তুলনামূলক ধর্মতত্ব

আমি কেন ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী এবং ইসলাম ধর্ম পালন করি

ইসলাম যে সত্য দ্বীন, তার প্রমাণ কী?

PF
Prince Frerase
৫ অক্টো, ২০২৬ · 8 মিনিট

আমি কেন ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী এবং ইসলাম ধর্ম পালন করি

সিরিজ: পর্ব-১

ইসলাম যে সত্য দ্বীন, তার প্রমাণ কী?

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

পৃথিবীতে মোট ২০ থেকে ২৫টির মতো ধর্ম বিদ্যমান। যদিও বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীতে প্রায় ৪৫০০টি ধর্ম আছে, কিন্তু ধর্মের সংজ্ঞা অনুযায়ী তার সংখ্যা ২৫-৩০টির বেশি নয়।

এতগুলো ধর্মের মধ্যে কেন আমি ইসলাম ধর্ম মানি, আমার ইসলাম পালন করার পেছনে মূল বিশ্বাসটা কী এবং কোন ভিত্তিতে আমি ইসলাম মান্য করি, সেটাই আজকে বলব, ইনশাআল্লাহ। আর নাস্তিকতা কেনই-বা ছেড়ে দিলাম, সেটাও বলব, ইনশাআল্লাহ।

তো চলুন শুরু করা যাক।

প্রথম কথা। ক্লাস সেভেনের আগে আমি এই কারণে ইসলাম পালন করতাম যে, এটা আমার বাপ-দাদা পালন করেছে, তাই আমিও পালন করি। তখন আমি নিজেও জানতাম না, আমার বিশ্বাসটা যে সত্য, তার ভিত্তি কী।

দিন যত যাচ্ছিল, তত নাস্তিকদের বইগুলো পড়ে ধর্মের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল প্রবীর ঘোষের ‘অলৌকিক নাকি লৌকিক’ সিরিজের বইগুলো। আমি যখন সবগুলো খণ্ড পড়ি, তখন অলৌকিক বিষয়গুলো, যেগুলো ইসলাম ধর্মে মুজেজা, কারামত এবং অন্যান্য ধর্মে লীলা ইত্যাদি বলা হয়, সেগুলো নিয়ে ভাবতে শুরু করি।

পরবর্তীতে হুমায়ুন আজাদের ‘আমার অবিশ্বাস’, অভিজিৎ রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’, রিচার্ড ডকিন্সের ‘দ্য গড ডিলিউশন’ ইত্যাদি বই পড়ার পর ইসলামসহ যাবতীয় ধর্মের প্রতি আমার বিশ্বাস শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকে।

ক্লাস সেভেনে ছিলাম সংশয়বাদী, আর নাইন-এ এসে হলাম পাক্কা নাস্তিক। তখন প্রকাশ্যেই আমার বন্ধু ও সমবয়সীদের বলতাম, আমি নাস্তিক। সম্পূর্ণভাবে প্রায় সাত মাস উগ্র নাস্তিক ছিলাম। বিভিন্ন গ্রুপে লেখালেখি করেছি।

তবে জীবনের মোড় কখন পরিবর্তন হয়ে যায়, সেটা আল্লাহ রব্বুল আলামিন ভালো জানেন। তবে আমি তখনও নামাজ পড়তাম।

একদিন ছোট এক ছেলেকে সূরা ফাতিহা শেখাচ্ছিলাম। আমি যখন তাকে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতের তাফসির বলছিলাম, তখন আমি ‘আলামিন’ শব্দটাতে থেমে গেলাম।

‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’-এর অর্থ হলো, ‘সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’

তো এখানে আমি একটু অবাক হলাম। কারণ উক্ত আয়াতে ‘আলামিন’ শব্দ এসেছে, যেটা ‘আলাম’ শব্দের বহুবচন। একবচনে ‘আলাম’। ‘আলাম’ অর্থ জগৎ এবং ‘আলামিন’ অর্থ জগৎসমূহ।

