আমরা কি সৃষ্টি, নাকি শুধু রূপান্তর?
ইসলাম, দর্শন ও বিজ্ঞানের আলোকে
“মানুষ কি সত্যিই সৃষ্টি, নাকি আমরা কেবল আগে থেকে থাকা পদার্থের রূপান্তর?”
প্রশ্নটি প্রথমে সাধারণ মনে হলেও এর ভেতরে বিজ্ঞান, দর্শন এবং ইসলামি ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কারণ আমরা দেখি, একটি টেবিল কাঠ থেকে তৈরি হয়, একটি বাড়ি ইট, বালি ও সিমেন্ট থেকে তৈরি হয়, আবার মানবদেহও গঠিত হয় আগে থেকে বিদ্যমান বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দিয়ে। তাহলে এগুলোকে কি সত্যিই “সৃষ্টি” বলা যায়? নাকি সবকিছুই শুধু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে প্রথমেই “সৃষ্টি” এবং “রূপান্তর” শব্দ দুটির অর্থ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সৃষ্টি বলতে কী বোঝায়?
“সৃষ্টি”কে যদি শুধু শূন্য থেকে পদার্থ সৃষ্টি করা অর্থে ধরা হয়, তাহলে শুরুতেই একটি সমস্যার সৃষ্টি হয়। কারণ কুরআনে خلق (খালক) শব্দটি আরও বিস্তৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কোনো কিছুকে নির্ধারিত গঠন, বৈশিষ্ট্য ও অস্তিত্বসম্পন্ন নতুন সত্তা হিসেবে আনাও সৃষ্টি।
অর্থাৎ কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়ার জন্য তার প্রতিটি মৌলিক উপাদান আগে অস্তিত্বহীন থাকা আবশ্যক নয়। একটি নতুন সত্তা বিদ্যমান উপাদান থেকেও সৃষ্টি হতে পারে, যদি সেই নির্দিষ্ট সত্তাটি আগে অস্তিত্বশীল না থাকে।
এই পার্থক্যটি না বুঝলে “সৃষ্টি” ও “রূপান্তর”কে অযথা পরস্পরবিরোধী মনে হয়।
রূপান্তর বলতে কী বোঝায়?
রূপান্তর বলতে বোঝায় আগে থেকেই বিদ্যমান কোনো কিছুর অবস্থা, আকৃতি, গঠন বা বিন্যাস পরিবর্তিত হওয়া।
যেমন:
কাঠ → টেবিল
কাঠ আগে থেকেই ছিল। একজন কারিগর কাঠ কেটে, ঘষে এবং নির্দিষ্ট বিন্যাসে সাজিয়ে একটি টেবিল তৈরি করলেন।
এখানে কাঠের পদার্থকে তিনি শূন্য থেকে অস্তিত্বে আনেননি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নতুন কিছুই তৈরি হয়নি।
কারণ কাঠ আগে ছিল, কিন্তু এই নির্দিষ্ট টেবিলটি আগে ছিল না।
এর নির্দিষ্ট আকার, গঠন, বিন্যাস ও কার্যকর পরিচয় নতুন।
সুতরাং এখানে একদিকে রূপান্তর হয়েছে, অন্যদিকে নতুন একটি সংগঠিত বস্তু অস্তিত্ব লাভ করেছে।
তাহলে টেবিল কি সৃষ্টি?
সাধারণ ভাষায় অবশ্যই বলা যায়, “কারিগর একটি টেবিল সৃষ্টি বা তৈরি করেছেন।”
কিন্তু মানুষের এই সৃষ্টি সীমাবদ্ধ।
কারিগর কাঠের ওপর নির্ভরশীল। কাঠ না থাকলে তিনি টেবিল বানাতে পারবেন না। তাঁর প্রয়োজন যন্ত্রপাতি, শক্তি, সময় এবং প্রকৃতির বিদ্যমান নিয়ম।
অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টি মূলত:
পূর্ববিদ্যমান উপাদানকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করে এমন একটি form বা structure তৈরি করা, যা আগে সেই রূপে ছিল না।
এটি আল্লাহর সৃষ্টিশক্তির সমতুল্য নয়।
কুরআন বলে:
“আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা।”
اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ
সূরা আয-যুমার ৩৯:৬২
মানুষ বিদ্যমান সৃষ্টিজগতের ভেতরে কাজ করে। কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টিশক্তি কোনো স্বাধীন, পূর্ববিদ্যমান physical reality-এর ওপর নির্ভরশীল নয়।
আদম (আ.) কি সৃষ্টি, নাকি শুধু মাটির রূপান্তর?
এখানেই প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আদম (আ.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
“তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ
সূরা আলে ইমরান ৩:৫৯
এখানে লক্ষ্য করুন, কুরআন বলছে না যে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে আদমের ক্ষেত্রে “সৃষ্টি” ঘটেনি।
বরং সরাসরি বলছে:
خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ
“তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।”
অর্থাৎ কুরআনিক ভাষায় পূর্ববিদ্যমান উপাদান থেকে কোনো নতুন সত্তাকে অস্তিত্বে আনাও خلق বা সৃষ্টি।
মাটি উপাদান হিসেবে ছিল, কিন্তু আদম নামক জীবন্ত মানবসত্তা আগে ছিলেন না।
মাটি নিজে একজন সচেতন মানুষ ছিল না। তার মানবদেহ, জীবন, জৈবিক সংগঠন, ব্যক্তিগত পরিচয় ও মানবীয় বৈশিষ্ট্য ছিল না।
আল্লাহ সেই উপাদান থেকে নতুন একটি জীবন্ত মানবসত্তা সৃষ্টি করেছেন।
তাই মাটি থেকে আদমের সৃষ্টি একই সঙ্গে:
উপাদানের রূপান্তর
এবং
নতুন মানবসত্তার সৃষ্টি।
দুটি একে অপরকে বাতিল করে না।
মানুষের পরবর্তী প্রজন্মও একই নীতির উদাহরণ
কুরআনে মানুষের ভ্রূণীয় বিকাশ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির নির্যাস থেকে। অতঃপর তাকে শুক্রবিন্দুরূপে একটি নিরাপদ স্থানে স্থাপন করেছি...”
সূরা আল-মু’মিনূন ২৩:১২–১৩
এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের বিকাশের কথা বলে আল্লাহ বলেন:
“অতঃপর আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুললাম।”
ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ
সূরা আল-মু’মিনূন ২৩:১৪
এই আয়াতটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এখানে একের পর এক transformation বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই মানুষের সৃষ্টি বর্ণনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ:
শুক্রবিন্দু পরিবর্তিত হচ্ছে,
ভ্রূণীয় গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে,
দেহের structure বিকশিত হচ্ছে,
তবুও কুরআন পুরো প্রক্রিয়াকে সৃষ্টি বলছে।
তাই:
“যেহেতু transformation ঘটেছে, তাই creation ঘটেনি”
এই ধারণা কুরআনের নিজস্ব ভাষার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
Creation ex nihilo এবং Creation from pre-existing material
এখানে সৃষ্টি সম্পর্কে দুইটি ধারণা আলাদা করা প্রয়োজন।
১. Creation ex nihilo
এর অর্থ হলো কোনো স্বাধীন পূর্ববিদ্যমান উপাদানের ওপর নির্ভর না করে অস্তিত্ব প্রদান করা।
অর্থাৎ ultimate sense-এ physical reality-ই আল্লাহর সৃষ্ট।
২. Creation from pre-existing material
এর অর্থ হলো বিদ্যমান উপাদান থেকে এমন একটি নতুন সত্তাকে অস্তিত্বে আনা, যা আগে সেই সত্তা হিসেবে ছিল না।
আদম (আ.)-এর মাটি থেকে সৃষ্টি এর উদাহরণ।
তাই:
“কোনো পূর্ববিদ্যমান উপাদান ব্যবহার হয়েছে = সৃষ্টি হয়নি”
এই সংজ্ঞাটি যথার্থ নয়।
আল্লাহ উভয় ধরনের সৃষ্টি করতে সক্ষম।
আল্লাহর সৃষ্টিশক্তি কেন মানুষের মতো নয়?
মানুষও বিদ্যমান পদার্থ দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করে। তাহলে আল্লাহ এবং মানুষের সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
পার্থক্যটি মৌলিক।
মানুষ যখন কিছু তৈরি করে, তখন সে নির্ভর করে:
পদার্থের ওপর,
শক্তির ওপর,
প্রকৃতির নিয়মের ওপর,
সময় ও স্থানের ওপর,
নিজের শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর।
কিন্তু এগুলোর কোনোটিই মানুষ নিজে সৃষ্টি করেনি।
একজন স্থপতি ভবনের design করেন, কিন্তু gravity সৃষ্টি করেন না।
একজন engineer বিমান তৈরি করেন, কিন্তু পদার্থের physical properties সৃষ্টি করেন না।
একজন geneticist DNA পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু DNA যে physical system-এর মধ্যে কাজ করছে, সেটি তিনি অস্তিত্বে আনেননি।
অতএব মানুষের creation হলো dependent creation।
আল্লাহর creation হলো ultimate and independent creation।
কুরআন বলে:
“তিনি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর অভিনব স্রষ্টা।”
بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
সূরা আল-বাকারা ২:১১৭
আল্লাহ কোনো পূর্ববর্তী model বা তাঁর বাইরে স্বাধীনভাবে থাকা কোনো eternal material-এর ওপর নির্ভরশীল নন।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমাদের শরীর
মানবদেহে রয়েছে অক্সিজেন, কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন মৌল।
আমাদের শরীরের পদার্থগুলো আমাদের জন্মের আগে থেকেই অন্য physical systems-এর অংশ ছিল।
আমরা খাবার গ্রহণ করি। খাবারের অণু ভেঙে যায়। দেহ সেগুলো থেকে নতুন অণু তৈরি করে। নতুন কোষ তৈরি হয়, পুরোনো কোষ নষ্ট হয়।
অর্থাৎ জৈবিক স্তরে মানুষের গঠন একটি ধারাবাহিক transformation-এর মধ্য দিয়ে ঘটে।
কিন্তু এখান থেকে এই সিদ্ধান্ত আসে না যে মানুষ সৃষ্টি নয়।
কারণ বিজ্ঞান যখন ব্যাখ্যা করে:
একটি অবস্থা থেকে আরেকটি অবস্থা কীভাবে এলো,
তখন বিজ্ঞান মূলত একটি process বর্ণনা করছে।
কিন্তু theological sense-এ প্রশ্ন হলো:
যে নতুন জীবন্ত সত্তাটি অস্তিত্বে এলো, সে আগে কি এই সত্তা হিসেবে বিদ্যমান ছিল?
উত্তর হলো, না।
আমার দেহের কার্বন আগে থাকতে পারে, কিন্তু আমি আগে ছিলাম না।
আমার শরীরের পানি আগে থাকতে পারে, কিন্তু আমি সেই পানি নই।
আমার দেহের পরমাণুগুলো আগে বিভিন্ন স্থানে থাকতে পারে, কিন্তু তাদের এই নির্দিষ্ট biological organization, identity এবং জীবন্ত মানবসত্তা হিসেবে আমার অস্তিত্ব পরে শুরু হয়েছে।
তাই উপাদানের পূর্ব অস্তিত্ব ব্যক্তিসত্তার পূর্ব অস্তিত্ব প্রমাণ করে না।
একটি টেবিলের উদাহরণ আবার বিবেচনা করুন
ধরা যাক, কিছু কাঠ মাটিতে পড়ে আছে।
পরে একজন কারিগর সেগুলো কেটে একটি টেবিল বানালেন।
কেউ যদি বলে:
“টেবিলটি সৃষ্টি হয়নি, কারণ কাঠ আগে থেকেই ছিল।”
তাহলে এই বক্তব্য অসম্পূর্ণ।
সঠিক বক্তব্য হবে:
টেবিলের material আগে ছিল, কিন্তু টেবিলটি সেই নির্দিষ্ট organized object হিসেবে আগে ছিল না।
একইভাবে:
মানুষের কিছু physical constituents আগে থাকতে পারে, কিন্তু সেই নির্দিষ্ট মানবসত্তা আগে ছিল না।
একটি বইয়ের উদাহরণ
একটি বই কাগজ ও কালি দিয়ে তৈরি।
কাগজ আগে ছিল।
কালি আগে ছিল।
কিন্তু বইটির নির্দিষ্ট বাক্য, তথ্য, অধ্যায়বিন্যাস এবং অর্থপূর্ণ structure আগে ওই বিন্যাসে ছিল না।
কেউ যদি বলে:
“বইটি কেউ তৈরি করেনি, কারণ এর কাগজ ও কালি আগে থেকেই ছিল।”
তাহলে সে বইয়ের material এবং বই নামক organized entity-কে এক করে ফেলছে।
একই ভুল মানুষের ক্ষেত্রেও করা যায়।
মানবদেহের chemical components আগে ছিল বলে মানুষ নামক জীবন্ত organized entity-র সৃষ্টি অস্বীকার করা যায় না।
রূপান্তর কি নিজেই এক ধরনের সৃষ্টি হতে পারে?
সাধারণ অর্থে হ্যাঁ, যদি transformation-এর ফলে এমন নতুন structure বা entity অস্তিত্বে আসে, যা আগে সেই রূপে ছিল না।
কিন্তু সব transformation-কে একই অর্থে creation বলা যাবে না।
যেমন:
বরফ → পানি
এখানে মূল পদার্থের chemical identity একই থাকে। এটি মূলত state transformation।
কিন্তু:
মাটি → জীবন্ত মানুষ
এখানে শুধু shape বদলানো হয়নি। একটি নতুন biological organism, structure, function এবং individual identity এসেছে।
তাই মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করা শুধু সাধারণ রূপান্তর নয়।
এটি transformation-এর মাধ্যমে নতুন সত্তার সৃষ্টি।
আমরা কি প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হচ্ছি?
হ্যাঁ।
মানুষ একটি স্থির physical object নয়।
আমাদের শরীরে অসংখ্য biochemical reaction প্রতিনিয়ত ঘটছে। কোষ তৈরি হচ্ছে, কোষ মারা যাচ্ছে, অণু পরিবর্তিত হচ্ছে, শক্তির আদান-প্রদান হচ্ছে।
তবুও আমরা ব্যক্তিগত identity বজায় রাখি।
একজন মানুষ পাঁচ বছর বয়সে এবং চল্লিশ বছর বয়সে শারীরিকভাবে অনেক ভিন্ন হলেও তাকে একই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এটি দেখায় যে কোনো সত্তার পরিচয়কে শুধু তার individual atoms দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়।
Structure, organization, continuity এবং identity-ও গুরুত্বপূর্ণ।
Conservation law কি সৃষ্টিকে অস্বীকার করে?
অনেক সময় বলা হয়:
“বিজ্ঞানে তো বলা হয় matter বা energy সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না। তাহলে creation কীভাবে সম্ভব?”
এখানে একটি physical law-কে তার প্রযোজ্য ক্ষেত্রের বাইরে ব্যবহার করা হয়।
Conservation laws সাধারণত physical system-এর ভেতরে বিভিন্ন quantity কীভাবে পরিবর্তিত বা সংরক্ষিত হয় তা বর্ণনা করে।
কিন্তু এগুলো নিজেরা উত্তর দেয় না:
মহাবিশ্ব কেন আছে?
Physical reality কেন আছে?
প্রকৃতির নিয়মগুলো কেন বিদ্যমান?
Conservation laws নিজেরাই কেন কার্যকর?
অর্থাৎ physical transformation-এর নিয়ম এবং ultimate creation একই প্রশ্ন নয়।
বিজ্ঞান মহাবিশ্বের ভেতরে কীভাবে পরিবর্তন ঘটে তা বর্ণনা করতে পারে।
কিন্তু:
“সমগ্র physical reality কেন অস্তিত্বশীল?”
এটি আরও মৌলিক প্রশ্ন।
কুরআনের মৌলিক প্রশ্ন
কুরআন বলে:
“তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারাই স্রষ্টা?”
أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ
সূরা আত-তূর ৫২:৩৫
এরপর বলা হয়:
“নাকি তারা আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে না।”
সূরা আত-তূর ৫২:৩৬
এখানে কুরআনের প্রশ্ন শুধু মানুষের দেহ কোন উপাদান থেকে গঠিত তা নয়।
প্রশ্নটি আরও গভীর:
মানুষের existence-এর ultimate explanation কী?
তাহলে আমরা সৃষ্টি, নাকি রূপান্তর?
সঠিক উত্তর হলো:
আমরা সৃষ্টি, এবং আমাদের physical formation বহু রূপান্তরমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়।
দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী নয়।
আমাদের শরীরের উপাদান আগে বিভিন্ন অবস্থায় ছিল।
কিন্তু আমরা সেই নির্দিষ্ট জীবন্ত মানবসত্তা হিসেবে আগে ছিলাম না।
আমাদের biological organization, individual identity, জীবন এবং মানবীয় structure একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে অস্তিত্ব লাভ করেছে।
তাই:
Transformation ব্যাখ্যা করে একটি সৃষ্টি কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত হলো। Creation নির্দেশ করে এমন একটি নতুন সত্তার অস্তিত্বকে, যা আগে সেই সত্তা হিসেবে ছিল না।
আদম (আ.) মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। মানুষের পরবর্তী প্রজন্ম biological stages-এর মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই transformation আছে, আবার creation-ও আছে।
সুতরাং:
মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করা একই সঙ্গে সৃষ্টি এবং উপাদানের রূপান্তর, কিন্তু এটি শুধু সাধারণ রূপান্তর নয়। কারণ এখানে নতুন একটি জীবন্ত মানবসত্তা অস্তিত্ব লাভ করেছে।
আর ultimate sense-এ আল্লাহ শুধু মানুষের বর্তমান রূপের স্রষ্টা নন। যে পদার্থ, শক্তি, প্রকৃতির নিয়ম এবং causal system-এর মধ্য দিয়ে মানুষের physical formation ঘটে, সবই তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।
কুরআনের ভাষায়:
“অতএব মহিমান্বিত আল্লাহ, সর্বোত্তম স্রষ্টা।”
فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
সূরা আল-মু’মিনূন ২৩:১৪
মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।