বিষয় : এটা কি প্রমাণিত যে রাসূল (সা) যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করেছিলেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছর ছিল?
লেখক : সামিউল হাসান তবিব আলইনফিরাদী
সূচনা :
মুহাম্মাদ (সা) এবং আয়িশাহ (রা:) এর মাঝে সংঘটিত হয়া বিবাহকে কেন্দ্র করে ইসলামবিরোধীদের কর্তৃক দাবি করা হয়েছে যে মুহাম্মাদ ﷺ এবং আয়িশাহ (রা:) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার সময়ে আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছর ছিল।
উক্ত দাবিটির পক্ষে ইসলামবিরোধীদের কর্তৃক উপস্থাপিত প্রমাণটি হচ্ছে আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিসটি।
আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে যে : আয়িশাহ (রা) যখন ছয় বছর বয়সী ছিলেন তখন রাসূল (সা) তাঁকে বিয়ে করেন এবং তিনি যখন নয় বছর বয়সী ছিলেন তখন রাসূল (সা) তাঁর সহিত সহবাস করেন। [1]
ইসলামবিরোধীদের উক্ত দাবিটি ভিত্তিহীন এবং উক্ত দাবিটির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখকৃত আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত উক্ত হাদিসটি দ্বারা উক্ত দাবিটি সঠিক প্রমাণিত হয়না।
আমার এই বক্তব্যটি সঠিক হয়ার সুবিস্তারিত যুক্তিভিত্তিক প্রমাণ নিম্নে উপস্থাপন করা হল।
প্রথম কথা :
উপর্যুক্ত এই হাদিসটির মূলপাঠটির জন্য ছোটোখাটো পার্থক্যবিশিষ্ট বিপুল সংখ্যাক ভিন্ন ভিন্ন রূপ বিদ্যমান, তবে এই বিপুল সংখ্যাক ভিন্ন ভিন্ন রূপ এর মধ্যে কিছু কিছু রূপ উপর্যুক্ত মূলপাঠটির চেয়ে অধিক বিস্তারিত এবং উপর্যুক্ত মূলপাঠটিতে অবিদ্যমান কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা বা তথ্য ধারণকারী। তাছাড়া উপর্যুক্ত হাদিসটি অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন সনদ এবং উপসনদ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
উক্ত হাদিসটির মূলপাঠটির কিছু কিছু রূপে الدخول بالمرأة উক্তিটি এবং কিছু কিছু রূপে البناء بالمرأة উক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে, লেখার সরলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এক্ষেত্রে আমি এই দুইটি আরবি উক্তিকে যথাক্রমে "প্রথম উক্তি" এবং "দ্বিতীয় উক্তি" বলে সম্বোধন করব। এই দুটি উক্তির অর্থ অনেকক্ষেত্রেই সহবাস করা হয়। উক্ত হাদিসটির মূলপাঠটির যেসব রূপে উক্ত উক্তিদ্বয়ের কোনোটিই ব্যবহৃত হয়নি, সেসব রূপের কোনোটিতেই এমন কোনো উক্তি বা শব্দ বর্ণিত হয়নি যার প্রচলিত শাব্দিক অর্থ সহবাস করা হয়।
সুতরাং উক্ত হাদিসটির মূলপাঠটির যেসব রূপে উক্ত উক্তিদ্বয় বর্ণিত হয়েছে শুধুমাত্র সেসব রূপ এর উপর ভিত্তি করেই ইসলামবিরোধীদের দ্বারা কৃত উপর্যুক্ত আলোচনাধীন দাবিটি করার সুযোগ থাকে,এবং হাদিসটির মূলপাঠটির যেসব রূপ উক্ত উক্তিদ্বয় হতে মুক্ত সেসব রূপ এর উপর ভিত্তি করে উক্ত দাবিটি করার সুযোগ থাকেনা।
দ্বিতীয় কথা :
উক্ত হাদিসটি দ্বারা আলোচনাধীন উপর্যুক্ত দাবিটি সঠিক প্রমাণিত হয় না নাকি হয় না তা নির্ভর করে এই ব্যাপারটার উপর যে হাদিসটির ক্ষেত্রে উক্ত উক্তিদ্বয় দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে সহবাস করা বুঝানো হয়েছে নাকি অন্যকিছু বুঝানো হয়েছে।
যদি হাদিসটির ক্ষেত্রে উক্তিদ্বয় দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে সহবাস বুঝানো হয়ে থাকে, তাহলে হাদিসটি দ্বারা দাবিটি সঠিক প্রমাণিত হবে।
যদি হাদিসটির ক্ষেত্রে উক্তিদ্বয় দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে সহবাস বুঝানো না হয়ে থাকে বরং অন্যকিছু বুঝানো হয়ে থাকে, তাহলে হাদিসটি দ্বারা দাবিটি সঠিক প্রমাণিত হবেনা।
তৃতীয় কথা :
