ডারউইনের ফিঞ্চ: নতুন প্রজাতি?

পড়ুন- প্রজাতির সংজ্ঞা

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে অনেক গরু গাধা দেখার সুযোগ হয়েছে, যারা ডারউইনের প্রোপাগান্ডা না বুঝেই বলাবলি করছে। যেমন তারা বলছে: বাপ ফিঞ্চ, বেটা বিগ বার্ড। মানে বাপ গাধা, বেটা মানুষ।

অথচ বেটার নাম বিগ বার্ড রাখার মানে এই নয় যে, মাছির পেটে হাতি হয়েছে। বিগ বার্ড নাম দেয়া হয়েছে কারণ এর চঞ্চু বড় ও মাঝারি স্থলজ ফিঞ্চের চঞ্চুর আকারের মাঝামাঝি

ঘটনা হল, 1981 সালে ক্যাক্টাস ফিঞ্চ ডাফনি দ্বীপে উড়ে আসে। 70% বড় হলেও এবং একটি আলাদা সুরে গান গাওয়া সত্ত্বেও, এই বড় পুরুষ অভিবাসী পাখি মাঝারি স্থলজ ফিঞ্চের সাথে মিলিত হয়। তাঁর কিছু ছোট চঞ্চুর সংকর বংশধর মাঝারি স্থলজ ফিঞ্চের সাথে মিলন অব্যাহত রাখে এবং  মাঝারি স্থলজ ফিঞ্চের জনসংখ্যায় অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। এসব সংকর জাতের উদ্ভব হয়েছিল এপিজেনেটিক্সের কারণে, অর্থাৎ মূল ডিএনএ অপরিবর্তিত ছিল। (Skinner, M. K. et al. 2014. Epigenetics and the Evolution of Darwin's Finches. Genome Biology and Evolution. 6 (8): 1972-1989.) এখন কেউ যদি সংকরায়নকে বিবর্তনের প্রমাণ দাবি করে তবে কিছু করার নেই।

তবে, তাঁর বংশের একাংশ দ্রুত (তিন প্রজন্মের মধ্যে) কেবল তাদের মধ্যেই প্রজনন শুরু করে ও একটি পৃথক জনসংখ্যা গঠন করে। প্রাথমিকভাবে এর ফলাফল কী হবে সে সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না গ্রান্ট বিজ্ঞানীদের, তাই তারা এই জনসংখ্যাকে বিগ বার্ডের বংশ নাম দেয়। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বংশের উপর নজরদারি করেন, দেখলেন এরা কেবল তাদের মধ্যেই প্রজনন করে, সুতরাং ট্যাক্সনোমির প্রচলিত নিয়ম অনুসারে পৃথক প্রজাতি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Behind the scene

অল্প বয়স্ক পুরুষ পাখিরা সাধারণত তাদের পিতাদের গান শেখে এবং পুরুষরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই গান করে। মেয়েরা পিতার সুর স্মরণ রাখে এবং বড় হলে তাদের বাবার সুরের গায়ক পুরুষের গান শুনলে তার প্রেমে পরে। ছানাগুলোর শৈশবে পিতা মারা গেলে, তারা বড় হয়ে প্রজনন করতে সমস্যার মুখোমুখি হয়। কখনও কখনও, একটি অল্প বয়স্ক পাখি তার প্রতিবেশীর গান শিখতে পারে, যা ভিন্ন প্রজাতির। এক্ষেত্রেও প্রজননে বিঘ্নিত হয়।

মাঝারি স্থলজ ফিঞ্চ এবং ক্যাকটাস ফিঞ্চের মধ্যে সংকরনের ক্ষেত্রে, বংশধররা তাদের পৈত্রিক প্রজাতিতে ফিরে আসে। বিগ বার্ড বংশের ক্ষেত্রে এমন হয় নি, কারণ তাদের গানের সুর শুনে অন্যান্য সংকর জাত তাদের চিনতে পারে নি। আবার ঠোঁটের আকৃৃতিও আলাদা, তাই চোখে দেখেও চেনে নি। তাই বিগ বার্ড প্রজাতির উৎপত্তি জিনগত কারণে নয়, বরং আচরণগত কারণে

The offspring were also reproductively isolated because their song, which is used to attract mates, was unusual and failed to attract females from the resident species. The offspring also differed from the resident species in beak size and shape, which is a major cue for mate choice. As a result, the offspring mated with members of their own lineage, strengthening the development of the new species. [দেখুন]

এখন আচরণগত কারণে একজন সাওতাল একজন পাঙন উপজাতিকে বিয়ে করে না। তাই বলে কি এরা পৃৃথক প্রজাতি হবে?

যদি ডারউইন জানত

অথচ এতেই তারা খুশি। আবার ডারউইন জানলেও নাকি খুশি হত! কিভাবে খুশি হবে যখন নতুন কোন তথ্য যুক্ত হয় নি? এবং ডারউইনের prediction অনুযায়ী ধীর গতিতেও ঘটে নি? মাত্র 3 প্রজন্মের ভেতরে এদের আবির্ভাব ঘটেছে। 

বিবর্তন যদি এত দ্রুত হত, তাহলে ডাফনি দ্বীপের জীবকুল এতদিনে অজানা অচেনা জীবে ভরে যেত। যদি বলেন দ্রুত নতুন প্রজন্ম আসা হল ব্যতিক্রম ঘটনা ; তাহলে ব্যতিক্রমকে আবার বিবর্তনের প্রমাণ হিসাবে পেশ করছেন কেন? এ তো দেখছি special pleading!

ডারউইনের মডেল অনুসারে, একটা প্রজাতি ভিন্ন ভিন্ন পথে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অগ্রসর হয়, ভিন্ন পথ থেকে প্রজাতি এসে একীভূত (সংকরায়ন) হয় না। তাই সংকরায়ন ডারউইনকে মোটেও খুশি করে না। বিশেষ করে, যখন তার প্রস্তাবিত প্রাণবৃৃক্ষ (tree of life) সংকর প্রজাতির উপস্থিতিতে প্রাণজালিকায় (net of life) রূপান্তরিত হচ্ছে। 

ডারউইনের ফিঞ্চ নিয়ে যদি কারও গভীর জ্ঞানপিপাসা থেকে থাকে, তবে পড়ুন

এছাড়া পড়ুন- নেকড়ে কিভাবে কুকুর হল?

Share this: