আকাশ সক্রান্ত ১৮ টি অভিযোগের জবাব

 

 

ইসলামবিরুধিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত একটি অভিযোগ হলো যে কোর'আনে আকাশ সম্পর্কে বহু হাস্যকর ও অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তা রয়েছে। তাদের সেসমস্ত অভিযোগ নিয়ে এই লেখাটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ।

আকাশের সংজ্ঞা :

আরবি "سماء" শব্দটি আকাশ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি এসেছে "السمو" হতে, যাদ্বারা "উচু হয়া, উপরে হওয়া " বুঝানো হয় [1]। উক্ত "سماء" শব্দটি দ্বারা এমন যেকোনোকিছুকে বুঝানো হয় যা উপরে রয়েছে  [2][3]।অর্থাৎ ভুপৃষ্ঠের উপরের যেকোনোকিছুই হলো سماء বা আকাশ, এহিসেবে মেঘ, বৃষ্টি, বাসার ছাদ থেকে শুরু করে সমগ্র মহাশুন্যের সকল কিছুই سماء বা আকাশ এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

কিছু বিষয় :

আমরা বিশ্বাস করি যে বিজ্ঞান সম্পুর্ন মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারেনি, এমন অসংখ্যা বিষয় মহাবিশ্বে আছে যার সম্পর্কে বিজ্ঞান কিছু জানেনা। মহাশুন্যসক্রান্ত বহু  থিওরি ও হাইপোথেসিস রয়েছে, আমরা সেসব হাইপোথেসিস ও থিওরি কিংবা এগুলোর উপর নির্ভর করে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোকে ধ্রুবসত্য বা ফ্যাক্ট হিসেবে বিশ্বাস করিনা। তাছারা কোর'আন সুন্নাহ অনুযায়ি মহাশুন্যের সাতটি শক্ত কঠিন পদার্থের স্তর রয়েছে। এবং উক্ত স্তরগুলোসহ শুন্যের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা, পথ,  প্রবেশপথ রয়েছে। পৃথিবীর জন্যও ছাদস্বরুপ একটি আকাশ রয়েছে। এবং শুন্যে বিভিন্ন জৈতিস্ক যেমন : চাঁদ, সুর্য, গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদি অবস্থান করছে।

অভিযোগগুলোর জবাব :

প্রথম অভিযোগ : আল্লাহ বলেছেন যে তিনি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছেন। এরদ্বারা স্পষ্টরুপে প্রমানিত হয় যে আকাশ শক্ত একটি পদার্থ।

জবাব :

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন : (وجعلنا السماء سقفا محفوظا) _[3]
অর্থ : "এবং আমি আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ "

সুরক্ষিত ছাদ করার মানেই এটা নয় যে সেটাকে ছাদ হয়ার জন্য "শক্ত " কোনো "কঠিন " পদার্থ হতে হবে। আয়াতে ব্যবহৃত "سقف " দ্বারা মুলত "কোনোকিছুর উপরে অবস্থান করে সেটির তত্ত্বাবধান করা বা সেটির যত্ন নেয়া " বুঝানো হয়, এবং এই সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করেই "বাড়ির ছাদ " কথাটি এসেছে, কেননা এটা বাড়ির উপরে অবস্থান করে তলদেশের যত্ন নিয়ে থাকে। [4]

কোনোকিছুর উপরে অবস্থান করে যত্ন নেয়ার জন্য সেটিকে "শক্ত" কোনো পদার্থ হতে হবে, এমন কোনো শর্ত নেই। বায়ুমন্ডলের স্তর পৃথিবীর পৃষ্ঠের উপরে অবস্থিত এবং তা পৃথিবীর যত্ন নিচ্ছে, সুতরাং উক্ত আয়াতটির সাথে বিজ্ঞানের কোনো বিরুধ নেই। তাছারা উক্ত আয়াতটিতে মুলত একটি "উপমা " বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ আকাশ পৃথিবীর জন্য ছাদের 'অনুরুপ' [5]।

এখানের محفوظا (সুরক্ষিত)  এর ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এব্যাপারে চারটি মত পাওয়া যায়, কেও কেও বলেছেন : আকাশকে পৃথিবীর উপর পতিত হয়া থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, কেও কেও বলেছেন শির্ক ও পাপকর্ম হতে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, অপরদল বলেছেন শয়তানদের থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, আরেকদল বলেছেন আকাশকে "উপরে রাখা " মানেই "সুরক্ষিত রাখা "[6]

এই চারটি মতের মধ্যে অগ্রাধিরপ্রাপ্ত অধিক সঠিক মতটি হলো : "আকাশকে শয়তানদের থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে" কিংবা "আকাশকে উপরে রাখা মানেই সুরক্ষিত রাখা " । কেন এদুইটা মত অধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বা অধিক সঠিক? এর উত্তর হলো : কেননা এদুইটা মত সালাফদের যুগে প্রচলিত ছিল [7], এবং তাফসিরের একটি মুলনিতী হলো যে সালাফদের ব্যাখ্যা অধিক গ্রহনযোগ্য ও অধিক নির্ভরযোগ্য [8]

তাছারা অন্যান্য কিছু আয়াতেও আকাশকে "ছাদ" বলা হয়েছে, সেসব আয়াতে ছাদ বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে "بناء"।[9]তবে এক্ষেত্রে এই بناء আলাচ্য আয়াতের سقف শব্দে সমার্থক [10], সুতরাং আকাশকে ছাদ বলা সক্রান্ত অন্য আয়াত নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনার প্রয়োজন মনে করছিনা।

দ্বিতীয় অভিযোগ : কোর'আনে বলা হয়েছে যে আকাশের কোনো স্তম্ভ বা পিলার নেই, আকাশ শক্ত হলেই এতে স্তম্ভ থাকা না থাকার প্রশ্ন আসে, সুতরাং আকাশ একটি কঠিন পদার্থ।

জবাব :

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন : (رفع/خلق السماوات بغير عمد ترونها ) _[11]
অর্থ : তিনি আকাশমন্ডলীকে সৃষ্টি করেছেন স্তম্ভ ব্যাতিত, যেমনটা তোমরা দেখছ

এই আয়াতটির ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

ইবন আব্বাস (রা), মুজাহিদ(রহ) ,ইকরামাহ (রহ), ইয়াহইয়া (রহ) এর মতে : আকাশের স্তম্ভ আছে কিন্ত তা অদৃশ্য [12]। অপরদিকে আশ-শু'বী (রহ), আল-হাসান(রহ), কাতাদাহ (রহ),মুকাতিল, এর মতে : আকাশের দৃশ্যমান বা অদৃশ্য কোনো ধরনের স্তম্ভই নেই [12]

এদুইটা মতের মধ্যে কোনটা সঠিক সেটা নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা বিষয় স্পষ্ট করি। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে একজন সাহাবির ইলমে গায়েব সক্রান্ত বক্তব্য মেনে নেয়াটা অনেকটা ওয়াজিবের মত বিষয়, কিন্ত যদি এই সম্ভাবনা থেকে থাকে যে উক্ত সাহাবি গায়েব সক্রান্ত তথ্যটি ইসরাইলি জ্ঞান ভান্ডার থেকে নিয়েছেন,তাহলে সেক্ষেত্রে সাহাবি হিসেবে উক্ত সাহাবির বক্তব্যটির যেই বিশেষ মুল্য পাওয়ার কথা সেই মুল্য তা পাবেনা [13][14]

এক্ষেত্রে ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন যে আকাশের অদৃশ্য স্তম্ভ রয়েছে। এটি ইলমে গায়েব সক্রান্ত বিষয়। তবে এক্ষেত্রে এই সন্দেহ-সম্ভাবনা আছে যে তিনি তা ইসরাইলি জ্ঞানভান্ডার হতে প্রভাবিত হয়ে বলেছেন। [15] সুতরাং সাহাবি হিসেবে ইবন আববাস (রা) এর বক্তব্যের যেই বিশেষ মুল্য ও গুরুত্ব পাওয়ার কথা, এইক্ষেত্রে উনার এই বক্তব্যটি সেরকম গুরুত্ব পাবেনা।

এখন আসা যাক মুল আলোচনায়, এদুইটা মতের  মধ্যে কোনটা সঠিক? উত্তর : ভাষাগতভাবে দুইটা মতই সঠিক, কিন্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও অধিক সঠিক মত হলো "আকাশের কোনো ধরনেরই স্তম্ভ নেই "। কেননা আলোচ্য আয়াতের ক্ষেত্রে এটাই আরবি ভাষায় অধিক পরিচিত, প্রচলিত ও সবার জানা মানা অর্থ। এবং তাফসিরের মুলনিতী হলো অধিক পরিচিত অর্থের দ্বারা কৃত ব্যাখ্যা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচিত হয় [16]। আবার মুহাম্মাদ বিন জারির আত-তাবারী,মাক্কি বিন আবি তালিব, মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুমুল্লাহ) এনারাও এক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্তম্ভ না থাকার মতটিকে অধিক সঠিক বলেছেন ও অগ্রাধিকার দিয়েছেন [17] তবে যদি ধরে নেই যে "আকাশের স্তম্ভ আছে কিন্ত তা অদৃশ্য " এটাই সঠিক ব্যাখ্যা,  সেক্ষেত্রে "অদৃশ্য স্তম্ভ " এর মানে হবে "আল্লাহর ক্ষমতা" [18]

"আকাশের কোনোরুপ স্তম্ভ নেই " - এটাকে সঠিক ধরলে প্রশ্ন আসে  "আকাশ যদি শক্ত কোনো বস্ত হয় তবেইনা এতে স্তম্ভ থাকার প্রশ্ন আসবে। সুতরাং আকাশ শক্ত কোনোকিছু " … একথার জবাবে বলব : এখানে আকাশ শক্ত নাকি না সেটা বিষয়ই না, মুল বিষয় হলো ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা তখন বিশ্বাস করত যে আকাশের স্তম্ভ আছে,এবং আরবের ইহুদি খ্রিষ্টানদের মাঝেও এটা প্রচলিত ছিল যে আকাশের স্তম্ভ আছে ।এই বিশ্বাসটির প্রতিউত্তর স্বরুপ আল্লাহ বলেছেন যে আকাশের স্তম্ভ নেই।ইহুদি খ্রিষ্টানদের কিছু বিশ্বাস ও কর্মকান্ডের প্রতিউত্তরস্বরুপ আল্লাহ কোর'আনের কিছু আয়াত নাজিল করেছেন। এই আকাশের স্তম্ভ না থাকার বিষয়টি এসব আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। কোরানের একটা বৈশিষ্ট হলো এই যে তা পুর্ববর্তি কিতাবের কিছু কিছু বিষয়কে সমর্থন করেছে বা সংশোধন করেছে, পুর্ববর্তি বিকৃত কিতাবগুলোতে আছে যে আকাশের স্তম্ভ বিদ্যমান,এবিষয়টাকেই কোরান দ্বারা সংশোধন করা হয়েছে।অপরদিকে  "আকাশের অদৃশ্য স্তম্ভ আছে " - এটাকে সঠিক ব্যাখ্যা ধরলে "অদৃশ্য স্তম্ভ " এর মানে হবে "আল্লাহর ক্ষমতা " [18], অর্থাৎ এখানে স্তম্ভের বিষয়টা একটা অবস্তগত বিষয় হয়ে যায়। সুতরাং যদি এটাকে সঠিক ধরে নেয়া হয় তাহলে আকাশ শক্ত হয়ার কোনো প্রশ্নই আসেনা।

তৃতীয় অভিযোগ : কোর'আন বলছে যে সাতটি আসমান আছে। কিন্ত বাস্তবে এমন কিছুই নেই। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত নয়।