প্রথম উক্তিটি এবং দ্বিতীয় উক্তিটি একে অপরের সমার্থক, কিন্ত প্রথম উক্তিটি হচ্ছে দ্বিতীয় উক্তিটির মূল বা ভিত্তি, প্রথম উক্তিটিকেই অসরাসরিভাবে ব্যক্ত করার জন্য দ্বিতীয় উক্তিটি ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ দ্বিতীয় উক্তিটি হচ্ছে প্রথম উক্তিটির একটি রূপস্বরূপ [2][3]। কাজেই এক্ষেত্রে উক্তিদ্বয় সম্পর্কে আলাদাভাবে চিন্তা করাটা অপ্রয়োজনীয়, বরং এক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রথম উক্তিটি সম্পর্কে চিন্তা করাটাই উক্তিদ্বয় এর উভয় সম্পর্কে চিন্তা করা এর সমতূল্য।
চতুর্থ কথা :
প্রথম উক্তিটির জন্য মোট দুইটি প্রচলিত অর্থ বিদ্যমান, যথা ;-
১. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর সহিত সহবাস করা।[4]
২.স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অধীনে আনাপূর্বক ঘরে প্রবেশ করানো। [5][6][7]
অর্থাৎ সহবাস করা অর্থটি প্রথম উক্তিটির একমাত্র অর্থ নয়।
পঞ্চম কথা :
উক্ত হাদিসটির মূলপাঠটির কিছু কিছু রূপে প্রথম উক্তিটি এবং প্রথম উক্তিটির অপর রূপ দ্বিতীয় উক্তিটি ব্যবহৃত না হয়ে উক্তিদ্বয়ের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে الدخول علی এবং زفّ এবং إهتداء إلی ব্যবহৃত হয়েছে, [8]লেখার সরলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এক্ষেত্রে আমি এই তিনটি আরবি উক্তিকে যথাক্রমে "তৃতীয় উক্তি", "চতুর্থ উক্তি" এবং "পঞ্চম উক্তি" বলে সম্বোধন করব।
তৃতীয় উক্তিটির অর্থ হল "সাক্ষাত করা ", চতুর্থ উক্তিটির অর্থ হল "পৌঁছে যাওয়া" এবং পঞ্চম উক্তিটির অর্থ হল "বউ নিয়ে আসা।"
ষষ্ঠ কথা :
আলোচনাধীন উপর্যুক্ত পাঁচটি উক্তি হচ্ছে একই হাদিসের একই অংশের বিভিন্ন রূপ এবং এক্ষেত্রে পাঁচটি উক্তির সবগুলোই অর্থের দিক দিয়ে একে অপরের খুবই নিকটবর্তী। সুতরাং এই পাঁচটি উক্তির মাঝে সামঞ্জস্যসাধন করতে হবে।
দুইভাবে উক্ত পাঁচটি উক্তির মাঝে সামঞ্জস্যসাধন করা যায়, যথা :-
১. প্রথম এবং দ্বিতীয় উক্তিটি দ্বারা প্রথম উক্তিটির সহবাস করা অর্থটি উদ্দেশ্য এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম উক্তিটি দ্বারা পরোক্ষভাবে আকার-ইঙ্গিতে সহবাস করা বুঝানো হয়েছে।
২. তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম উক্তিটি দ্বারা সহবাস করা বুঝানো হয়নি বরং নিছকই সাধারণভাবে স্বাভাবিক অর্থে সাক্ষাত করা, পৌঁছে যাওয়া ও বউ নিয়ে আসা বুঝানো হয়েছে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় উক্তিটি দ্বারা প্রথম উক্তিটির "স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অধীনে আনাপূর্বক ঘরে প্রবেশ করানো" অর্থটি উদ্দেশ্য।
যদি উপর্যুক্ত ১নং সামঞ্জস্যসাধনমূলক ব্যাখ্যাটি সত্য হয় এবং উপর্যুক্ত ২নং সামঞ্জস্যসাধনমূলক ব্যাখ্যাটি মিথ্যা হয়, তাহলে আলোচনাধীন উক্ত হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টিই ব্যক্তকৃত হয়েছে।
যদি উপর্যুক্ত ২নং সামঞ্জস্যসাধনমূলক ব্যাখ্যাটি সত্য হয় এবং উপর্যুক্ত ১নং সামঞ্জস্য-সাধনমূলক ব্যাখ্যাটি মিথ্যা হয়, তাহলে আলোচনাধীন উক্ত হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টি ব্যক্তকৃত হয়নি বরং নিছকই রাসূল (সা) কর্তৃক আয়িশাহ (রা) কে স্ত্রী হিসেবে ঘরে উঠানোর বিষয়টি ব্যক্তকৃত হয়েছে।
সপ্তম কথা :
ষষ্ঠ কথা অংশে উল্লেখকৃত সামঞ্জস্যসাধনমূলক ব্যাখ্যাদ্বয় এর কোনো একটিকে নিশ্চয়তার সহিত সত্য বা মিথ্যা সাব্যস্ত করা যাবেনা, কেননা এক্ষেত্রে ব্যাখ্যাদ্বয়ের উভয়ই গ্রহণযোগ্য এবং সঠিক হয়ার দিক দিয়ে সমানভাবে সম্ভাব্য, এমন কোনো প্রমাণ বা কারণ নেই যার উপর ভিত্তি করে উক্ত ব্যাখ্যাদ্বয়ের কোনো একটিকে নিশ্চয়তার সহিত সত্য বা মিথ্যা সাব্যস্ত করা যায়।
সুতরাং এক্ষেত্রে নিশ্চয়তার সহিত এটা দাবি করা যাবেনা যে হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টিই ব্যক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং এক্ষেত্রে নিশ্চয়তার সহিত এটাও দাবি করা যাবেনা যে হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টি ব্যক্ত করা হয়নি বরং নিছকই রাসূল কর্তৃক আয়িশাহ (রা) কে স্ত্রী হিসেবে ঘরে উঠানোর বিষয়টি ব্যক্ত করা হয়েছে।
