) স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একান্তভাবে আলাদা একটি কক্ষে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে সময় কাটিয়েছিলেন বা রাত্রিযাপন করেছিলেন, তাহলেও হাদিসের রাবিগণ আয়িশাহ (রা) এর উক্ত কথাটাকে মুহাম্মাদ ﷺ কর্তৃক আয়িশাহকে (রা) الدخول ب করা বলেই বিবেচনা করতেই পারেন, যেহেতু তৎকালীন সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এরূপ ক্ষেত্রে সহবাস সংঘটিত না হওয়াটা ছিল খুবই বিরল, এবং যেহেতু আয়িশাহ (রা) প্রকৃতপক্ষে যা বলেছিলেন তা এক্ষেত্রে সহবাস সংঘটিত না হওয়ার দিকেও কোনো ইঙ্গিত প্রদান করেনি। 

প্রাচীন আরবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে الدخول ب করার জন্য বিশেষ তাবু নির্মাণ (البناء) করার প্রচলন ছিল। তাই الدخول ب উক্তিটির সমার্থক বিকল্প হিসেবে অনেকসময় ব্যবহৃত হয় البناء ب বা البناء علی। _[3][4]  

অপরদিকে, الدخول علی উক্তিটির অর্থ কেবল "সাক্ষাৎ করা", الإهتداء إلی উক্তিটির অর্থ নিছক "দিকে বা উদ্দেশ্যে প্রেরিত হওয়া বা প্রেরণ করা", زف মানে হলো "কনেকে বরের কাছে পাঠানো"। উক্ত উক্তিত্রয়ের কোনোটিরই কোনো সহজাত সম্পর্ক নেই সহবাসের সহিত। 

উপর্যুক্ত এসব কথার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, আলোচনাধীন হাদিসটি মুহাম্মাদ ﷺ কর্তৃক নয় বছর বয়সী আয়িশাহর (রা) সহিত সহবাস করাকে একটি যথেষ্ট শক্তিশালী সম্ভাবনা হিসেবে সাব্যস্ত করলেও কোনো প্রমাণিত অকাট্য সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অক্ষম। সুতরাং, উক্ত হাদিসটি দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় না যে মুহাম্মাদ ﷺ যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করেছিলেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছরই ছিল। 

মুহাম্মাদ ﷺ আয়িশাহর (রা) সহিত যখন সহবাস করেছিলেন তখন আয়িশাহর (রা) বয়স নয় বছরই ছিল তা নিশ্চয়তার সহিত বলা না গেলেও এতটুকু মোটামোটি সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে তখন আয়িশাহর (রা) বয়স ৯-১৪ বছরের মধ্যেই ছিল। 

তো এখন প্রশ্ন হলো, মুহাম্মাদ ﷺ কি ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি কোনো বিশেষ ধরনের যৌন আকর্ষণ অনুভব করতেন? মুহাম্মাদ ﷺ কি এক্ষেত্রে কোনো ধরনের কোনো মানসিক অস্বাভাবিকতার দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন?  

আয়িশাহ (রা) কে বাদ দিলে, মুহাম্মাদ ﷺ এর অন্য দশ জন স্ত্রীর প্রত্যেকেই ১৫-৬৬ বছর বয়সে মুহাম্মাদ ﷺ এর সহিত দাম্পত্যজীবন আরম্ভ করেছিলেন [5]। অতএব, ৯-১৪ বছর বয়সী না এমন নারীরাই ছিলেন মুহাম্মাদ ﷺ এর সাধারণ পছন্দ, এবং এক্ষেত্রে আয়িশাহ (রা) ছিলেন একজন ব্যতিক্রম। 

কোনো পুরুষ কর্তৃক কোনো নারীর প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করার ক্ষেত্রে, উক্ত পুরুষটির মস্তিষ্ক উক্ত নারীটির বয়স হিসেব করে না, বরং উক্ত পুরুষটির মস্তিষ্ক এটা দেখে যে উক্ত নারীটির দৈহ্যিক তথা শারীরিক গঠন-প্রকৃতি কেমন। অর্থাৎ, উক্ত প্রেক্ষিতে, নারীর শারীরিক গঠন-প্রকৃতিই অধিকতর প্রাসঙ্গিক, অধিকতর শক্তিশালী প্রভাবক, এবং অধিকতর গুরুত্বপুর্ণ। যারা কমবয়সীদের প্রতি যৌনভাবে আকৃষ্ট, তারা মূলত উক্ত কমবয়সীদের অপরিপক্ক দৈহ্যিক গঠন-প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট, বয়সবাচক সংখ্যা এক্ষেত্রে মুখ্য নয়।  

৯-১৪ বছর বয়সী আয়িশাহর (রা) শারীরিক গঠন-প্রকৃতি সম্পর্কে একটি ধারণা অর্জন করা যায় স্বয়ং আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত একটি হাদিস থেকেই। সেই হাদিসটির সারকথা নিম্নরূপ :-  

"আয়িশাহর (রা) মা উম্মু-রুউমান (রা) আয়িশাহকে (রা) রাসূল (সা) এর নিকট স্ত্রী হিসেবে প্রেরণ করার পূর্বে তাঁকে একজন হৃষ্টপুষ্ট স্থুলকায় নারীতে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন। উক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বিভিন্নভাবে আয়িশাহর (রা) মাঝে শারীরিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অতঃপর উম্মু-রুউমান (রা) আয়িশাহকে (রা) শসা এবং খেজুর খাওয়ান। অতঃপর আয়িশাহ (রা) একজন হৃষ্টপুষ্ট স্থুলকায় নারীতে পরিণত হন এবং এই অবস্থাতেই তাঁকে মুহাম্মাদ (সা) এর নিকট স্ত্রী হিসেবে প্রেরণ করা হয়।"_[6]  

আয়িশাহর (রা) উক্ত হৃষ্টপুষ্ট স্থুলকায়তার মাত্রা-প্রকৃতি ঠিক কীরূপ ছিল, তা স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে আয়িশাহ (রা) উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে একটি উপমা প্রদান করেছেন, উপমাটি হলো "كأحسن السمن" অর্থাৎ "সর্বোত্তম হৃষ্টপুষ্ট-স্থুলকায়তার ন্যায়"। _[6][7]  

"সর্বোত্তম হৃষ্টপুষ্ট-স্থুলকায়তা" এমন একটি গুণ যা কেবল আয়িশাহর (রা) চেয়ে অধিকতর বয়স্ক নারীদের মধ্যেই থাকা সম্ভব। 

সুতরাং, আয়িশাহর (রা) দৈহ্যিক গঠন-প্রকৃতি প্রাপ্তবয়স্ক পরিপক্ক নারীদের সহিত কিছুটা হলেও সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল, এবং উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণতার মাত্রা এমন ছিল যে আয়িশাহ (রা) নিজেই নিজেকে শারীরিক গঠন-প্রকৃতির প্রেক্ষিতে অধিকতর বয়স্ক নারীদের সহিত তুলনীয় বলে মনে করতেন।  

আয়িশাহ (রা) কর্তৃক অধিকতর বয়স্ক নারীদের সহিত শারীরিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি মুহাম্মাদ ﷺ এর সাধারণ পছন্দের সহিত খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

মুহাম্মাদ ﷺ এর সাধারণ পছন্দের বিপরীতে বিদ্যমান একমাত্র প্রতি-উদাহরণ আয়িশাহ (রা) নিজে ১৫-৬৬ বছর বয়সী না হলেও ১৫-৬৬ বছর বয়সীদের সহিত দৈহ্যিকভাবে কিছুটা হলেও সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন।  

অতএব, মুহাম্মাদ ﷺ কর্তৃক ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি কোনো বিশেষ ধরনের যৌন আকর্ষণ অনুভব করার ব্যাপারটির সত্যতা অতিসন্দেহজনক। 

১৫-৬৬ বছর বয়সী নারীরা যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সাধারণ পছন্দ সে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ কর্তৃক ১৫-৬৬ বছর বয়সী নারীদের সহিত শারীরিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ ৯-১৪ বছর বয়সী কোনো একজন সুনির্দিষ্ট বিশেষ নারীর প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করার পিছনের মূল কারণ মানসিক অস্বাভাবিকতা হতে ভিন্ন অন্য কিছুও হতে পারে। অর্থাৎ মানসিক অসুস্থতাই এক্ষেত্রে একমাত্র সম্ভাব্য মূল কারণ না।  

তো এখন প্রশ্ন হলো, মুহাম্মাদ ﷺ কি আয়িশাহকে (রা) জোরপূর্বক সহবাসে বাধ্য করেছিলেন?  

জাবির বিন আব্দুল্লাহ আলমাদানী (রা) বলেছেন যে : " রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে কিছু চাওয়া হয়েছে আর তিনি উত্তরে না বলেছেন, এমনটা কখনোই হয়নি। "_[8]  

জাবিরের (রা) উক্ত হাদিসটিকে ব্যাপকার্থে নিয়ে বলা যায় যে, যদি আয়িশাহ (রা) সহবাস হতে বিরত থাকতে চাইতেন তাহলে রাসূল ﷺ তাঁকে (রা) তা হতে বিরত থাকতে দিতেন।  

স্ত্রীকে সহবাসে জোরপূর্বক বাধ্য করার মতো ব্যক্তি মুহাম্মাদ ﷺ ছিলেন না। মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর কোনো স্ত্রীকে কখনো সহবাসে জোরপূর্বক বাধ্য করেছেন এইমর্মের কিছুই কোনো হাদিসেই পাওয়া যায় না। 

অপরদিকে, মুহাম্মাদ ﷺ কর্তৃক তাঁর একজন অতিসাময়িক স্ত্রী উমাইমাহকে সহবাসে জোরপূর্বক বাধ্য করা হতে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার দৃষ্টান্ত সহিহ হাদিসে আছে।  

মুহাম্মাদ (সা) 'উমাইমাহ বিনতুন নোমান ইবনুশ শারাহিল আলজাওনিয়াহ' নামক একজন মহিলাকে বিয়ে করেন, অতঃপর তিনি (সা) তাঁর এই নতুন স্ত্রী উমাইমাহ এর সহিত স্বামী হিসেবে সাক্ষাত করার উদ্দেশ্যে উমাইমাহর কক্ষে যান, উমাইমাহর কক্ষে গিয়ে তিনি (সা) উমাইমাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন : "তুমি তোমার নফস আমাকে দাও"(অর্থাৎ স্ত্রী হিসেবে আমার অধীনস্থ হও) , এর উত্তরে উমাইমাহ বলেন : "একজন রাণী কি নিজেকে একজন সাধারণ লোকের অধীনস্থ করে?" অতঃপর রাসূল (সা) উমাইমাহর দিকে হাত বাড়িয়ে উমাইমাহকে স্পর্শ করেন, উমাইমাহ রাসূল (সা) এর দ্বারা স্পর্শকৃত হয়ার বিষয়টি অপছন্দ করে এবং রাসূল (সা) হতে আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনা করে, উমাইমাহর এই প্রতিক্রিয়া দেখে রাসূল (সা) বলেন : "তুমি উপযুক্ত সত্তারই আশ্রয় নিয়েছ, ", একথা বলে রাসূল (সা) উমাইমাহ এর কক্ষ হতে বের হয়ে যান, উমাইমাহ এর কক্ষ হতে বের হয়ে তিনি (সা) বাইরে অবস্থিত সাহাবী আবু উসাইদ (রা) কে উদ্দেশ্য করে বলেন : হে আবু উসাইদ, তাকে (উমাইমাহকে) দুইটি রাযিক্বিয়াহ (এক ধরনের পোশাকের নাম) পরিধান করাও এবং তাকে তার পরিবারের নিকট পাঠিয়ে দাও। __[9] 


টীকাসমূহ :  

[1]
المسند المصنف المعلل (دار الغرب الإسلامي ، الجزء 38 ، الصفحة 212-218) والمسند الجامع (دار الجيل و الشركة المتحدة ، الجزء 19 ، الصفحة 788-792) 

[2] 
أحكام القرآن لابن العربي (دار الكتب العلمية ، الجزء 3 ، الصفحة 587) 

[3] 
كشف المشكل من حديث الصحيحين لابن الجوزي (دار الوطن ، الجزء 3 ، الصفحة 494) 

[4] 
تقويم اللسان لابن الجوزي (دار المعارف، الصفحة 81) 

[5]   
https://www.islamweb.net/amp/ar/fatwa/266182/  

[6] 
السنن لابن ماجه (دار الرسالة العالمية ، الجزء 4 ، الصفحة 435-436 ، رقم الحديث 3324 ، التعليق 1) و السنن لأبي داود (دار الرسالة العالمية ، 6/48 ، رقم الحديث 3903 ، التعليق 1) والمسند المصنف المعلل (دار الغرب الإسلامي ، الجزء 38 ، الصفحة 452-453 ، رقم الحديث 18424) والمسند الجامع (دار الجيل و الشركة المتحدة ، 20/68 ، رقم الحديث 16830)  

[7]
حسن التنبه لما ورد في التشبه لنجم الدين الغزي (دار النوادر ، 10/526) 

[8]
صحيح مسلم (دار الطباعة العامرة ، 7/74 , رقم الحديث 2311) 

[9] 
صحيح البخاري (السلطانية ،7/41، رقم الحديث 5254, 5255, 5256, 5257)