তখন আমার মাল্টিভার্সের কথা মনে পড়ে যায়। মাল্টিভার্স বা প্যারালেল ইউনিভার্স তত্ত্ব অনুসারে, এই জগৎ বা বিশ্বের মতো আরও অনেক বিশ্ব আছে। স্ট্রিং থিওরি থেকে সর্বপ্রথম বিজ্ঞানীরা মাল্টিভার্স তত্ত্বের ধারণা পান। পরবর্তীতে গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স থেকে মাল্টিভার্স তত্ত্বের অনুমান করেন বিজ্ঞানীরা।

যাই হোক, আমি তখন একটা কথা চিন্তা করলাম। কিছু সময়ের জন্য ভাবলাম, যদি রাসূল ﷺ সত্যিই এই কোরআন লিখে থাকতেন, তাহলে তিনি এখানে ‘আলামিন’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘আলাম’ শব্দ ব্যবহার করতেন। কারণ আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে মানুষ আকাশ সম্পর্কে অনেক কম জ্ঞান রাখত। সেই সময়ে মানুষ, বিশেষ করে আরবের মানুষ, তো সৌরজগত সম্পর্কেই জ্ঞান রাখত না। আর ওই সময়ে তো কেউ চিন্তাই করতে পারত না যে, এই বিশ্বের মতো আরও অনেক বিশ্ব আছে।

তাহলে সেই হিসাবে রাসূল ﷺ-এর বলা উচিত ছিল ‘জগৎ’, কিন্তু তিনি ‘জগৎ’ না বলে বললেন ‘জগৎসমূহ’।

এখন আপনারা বলতে পারেন, যারা নাস্তিক, তাদের কথা বলছি, এটা হয়তো কাকতালীয়ভাবে রাসূল ﷺ ব্যবহার করেছেন। ‘আলাম’ শব্দের পরিবর্তে ‘আলামিন’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আমি বলব, এটা ভুল করে নয়; বরং কেউ এমন একজন আছেন, যিনি সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।

কারণটা হলো সূরা ফাতিহার ২ ও ৩ নম্বর আয়াত। আমরা যদি ২ নম্বর আয়াতটা পড়ি, তাহলে দেখতে পাবো:

‘আর-রহমানির রহিম’

অর্থাৎ, ‘যিনি পরম দয়ালু, অতিশয় মেহেরবান।’

তো দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজেকে পরম দয়ালু বলছেন। ‘পরম’ শব্দটা ভালো করে লক্ষ্য করুন। পরমের অপর অর্থ অসীম।

ইউনিভার্সের কোনো কিছু যে অসীম হবে, সেটা আজ থেকে ১০০০ বছর আগে কেউ চিন্তা করতে পারতেন না। সেই সময়ে গণিতবিদরাও ভাবতেন যে সংখ্যার কোনো শেষ আছে। কিন্তু বর্তমানে বুঝতে পারছি যে সংখ্যা অসীম বা ইনফিনিটি। এর কোনো শেষ নেই।

তো রাসূল ﷺ তখন কোন অর্থে বললেন, ‘আল্লাহ পরম’?

উল্লেখ্য, রহমান আর রহিম দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। রহিম শব্দটি মুমিনদের জন্য খাস এবং রহমান শব্দটি সকলের জন্য ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আবার তৃতীয় আয়াতটা লক্ষ্য করুন:

‘মালিকি ইয়াওমিদ্দিন’

অর্থাৎ, ‘যিনি শেষ দিবস বা বিচারের দিনের মালিক।’

এই কথা তো সবারই জানা যে, প্রাচীন ও মধ্যযুগ পর্যন্ত অনেকে ভাবত যে, মহাবিশ্বের কোনো শুরু বা শেষ নেই। যেমন আগে ছিল, তেমনই আছে এবং থাকবে।

তো সেই সময়ে দাঁড়িয়ে রাসূল ﷺ কীভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, সৃষ্টিরও শেষ দিন আছে? অর্থাৎ, একদিন সকল কিছুর শেষ হবে বা ধ্বংস হবে?