জবাব : কোর'আন সুন্নাহর অসংখ্যা দলিল দ্বারা এট প্রমানিত যে আসমানের সংখ্যা সাতটি। এবং তারা স্তরে স্তরে একটার উপর আরেকটা রয়েছে। স্তরে স্তরে একটার উপর আরেকটা ; এই বিষয়টা মুলত ভুপৃষ্ঠ সাপেক্ষে বলা হয়েছে, অর্থাৎ ভুপৃষ্ঠ থেকে হিসেব করলে একটা আসমান আরেকটার উপর রয়েছে। যার মানে হলো মহাশুন্য সাতটি স্তরে বিভক্ত।বিজ্ঞান সম্পুর্ন মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানেনা। সাত আসমানের ব্যাপারটা বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে বা পক্ষে যায়না, কারন বিজ্ঞান সম্পুর্ন মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারেনি!  যারা এই অভিযোগ করে তারা মনে মনে ধরে নেয় যে বিজ্ঞান সমগ্র মহাবিশ্বের সকল কিছু আবিস্কার করে ফেলেছে! কিন্ত তাদের এই ধারনাটা ভুল। ৭-৮ শ্রেনির এর বাচ্চারাও এটা জানে-বুঝে যে বিজ্ঞান সম্পুর্ন মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারেনি ; তবে ইসলামবিরুধিদের অনেকেই এটা বুঝেনা। আমরা বলব যে বিজ্ঞান এখনো এতটা উন্নত হয়নি যে ৭ আসমান আবিস্কার করে ফেলতে পারবে। আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত না হয়ার মানেই এটা না যে বিষয়টা ভুল। কেননা যদি এমনটাই হতো তাহলে এরমানে দারাবে :  "সমস্ত মৌল আবিস্কারের পুর্ব পর্যন্ত সেগুলো অবৈজ্ঞানিক ছিল, সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব ছিলনা।", আর যদি এমনটা হতো তাহলেত পৃথিবীরই কোনো অস্তিত্ব থাকার কথা না!

চতুর্থ অভিযোগ : কোরান অনুযায়ী ৭ টি শক্ত কঠিন পদার্থের আসমান রয়েছে। এটা অবৈজ্ঞানিক ও ভুল কথা।

জবাব :

আল্লাহ বলেন : (وبنينا فوقكم سبعا شدادا) [19]
অর্থাৎ :" আর আমি তোমাদের উপরে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ।"
            "And constructed above you seven strong (heavens)"

এই আয়াত দ্বারা প্রমানিত হয় যে সাত আসমানের সাতটি শক্ত স্তর রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো এটাকি বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল না?  উত্তর ; প্রথম আসমানের সিমানা কতটুকু তা আল্লাহ ছাড়া কেও জানেন না। হতে পারে যে আমরা সম্পুর্ন মহাবিশ্ব বলে যা জানি তারও অনেক অনেক অনেক পরে প্রথম আকাশের সিমানা শেষ হয়। প্রথম আসমানের সিমানা অকল্পনীয় ; আমাদের ভাষায় বললে এককথায় "অসীম" এর অনুরুপ। বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সকল বিষয় জানেনা ; এমনটা মোটেও হয়নি যে বিজ্ঞানিরা সমগ্র মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষন করে ফেলেছেন! যদি এমন হতো যে বিজ্ঞানিরা সমগ্র মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষন করে ফেলেছেন ; তাহলে এই প্রশ্নের যৌক্তিকতা থাকত। মহাকাশ সক্রান্ত বিজ্ঞানের অধিকাংশ তথ্য তত্ত্বনির্ভর ; তথা এর অধিকাংশ বিষয়ই কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রমানিত সত্য নয়।সুতরাং এক্ষেত্রে আমরা বলব যে : বিজ্ঞান সম্পুর্ন মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানেনা। সাত আসমানের শক্ত হয়ার বিষয়টা হলো বিজ্ঞানের অসংখ্যা অজানা বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। বিজ্ঞান যদি কোনো একটা বিষয় সম্পর্কে না জানে তাহলে এরমানে এট নয় যে উক্ত বিষয়টাই ভুল!  একইভাবে বিজ্ঞান সাত আসমানের শক্ত হয়ার ব্যাপারে জানেনা, এখন এই না জানার মানে এটা নয় যে ইহা ভুল বা বাস্তবতা বিরুধী।

পঞ্চম অভিযোগ : নিকটবর্তি আসমানে নক্ষত্র আছে!  অর্থাৎ বায়ুমন্ডলে নক্ষত্র আছে! 

জবাব :
কোর'আনে আল্লাহ বলেছেন : _[21]

(ক)إنا زينا السماء الدنيا بزينة الكواكب
অর্থ : নিশ্চই আমি নিকটবর্তি আসমানকে নক্ষত্রের সৌন্দর্য দ্বারা সজ্জিত করেছি

(খ)وزينا السماء الدنيا بمصابيح
অর্থ : এবং আমি নিকটবর্তি আসমানকে প্রদীপমালা দ্বারা সজ্জিত করেছি

(গ)ولقد زينا السماء الدنيا بمصابيح
অর্থ : অবশ্যই আমি  নিকটবর্তি আসমানকে প্রদীপমালা দ্বারা সজ্জিত করেছি

"নিকটবর্তি আসমান " এর দুইটা অর্থ হতে পারে, হতে পারে এরদ্বারা প্রথম আসমানের সীমানা উদ্দেশ্য[22], আবার হতে পারে এরদ্বারা নীল আকাশ ও বায়ুমন্ডল উদ্দেশ্য। তবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অধিক সঠিক কথা হলো "এরদ্বারা বায়ুমন্ডলই উদ্দেশ্য"

যদি ধরে নেই যে : এরদ্বারা প্রথম আসমান উদ্দেশ্য সেক্ষেত্রে বলা হবে যে প্রথম আসমানে বহু নক্ষত্র রয়েছে। কিন্ত এরমানে এইনা যে সকল নক্ষত্র শুধু প্রথম আসমানেই আছে, বরং প্রথম আসমানের বাহিরেও নক্ষত্র থাকতে পারে। যদি ধরে নেই এরদ্বারা বায়ুমন্ডল উদ্দেশ্য সেক্ষেত্রে বলা হবে যে রাতের আকাশকে মানুষ তারাদ্বারা সজ্জিত দেখে, এবিষয়টাই এখানে বলা হয়েছে।নক্ষত্র নিকটবর্তি আসমান থেকে বহু দূরে থাকলেও মানুষ রাতে নিকটবর্তি আসমানকে সজ্জিতই দেখবে, বায়ুমন্ডল বা নিকটবর্তি আসমানকে সজ্জিত দেখানোর জন্য নক্ষত্রের নিকটবর্তি আসমানে অবস্থান করাটা জরুরি নয়।[23]

কিছু উলামারা এই আয়াত হতে যুক্তি দিয়েছেন যে "সকল নক্ষত্র নিকটবর্তি আসমানে অবস্থিত "[24] কিন্ত তাদের এই যুক্তি দুর্বল। কেননা আয়াতগুলোতে আকাশকে নক্ষত্রের দ্বারা সজ্জিত করার কথা বলা হয়েছে, নক্ষত্র যদি বহু আলোকবর্ষ দূরে থাকে তাহলেও নিকটবর্তি আসমান সজ্জিতই দেখাবে। নক্ষত্র দ্বারা সজ্জিত করার জন্য নক্ষত্রের স্বশরিরে নিকটবর্তি আসমানে অবস্থান করার কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু সজ্জিত দেখানোর জন্য নক্ষত্রের স্বশরিরে নিকটবর্তি আসমানে অবস্থান করার কোনো প্রয়োজন নেই, কোনো শর্ত বা আবশ্যকতা নেই, সেহেতু এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে চুরান্তভাবে এইসিদ্ধান্তে আসা যাবেনা যে সকল নক্ষত্র নিকটবর্তি আসমানে অবস্থিত।

এব্যাপারে ইবন জুয্যাই আল-কালবী (রহ) বলেন : "নিকটবর্তি আসমান হলো আমাদের নিকটে। এবং প্রদীপমালা বলতে উদ্দেশ্য হলো নক্ষত্র। যদি সকল নক্ষত্রই নিকটবর্তি আসমানে হয় তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই, আর যদি নক্ষত্র নিকটবর্তি আসমানে না হয়ে আকাশের অন্য অঞ্চলে অবস্থিত হয়, তাহলে আকাশকে সজ্জিত করার মানে হলো এটাই যে আমাদের ব্যাহ্যিক দৃষ্টিতে নক্ষত্রগুলো প্রকাশিত হয়। এটাও হতে পারে যে নিকটবর্তি আসমানে নক্ষত্র আছে আবার নিকটবর্তি আসমানের বাহিরেও নক্ষত্র আছে, তবে আকাশকে সজ্জিত করা হয়েছে শুধু নিকটবর্তি আসমানের নক্ষত্রের দ্বারা। যাই হোক, নক্ষত্রগুলো আকাশের কোথায় কোন অঞ্চলে আছে সেব্যাপারে শরিয়ত কিছু বলেনি।" [25]

ধরে নিলাম নিকটবর্তি আসমান মানে বায়ুমন্ডল।নক্ষত্র দ্বারা নিকটবর্তি আসমানকে সজ্জিত করার অর্থ হলো এটাই যে আমরা রাতের আকাশকে সাদা বিন্দু দ্বারা সজ্জিত দেখতে পাই। এটার জন্য নক্ষত্রের নিকটবর্তি আসমানে অবস্থান করা জরুরি নয়!  বরং তা বহু আলোকবর্ষ দূরে থাকলেও আমরা রাতের আকাশকে নক্ষত্র দ্বারা সজ্জিত দেখতে পাবই!  যদি এরদ্বারা এটা প্রমানিত হয় যে নক্ষত্রসমুহ নিকটবর্তি আসমানে আছে, তাহলে আমরা কি এখন রাতের আকাশে তারা দেখতে পাইনা?  অবশ্যই পাই! এটা  বাস্তবতা!  যদি আমাদের তারা দেখতে পাওয়াটাই নক্ষত্রের নিকটবর্তি আসমানে অবস্থিত হয়ার দলিল হয় তাহলে ইসলামবিরুধিরা কেন বিশ্বাস করে যে নক্ষত্র বহু আলোকবর্ষ দূরে আছে!  ইসলামবিরুধিরাকি রাতের আকাশে তারা দেখতে পায়না নাকি? নাকি তাদের সবাই অন্ধ! 

ষষ্ঠ অভিযোগ : আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী স্থীর, আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন সাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়।

জবাব :

আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন : (إن اللّٰه يمسك السماوات والأرض أن تزولا)
অর্থ : "নিশ্চই আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রাখেন যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয় "

মুল আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা বিষয়, এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অনেক মুফাসসির বলেছেন যে  এখানে আকাশকে ধরে রাখার উদ্দেশ্য হলো যাতে করে তা পৃথিবীর উপর পতিত না হয়। তবে এটা সঠিক নয়, কেননা সাহাবি ইবন মাসউদ (রা) হতে এই আয়াত সম্পর্কিত একটি ঘটনা বর্নিত আছে। সেই ঘটনা হতে পাওয়া যায় যে ইবন মাসউদ (রা) উক্ত আয়াতের ক্ষেত্রে এমন কিছুই বুঝেন নি।বরং উনি উক্ত আয়াত থেকে যা বুঝেছেন তা হলো : "আকাশের সর্ববহিস্থ স্তর স্থির রয়েছে, এবং আকাশের  জৈতিস্কগুলো চলমান " [27]। কিছু মুফাসসির বললেন যে আকাশকে ধরে রাখার উদ্দেশ্য হলো যাতে তা পৃথিবীর উপর পতিত না হয়, অপরদিকে সাহাবি ইবন মাসউদ (রা) উক্ত আয়াত থেকে বুঝলেন একদম ভিন্ন কিছু। স্পষ্টতই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও সঠিক হলো সেটাই যা ইবন মাসউদ (রা) বুঝেছেন। একজন সাহাবির বুঝের উপরে আর কারো কথা খাটবেনা।

এবার আসল কথায় আসি, আয়াতে ব্যবহৃত السماوات এর তিনটি প্রাসংগিক অর্থ হতে পারে, "সমগ্র মহাশুন্য ", "বায়ুমন্ডলের স্তর","সাতটি আসমানের স্তর "। এক্ষেত্রে সঠিক অর্থ হবে "সাতটি আসমানের স্তর "।অর্থাৎ আল্লাহ সাতটি আসমানের স্তরকে স্থির রাখেন যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়।

এক্ষেত্রে "সমগ্র মহাশুন্য " অর্থটি গ্রহনযোগ্য না হয়ার কারন হলো  যদি এর অর্থ "সমগ্র মহাশুন্য " ধরা হয় তাহলে এই আয়াতের অর্থ দারাবে আল্লাহ আকাশের সকল কিছুকে ধরে রাখেন যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়, যার মানে দারাবে সকল জৈতিস্ক স্থীর, সুর্য স্থীর, চন্দ্র স্থীর। কিন্ত কোরান, সুন্নাহ, সাহাবি তাবেইদের বক্তব্য, ইজমা ও বাস্তবতা দ্বারা এটা প্রমানিত যে "চাঁদ ", "সুর্য " স্থীর নয় বরং চলমান!  আবার বহু তাবেইদের থেকে বর্নিত আছে যে "জৈতিস্ক" গুলোও চলমান[28],আবার অনেক বড় বড় উলামারাও "জৈতিস্ক" সমুহকে চলমান বলেছেন । এখন দেখা যাচ্ছে যে যদি এর অর্থ "সমগ্র মহাশুন্য " ধরা হয় তাহলে কোরান, হাদিস, সালাফদের বক্তব্য, উলামাদের বক্তব্য ও বাস্তবতা এই ব্যাখ্যাকে রদ্দ করে দিচ্ছে।সুতরাং এটি মোটেও সঠিক ব্যাখ্যা বা অর্থ হতে পারেনা

আবার এক্ষেত্রে "বায়ুমন্ডলের স্তর" অর্থটি গ্রহনযোগ্য না হয়ার কারন হলো যদি এর অর্থ এটা ধরা হয় তাহলে ব্যাপারটা হাদিসের বিরুধি হবে। কেননা রাসুল (সা) এই নিকটের আকাশকে "অস্থীর " ও "অদৃশ্য " বলেছেন [29]

অতপর আসা যাক পৃথিবীকে স্থীর করা সম্পর্কে। আয়াতে ব্যবহৃত الأرض শব্দটির এক্ষেত্রে দুইটি অর্থ হতে পারে, হয় এরদ্বারা "ভুপৃষ্ঠ " বুঝানো হয়েছে আর নাহয় এরদ্বারা "সমগ্র পৃথিবী" কে বুঝানো হয়েছে। তবে সঠিক কথা হলো এখানে "ভুপৃষ্ঠ " উদ্দেশ্য, কেননা কোরানের অন্যান্য বিভিন্ন আয়াতে ভুপৃষ্ঠকে স্থির রাখার কথা বলা হয়েছে [30], কোরানের  অর্থ বুঝার সর্বোত্তম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো এর এক আয়াত দ্বারা অপর আয়াতকে বুঝা [31], যেহেতু কোরানের অন্যান্য আয়াতে ভুপৃষ্ঠকে স্থির রাখার কথা বলা হয়েছে, সুতরাং এই আয়াতটির বেলাতে আর্দের অর্থ "ভুপৃষ্ঠ " ধরাটাই সবচেয়ে সঠিক। তাছারা ভুপৃষ্ঠকে স্থির রাখার অর্থ হলো তা মানুষের সাপেক্ষে স্থির, আপনে আমি ভুমিকে স্থির অনুভব করছি। [32][33]

সপ্তম অভিযোগ : কোর'আন বলছে যে আকাশের কোনো ছিদ্র বা ফাটল নেই, আকাশ যদি শক্ত হয় তাহলেইত এতে ছিদ্র থাকার প্রশ্ন উঠবে।

জবাব :

সুরা ৬৭ /আয়াত ৩ এর ব্যাখ্যা :

আল্লাহ বলেন :

الذي خلق سبع سماوات طباقا ما تری في خلق الرحمان من تفاوت فارجع البصر هل تری من فطور "

"যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে /সামঞ্জসুপুর্নভাবে সৃষ্টি করেছেন, তুমি রহমানের সৃষ্টিতে কোনো সমস্যা ও ক্রুটি খোজে পাবেনা, দৃষ্টি ফেরাও! কোনো فطور(ফাটল/ক্রুটি) দেখতে পাও কি? 

এখানে ما تری في خلق الرحمان من تفاوت দ্বারা কি "সমগ্র মাখলুকাত " উদ্দেশ্য নাকি সাত আসমান উদ্দেশ্য সেব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই এব্যাপারে নিরব থেকেছেন। অনেকে বলেছেন এরদ্বারা "সমগ্র মাখলুকাত " উদ্দেশ্য [36], এর বিপরীতে অনেকে বলেছেন যে এরদ্বারা "সাত আসমান উদ্দেশ্য "।

এক্ষেত্রে আয়াতটিতে আমভাবে "আল্লাহর সৃষ্টি " এর কথা বলা হয়েছে। কিছু আলেম এটাকে "সাত আসমান " এর জন্য খাস করে নিয়েছেন। অনেকে আমভাবে হিসেব করেছেন ও বলেছেন যে "এখানে সমগ্র মাখলুকাত " উদ্দেশ্য। এইধরনের পরিস্থিতিতে মুলনিতী হলো : যেই ব্যাখ্যাটি আমভাবে বিবেচনা করে দেয়া হয়েছে সেটিই অগ্রাধিকার পাবে ও অধিক সঠিক বলে বিবেচিত হবে [34]

অর্থাৎ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কথা হল এখানে সাত আসমান নয় বরং সমগ্র মাখলুকাত উদ্দেশ্য। [35]।

অপরদিকে আলোচ্য আয়াতটির فطور শব্দের ব্যাখ্যায় সালাফদের মাঝে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এর ব্যাখ্যায় : …[37]

কাতাদাহ, আতিয়াহ, আসসুদ্দী, আদ-দুহহাক বলেছেন : "ক্রুটি "।
আল-কুরাযী, সুফিয়ান আছ-ছাওরি, মুকাতিল বলেছেন : "ফাটল "।
আতা আল-খোরাসানী বলেছেন : "ক্রুটি" অথবা "ফাটল"।

এক্ষেত্রে فطور সম্পর্কে সবগুলো বক্তব্যই গ্রহনযোগ্য। [38] 

সবমিলিয়ে বলা যায়  উক্ত আয়াতে বুঝানো হয়েছে  "আল্লাহর কোনো সৃষ্টিতে ক্রুটি ও ফাটল নেই "। [39]

সুরা ৫০ /আয়াত ৬ এর ব্যাখ্যা :

আল্লাহ বলেন :
أَفَلَمْ يَنظُرُوٓا۟ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَـٰهَا وَزَيَّنَّـٰهَا و مَا لَهٰا مِن فروج

"তারাকি দেখেনা তাদের উপরের আকাশের দিকে, কিভাবে আমি তা সৃষ্টি করেছি ও তাকে সজ্জিত করেছি, এবং এতে কোনো ফাটল নেই "

আয়াতটির "فروج" শব্দের অর্থ হলো "ফাটল "। সকল মুফাসসির এব্যাপারে একমত হয়েছেন যে এর অর্থ "ফাটল " [40]

এখন প্রশ্ন হলো : এটাকি বৈজ্ঞানিক ভুল?  এরদ্বারা কি প্রমান হয় যে আকাশ কোনো শক্ত বস্ত যে তাতে ফাটল থাকার প্রশ্ন আসবে?  এর উত্তরে বলব :

আয়াতে উল্লেখিত 'فروج (ফাটল) ' এর 'সংজ্ঞা' কি তা দেখতে হবে। এই শব্দটির সংজ্ঞায় 'আহমাদ ইবন ফারিস আর-রাযী' বলেছেন :

"(فَرَجَ) الْفَاءُ وَالرَّاءُ وَالْجِيمُ أَصْلٌ صَحِيحٌ يَدُلُّ عَلَى تَفَتُّحٍ فِي الشَّيْءِ" [41]

(ফারাজা) ফা, রা ও জিম আছলুন সহিহুন যা কোনোকিছুর মধ্যে উন্মুক্ততা নির্দেশ করে

আয়াতে যেহেতু আমাদের ঠিক উপরে অবস্থিত আকাশের কথা বলা হয়েছে ও তা দেখার কথা বলা হয়েছে, সেহেতু বলা যাবে যে এখানে السّماء(আকাশ) বলতে বায়ুমন্ডল উদ্দেশ্য।

সবমিলিয়ে উক্ত আয়াতকে ব্যাখ্যা করা যায় এভাবে যে : "উক্ত আয়াতে বায়ুমন্ডলে ফাটল (অর্থাৎ উন্মুক্ততা) না থাকার কথা বলা হয়েছে "

অষ্টম অভিযোগ : কোর'আন অনুযায়ী আকাশ পৃথিবীর উপর পতিত হতে পারে।

জবাব :

আল্লাহ বলেন : (وَيُمْسِكُ ٱلسَّمَآءَ أَن تَقَعَ عَلَى ٱلْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ) [42]
অর্থ : "এবং তিনি আকাশকে ধরে রাখেন, যাতে তা আল্লাহর অনুমতি ব্যাতিত পতিত না হয় "

আয়াতে ব্যবহৃত ٱلسَّمَآءَ এর অর্থ হতে পারে পৃথিবীর বাহিরের বিভিন্ন "গ্রহ-নক্ষত্র"।[43]
কেননা ٱلسَّمَآءَ দ্বারা এমন যেকোনোকিছুকে বুঝানো যায় যা ভুপৃষ্ঠের উপরে আছে।

অর্থাৎ : আল্লাহ বিভিন্ন গ্রহ-উপগ্রহ ও নক্ষত্রকে ধরে রাখেন, যাতে তারা পৃথিবীর উপর পতিত না হয়। [43]

নবম অভিযোগ : কোরান অনুযায়ী আকাশের খন্ড পতিত হতে পারে। আকাশ টুকরো টুকরো হয়ে পতিত হতে পারে।

জবাব :

কোর'আনের একটি আয়াতে বলা হয়েছে  :
أَوْ تُسْقِطَ ٱلسَّمَآءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا [44]
"অথবা তুমি আকাশকে টুকরো টুকরো করে আমাদের উপর ফেলবে যেমনটা তুমি বলেছ "

ব্যাহ্যিকভাবে যদিও এখানে মনে হচ্ছে যে "আকাশকে টুকরো টুকরো করে পতিত " করার কথা বলা হয়েছে, তবে বাস্তবে এখানে "আকাশ থেকে খন্ড " পতিত করার কথা বলা হয়েছে।  কোরানের একস্থানে আছে "اِسأل القرية" (গ্রামকে জিগ্যাস করো)[45] , এখানে গ্রামকে জিগ্যাস করার দ্বারা বুঝানো হয়েছে "গ্রামের মানুষদের জিগ্যাস করো ",এটা বুঝানো হয়নি যে গ্রাম নিজেই একটা ব্যাক্তি যাকে জিগ্যাস করা যায়। এখানেও অনেকটা এরকম ব্যাপারই ঘটেছে। ব্যাহ্যিকভাবে মনে হচ্ছে যে আকাশকে টুকরো টুকরো করার কথা বলা হয়েছে, তবে এরদ্বারা বুঝানো হয়েছে "আকাশ থেকে খন্ড পতিত করা "। [46]