হয় হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টিই ব্যক্ত করা হয়েছে, আর নাহয় হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টি ব্যক্ত করা হয়নি বরং নিছকই রাসূল (সা) কর্তৃক আয়িশাহ (রা) কে স্ত্রী হিসেবে ঘরে উঠানোর বিষয়টি ব্যক্ত করা হয়েছে।ব্যক্তকৃত হয়ে থাকতে পারা এই দুটি সম্ভাব্য বিষয়ের মধ্যে কোনটি প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তকৃত হয়েছে তা অনিশ্চিত, তা এমন এক প্রশ্ন যার উত্তর নিশ্চয়তার সহিত প্রদান করা যায়না।
অর্থাৎ আলোচনাধীন উপর্যুক্ত হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টি ব্যক্ত করা হয়েছে নাকি হয়নি তা একটি অনিশ্চিত বিষয়।
অষ্টম কথা :
যেহেতু হাদিসটিতে সহবাস সংঘটিত হয়ার বিষয়টি ব্যক্ত করা হয়েছে নাকি হয়নি তা একটি অনিশ্চিত বিষয়, সুতরাং হাদিসটি দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়না যে রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা:) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার সময়ে আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছর ছিল।
হাদিসটি দ্বারা রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার সময়ে আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছর হয়ার বিষয়টি সত্য হয়ার সম্ভাব্যতা সাব্যস্ত হয়, কিন্ত নয় বছর হয়ার বিষয়টি একটি সত্য তথ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়না।
নবম কথা :
উল্লেখ্য যে, প্রথম উক্তিটি এবং দ্বিতীয় উক্তিটি দ্বারা প্রথম উক্তিটির জন্য বিদ্যমান চতুর্থ কথা অংশে উল্লেখকৃত ২ নং অর্থটি উদ্দেশ্য হয়ার সম্ভাবনা থাকার বিষয়টি বিভিন্ন উলামাদের দ্বারা সমর্থিত,যাদের মধ্যে আছেন ইবনুল মালাক, আততাইবী,আলমুযহিরী, আলী আলক্বারী, ইবনু রাসলান, আলবিরমাওই এবং এছাড়াও অন্যান্য আরও অনেকে।[9]
পরিশিষ্ট :
রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়েছিল, এটা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্ত এক্ষেত্রে নিশ্চয়তার সহিত এটা দাবি করা যাবেনা যে আয়িশাহ (রা) এর বয়স যখন নয় বছর ছিল তখনই রাসূল (সা) আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করেছিলেন। রাসূল (সা) যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করা আরম্ভ করেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স কত ছিল তা একটি অনিশ্চিত ও অস্পষ্ট বিষয়, কোনো হাদিসে এব্যাপারটার স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়না।
একটি অতিরিক্ত সংযোজিত আলোচনা :
রাসূল (সা) যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স নয় বছর ছিল, এটা সত্য হয়ার সম্ভাবনা এবং মিথ্যা হয়ার সম্ভাবনা একে অপরের প্রায় সমান।
রাসূল (সা) যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করা আরম্ভ করেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স বছরের হিসেবে ৯ অথবা ১০ অথবা ১১ অথবা ১২ অথবা ১৩ অথবা ১৪ ছিল, এটা সত্য হয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত উচ্চ ও তীব্র এবং মিথ্যা হয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ধরে নিচ্ছি যে রাসূল (সা) যখন আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করা আরম্ভ করেন তখন আয়িশাহ (রা) এর বয়স ৯-১৪ বছর ছিল।
রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার সময়ে আয়িশাহ (রা) এর বয়স যদি ৯-১৪ বছর হয়ে থাকে, তাহলে এক্ষেত্রে বেশকিছু প্রশ্নের আগমন ঘটে , যথা :-
১. রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার ক্ষেত্রে আয়িশাহ (রা) কি সহবাসে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন?
২. রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার ক্ষেত্রে আয়িশাহ (রা) কি বালিগ্বাহ ছিলেন নাকি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন?
৩. রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করার ফলে আয়িশাহ (রা) কি শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন?
৪. রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করার ফলে আয়িশাহ (রা) কি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন?
৫. রাসূল (সা) কি কোনো যৌনতা সংক্রান্ত মানসিক সমস্যা দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন?
৬. রাসূল (সা) কর্তৃক আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করার বিষয়টি কি অনৈতিক ছিল?
উপর্যুক্ত ছয়টি প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ।
১ নং প্রশ্নটির উত্তর :-
মুহাম্মাদ (সা) 'উমাইমাহ বিনতুন নোমান ইবনুশ শারাহিল আলজাওনিয়াহ' নামক একজন মহিলাকে বিয়ে করেন, অতঃপর তিনি (সা) তাঁর এই নতুন স্ত্রী উমাইমাহ এর সহিত স্বামী হিসেবে সাক্ষাত করার উদ্দেশ্যে উমাইমাহর কক্ষে যান, উমাইমাহর কক্ষে গিয়ে তিনি (সা) উমাইমাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন : "তুমি তোমার নফস আমাকে দাও"(অর্থাৎ স্ত্রী হিসেবে আমার অধীনস্থ হও) , এর উত্তরে উমাইমাহ বলেন : "একজন রাণী কি নিজেকে একজন সাধারণ লোকের অধীনস্থ করে?" অতঃপর রাসূল (সা) উমাইমাহর দিকে হাত বাড়িয়ে উমাইমাহকে স্পর্শ করেন, উমাইমাহ রাসূল (সা) এর দ্বারা স্পর্শকৃত হয়ার বিষয়টি অপছন্দ করে এবং রাসূল (সা) হতে আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনা করে, উমাইমাহর এই প্রতিক্রিয়া দেখে রাসূল (সা) বলেন : "তুমি উপযুক্ত সত্তারই আশ্রয় নিয়েছ, ", একথা বলে রাসূল (সা) উমাইমাহ এর কক্ষ হতে বের হয়ে যান, উমাইমাহ এর কক্ষ হতে বের হয়ে তিনি (সা) বাইরে অবস্থিত সাহাবী আবু উসাইদ (রা) কে উদ্দেশ্য করে বলেন : হে আবু উসাইদ, তাকে (উমাইমাহকে) দুইটি রাযিক্বিয়াহ (এক ধরনের পোশাকের নাম) পরিধান করাও এবং তাকে তার পরিবারের নিকট পাঠিয়ে দাও। [10]
জাবির বিন আব্দুল্লাহ আলমাদানী (রা) বলেছেন যে : " রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে কিছু চাওয়া হয়েছে আর তিনি উত্তরে না বলেছেন, এমনটা কখনোই হয়নি। " [11]
যদি আয়িশাহ (রা) এবং রাসূল (সা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার ক্ষেত্রে আয়িশাহ (রা) কোনো কারণে সহবাসে অনিচ্ছা প্রকাশ করতেন, তাহলে রাসূল (সা) আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করতেনই না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে রাসূল (সা) এর বিশেষ ব্যক্তিগত নীতি কী ছিল তা উপর্যুক্ত উমাইমাহ সংক্রান্ত ঘটনাটি দ্বারা সুস্পষ্ট।
আবার জাবির (রা) এর উপর্যুক্ত বক্তব্যটিকে ব্যাপকার্থে গ্রহণ করে বলা যায় যে রাসূল (সা) এর কোনো স্ত্রী যদি রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করা হতে বিরত থাকতে চাইতেন তাহলে রাসূল (সা) এই চাওয়া পুরণ করতেন এবং সহবাস করা হতে বিরত থাকতেন। (অবশ্য এমন কোনো প্রমাণের অস্তিত্ব নেই যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে রাসূল সা. এর স্থায়ী স্ত্রীদের মধ্যে কেউ কখনো রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন)
তাছাড়া এমন কোনো হাদিস এর অস্তিত্ব নেই যা হতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার ক্ষেত্রে আয়িশাহ (রা) সহবাসে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
সুতরাং রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে সহবাস সংঘটিত হয়ার ক্ষেত্রে আয়িশাহ (রা) সহবাসে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন নি।
২ নং প্রশ্নটির উত্তর :-
আয়িশাহ (রা) এর নিজ বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি (রা) ৯ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্কা ছিলেন। _[12]
৩ নং প্রশ্নটির উত্তর :
এমন কোনো প্রমাণের অস্তিত্ব নেই যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করার ফলাফল হিসেবে আয়িশাহ (রা) শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