তো এইভাবে একটানা তিনটি আয়াতের মধ্যে কি কাকতালীয়ভাবে দর্শন ও বৈজ্ঞানিক তথ্য থাকতে পারে?

নিঃসন্দেহে কেউ একজন আছেন, যিনি এরকম তথ্য জানেন। কোনো সন্দেহ নেই, তিনিই আমার-আপনার রব, আল্লাহ রব্বুল আলামিন।

তো কিছুক্ষণ পর জীবনে প্রথমবার নিজের ইচ্ছেতে কোরআনটা নিয়ে পড়তে বসলাম। কয়েক দিন কোরআন পড়লাম। তার মধ্যে আমার জীবনে দুটি আয়াত সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে:

১. সূরা যুমার-৯

২. সূরা নিসা-৮২

সূরা যুমার-৯ আয়াতটা আপাতত দূরে রাখছি। সূরা নিসা-৮২ নিয়ে আলোকপাত করছি।

উক্ত আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন:

‘তারা কি কোরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি এই কোরআন আল্লাহ রব্বুল আলামিন ব্যতীত অন্য কারও কাছ থেকে আসত, তাহলে অবশ্যই এতে বৈপরীত্য দেখতে পেত।’

আমি, মোঃ মেহেদী হাসান, মনে করি যে পৃথিবীতে যত ধর্মগ্রন্থ আছে, বর্তমানে সবগুলোকে এই আয়াতের মানদণ্ড দ্বারা বিচার করা উচিত।

লক্ষ্য করুন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজেই বলছেন কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে। এমনকি কোন মানদণ্ডে গবেষণা করবে, সেটাও বলে দিচ্ছেন।

যেই কথা, সেই কাজ।

তো আমরা এখন এই আয়াতের মানদণ্ডে কোরআন, গীতা ও বাইবেলকে বিচার করে দেখব।

প্রথমে চলে যাব হিন্দুদের অন্যতম গ্রন্থ গীতায়।

আমরা যদি গীতার অধ্যায় ৪, শ্লোক ৩ পড়ি, তাহলে সেখানে দেখতে পাবো যে কৃষ্ণ বলছেন:

‘হে অর্জুন, তোমার ও আমার বহু জন্ম অতিবাহিত হয়েছে, যেগুলো তুমি জানো না; কিন্তু আমি জানি।’

কৃষ্ণ গীতা ৪/৫-এ বলছেন যে, তাঁর এর আগেও অনেক জন্ম হয়েছে।

এখন আমরা আরেকটি শ্লোক দেখব। সেটা হলো, কৃষ্ণ বলছেন:

‘আমার আদি নেই, জন্ম নেই।’

গীতা ১০/৩

এই শ্লোকে কৃষ্ণ বলছেন যে তাঁর নাকি কোনো জন্ম নেই। কিন্তু আমাদের হিন্দুদের কৃষ্ণ এর আগেই গীতা ৪/৫-এ বলছেন যে তিনি অনেকবার জন্মগ্রহণ করেছেন।

এখন আপনারাই বিচার করুন। যে গ্রন্থের ঈশ্বর নিজেই জানেন না তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন কি না, সেই ঈশ্বর জগতের ঈশ্বর কি কখনো হতে পারেন? আর গীতা কি কখনো কোনো ধর্মগ্রন্থ হতে পারে?

যদি ঈশ্বরপ্রদত্ত হতো, তাহলে এতে বৈপরীত্য এল কোথা থেকে?

একইভাবে হিন্দু আর্যসহ প্রায় সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মান্য ধর্মগ্রন্থ হলো ‘বেদ’।

এই বেদেও বৈপরীত্য আছে। শুক্ল যজুর্বেদ ৪০/৪ পড়লে সেখানে পাবেন যে, ‘ঈশ্বরকে দেখা যায় না।’ আবার একই শুক্ল যজুর্বেদের ৩৪/৪৪ মন্ত্রে বলা হয়েছে যে, ‘ঈশ্বরকে যোগীরা দেখতে পারেন।’