আকাশ থেকে খন্ড পতিত করা সক্রান্ত অন্যান্য আয়াতগুলো হলো : [47]

وَإِن يَرَوْا۟ كِسْفًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ سَاقِطًا يَقُولُوا۟ سَحَابٌ مَّرْكُومٌ
আকাশের কোন খন্ড ভেঙ্গে পড়তে দেখলে তারা বলত- ‘এটা তো পুঞ্জীভূত মেঘ।
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ
অতএব, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আসমান থেকে এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও’।
إِن نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ ٱلْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ۚ
যদি আমি (আল্লাহ) ইচ্ছা করি তাহলে তাদেরকে সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আসমান থেকে এক খন্ড তাদের উপর নিপতিত করব

এই তিনটি আয়াতে বলা হয়েছে  "كسفا من السماء "(আকাশ থেকে খন্ড)। সুতরাং বুঝা গেল যে কোর'আনে "আকাশ থেকে খন্ড " পতিত হয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন যদি প্রশ্ন করা হয়  আকাশের খন্ড কিভাবে থাকতে পারে,আকাশ কি কোনো কঠিন পদার্থ ?  আকাশ থেকে খন্ড পতিত হয়ার মানে কি?তাহলে উত্তর হবে : "আকাশ থেকে খন্ড " পতিত হয়ার জন্য বায়ুমন্ডলের কোনো "কঠিন পদার্থ " হয়াটা "জরুরী নয়"। বরং আকাশে অবস্থিত বিভিন্ন "জৈতিস্ক" থেকে খন্ড পতিত হয়ার মানেই আকাশ থেকে খন্ড পতিত হয়া হতে পারে। [48]

দশম অভিযোগ : কোর'আন অনুযায়ি আকাশের দরজা আছে, এবং সেই দরজা খুলে বৃষ্টি বর্ষন করা হয়।

জবাব :

কোর'আনে বলা হয়েছে :( فَفَتَحْنَآ أَبْوَٰبَ ٱلسَّمَآءِ بِمَآءٍ مُّنْهَمِرٍ)[49]

এই আয়াত সম্পর্কে জুমহুর মুফাসসিরদের বক্তব্য হলো :

"এখানে দরজা খোলা সক্রান্ত বাক্যটি রুপকার্থে এসেছে। শাব্দিক অর্থে নয়। প্রবল বৃষ্টি পড়তে দেখলে মনে হয় যেন কেও আকাশ থেকে দরজা খুলে বৃষ্টি পতিত করছে। এখানে শাব্দিকভাবে এটা বুঝানো হয়নি যে বৃষ্টিপাতের জন্য আকাশে দরজা আছে " [50]

এখানে মুলত, কওমে নুহের উপর আসা মহাপ্রলয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবিষয়ে আলি (রা) এর বক্তব্য রয়েছে :

ইমাম আল-বুখারি আলি (রা) হতে বর্ননা করেছেন : আবুত তুফাইল (রা) হতে বর্নিত : ইবনুল কাওয়া আলিকে (রা)"মাজাররাহ " সম্পর্কে জিগ্যাস করলেন। তিনি (আলি) বললেন : সেটা হলো মহাশুন্যের একস্থান হতে অপর স্থানে যাওয়ার পথ, এবং এখান হতেই আকাশের দরজাকে প্রবল বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে খোলে দেয়া হয়েছিল [51]

দিয়াউদ্দিন আল-মাকদেসি আলি (রা) হতে বর্ননা করেছেন যে : (আব্দুল্লাহ বিন আল-কাওয়া) বললেন : তাহলে "মাজাররাহ" কি? (আলি) বললেন মহাশুন্যের একস্থান হতে আরেক স্থানে যাওয়ার পথ, এবং এখান থেকেই কওমে নুহের উপর মহাপ্রলয় আসার সময় আকাশের দরজাসমুহ প্রবল বৃষ্টিপাতের দ্বারা খুলে দেয়া হয়েছিল [52]

আলি (রা) উক্ত মহাপ্রলয়ের পানির আসার পথ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, যে এটি একটি পোর্টালের বা প্রবেশপথের সাহায্যে পৃথিবীতে এসেছিল। তিনি "আকাশের দরজা খুলে বৃষ্টি পতিত হয়া " সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা করেন নি, কোনো মন্তব্য করেন নি। সুতরাং তিনার বক্তব্য ও জুমহুর মুফাসসিরদের বক্তব্যের মাঝে কোনো বিরুধ নেই।

একাদশ অভিযোগ : আকাশের মধ্যে বসতবাড়ির দরজার ন্যায় কাঠের, লোহার দরজা আছে। এটা হাস্যকর ও অবৈজ্ঞানিক

জবাব :

কোরান সুন্নাহ দ্বারা এটা প্রমানিত যে আকাশের বিভিন্ন স্থানে "বাব " বা "দরজা " রয়েছে। কিন্ত এসব "দরজা " দ্বারা আমাদের পরিচিত দরজা উদ্দেশ্য নয়। বরং "আকাশের দরজা" বলতে বুঝানো হয় "এমন একটা মাধ্যম বা পথ যা আকাশের এক অঞ্চলকে অন্য অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করে দেয়"[53]

আকাশের দরজা মানে হলো আকাশের বিভিন্ন পথ, এরমানে এটা নয় যে আকাশের কোনো কাঠের বা লোহার কিংবা এইধরনের দরজা আছে। আকাশের দরজাগুলো বা প্রবেশপথগুলোর প্রকৃতি হলো অনেকটা ওয়ার্মহোলের মত কিন্ত সেগুলো ওয়ার্মহোল  বা এজাতিয় কোনো বিষয় নয়। এগুলো হলো ইলমে গায়েব সক্রান্ত বিষয়। মানুষ যতই চেস্টা করুক, তারা কখনো ইলমে গায়েব সক্রান্ত বিষয়বস্ত আবিস্কার করতে পারবেনা।

দ্বাদশ অভিযোগ : আল্লাহ কাফেরদের জন্য আকাশ থেকে দরজা খোলার কথা বলেছে,  এরমানে তাতে দরজা আছে।

জবাব :

আল্লাহ  কোর'আনে বলেছেন:( لو فتحنا عليهم بابا من السماء فظلوا فيه يعرجون) [54]
অর্থ : যদি আমি তাদের জন্য আকাশ হতে দ্বার খুলে দিতাম তাহলে তাহলে তারা তাতে আহোরন করতে থাকত।
                                                                                                                                                                                                
আকাশের দরজা বলতে কি উদ্দেশ্য সেব্যাপারে একাদশ  অভিযোগের জবাবে আলোচনা করা হয়েছে।সেখান থেকে পড়ে নেন।

ত্রয়োদশ অভিযোগ : কোরানে বলা হয়েছে যে আকাশের আবরন অপসারন করা হবে। এটি হাস্যকর ও গাজাখুরি

জবাব:

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন :(وَإِذَا ٱلسَّمَآءُ كُشِطَتْ)[55]
অর্থ:"যখন আকাশ অপসারিত হবে "

কিছু অনুবাদে উক্ত আয়াতের অনুবাদ করা হয়েছে যে "আকাশের আবরন অপসারিত হবে"। কিন্ত এটি একটি ভুল ও দুর্বল অনুবাদ।

মুজাহিদ ,ইবন জারির আত-তাবারি, ইবন আবি যামানিন,মুকাতিল,আছছা'লাবী, আল-ফারা, আল-কাশিরী, ইবন আতিয়াহ, আল-বুখারী,আবু হাইয়ান,ইবন জুয্যাই,আবু যাইদ আছ-ছায়ালাবী ও আল-খাযিন আয়াতের "كشطت" কথাটির ব্যাখ্যা করেছেন:

"আকাশকে কোনোস্থানে আকর্ষিত করে টেনে, তার আয়তন কমিয়ে আকাশকে একটি ছোট আয়তনে নিয়ে আসা হবে। অর্থাৎ সম্প্রসারনের বিপরীত কাজ করা হবে, অবিস্তৃত করা হবে "  …[56]

এবং উল্লেখিত ব্যাখ্যাটিই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, অধিক সঠিক [57]

এটা যদি হাস্যকর ও গাজাখুরি হয়ে থাকে থাকে বিগ-ক্রাঞ্চ থিওরিও হাস্যকর ও গাজাখুরি হয়ার কথা।আমি এটা বলছিনা যে এখানে বিগ ক্রাঞ্চের কথা বলা হয়েছে। তবে বিগ ক্রাঞ্চ থিওরির সাথে উক্ত আয়াতের সাদৃশ্যতা আছে।

চতুর্দশ অভিযোগ : কোর'আন অনুযায়ি আকাশকে ভাজ করা হবে। এটা অবৈজ্ঞানিক। তাছারা কিয়ামতের সময় আকাশমন্ডলীকে এক হাতে  ও পৃথিবীকে অপর হাতে নেয়া হবে,এতে প্রমানিত হয় যে পৃথিবী ও আকাশ আলাদা জিনিস।

জবাব :

আল্লাহ বলেন : (يوم نطوی السماء كطي السجل للكتب)[58]

আয়াতে ব্যবহৃত طوي শব্দের অনুবাদে বলা হয়েছে ভাজ করা গুটিয়ে নেয়া, তবে বাস্তবে এর মুল অর্থ হলো "প্রসারনের বিপরীত ক্রিয়া "। [59]

যেহেতু আয়াতটিতে "কাফ" হরফে জারটি ব্যবহৃত হয়েছে, সুতরাং এখানে "লিখিত দফতর " কে অপ্রশস্ত করার বিষয়টা হলো একটা "উপমা "[60] কোনো একটা বিষয়ের উপমা দেয়ার মানেই এটা নয় যে তার দৈহ্যিক গঠন উক্ত উপমার মতই হবে। উদাহরন স্বরুপ, আমি যদি বলে "তারা বাঘের মত শক্তিশালী ", এই বাক্যটিতে তাদের শক্তিকে বুঝানোর জন্য বাঘের উপমা দেয়া হয়েছে, এরমানে এইনা যে সেই মানুষগুলোর দৈহ্যিক আকৃতি বাঘের মত, কিংবা তারা বাঘের মত কাচা মাংস খায়, কিংবা তাদের বাঘের মত দাত বা নোখ আছে। আয়াতটিতে আকাশকে অপ্রশস্ত করার বিষয়টি বুঝানোর জন্য ব্যাপারটাকে একটা লিখিত কাগজকে অবিস্তৃত করার সহিত উপমা দেয়া হয়েছে। এরমানে এইনা যে আকাশ নিজেই কাগজের মত।

অর্থাৎ : উক্ত আয়াতটিতে কাগজকে অবিস্তৃত করার সাথে আকাশকে অবিস্তৃত করার একটি "উপমা " দেয়া হয়েছে, এবং বলা হয়েছে যে কেয়ামতের সময় আকাশকে অবিস্তৃত করে নেয়া হবে।

আল্লাহ আরো বলেন : (وَٱلْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُۥ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَٱلسَّمَـٰوَٰتُ مَطْوِيَّـٰتٌۢ بِيَمِينِهِ)[61]
অর্থ : এবং সমগ্র পৃথিবী থাকবে তার কবজায় এবং আসমানসমুহ অবিস্তৃত অবস্থায় তার ডান হাতে থাকবে

এই আয়াতটির অর্থের পরিপুরক একটি হাদিস রয়েছে :

عَنْ ‌أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَقْبِضُ اللهُ الْأَرْضَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَيَطْوِي السَّمَاءَ بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ[62]

আবু হুরাইরাহ (রা) হতে বর্নিত তিনি বলেন : নবি (সা) বলেছেন কিয়ামতের সময় আল্লাহ পৃথিবীকে কবজায় নিবেন এবংআকাশমন্ডলীকে তার ডান হাতে অবিস্তৃত করে নিবেন। তারপর বলবেন আমিই একমাত্র মালিক! কোথায় সেই পৃথিবীর রাজাগুলো!

এই আয়াত ও হাদিসটি থেকে ৩ টি অভিযোগ করা হয়,

প্রথমটি হলো "এখানে আকাশকে ভাজ করার কথা বলা আছে ; যারমানে মহাশুন্য হলো  কাগজের মত একটি পদার্থ যা ভাজ করা যায়। "

দ্বিতীয়টি হলো "এখানে বলা হয়েছে যে আকাশমন্ডলী ডান হাতে থাকবে । এরমানে পৃথিবী অপর হাতে থাকবে। এরদ্বারা প্রমান হয় যে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী দুইটা আলাদা বিষয় ; পৃথিবী আকাশমন্ডলীর মধ্যে নেই।"

তৃতীয়টি হলো "এই আয়াত থেকে প্রমানিত হয় যে আল্লাহর মানুষের মত হাত আছে"

উল্লেখিত  ৩ টি অভিযোগের জবাব,

প্রথম অভিযোগটির জবাব : আয়াতটিতে ও হাদিসটিতে ব্যবহৃত طوي শব্দের অনুবাদে বলা হয়েছে ভাজ করা গুটিয়ে নেয়া, তবে বাস্তবে এর মুল অর্থ হলো "প্রসারনের বিপরীত ক্রিয়া "। [59] মহাশুন্যের অবিস্তৃত হয়ার বিষয়টা একটা বৈজ্ঞানিক থিওরিও, বিগ ক্রাঞ্চ থিওরির সারকথা অনেকটাই এরকম যে মহাশুন্য অবিস্তৃত হবে, যদি আয়াত ও হাদিসটিতে বর্নিত মহাশুন্যকে অবিস্তৃত করার কথাটা ভুল  অবৈজ্ঞানিক ও ভিত্তিহীন হয়, তাহলে এই একই কথা বিগ ক্রাঞ্চ থিওরির বেলায় কেন খাটবেনা? 

দ্বিতীয় অভিযোগটির জবাব :

প্রথম কথা, ইবনুল মুনাদী, ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল যাওযি (রহিমাহুমুল্লাহ) এর মতে "পৃথিবী আকাশের ভিতরে অবস্থিত একটি বিন্দু ",[63] এবং সাম্প্রতিক সময়ের বহু স্কলার এই মত গ্রহন করে নিয়েছেন। যেমন : ইবন আশুর, আলমারাগী, আহমাদ হাতিবাহ, আশ-শা'রাওই, আল-মুকাদ্দাম।

দ্বিতীয় কথা, এই আয়াতে কোথাও বলা হয়নি যে আকাশমন্ডলী ডান হাতে থাকবে আর পৃথিবী "অপর হাতে " বা "বাম হাতে " থাকবে। যেহেতু এরুপ বলা হয়নি, এরমানে হলো উক্ত আয়াত দ্বারা কোনোভাবেই এটা প্রমানিত হয়না যে আকাশ এক হাতে ও পৃথিবী আরেক হাতে থাকবে।

তৃতীয় কথা, ইবন আব্বাস (রা), আদ-দ্বুহহাক (রহ), কাতাদাহ (রহ), রাবিয়াহ আলজুরাশী (রহ), মুজাহিদ (রহ), মুকাতিল, ইবন জারির (রহ) সহ সাহাবি -তাবেই আমলের সালাফ উলামাদের একটা বিশাল জামা'আত এর মতে পৃথিবী ও আকাশ, দুটৌই তার ডান হাতে থাকবে... [64]

তৃতীয় অভিযোগটির জবাব :

আল্লাহর "হাত " বলতে শাব্দিকভাবে হাত বলতে যেই অংগ বুঝায় সেই ধরনের কোনো অংগ উদ্দেশ্য নয়। অর্থাৎ হাত বলতে আমরা যেই জিনিসটা বুঝি সেই জিনিসটা উদ্দেশ্য নয়। বরং আল্লাহর "হাত " বলতে এমন কোনো একটা বিষয় উদ্দেশ্য যা আল্লাহ ছাড়া আর কেওই জানেন না, কেননা "আল্লাহর অনুরুপ কিছুই নেই "[আশ-শুরা /আয়াত ১১]। কেও যদি বলে যে : আল্লাহর হাত বলতে আমরা হাত বলতে যা চিনি সেটাই উদ্দেশ্য তাহলে সেটা ভুল হবে । "আল্লাহর হাত বলতে সেই হাত উদ্দেশ্য নয় যেই হাতকে আমরা চিনি, এরদ্বারা কি উদ্দেশ্য তা আল্লাহ ছাড়া কেও জানেন না "  এই ব্যাপারে ঘুরে ফিরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সকল উলামাগন একমত ; আছারী, আশয়ারি, মাতুরিদি আকিদার মধ্যে বহু মতভেদ থাকলেও উল্লেখিত এবিষয়টার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে কোনো দ্বিমত নেই।

পঞ্চদশ অভিযোগ : আকাশ লাল গোলাপের মত হয়ে যাবে।এটা বৈজ্ঞানিক ভুল।

জবাব :

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন : (فَإِذَا ٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَٱلدِّهَانِ) [67]
অর্থ : "যখন আকাশ দীর্ণ বিদীর্ণ হবে ফলে লাল চামড়ার মত লালবর্ণ ধারণ করবে"

স্পষ্টতই এখানে আকাশের "রঙ " লাল হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেয়ামতর সময় আকাশের "রঙ" লাল হয়ে যাবে [68]

আমি এখানে অবৈজ্ঞানিক কোনোকিছু দেখিনা,এখানে মহাবিশ্বের ধ্বংসের সময়কার ঘটনা বলা হচ্ছে, সেসময় আকাশ লাল রঙের দেখাবে। যেখানে কিনা বিজ্ঞান এখনো মহাশুন্যের অসংখ্যা বিষয় সম্পর্কে জানেইনা, সেখানে ইসলামবিরুধিরা কিসের ভিত্তিতে ভবিৎষতে ঘটতে যাওয়া একটা ঘটনাকে "অবৈজ্ঞানিক " দাবি করতে পারে! এটা অত্যন্ত আজগুবি ও ভিত্তিহীন  দাবি।

ষোড়শ অভিযোগ : কেয়ামতের সময় আকাশ গলিত ধাতুর মত হয়ে যাবে।এটা হাস্যকর ও বৈজ্ঞানিক ভুল।

জবাব :

আল্লাহ বলেন : (يوم تكون السماء كالمهل) [69]
অর্থ :  "যেদিন আকাশ তেলের তলানির মত হবে"
                              
আয়াতটির مهل শব্দটির অর্থ নিয়ে মতভেদ আছে।কেও কেও এর অর্থ বলেছেন গলিত ধাতু, কিন্ত এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অর্থ হলো "তেলের তলানি "। অর্থাৎ কেয়ামতের সময় আকাশ তেলের তলানির মত হয়ে যাবে।

তেলের তলানির মত হয়ে যাওয়ার মানে এইনা যে আকাশের দৈহ্যিক গঠন তেলের তলানির মত হয়ে যাবে, বরং এরদ্বারা বুঝানো হয়েছে যে আকাশের "রঙ " তেলের তলানির মত হয়ে যাবে। এখানে مهل এর সাথে সাদৃশ্যতা বলতে আকাশের রঙের সাথেই সাদৃশ্যতা বুঝানো হয়েছে, এরপক্ষে দলিল হলো :

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) مهل শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন : "তেলের তলানির মত কালো রঙ" [70] কাতাদাহ বিন দা'আমাহ (রহ) আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় রঙের সাদৃশ্যেতার কথা উল্লেখ্য করেছেন। [71]

অর্থাৎ উক্ত আয়াতে আকাশের সাথে مهل এর "রঙ " এর সাদৃশ্যতা বুঝানো হয়েছে।দৈহ্যিক গঠনের সাদৃশ্যতা নয়।

সপ্তদশ অভিযোগ : কোরান অনুযায়ি কেয়ামতের সময় আকাশ মেঘমালা সহ বিদীর্ন হবে ও ফেরেশতাদের নামিয়ে দেয়া হবে। এটা অনেক বড় ধরনের একটা বৈজ্ঞানিক ভুল।

জবাব :

আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন :( ويوم تشقق السماء بالغمام و نزّل الملائكة تنزيلا) [72]
অর্থ : যেদিন আকাশ ধোয়ার মাধ্যমে বিদীর্ন হবে ও ফেরেশতাদের নামিয়ে দেয়া হবে।

এখানে "بالغمام" এর অনুবাদে কেও কেও বলেছেন "মেঘমালাসহ " এবং কেওকেও বলেছেন "মেঘমালা দ্বারা ",। যাই ধরা হোকনা কেন, এখানে বর্নিত "গামাম " তথা মেঘমালা বা ধোয়া বলতে পৃথিবীতে সাধারনত আমরা যেই মেঘ দেখে থাকি সেই মেঘ উদ্দেশ্য নয়।

এই আয়াতটির ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগন অনেক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে এখানে কোন কেয়ামতের সময়ের ব্যাপারে বলা হয়েছে সেব্যাপারে কেও কোনো মন্তব্য করেন নি। উল্লেখ্য যে কেয়ামত দুই ধরনের, একটা হলো ছোট কিয়ামত, আরেকটা হলো বড় কেয়ামত। ছোট কেয়ামত বলতে বুঝানো হয় সমগ্র মহাবিশ্বের ধ্বংস এবং বড় কেয়ামত বলতে বুঝানো হয় হাশরের ময়দানে সকলকে পুনরায় জিবীতকরন।

তবে সহিহ হাদিসে এসেছে যে আয়াতে বর্নিত "গামাম ", তথা ধোয়া /মেঘমালা প্রকাশিত হবে হাশরের ময়দানে। [73] সুতরাং নিঃসন্দেহে উক্ত আয়াতে হাশরের ময়দানের ঘটনাই বর্ননা করা হয়েছে। 

অষ্টাদশ অভিযোগ : কোর'আনের বহু স্থানে আকাশ বিদীর্ন হয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি অবৈজ্ঞানিক।

জবাব :

আকাশ বিদীর্ন হয়া বুঝানোর ক্ষেত্রে কোরানে প্রধানত ২ টি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। একটি হলো الفطر, ও আরেকটি হলো الشق, এদুইটি শব্দ একে অন্যের পরিপুরক [74] এই الشق শব্দটি দ্বারা "বিস্ফোরিত হয়ে চুর্ন-বিচুর্ন লন্ডভন্ড হয়া " বুঝানো হয়, এবং কোর'আনে আকাশ বিদীর্ন হয়া বুঝানোর জন্য الشق শব্দটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।[75]

আকাশের মধ্যে বিস্ফোরিত হয়ে চুর্ন-বিচুর্ন লন্ডভন্ড হয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের জৈতিস্ক ও পদার্থ রয়েছে। পাশাপাশি সাত আসমানের সাতটি শক্ত স্তরও রয়েছে। এর জন্য বায়ুমন্ডল কিংবা মহাশুন্যের কোনো "শক্ত", "কঠিন পদার্থ " হওয়াটা জরুরি নয়।

এবার আকাশ বিদীর্ন হয়া সক্রান্ত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যার দিকে যাওয়া যাক।

সুরা 84/ আয়াত 1 : (إذا السماء انشقت)
অর্থ : যখন আকাশ বিদীর্ন হবে

সুরা 55/আয়াত 37 : (فإذا انشقت السماء فكانت وردة كالدهان)
অর্থ : যখন আকাশ বিদীর্ন হবে তখন তা গোলাপের ন্যায় লালবর্ন ধারন করবে

সুরা 69 /আয়াত 16 : (وانشقت السماء فهي يومئذ واهية)
অর্থ : যেদিন আকাশ বিদীর্ন হবে সেদিন তা হবে বিক্ষিপ্ত, তুচ্ছ।

সুরা 78/আয়াত 19 : (فتحت السماء فكانت أبوابا)
অর্থ : আকাশ বিদীর্ন হবে ও তাতে বহু প্রবেশপথ খুলে যাবে

সুরা 77/আয়াত 9 : (إذا السماء فرجت)
অর্থ : যেদিন আকাশ বিদীর্ন হবে

সুরা 82/আয়াত 1 : (إذا السماء انفطرت)
অর্থ : যখন আকাশ বিদীর্ন হবে

এই ছয়টি আয়াতে যা বুঝানো হয়েছে তা হলো : "আকাশ বিস্ফোরিত হবে, চুর্ন-বিচুর্ন হবে বিক্ষিপ্ত হবে লন্ডভন্ড হবে।তাতে বহু প্রবেশপথ প্রকাশিত হবে " [76]

সুরা 19/আয়াত 90 : تكاد السماوات يتفطرن منه
অর্থ : এতে আকাশমন্ডলী বিদীর্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়
                                             
পুর্বে উল্লেখিত আয়াতগুলোর মত এই আয়াতটিতেও বিস্ফোরিত হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়া বুঝানো হয়েছে। কাফেররা যখন বলে "আল্লাহ সন্তান নেন " তখন আল্লাহর রাগ ও মহত্বের দরুন আকাশের এরুপ হয়ার উপক্রম দেখা দেয়। …[77]

সুরা 42/আয়াত 5 :

تكاد السماوات يتفطرن من فوقهن و الملائكة يسبحون بحمد ربهم ويستغفرون لمن في الأرض
আকাশমন্ডলী উর্ধ্বদেশ হতে বিদীর্ন হয়ার উপক্রম হয় এবং ফেরেশতারা তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং পৃথিবীতে যে আছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।

এই আয়াতটিতে বলা হয়েছে যে আল্লাহর মহত্বের কারনে আকাশমন্ডলী বিস্ফোরিত, চুর্ন বিচুর্ন ও বিক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। [78]

অনেকে দাবি করে এই আয়াতে নাকি বলা হয়েছে আকাশ বিদীর্ন হয়ে পৃথিবীর উপর "পতিত " হয়ার উপক্রম হয়। এটা ভুল ও ভিত্তিহীন দাবি। আকাশ বিদীর্ন হয়ে পৃথিবীর মানুষদের উপর "পতিত " হয়ার কথা এখানে বলা হয়নি। যদিও কিছু বাংলা অনুবাদ পড়লে এমন মনে হতে পারে তবে বাস্তবে আয়াতটিতে এইধরনের কিছু বলা হয়নি। অনেকে দাবি করে যে উক্ত আয়াত হতে বুঝা যায় ফেরেশতাদের দোয়ার কারনে আকাশমন্ডলী
পৃথিবীর উপর বিদীর্ন হয়ে পতিত হয়না। এটাও ভুল দাবি। কেননা আয়াতের ফেরেশতাদের দোয়া করা বিষয়ক অংশটি নাজিল হয়েছে একেবারেই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, ভিন্ন উদ্দেশ্যে। [79]

সুরা 73/আয়াত 18 : (والسماء منفطر به)
অর্থ : যখন আসমান তার দ্বারা বিদীর্ন হবে

এখানেও বিদীর্ন হয়ার বিষয়টা পুর্বে উল্লেখিত আয়াতেরই মত। অর্থাৎ আকাশ বিস্ফোরিত, বিক্ষিপ্ত, চুর্নবিচুর্ন হবে [80] এক্ষেত্রে অনেক উলামাগন বলেছেন যে এখানে আকাশ ভেদ করে আল্লাহর আগমনের বিষয়টা বলা হয়েছে [81] যদি এখানে আল্লাহর আগমনেরর বিষয়টা উদ্দেশ্য হয় তাহলে এই আয়াতটিতে হাশরের ময়দানের ঘটনা বর্নিত হয়েছে।কেননা হাশরের ময়দানেই আল্লাহ নিজে আসবেন।

সুরা 25/আয়াত 25 :  (সপ্তদশ অভিযোগের জবাবটি দেখুন)

প্রমান-টিকাসমুহ :

[1]আল-আসকারী, আত-তালখিস ফিল মা'রেফাহ (পৃ/253)

[2]মাকাইসুল লুগাহ (3/98),মুজমালুল লুগাহ (পৃ/472),ফাতহুল কারিবিল মুজিব (1/161)
আল-ই'লাম বিলফাওয়াইদ (1/95),মা'আনিয়ুল কোর'আন (1/75),দাকাইকুত তাফসির (2/258),মাজমুয়ুল ফাতাওয়া (12/248),দার'উত তা'আরুয (7/16),আল-কাওকাবুও ওয়াহহাজ (2/544),তাফসিরুস সাম'আনী (1/53),মাফাতিহুল গাইব (14/269)&(2/344),  তাফসির ইবন আতিয়াহ (1/105), মুহাসিনুত তা'ওইল (9/286), তাফসিরুল উসাইমিন জুযয়ে আম্ম (পৃ/147), লুকাউল বাবিল মাফতুহ (45/3),নাকাইসুল উসুল (2/881),ইকমালুল মু'লিম (1/330), আত-তামহীদ (5/15),তাফসিরুল বাইদ্বাওই (1/55),তাফসিরুল হাদ্দাদ (1/138), ইরাবু ছালাছিন সুরাহ (পৃ/37),উসুলুস সারখাসী (1/178),আল-আরবাওন (পৃ/53), আল-ইবানাহ লিআসসুহারী (2/48), আল-লুবাব ফিউলুমিল কিতাব (8/318) ,আল-হিদায়াহ লিমাক্কি (1/188),নাহযাতুল আ'ইয়ান (পৃ/358), আল-গারিবিন (3/936), আল-ইক্বতিযাব (3/119) , সুরুন নাফস (পৃ/197), নাছারুল আযহার (পৃ/172), তাহরিরুত তাহবির(পৃ/458), আল-ইবানাহ লিআল-আশয়ারী (পৃ/107), তারিখুত তাবারী (1/53),তাফসিরুত তাবারী (1/388),মানাকিবুশ শাফেঈ (1/397),আল-ই'তিকাদ (পৃ/ 113)তাহযিব সুনান আবি দাউদ (3/285),আদ্বওয়াউল বায়ান (7/488), তাফসিরুশ শাফেঈ (3/1063),আল-ক্বাইদ (পৃ/204), আস-সিরাজুল মুনির (2/630), তাফসিরুল কুরতুবী (1/126), তা'ওইলাতু আহলিস সুন্নাহ (1/399),তাফসিরুস সা'দী (পৃ/44), নিযমুদ্দ দূর (15/493),তুরাছুল মারাকাশী (পৃ/166),আত-তাহরির ওয়াত তানওইর (17/324),আয-যাওয়াজির (1/59),ফাতহুল বায়ান (6/249), লামসাত বায়ানিয়াহ (পৃ/273),আদ-দুররুল মাসুন (1/169), আল-আসালিব ওয়াল ইতলাকাত (পৃ/120-121),লাওয়ামিউল আনওয়ার (1/197),হুসুলুল মা'মুল (পৃ/67),নাতাইজুল ফিকর ফিন্নাহু (পৃ/124)

[3]বহু আরবি ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও উলামাগন سماء শব্দের অর্থ এরুপ বলেছেন। তাদের মধ্যে সামান্য কয়েকজন হলেন : ইবন ফারিস, আল-ফাইয়ুমী, ইবনুল মুলকান, আয-যাজ্জায, ইবন তাইমিয়াহ, আল-আমিন আল-হিরারি, আবুল-মুযাফফার আস-সাময়ানী, ফাখরুদ্দিন আররাযী, ইবন আতিয়াহ, জামালুদ্দিন আল-ক্বাসিমী, আল-উসাইমিন, শিহাবুদ্দিন আল-কিরাফী, আলকাযি আইয়াদ্ব, ইবন আব্দিল বার, আল-বাইদ্বাভী, আবুবকর আলহাদ্দাদ, ইবন খালুওইয়াহ, আসসারখাসী,আয-যাহাবী, আস-সুহারী, ইবন আদিল আদ-দিমাশকী, মাক্কি বিন আবি তালিব, ইবনুল যাওযি, আবু উবাইদ আল-হারওই, আল-বাতালইয়াওসী,আহমাদ আত-তাইফাশী, ইবন মানযুর, ইবন আবিল আসবা, মুহাম্মাদ বিন জারির আত-তাবারী, আবুবকর আলবায়হাকী,ইবনুল কাইয়ুম, ইমাম আশ-শাফেঈ, আব্দুররহমান আলমুয়াল্লেমী, আল-কুরতুবী,আল-খাতিব আশ-শিরবিনী, আবুমানসুর আল-মাতুরিদী,আব্দুররহমান আস-সা'দী, বুরহানুদ্দিন আল-বাক্বাঈ, ইবন আশুর, ইবন হাজার আল-হাইতামী, সিদ্দিক হাসান খান,ফাদ্বিল আস-সামারাঈ, আস-সামিন আল-হালবী, আল-মিনইয়াওই, আবুল আওন আসসাফারিনী, আবুলহাসান আল-আশয়ারী, আব্দুল্লাহ আল-ফাওযান, আশ-শানকিতিঈ, আবুলহাসান আলহারালী, আবুলকাসিম আস-সাহিলী। ২ নং টিকাতে এনাদের বিভিন্ন গ্রন্থ হতেই রেফারেন্স উল্লেখ্য করা হয়েছে।

[3]আল-কোর'আন, সুরা নং 21/আয়াত নং 32

[4]ইবন ফারিস, মাকাইসুল লুগাহ  (3/87)

[5]ইবনুল যাওযি, যাদুল মাসির ফি ইলমিত তাফসির (পৃ/928)

[6]আল-মাওরিদী, আন-নুকত ওয়াল উয়ুন (3/445)

[7]তাফসিরুত তাবারী (16/263),তাফসির মুকাতিল বিন সুলাইমান (3/77),তাফসির ইয়াহইয়া বিন সালাম (1/310), আল-আযমাহ (ক্রম/559)

[8]হুসাইন আল-হারবী, কাওয়াইদুত তারজিহ ইনদাল মুফাসসিরিন (পৃ/271)

[9]আল-কোর'আন, (সুরা 2/আয়াত 22)  & (সুরা 40/আয়াত 64)

[10]কাতাদাহ বিন দা'আমাহ (রহ) বর্নিত আছে যে তিনি بناء এর ব্যাখ্যা করেছেন سقف। আত-তাবারী (রহ) তার তাফসিরে (1/390) কাতাদাহ (রহ) হতে একথা বর্ননা করেছেন এবং ইবন হাজার (রহ) তার "আল-মাতালিবুল আলিয়াহ" গ্রন্থে (14/719) এর সনদকে সহিহ বলেছেন

[11]আল-কোর'আন, (আর-রা'দ/আয়াত 2) & (লোকমান /আয়াত 10)

[12] মাওসুয়াতুত তাফসিরিল মা'ছুর (12/9) & (17/506 )

[13]আন-নুকত আলা ইবনিস সালাহ (2/530-531)

[14]মুসাইদ আত-তাইয়ার,ফুসুল ফি উসুলিত তাফসির (পৃ/33)