এইমর্মে কোনো হ্যা বাচক প্রমাণ না থাকায় প্রমাণের অবিদ্যমানতার দরুণ ধরে নেয়া হবে যে রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করার ফলাফল হিসেবে আয়িশাহ (রা) শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন নি।
৪ নং প্রশ্নটির উত্তর :
এমন কোনো প্রমাণের অস্তিত্ব নেই যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করার ফলাফল হিসেবে আয়িশাহ (রা) মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
এইমর্মে কোন হ্যা বাচক প্রমাণ না থাকায় প্রমাণের অবিদ্যমানতার দরুণ ধরে নেয়া হবে যে রাসূল (সা) এর সহিত সহবাস করার ফলাফল হিসেবে আয়িশাহ (রা) মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন নি।
তাছাড়া আয়িশাহ (রা) যেই সমাজে বাস করতেন সেই সমাজে ৯-১০ বছরের মেয়েদের কর্তৃক বিয়ে করে স্বামীর সহিত সহবাস করার বিষয়টা খুবই স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হত।
৫ নং প্রশ্নটির উত্তর :
আয়িশাহ (রা) এর মা উম্মুরুউমান (রা) আয়িশাহ (রা) কে রাসূল (সা) এর নিকট স্ত্রী হিসেবে প্রেরণ করার পূর্বে তাঁকে একজন শারীরিকভাবে শক্তিশালী সুস্বাস্থ্যবিশিষ্ট মাংসল মেদবহুল মহিলাতে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বিভিন্নভাবে আয়িশাহ (রা) এর মাঝে শারীরিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন, তবে তাঁর প্রত্যেকটা চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। অতঃপর উম্মু রুউমান (রা) আয়িশাহ (রা) কে শসা এবং খেজুর খাওয়ান।অতঃপর আয়িশাহ (রা) একজন শারীরিকভাবে শক্তিশালী সুস্বাস্থ্যবিশিষ্ট মাংসল মেদবহুল মহিলাতে পরিণত হন এবং এই অবস্থাতেই তাঁকে মুহাম্মাদ (সা) এর নিকট স্ত্রী হিসেবে প্রেরণ করা হয়।_[13]
আয়িশাহ (রা) এর একজন শক্তিশালী সুস্বাস্থ্যবিশিষ্ট মাংসল মেদবহুল মহিলাতে পরিণত হয়ার বিষয়টি ঠিক কী মাত্রায় সংঘটিত হয়েছিল, ঠিক কোন স্তর পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল, বিষয়টির ধরন ও প্রকৃতি ঠিক কিরূপ ছিল ; তা স্পষ্ট করার উদ্দেশ্য আয়িশাহ (রা) উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে একটি উপমা প্রদান করেছেন, উপমাটি হল "كأحسنُ السمن"। [13][14][15]
(দ্রষ্টব্য : এক্ষেত্রে السمن এর অর্থ হল "শক্তিশালী সুস্বাস্থ্যবিশিষ্ট মাংসল মেদবহুল হয়া")
উপমাটি অনুযায়ী বিচার করলে বিষয়টা দাঁড়াবে অনেকটা এরকম যে, আয়িশাহ (রা) এর ক্ষেত্রে সংঘটিত السمن, যেকোনো মহিলার ক্ষেত্রে সংঘটিত হতে পারা শ্রেষ্ঠতর সম্ভাব্য السمن এর সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ।
শ্রেষ্ঠতর সম্ভাব্য السمن কখনোই কোনো ৯ বছর বয়সী মেয়ের ক্ষেত্রে সংঘটিত হয়নি এবং হয়না। শ্রেষ্ঠতর সম্ভাব্য السمن সংঘটিত হতে পারে ১৩-১৪ এর অধিক বছর বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে, যারা কিনা শারীরিকভাবে ৯ বছর বয়সীদের তুলনায় অধিক পরিপক্ক, এটা একটা সাধারণ জ্ঞান যা সবাই জানে। অথচ আয়িশাহ (রা) তাঁর ক্ষেত্রে সংঘটিত হয়া السمن এবং শ্রেষ্ঠতর সম্ভাব্য السمن এর মাঝে উপমাভিত্তিক সাদৃশ্যতা সাব্যস্ত করেছেন।
আয়িশাহ (রা) এর উক্ত উপমাভিত্তিক সাদৃশ্যতা সাব্যস্তকরণ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে ৯ বছর বয়সী আয়িশাহ (রা) এর বাহ্যিক শারীরিক রূপ, অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বাহ্যিক শারীরিক রূপের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।
ইসলামবিরোধীদের যুক্তিমতে, রাসূল (সা) কর্তৃক ৯ বছর বয়সী আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তিনি (সা) ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করতেন।
আয়িশাহ (রা) ৯ বছর বয়সী ছিলেন এবং তাঁর বাহ্যিক শারীরিক রূপ অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বাহ্যিক শারীরিক রূপের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।
সহবাসের ক্ষেত্রে,একজন মহিলার শারীরিক গঠন-প্রকৃতি উক্ত মহিলাটির বয়সের তুলনায় অধিক প্রাসঙ্গিক, অধিক শক্তিশালী প্রভাবক, অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, ইসলামবিরোধীদের কর্তৃক প্রদানকৃত উক্ত যুক্তিটির পিছনে কার্যরত মূলনীতিটির উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে ;