বেদ একবার বলছে ঈশ্বরকে দেখা যায় না, আবার বলছে যোগীরা দেখতে পারেন, যা সম্পূর্ণ বৈপরীত্য।

এরকম করে বেদ থেকে ৫০টিরও বেশি বৈপরীত্য দেখাতে পারব, যা প্রমাণ করবে যে বেদ কোনো ঈশ্বরের বাণী নয়।

তো এই গেল হিন্দু ধর্মের কথা।

এখন দেখব খ্রিষ্টানদের বাইবেল।

আমরা যদি ‘প্রবচন’ অধ্যায় ১২, পদ ২২ পড়ি, তাহলে বুঝতে পারব যে, ‘ঈশ্বর মিথ্যা পছন্দ করেন না।’ কিন্তু আমরা যদি ‘রাজাবলি ১’ ২২:১৯-২৩ পড়ি, তাহলে দেখতে পাবো যে ঈশ্বর নিজেই ভাববাদীদের দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছেন।

তো আপনারাই বলুন, ঈশ্বর মিথ্যা পছন্দ করেন কি না? এরকম বৈপরীত্যের কাজ ঈশ্বর করেন কী করে?

এখন নিজেরাই ভাবুন তো, বাইবেল কি সত্যিই কোনো ঈশ্বরের বাণী? যদি সত্যিই ঈশ্বরপ্রদত্ত হতো, তাহলে বৈপরীত্য এল কোথা থেকে?

এরকম করে বাইবেল থেকে ১০০টিরও বেশি বৈপরীত্য দেখানো যাবে।

এরকম অনেক বৈপরীত্য দেখানো যাবে। আমি শুধু দুটি ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ থেকে একটি করে উদাহরণ উল্লেখ করলাম।

এখন আসি কোরআনে।

তো আপনাদের কী মনে হয়, আল-কোরআনে কি সত্যিই কোনো বৈপরীত্য আছে?

উত্তর হলো, না, একদমই না।

আপনারা হয়তো নেটে এরকম অনেক লেখা পেয়ে যাবেন। সংশয় ডট কম, যাকে আমরা ‘গাঁজা ডট কম’ নামে ডাকি, সেখানে আসিফ মহিউদ্দিন ওরফে আসিফ মগাচিপ অনেক বৈপরীত্য দেখিয়েছেন।

আসলে ওগুলো কোনো বৈপরীত্যই নয়। আমি এর আগেও অনেক বৈপরীত্যের খণ্ডন করেছি। সেগুলো আপনারা আগের পোস্টগুলোতে দেখেছেন। বাকিগুলোও খণ্ডন করব, ইনশাআল্লাহ।

কারও যদি মনে হয় আল-কোরআনে কোনো বৈপরীত্য আছে, তাহলে বলতে পারেন। খণ্ডন করে দিব, ইনশাআল্লাহ।

তো উক্ত আয়াত, অর্থাৎ সূরা নিসা-৮২-এর মানদণ্ডের আলোকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, আল-কোরআন একমাত্র সেই গ্রন্থ, যেটা বৈপরীত্যহীন।

গীতায় শ্লোক আছে ৭০০টি, বেদে আছে ২০ হাজারেরও বেশি এবং কোরআনে আয়াত আছে ৬২৩৬টি। সামান্য ৭০০ শ্লোকে বৈপরীত্য আছে, কিন্তু ৬২৩৬টি আয়াতে আমরা কোনো বৈপরীত্য খুঁজে পাচ্ছি না।

এটাই যথেষ্ট আল-কোরআনের অলৌকিকতা প্রকাশ করার জন্য।

এরকম আরও যত মানদণ্ড আছে, সেসব মানদণ্ডের আলোকে আল-কোরআনকে পরীক্ষা করলে দেখব যে, অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থের তুলনায় আল-কোরআন উত্তীর্ণ হয়েছে।

আর এই একটি আয়াত আমার জীবনের সকল অন্ধকার দূর করে দেয়।

এখন আর আমার বলতে হয় না যে, বাপ-দাদা পালন করেছে বলে ইসলাম আমি পালন করি। এখন আমি নিজে যুক্তি ও মানদণ্ডের আলোকে ইসলামকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করেছি।

