মাদ্রাসায় বলাৎকারের জরিপ
তুলনামূলক চিত্র
মাদরাসার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার লেভেলটা একটু দেখুন!
বলছি না মাদরাসায় কোনো ধরনের নির্যাতন, অনিয়ম বা অপরাধ ঘটে না। অবশ্যই ঘটে। আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি শিশু বা শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, সেটি অবশ্যই নিন্দনীয় এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হওয়া উচিত—সে প্রতিষ্ঠান মাদরাসা হোক, স্কুল হোক কিংবা কলেজ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে সামনে এনে একটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাব?
ছবিতে ২০২৬ সালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে। স্কুল/কলেজের ক্ষেত্রে মোট ৫৭ জনের তথ্য দেওয়া হয়েছে মেয়ে ৪৯ জন, ছেলে ৮ জন। আর মাদরাসার ক্ষেত্রে মোট ১৮ জন; মেয়ে ৭ জন, ছেলে ১১ জন।
[সোর্সঃ চ্যানেল ২৪- এর ৩১ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত ডকুমেন্টারি। ৫ মিনিটের পর থেকে https://youtu.be/dWOIYaP0P3c]
এখানে আমার প্রশ্ন পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে নয়; বরং পরিসংখ্যান কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং তা দিয়ে জনমনে কী ধরনের ধারণা তৈরি করা হচ্ছে সেটি নিয়ে।
মাদরাসার ক্ষেত্রে কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি নিঃসন্দেহে সংবাদ হওয়া উচিত। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো উচিত। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত।
কিন্তু একইসঙ্গে এটাও মনে রাখা দরকার কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় একটি পুরো প্রতিষ্ঠানব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং হাজার হাজার শিক্ষক-উস্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়।
মাদরাসা মানেই নির্যাতনের জায়গা এমন ধারণা যেমন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তেমনি মাদরাসায় কোনো অপরাধ হয় না এ কথাও সত্য নয়।
আমাদের প্রয়োজন সত্য, ভারসাম্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা।
কোনো অপরাধ ঘটলে অপরাধীর বিরুদ্ধে কথা বলুন, কিন্তু একটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে অপমান বা কলঙ্কিত করার আগে একটু থামুন।
অপরাধীর পরিচয় অপরাধী সে মাদরাসার শিক্ষক হোক, স্কুলের শিক্ষক হোক কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের।
মাদরাসার বিরুদ্ধে নয়,
অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান হোক।
প্রচার নয় প্রয়োজন সত্যের পূর্ণ চিত্র।
আবেগ নয় প্রয়োজন তথ্য ও প্রেক্ষাপট।
লেখক- আব্দুল্লাহ তামিম
কেউ কেউ রাবতা পেইজে মন্তব্য করেছেন,
মাদ্রাসা আবাসিক। স্কুল অনাবাসিক। মাদ্রাসায় ছাত্ররা 24 ঘণ্টা থাকে। স্কুলে 5 ঘণ্টা। সেই হিসাবে মাদ্রাসায় আরও বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু হয় নি।
মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।