রাসূল (সা) কর্তৃক, অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বাহ্যিক শারীরিক রূপের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ দেহবিশিষ্ট ৯ বছর বয়সী আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে তিনি (সা), বাহ্যিক ও শারীরিক দিক দিয়ে অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি একজন পুরুষ হিসেবে যৌন আকর্ষণ অনুভব করতেন।
এবার, উম্মাহাতুল মু'মুনিন এবং রাসূল (সা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে উম্মাহাতুল মু'মুনিন এর মধ্যে কার বয়স কত ছিল তা সংক্রান্ত একটি হিসাব উল্লেখ্য করা যাক : _[16]।
১.রাসূল (সা) এবং খাদিজাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে খাদিজাহ (রা) এর বয়স ছিল 20-40 বছর।
২.রাসূল (সা) এবং সাওদাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে সাওদাহ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 66 বছর।
৩. রাসূল (সা) এবং আয়িশাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে আয়িশাহ (রা) এর বয়স ছিল 6-7 বছর। তবে, আয়িশাহ (রা) কর্তৃক রাসূল (সা) এর সহিত স্ত্রী হিসেবে সংসার আরম্ভ করার সময়ে আয়িশাহ (রা) এর বয়স ছিল 9 বছর।
৪. রাসূল (সা) এবং হাফসাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে হাফসাহ (রা) এর বয়স ছিল 21 বছর।
৫. রাসূল (সা) এবং যায়নাব বিনতু খুযাইমাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে যায়নাব বিনতু খুযাইমাহ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 30 বছর।
৬. রাসূল (সা) এবং উম্মুসালামাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে উম্মুসালামাহ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 27 বছর।
৭. রাসূল (সা) এবং যায়নাব বিনতু জাহশ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে যায়নাব বিনতু জাহশ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 38 বছর।
৮. রাসূল (সা) এবং জুয়াইরিয়াহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে জুয়াইরিয়াহ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 15 বছর।
৯. রাসূল (সা) এবং উম্মুহাবিবাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে উম্মুহাবিবাহ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 42 বছর।
১০. রাসূল (সা) এবং সাফিয়াহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে সাফিয়াহ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 16 বছর।
১১. রাসূল (সা) এবং মাইমুনাহ (রা) এর মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয়ার সময়ে মাইমুনাহ (রা) এর বয়স ছিল প্রায় 26-27 বছর।
দেখা যাচ্ছে যে,
সর্বমোট 11 জন উম্মাহাতুল মু'মিনিন এর মধ্যে 10 জনই 15-66 বছর বয়সে রাসূল (সা) এর সহিত সংসার আরম্ভ করেছিলেন, এবং শুধুমাত্র একজন উম্মুল মু'মিনিন অর্থাৎ আয়িশাহ (রা) 9 বছর বয়সে রাসূল (সা) এর সহিত সংসার আরম্ভ করেছিলেন।
এরদ্বারা প্রমাণিত হয় যে,
রাসূল (সা) এর মধ্যে বিদ্যমান 9-14 বছর বয়সী (কিন্ত অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ দেহবিশিষ্ট) মহিলাভিত্তিক যৌন আকর্ষণ এর মাত্রা এবং পরিমাণ, তাঁর (সা) মধ্যে বিদ্যমান 15-66 বছর বয়সী মহিলাভিত্তিক যৌন আকর্ষণ এর মাত্রা এবং পরিমাণ এর তুলনায় অতিসামান্য, খুবই কম, অত্যন্ত ক্ষুদ্র।
অর্থাৎ রাসূল (সা) অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ দেহবিশিষ্ট 9-14 বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি একজন পুরুষ হিসেবে যৌন আকর্ষণ অনুভব করতেন, তবে এই আকর্ষণের মাত্রা এবং পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য। পক্ষান্তরে তিনি (সা) সাধারণত এবং প্রায় সকল ক্ষেত্রে 15-66 বছর বয়সী মহিলাদেরকেই পছন্দ করতেন।
অতএব,
রাসূল (সা) কি কোনো যৌনতা সংক্রান্ত মানসিক সমস্যা দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন? নাকি ছিলেন না? তা জানার জন্য এটা জানতে হবে যে কোনো একজন পুরুষ কর্তৃক অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বাহ্যিক শারীরিক রূপের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ দেহবিশিষ্ট 9-14 বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি অতিসামান্য মাত্রাবিশিষ্ট যৌন আকর্ষণ অনুভব করার বিষয়টি কি কোনো যৌনতা সংক্রান্ত মানসিক সমস্যা? নাকি না?