[15]ইবনে আব্বাস (রা) ইসরাইলি সোর্স অধ্যয়ন করা ও সেগুলো থেকে বিভিন্ন বিষয় গ্রহন করার ক্ষেত্রে এমনেতেই প্রসিদ্ধ ছিলেন । তিনি এই ব্যাখ্যাটি দিয়েছেন কোনো একজন ব্যাক্তির সাথে একমত হয়ে। আত-তাবারি তার তাফসিরে (13/410) বর্ননা করেন (a): "ইকরামাহ (রহ) ইবনে আব্বাসকে (রা) বলেছিলেন যে অমুক বলছে যে আকাশ নাকি স্তম্ভেরর উপর দাঁড়িয়ে আছে, এর জবাবে ইবনে আব্বাস (রা) সেই ব্যাক্তির সাথে একমত হন এবং বলেন যে তার স্তম্ভ আছে কিন্ত তোমরা তা দেখতে পাওনা।" ততকালীন সময়ে "আকাশ স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে ", এইকথা প্রচার করত আরবের আহলুলকিতাবরা (b)।সুতরাং এক্ষেত্রে অনেক সম্ভাবনা আছে যে ইবন আব্বাসের (রা) এই ব্যাখ্যাটি ইসরাইলি সোর্স দ্বারা প্রভাবিত। সম্ভবত তিনি এই ব্যাখ্যাটি ইসরাইলি জ্ঞানভান্ডার থেকে পেয়েছেন ও নিয়েছেন।

উপটিকাসমুহ :

(a)বর্ননাটির সনদ হলো : আত-তাবারী → আহমাদ বিন হিশাম → মুয়ায বিন মুয়ায →ইমরান বিন হুদাইর। এখানের সকল রাবিই গ্রহনযোগ্য ছিকাহ, দেখুন :তারিখু বাগদাদ (রাবি/2935),তাহযিবুল কামাল (28/134),আত-তাকরিব (রাবি/5183)। সুতরাং সনদটি "সহিহ "।

(b) সুনান সাইদ বিন মানছুর - তাকমিলাতুত তাফসির (7/219)

[16]কাওয়াইদুত তারজিহ ইনদাল মুফাসসিরিন (পৃ/369)

[17]তাফসিরুল উসাইমিন - লুকমান (পৃ/54),তাফসিরুত তাবারী (13/411),আল-হিদায়াহ ইলা বুলুগিননিহায়াহ (9/5716)

[18]মা'আনিয়ুল কোর'আন ওয়া ইরাবুহ (4/195),তাফসিরুল কুরতুবি (9/279), আত-তাফসিরুল বাসিত (12/284),লিসানুল আরব (3/304),আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আযাম (2/36)

[19]আল-কোর'আন, (সুরা 88/আয়াত 12)

[20]তাফসিরুত তাবারী (10/24), আল-লুবাব ফিউলুমিল কিতাব (20/97)

[21]আল-কোর'আন, (সুরা সাফফাত/আয়াত 6) & (সুরা ফুসসিলাত /আয়াত 12 ) & (সুরা মুলক /আয়াত 5)

[22] হাদিস হতে এরুপ ইংগিত পাওয়া যায়, দেখুন : সহিহুল বুখারি (হা/3887)

[23]আত-তাহরির ওয়াত তানওইর (23/47), মাফাতিহুল গাইব (26/317), আস-সিরাজুল মুনির (3/370), আল-লুবাব ফি উলুমিল কিতাব (16/277), আজ-জাওয়াহিরুল হিসান (5/458), নিযমুদ দুরর(20/230) তাফসিরুস সা'দী (পৃ/876), ফাতহুল কাদির (পৃ/1511)

[24]ইবন কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ (1/76)

[25]আত-তাসহিল লিউলুমিত তানযিল (4/1568-1569) 

[26]আল-কোর'আন, (সুরা 35/আয়াত 41)

[27]তাফসিরুত তাবারী (19/391-392), আল-কাশফ ওয়াল বায়ান (8/115),আত-তাওহিদ (64)লিইবন মানদাহ, সুনান সাইদ বিন মানসুর তাকমিলাতুত তাফসির (7/124),তাফসির ইবন আতিয়াহ (7/227)

[28]মাওসুয়াতুত তাফসিরিল মা'ছুর (14/521-526)

[29]আল-আযমাহ (3/1023),তাফসির ইবন আবি হাতিম (হা/13647),আল-মুখতারাহ (10/118)

[30]আল-কোর'আন, (সুরা31/আয়াত10) & (সুরা19/আয়াত 15 )

[31] আশ-শানকিতিঈ, আদ্বওয়াউল বায়ান (1/67)

[32lতাফসিরুত তাবারী (20/356)

[33]আল-কোর'আন, (সুরা 40/আয়াত64)

[34]আল-হারবী, কাওয়াইদুত তারজিহ ইনদাল মুফাসসিরিন (পৃ/527) 

[35]এই মত ব্যাক্তকারী উলামাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন : আত-তাবারি, ইবনুয যুবাইর আল-গুরনাতী, বুরহানুদ্দিন আল-বাক্বাঈ, ইবনুল কাইয়ুম। দেখুন : তাফসিরুত তাবারী (23/119),আল-বুরহান (পৃ/243),নিযমুদ দুরর (20/288), শিফাউল আলিল(1/219)

[36]তাফসির ইবন আতিয়াহ (8/352)

[37]মাওসুয়াতুত তাফসিরিল মাছুর (22/67)

[38]এক্ষেত্রে সবগুলো মতই কাছাকাছি পর্যায়ের। এইধরনের পরিস্থিতিতে মুলনিতী হলো সব অর্থই নেয়া যায়েয, দেখুন : (ফুসুল ফি উসুলিত তাফসির পৃ/41)।আত-তাবারি  তার তাফসিরে (23/119-120) উক্ত শব্দের দুটি অর্থকেই গ্রহন করেছেন, তাছারা অন্যান্য অনেক মুফাসসির এর উভয় অর্থ নিয়েছেন।

[39]যদি প্রশ্ন করা হয় আল্লাহর অনেক সৃষ্টিতে ফাটল তাহলে আমরা কিভাবে দেখতে পাচ্ছি?  এর উত্তর হলো ; আল্লাহর সৃষ্টিতে ফাটল নেই বলতে এটা উদ্দেশ্য নয় যে প্রত্যেকটি সৃষ্টিতেই ফাটল নেই। ক্রুটি কোনো সৃষ্টিতেই নেই, তবে কিছু সৃষ্টিতে ফাটল আছে [যেমন : মাটি, পাহাড়], আবার কিছু সৃষ্টিতে ফাটল নেই [যেমন : বায়ুমন্ডলের স্তর,ওজনস্তর]। যেসব সৃষ্টিতে ফাটল আছে সেসব সৃষ্টির বেলায় আমরা বলব যে তাতে কোনো ক্রুটি নেই!  একদম সহজ ব্যাপার!  কেননা এখানে নির্দিষ্টভাবে এমন কোনো শর্ত নেই যে আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টিতে  "ফাটল ও ক্রুটি " দুইটা একইসাথে অনুপস্থিত থাকতে হবে, বরং ফাটল কিছুক্ষেত্রে থাকতেই পারে, সেক্ষেত্রে বলা হবে যে ফাটল থাকুক, তাতে কি!  কোনো ক্রুটি ত নেই! ফাটল নেই বলার পিছনের হিকমাহ হলো এমন যে : সৃষ্টির এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেসবে ফাটল না থাকাটা অনেক বড় ধরনের নেয়ামত, যেমন : বায়ুমন্ডলের স্তরগুলো, মানুষের দেহ ইত্যাদি ইত্যাদি।

[40]আল-মাওরিদী,আন-নুকত ওয়াল উয়ুন 5/341

[41]মাকাইসুল লুগাহ (4/498)

[42]আল-কোর'আন, (আল-হাজ্জ/আয়াত 65)

[43]সাম্প্রতিক সময়ের বহু মুফাসসিররা এরুপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন :
আহমাদ হাতিবাহ,ইবন আশুর,আল-মারাগী, ওহবাহ আয-যুহাইলী, মাহমুদ হিযাজী
আযহারের মাজমায়ুল বুহুস এর উলামাগন। দেখুন : আত-তাহরির ওয়াত তানওইর (17/322), তাফসিরুল মারাগি (17/137), তাফসিরু আহমাদ হুতাইবাহ লিআশ'শামেলাহ (36/7) , তাফসিরুল ওয়াসিত লিমাজমাইল বুহুস (6/1252),আত-তাফসিরুল মুনির (17/264),আত-তাফসিরুও ওয়াদ্বিহ (2/603)

[44]আল-কোর'আন, (সুরা 17/আয়াত 92)

[45]আল-কোর'আন, (সুরা ইউসুফ /আয়াত 82)

[46]ইয়াহইয়া বিন সালাম, মুকাতিল বিন সুলাইমান,আবুস সউদ আল-আমাদী, আবুল বারাকাত আন-নিসফী, আবু হাফস আন-নিসফি, আত-তাহির ইবন আশুর, ইবন জুয্যাই আল-কালবী ও  মুহাম্মাদ আশ-শাওকানী (রহিমাহুমুল্লাহ)উক্ত আয়াতকে এর প্রসংগের সাথে সরাসরিভাবে সম্পর্কিত অন্য আয়াতগুলো দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ এই আয়াতে মুলত "আকাশ থেকে খন্ড পতিত করার " কথাই বলা হয়েছে(a)।এবং "এব্যাপারে ইজমা রয়েছে যে কো'আনের আয়াত দ্বারা কোর'আনকে ব্যাখ্যা করাই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসির, সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য তাফসির (যদি তা তাওফিকী হয়)" (b)। সুতরাং : এটা বলাই অধিকতর সঠিক হবে যে এখানে "আকাশ থেকে খন্ড " পতিত হয়ার বিষয়টা বলা হয়েছে। ঠিক যেমনটা এসক্রান্ত অন্য আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে।

উপটিকাসমুহ :

(a)আততাইসির (9/478),তাফসিরু মুকাতিল (2/550),ইরশাদুল আক্বলিস সালিম (5/195)
তাফসিরুন নিসফী (2/77),তাফসির ইবন আশুর (15/209),তাফসির ইয়াহইয়া (1/162)
আত-তাসহিল (2/877),ফাতহুল কাদির (পৃ/842)

(b)আদ্বওয়াউল বায়ান (1/67)

[47]আল-কোর'আন, (সুরা 52/আয়াত 44) & (সুরা 26/আয়াত 187) & (সুরা 34/ আয়াত 9)

[48]ইবন আশুর,আত-তাহরির ওয়াত-তানওইর (27/79)

[49]আল-কোর'আন, (সুরা 54/আয়াত 11) 

[50]আলবাহরুল মুহিত(10/38),আজ-জাওয়াহিরুল হিসান (5/338), আল-মুহার'রিরুও ওয়াযিয(5/218), আত-তাহরির ওয়াত তানওইর  (27/182), তাফসিরু আবিস সউদ  (8/169), আততাফসিরুল ওয়াসিত লিমাজমাইল বুহুস  (9/1176), আত'তাফসিরুল মুনির (27/156), তাফসিরুল বাইদ্বাওই  (5/165)

[51]আল-আহাদিসুল মুখতারাহ (2/125)

[52]আল-আদাবুল মুফরাদ (হা/766) 

[53]ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন :  'মাজাররাহ ' মানে হলো আকাশের 'দরজা '। আলি রা (রা) বলেছেন : 'মাজাররাহ' মানে হলো 'শারাজ' অর্থাৎ ( আকাশের এমন একটা পথ যা দুটি অঞ্চলকে যুক্ত করে) …(a)। এদুইটি  বক্তব্যের মাঝে সমন্বয় করলেই আকাশের দরজার এরুপ অর্থ পাওয়া যায়।একইভাবে আল-খালিল বলেছেন : 'মাজাররাহ ' মানে হলো আকাশের 'শারাজ' অর্থাৎ ( আকাশের এমন একটা পথ যা দুটি অঞ্চলকে যুক্ত করে)। আবু ইব্রাহিম আল-ফারাবি বলেছেন : 'মাজাররাহ ' মানে হলো আকাশের 'দরজা …(b)।এদুইটি  বক্তব্যের মাঝে সমন্বয় করলেই আকাশের দরজার এরুপ অর্থ পাওয়া যায়।