এখন আমার কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে, আল-কোরআন কোনো মানব রচিত ধর্মগ্রন্থ নয়; বরং আল্লাহপ্রদত্ত। আর ইসলামও কোনো মানব রচিত ধর্ম নয়; বরং আল্লাহপ্রদত্ত।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজেই বলছেন:

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ইসলামই একমাত্র মনোনীত ধর্ম।’

আলে ইমরান-১৯

পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের সঙ্গে কোরআনের কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট্য আছে। আমি প্রধান তিনটি বলছি।

১. কোরআনে কোরআনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে

আপনারা যদি বাইবেল, বেদ অথবা ত্রিপিটক পড়েন, তাহলে সমগ্র কিতাব তন্নতন্ন করে খুঁজেও বের করতে পারবেন না যে, উক্ত কিতাবগুলোর কোনো জায়গায় সেসব কিতাবের নাম বলা আছে।

বেদ যখন ঋষিরা ধ্যানযোগে লাভ করেন, তখন ঋষিরা সেই মন্ত্রগুলোর আলোকে কোনো কিতাব রচনা করেননি। পরবর্তীতে সেগুলোকে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং নাম দেওয়া হয় বেদ।

এমনভাবে বাইবেল রচনার কয়েক শতাব্দী পর বাইবেলের নামকরণ করা হয়।

আর ত্রিপিটক তো বুদ্ধের মৃত্যুর প্রায় তিনশো বছর পর চূড়ান্তভাবে ভিক্ষুরা নাম দেন।

তাই মূল কিতাবে সেসব গ্রন্থের কোনো নাম নেই।

কিন্তু পবিত্র কোরআনে কোরআনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউসুফ-২

২. কোরআনের ভাষা উল্লেখ করা হয়েছে

বেদ, বাইবেল ও ত্রিপিটকের কোনো জায়গায় বলা নেই যে, সেসব কিতাবের ভাষা কী।

বেদের কোনো জায়গায় উল্লেখ নেই যে, বেদের ভাষা সংস্কৃত। ত্রিপিটকের কোনো জায়গায় বলা নেই যে, ত্রিপিটকের ভাষা পালি। এবং বাইবেলের কোনো জায়গায় বলা নেই যে, বাইবেলের ভাষা হিব্রু, আরামাইক, গ্রিক অথবা ইংরেজি ইত্যাদি।

কিন্তু কোরআনে বলা আছে, কোরআনের ভাষা আরবি।

ইউসুফ-২

৩. ইসলামের নাম কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে

আপনারা যদি কোনো সনাতনী বা হিন্দুকে জিজ্ঞেস করেন, তার ধর্মের নাম কী, তাহলে সে বলবে হিন্দু বা সনাতনী।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, হিন্দু বা সনাতনী যে তাদের ধর্মের নাম, সেটা বেদের কোথাও উল্লেখ নেই।

এমন করে ত্রিপিটক এবং বাইবেলেও বলা নেই যে, তাদের ধর্মের নাম বৌদ্ধ অথবা খ্রিষ্টান।

কিন্তু কোরআনে বলা আছে, আমাদের ধর্মের নাম ইসলাম।

আলে ইমরান-১৯

তো এই হলো কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট্য আল-কোরআনের।

এখন যদি লেখাটার সারাংশ করি, তাহলে দাঁড়ায়:

‘ইসলাম বিশ্বাসের মূলভিত্তি আল-কোরআন। আর আল-কোরআনে বিশ্বাস করার কারণ হলো সূরা নিসা-৮২, যা আমার মানদণ্ড; অনেকগুলো মানদণ্ডের মধ্যে এটি একটি মানদণ্ড।’

আশা করি লেখাটা ভালো লেগেছে।

জানি না, কতটুকু মনের ভাবটা বুঝাতে পেরেছি। তবে আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।

তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান

আল্লাহ হাফেজ।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

প্রিন্স ফ্রেরাসে

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।