এবার,
এমন কোনোকিছু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি যার উপর ভিত্তি করে এটা দাবি করা যাবে যে অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বাহ্যিক শারীরিক রূপের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ দেহবিশিষ্ট 9-14 বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি অতিসামান্য মাত্রাবিশিষ্ট যৌন আকর্ষণ অনুভবকারী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্য হতে প্রত্যেকেরই মস্তিস্কে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা দূর্বলতা আছে।
আবার,
একজন পুরুষ কর্তৃক অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বাহ্যিক শারীরিক রূপের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ দেহবিশিষ্ট 9-14 বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি অতিসামান্য মাত্রাবিশিষ্ট যৌন আকর্ষণ অনুভব করার বিষয়টি 1800 খ্রিষ্টাব্দের আগ পর্যন্ত সর্বদাই সবসময়ই সকলের নিকটই একটি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। রাসূল (সা) এর যূগের আরবে সমাজগুলোতেও এই বিষয়টি একটি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হত।
সুতরাং, রাসূল (সা) কর্তৃক অধিক পরিপক্ক প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বাহ্যিক শারীরিক রূপের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ দেহবিশিষ্ট 9-14 বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি অতিসামান্য মাত্রাবিশিষ্ট যৌন আকর্ষণ অনুভব করার বিষয়টি দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়না যে রাসূল (সা) কোনো যৌনতা সংক্রান্ত মানসিক সমস্যা দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন।
৬ নং প্রশ্নের উত্তর :
রাসূল (সা) কর্তৃক আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করার ক্ষেত্রে আয়িশাহ (রা) এর কোনো আপত্তি ছিলনা, আয়িশাহ (রা) এর মা-বাবার কোনো আপত্তি ছিলনা, তৎকালীন আরব সমাজের কারো কোনো আপত্তি ছিলনা। এবং এর ফলে আয়িশাহ (রা) কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক ক্ষতির শিকার হন নি।
সুতরাং রাসূল (সা) কর্তৃক আয়িশাহ (রা) এর সহিত সহবাস করার বিষয়টিকে অনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করার মত অউদো কোনো কারণ নেই।
টীকাসমূহ :
[1]আলমুসনাদুল মুসান্নাফুল মুয়াল্লাল (দারুল গ্বরবিল ইসলামিই, 38/212-218) এবং আলমুসনাদুল জামিঈ (দারুলজিইল এবং আশশারিকাতুল মুত্তাহিদাহ, 19/788-792)
[2]জামালুদ্দিন আবুলফারাজ ইবনুলযাওযী, কাশফুল মুশকিল মিন হাদিসিস সহিহাইন (দারুওওয়াতান, তাঃ আলী হুসাইন আলবাওয়াব, 3/494)
[3]আবুলফাতাহ উসমান ইবনু জিন্নী আলমাওসুলী, আলখাসাইস (আলহাইয়াতুল মাসরিয়াতুল আম্মাহ, 1/40)
[4]মুহাম্মাদ মুরতাদ্বা আলহুসাইনী আযযাবিদী,তাজুলউরুস মিন জাওয়াহিরিল ক্বমুউস (ওয়াযারাতুল ইরশাদ ওয়াল আনবা এবং আলমাজলিসুওওয়াতানী, 28/487)
[5]জামালুদ্দিন আলক্বাসিমী, মাহাসিনুত তাওইল (দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, 3/69)
[6]আবুছছানা শিহাবুদ্দিন আলআলওয়াসী, রুহুল মাআনী ফি তাফসিরিল কোরআনিল আযিম ওয়াস সাবআ আলমাছানী (দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, 2/466)
[7]শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন উমার আলখাফাজী আলমাসরী, ঈনায়াতুল ক্বাদ্বী ওয়া কিফায়াতুর রাদ্বী আলা তাফসিরিল বাইদ্বাওই - হাশিয়াতুশশিহাব আলা তাফসিরিল বাইদ্বাওই (দারু সদির,3/120)
[8]আলমুসনাদুল মুসান্নাফুল মুয়াল্লাল (দারুল গ্বরবিল ইসলামিই, 38/212-218) ; আলমুসনাদুল জামিঈ (দারুলজিইল এবং আশশারিকাতুল মুত্তাহিদাহ, 19/788-792) ; সুনানুন নাসাঈ (দারু ত্বওইক্ব, হা/3378) ; সহিহুল বুখারী (আসসুলত্বনিয়াহ, হা/5133) ; মুস্তাখরাজু আবিআওয়ানাহ (দারুল মারেফাহ, হা/4266) ; আত্বত্বব্রানী, আলমুজামুল কাবির (মাকতাবাতু ইবনেতাইমিয়াহ, 23/21) ; ইবনু হাযম, হুজ্জাতুল ওইদাআ (বাইতুল আফকারিদ্দাওলিয়াহ, পৃষ্ঠা নং 434) ; সহিহু ইবনে হিব্বান (দারু ইবনেহাযম, হা/3454); আত্বত্বব্রানী, আলমুজামুল আওসাত (দারুল হারামাইন, 7/94 এবং 2/301) ; আননাসাঈ, আসসুনানুল কুবরা (মুয়াসসাতুর রিসালাহ, 5/242) ; সহিহু মুসলিম (দারুত্ব ত্ববাআতিল আমিরাহ, 4/142) ; ইবনু আবিআসিম, আলআহাদু ওয়াল মাছানী (দারুর রায়াহ, 5/399) ; আননাসাঈ, আসসুনানুল কুবরা (মুয়াসসাতুর রিসালাহ, 5/243) ; মুস্তাখরাজু আবিআওয়ানাহ (দারুল মারেফাহ, হা/4271) ;আলবাগ্বওই, শারহুস সুন্নাহ (আলমাকতাবুল ইসলামি, 9/35); আলবায়হাক্বী, আসসুনানুল কুবরা (দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, 10/371); আবুনুয়াইম, আলমুসনাদুল মুস্তাখরাজ আলা সহিহ মুসলিম (দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, 4/87); ইবনু আবিদ্দুনিয়া, আন্নুফক্বাহ আলাল ইয়াল (দারু ইবনিলকাইইম, 2/755) ; আব্দুররাজ্জাক, আলমুসান্নাফ (দারুত তা'সিল, 6/239) ; আত্বত্বব্রানী, আলমুজামুল কাবির (মাকতাবাতু ইবনেতাইমিয়াহ,23/17) ; আবুনুয়াইম, মারেফাতুস সাহাবাহ (দারুও ওয়াতান, 6/3208) ……ইত্যাদি ইত্যাদি।
[9]ইবনুল মালাক, শারহু মাসাবিহিস সুন্নাহ (ইদারাতুছ ছাক্বাফাতিল ইসলামিয়াহ,3/560)
;আলমুযহিরী, আলমাফাতিহ ফি শারহিল মাসাবিহ (দারুন নাওয়াদির,4/35); আলী আলক্বারী, মিরক্বাতুল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ (দারুল ফিকর, 5/2066); আততাইবী, আলকাশিফ আন হাক্বাইক্বিস সুনান শারহুল মিশকাহ (মাকতাবাতু নাযযার মুস্তফা আলবায, তাঃ আব্দুলহামিদ হিন্দাওই, 7/2285); ইবনু রাসলান, শারহু সুনানে আবিদাউদ (দারুল ফালাহ, 19/18); আলবিরমাওই, আললামিউস সবিহ বিশারহিল জামিইস সহিহ (দারুন নাওয়াদির,10/466) … ইত্যাদি ইত্যাদি।
[10]সহিহুল বুখারী (আসসুলত্বনিয়াহ, 7/41, হা/ 5254, 5255, 5256,5257)
[11]সহিহু মুসলিম (দারুত তবাআতিল আমিরাহ, 7/74, হা/2311)
[12]https://islamicauthors.com/article/273
[13] দেখুন :
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু মাজাহ, আসসুনান (দারুর রিসালাতিল আলামিয়াহ, 4/435-436, হা/3324, টীকা নং 1) : শুয়াঈব আলআরনাউত, আদিল মুরশিদ এবং সাঈদ আললাহহাম কর্তৃক সম্মিলিতভাবে তাহক্বীক্বকৃত।
আবুদাউদ সুলাইমান ইবনুল আশয়াছ আসসাজাস্তানী, আসসুনান (দারুর রিসালাতিল আলামিয়াহ, 6/48, হা/3903, টীকা নং 1) : শুয়াঈব আলআরনাউত এবং মুহাম্মাদ কামিল ক্বারাহ কর্তৃক সম্মিলিতভাবে তাহক্বীক্বকৃত।
আলমুসনাদুল মুসান্নাফুল মুয়াল্লাল (দারুল গ্বরবিল ইসলামি, 38/452-453, হা/18424)
আলমুসনাদুল জামি (দারুলজিইল এবং আশশিরকাতুল মুত্তাহিদাহ, 20/68, হা/16830)
[14]কিছু কিছু রেওয়ায়েতে السمن ব্যবহৃত না হয়ে السمن এর পরিবর্তে الشحم ব্যবহৃত হয়েছে। আবার কিছু কিছু রেওয়ায়েতে السمن ব্যবহৃত না হয়ে السمن এর পরিবর্তে سمنة ব্যবহৃত হয়েছে। তবে উক্ত শব্দত্রয় (অর্থাৎ السمن و الشحم و سمنة ) এক্ষেত্রে একে অপরের সমার্থক পরিপূরক, শব্দত্রয়ের অর্থের মাঝে এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য বা ভিন্নতা নেই।
[15]নাজমুদ্দিন আলগ্বযযী, হাসানুত তানাব্বুহ লিমা ওয়ারাদা ফিত তাশাব্বুহ (দারুন নাওয়াদির,10/526)
[16]https://www.islamweb.net/amp/ar/fatwa/266182/