উপটিকাসমুহ :

(a)আল-আদাবুল মুফরাদ (হা/767), আল-জামিউস সহিহ (1/170), আল-আদাবুল মুফরাদ (হা/766),আল-জামিউস সহিহ (1/169) 

(b)দিওয়ানুল আদাব (3/50) , আল-আইন (6/14)

[54]আল-কোর'আন, (সুরা 15/আয়াত 14) 

[55]আল-কোর'আন, (সুরা 81/আয়াত 11)

[56]তাফসিরুত তাবারী (24/149),তাফসির ইবনআবিযামানিন (5/100),তাফসির মুকাতিল (4/602),আল-কাশফ ওয়াল বায়ান (28/488),মায়ানিয়ুল কোর'আন (3/241),লাতাইফুল ইশারাত (3/693),আল-মুহাররির (5/443), সহিহুল বুখারি (7/124),আলবাহরুল মুহিত (8/425),আত-তাসহিল (4/1673),আজ-জাওয়াহিরুল হিসান (5/557),লুবাবুত তা'ওইল (4/398)

[57]কেননা : এই ব্যাখ্যাটিকে কোরানের অন্য কিছু আয়াত সমর্থন দেয় (a)। এবং মুলনিতী হলো সেই মত বা ব্যাখ্যাটিই অগ্রাধিকার পাবে যেটিকে কোরানের অন্য আয়াত সমর্থন দিবে (b)

উপটিকাসমুহ :
(a)আল-কোর'আন, (সুরা 39/আয়াত 67) & (সুরা 21/আয়াত 104)
(b)আল-হারবী, কাওয়াইদুত তারজিহ ইনদাল মুফাসসিরিন (পৃ/312)

[58]আল-কোর'আন, (সুরা 21/আয়াত 104)

[59]আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আ'যাম (9/253),লিসানুল আরব (15/18)

[60]আল-ইতকান(পৃ/506) লিসসুয়ুতি ,আল-বুরহান (পৃ/1114) লিযজারকাশী

[61]আল-কোর'আন, (সুরা 39/আয়াত 67)

[62]সহিহুল বুখারী হা/7382

[63]মাজমুয়ুল ফাতাওয়া 25/195, আত'তাবসারাহ 2/164

[64]তাফসিরুত তাবারী (20/245),মাওসুয়াতুত তাফসিরিল মা'ছুর 19/282

[67]আল-কোর'আ,(সুরা 55/আয়াত 37)

[68]মাওসুয়াতুত তাফসিরিল মা'ছুর (21/123-125)

[69]আল-কোর'আন, (সুরা আল-মাআরিজ/আয়াত 8)

[70]সহিফাতু আলি বিন আবিতালহাহ (পৃ328/ক্রম770),তাফসিরুত তাবারী (15/158)
,আল-বা'আছু ওয়ান নুশুর (পৃ/306),আদ-দুরারুল মানছুর (4/221)

[71]তাফসিরুত তাবারি (23/256),আলমাতালিবুল আলিয়াহ(14/719)

[72]আল-কোর'আন, (সুরা 25/আয়াত 25)

[73] "নবি (সা) বলেন : কেয়ামতের সময় আল্লাহ পুর্ববর্তি ও পরবর্তিদের একত্র করে ৪০ বছর দাড় করিয়ে রাখবেন। তাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে থাকবে, আল্লাহ আরশ হতে কুরসি পর্যন্ত বিস্তৃত ধোয়ার (আয়াতে বর্নিত ধোয়া/মেঘমালা) সহিত আসবেন এবং ডেকে বলবেন : হে মানুষজন, তোমরাকি তোমাদের রবের প্রতি সন্তুষ্ট? "

তাখরিজ : আত-তাব্রানি, আল-হাকেম আন-নিসাপুরী, ইবন মানদাহ, ইবন নাসর, ইবন খুযাইমাহ এবং আদ-দারকুত্নী হাদিসটি বর্ননা করেছেন। (a)

তাহকিক :  আল-হাকেম, ইবন মানদাহ, আল-মুনযারী,আল-হাইছামী, আদ-দারকুত্নী, ও আল-আলবানী উক্ত হাদিসকে "সহিহ " বলেছেন। আয-যাহাবি ও আল-আ'যামী উক্ত হাদিসকে "হাসান" বলেছেন। (b)

উপটিকাসমুহ :

(a)আল-মুজামুল কাবির (9/416), মুস্তাদরাকুল হাকেম (2/376-377),আত-তাওহিদ লিইবন মানদাহ(পৃ/583),আত-তাওহিদ লিইবন খুযাইমাহ (2/584),আস-সালাহ লিইবন নাসর (পৃ/278),আর-রু'ইয়াহ লিদ-দারকুত্নী (পৃ/162)

(b)আত-তারগিব (4/391),মাজমায়ুস যাওয়াইদ (10/343),ইলালুদ্দারকুত্বনী (5/243-244), আল-উলুউ (পৃ/200),আলজামেউল কামিল (12/456), সহিহুত তারগিব (3/418),হাশিয়াতু ইলালিদ্দারকুত্বনী(5/244) 

[74]লিসানুল আরব (5/55),তাজুল উরুস (13/325),মুখতারুস সিহাহ (পৃ/241), গারিবুল হাদিস লিইবনিল যাওযি (2/200), তাহযিবুল লুগাহ (13/222), আল-ফুরুকুল লুগুইয়াহ (পৃ/407), শামসুল উলুম (8/5215), তাজুল লুগাহ (2/781)

[75]মাকাইসুল লুগাহ (3/170),তাফসিরুত তাবারী (24/230)

[76]তাফসিরুত তাবারী (24/230) & (22/226) & (23/224) & (24/19) & (23/590) &  (24/174)

[77]তাফসিরুত তাবারী (15/637)

[78]তাফসিরুত তাবারী (20/466)

[79]মুস্তাদরাকুল হাকেম (2/480) 

[80]তাফসিরুত তাবারী (23/389)

[81]তাফসিরুস সাম'আনী (6/83) 

Share this:

More articles

কুরআনের কিছু আয়াত দেখিয়ে নাস্তিকরা দাবী করে যে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা পথভ্রষ্ট নাস্তিক হয়ে গেছে।যদিও তারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে না,তবুও নিজেদের কুকর্মের জন্য সৃষ্টিকর্তাকেই দায়ী করে।অনেক মুসলিমের মনেও এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী হয়।তারা মনে করে যে মানুষের স্বাধীন কোনো ইচ্ছা নেই।এই লেখায় তাদের ভ্রান্ত ধারণা খন্ডন করে সত্য উন্মোচন করা হবে ইনশাআল্লাহ। অভিযোগকৃত আয়াতগুলো নিম্নরূপ: مَنۡ  یَّشَاِ اللّٰہُ  یُضۡلِلۡہُ ؕ وَ مَنۡ یَّشَاۡ  یَجۡعَلۡہُ  عَلٰی  صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ–আল্লাহ যাকে চান, তাকে পথভ্রষ্ট....
15 Min read
Read more
  সুরা তাহরিম নাযিল হয়ার প্রেক্ষাপট হিসেবে বিভিন্ন হাদিস বর্নিত আছে যে রাসুল (ﷺ) নাকি একদা হাফসার (রা) ঘরে মারিয়াহর (রা) সাথে সহবাস করছিলেন, তখন নাকি হাফসা (রা) তা দেখে রাগান্বিত হয়েছিলেন, এবং রাসুল (ﷺ) হাফসাকে (রা) এই ঘটনা কারো নিকট প্রকাশ করতে মানা করেছিলেন ও হাফসার (রা) রাগের কারনে মারিয়াকে (রা) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন, এবং তারপর নাকি রাসুল (ﷺ) মানা করা সত্ত্বেও হাফসা (রা) সেই ঘটনা আয়েশাহকে (রা) জানিয়ে দিয়েছিলেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ধরনের কাহিনী সংবলিত যত বর্ননা আছে, তার সবই বাতিল, যইফ....
16 Min read
Read more
বিবর্তন নিয়ে পোস্ট দিলেই কিছু ডারউইনের মুরিদ হাজির হয়ে 'ফ্যাক্ট ফ্যাক্ট' বলে চিৎকার করা শুরু করে। ধরে নিলাম, বিবর্তন সত্য। কিন্তু কোন বিবর্তন? ডারউইনবাদ ছাড়াও একাডেমিতে অন্যান্য মডেল আছে। যেমন- a) Evolution by Natural Genetic Engineering (J. Shapiro) b) evolution by self-organization (Kauffman, Depew) c) facilitated variation (Gerchart) d) neo-Lamarckism (Jablonka, Pigliucci) e) symbyogenesis (Margulis) উপরের সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ বাণী বর্ণনা করে এবং কোনটাই একাডেমী থেকে বাতিল ....
2 Min read
Read more
জিহাদ বলতে অমুসলিমরা সাধারণত "যুদ্ধ" বুঝে থাকে। খ্রিস্টান মিশনারীরা যখনই বিতর্কে হেরে যায়, তখনই আলোচনা ঘুরাতে ইসলামের জিহাদ নিয়ে মিথ্যাচার করা শুরু করে। আজ আমরা বাইবেলের আলোকে "যুদ্ধ" সম্পর্কে জানবো। যুদ্ধ নিয়ে বাইবেলে কী কিছু বলা আছে? বাইবেলের কিছু যুদ্ধের চিত্র আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। ঈশ্বর নিজেকে, ঈশ্বর প্রমান করতে ১ লক্ষ ২৭ হাজার মানুষকে হত্যা করে: 23. রাজা বিন্হদদের রাজকর্মচারীরা তাঁকে বললেন, “ইস্রায়েলের দেবতারা আসলে পর্বতের দেবতা| আর আমরা পর্বতে গিয়ে যুদ্ধ করেছি তাই ইস্রায়েলের লোকরা জ....
17 Min read
Read more
ডারউইন ফেল্টুস ছাত্র ছিল   Table of Contents আধুনিক বিজ্ঞান বনাম নয়া ডারউইনবাদ প্রকৃত কোষের উদ্ভব ক্রমান্বয়বাদ ক্যান্সার বনাম ডারউইন ম্যাক্রো বিবর্তন কি সম্ভব? বয়স বাড়ে কেন? আরও ভুল ভবিষ্যদ্বাণী   আধুনিক বিজ্ঞান বনাম নয়া ডারউইনবাদ নয়া ডারউইনবাদ আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। মাইকেল রোজ লিখেছেন, The last third of the 20 th Century featured an accumulation of research findings that severely challenged the assumptions of the "Modern Synthesis" which provided the foundations for most biological r....
5 Min read
Read more
যোগাযোগে নিরাপত্তার গুরুত্ব মামুনুল হক ইস্যুর পরে সচেতন জনগণ ঠিকই বুঝে গেছে। কিন্তু অধিকাংশ লোকেরা বুঝেন নি। তাদের জন্যেই এই পোস্ট। আজ আপনি নিরাপদে আছেন, কিন্তু কবে আপনার দেশ আমেরিকা বা চীনের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, ঠিক আছে? তখন আপনার ব্যবহৃত প্রযুক্তিই আপনার শত্রু হবে না তার নিশ্চয়তা কি? আমরা কি কুফফারদের উপর এতটাই আস্থাশীল? একটা ওয়েবসাইট আছে যেখানে মোবাইলের ডাটা ভিত্তি করে কোথায় কোন মতাদর্শ জনপ্রিয়, কারা আন্দোলন করতে পারে ইত্যাদি লিস্ট করা হয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে যেকোন দেশের উদীয়মান ইসলামপ....
2 Min read
Read more