মুসলিম তাবেঈ রসায়নবিদ খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ (রহ)

 

মুসলিম রসায়নবিদ 'আবু-হাশিম খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ বিন আবি-সুফিয়ান আল-উমাওই আল-কুরেশী আদ-দিমাশকী আশ-শামী'। তিনি 'খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ ' নামে পরিচিত। এই লেখাটিতে তাঁর ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। 

 

আরবি ওইকিপিডিয়ার তথ্যমতে খালিদ (রহ) ৫১ হিজরী সন মোতাবেক ৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। 

 

খালিদ (রহ) ছিলেন একজন সম্মানিত তাবেঈ। তিনি সাহাবী 'আবু-উমামাহ আল-বাহিলী' 

(রা) এর সহিত সাক্ষাত করে তাঁর (আবু-উমামাহর) নিকট হতে রাসুলের (সা) হাদিস শ্রবণ করেছিলেন। 

 

কামালুদ্দিন ইবনুল-আদিম বলেছেন : 

 

'وسمع (خالد بن يزيد بن معاوية )أبا أمامة الباهلي'_[1] 

'এবং তিনি (খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ) আবু-উমামাহ হতে (হাদিস) শ্রবন করেছেন' 

 

একটি হাসান সনদের হাদিসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ্য আছে যে খালিদ (রহ) আবু-উমামাহ আল-বাহিলী হতে রাসুলের (সা) হাদিস শ্রবণ করেছেন।

 

হাদিসটি হলো : 

 

عَنْ عَلِيِّ بْنِ خَالِدٍ أَنَّ أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ، مَرَّ عَلَى خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ فَسَأَلَهُ عَنْ أَلْيَنِ كَلِمَةٍ سَمِعَهَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " أَلَا كُلُّكُمْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ شَرَدَ عَلَى اللهِ شِرَادَ الْبَعِيرِ عَلَى أَهْلِهِ _[2] 

 

'আলি বিন খালিদ হতে বর্নিত যে আবু-উমামাহ আল-বাহিলী, খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, ফলে তিনি (খালিদ) তাকে (আবু-উমামাহকে) প্রশ্ন করলেন যে তাঁর (আবু-উমামাহর) রাসুল (সা) হতে শ্রবন করা সবচেয়ে কোমল বাক্যটি কি?  উত্তরে তিনি (আবু-উমামাহ) বললেন : আমি রাসুলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন : 'জেনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকেই জান্নাতে প্রবেশ করবে শুধুমাত্র সে ব্যাতিত, যে কিনা উটের নিজ দল হতে বিভ্রান্তিবশত আলাদা হয়ে যাওয়ার মত করে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত হয়ে আলাদা হয়ে যায় '।

 

//তাহকিক : হাদিসটিকে আল-হাইসামী, আল-আলবানী,  হিকমাত বিন বাশির, আল-আযামী, আল-আরনাওওত,আদিল মুরশিদ,জামাল আব্দুল-লাতিফ ও আব্দুল-লাতিফ হিরযাউল্লাহ  'সহিহ/হাসান' বলেছেন [3]// 

 

আবু-হাতিম, সাবাত, ইবন হাজার সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস উল্লেখ্য করেছেন যে খালিদ একজন 'তাবেঈ' [4]

 

তাবেঈ হয়ার পাশাপাশি 'খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ ' (রহ) ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, হাদিসের ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) রাবি। হাদিসের রাবিদের ব্যাপারে সংকলিত রিজালের কিতাবগুলোতে খালিদের জিবনী সক্রান্ত আলোচনা পাওয়া যায়। 

 

হাদিসচর্চার জন্য অনেকেই 'খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ' এর শিষ্যত্ব গ্রহন করেছিলেন,এবং খালিদ থেকে হাদিস বর্ননা করেছিলেন।

 

আল-হাফিয জামালুদ্দিন আবুল-হাজ্জাজ ইবনুয-যাকী আল-মিযযী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'তাহযিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল ' এ হাদিসচর্চার জন্য খালিদের শিষ্যত্ব গ্রহনকারী ও খালিদ হতে হাদিস বর্ননাকারী ব্যাক্তিদের নাম উল্লেখ্য করেছেন, তারা হলেন : …[5]

 

ইব্রাহিম বিন আবি-হুররাহ আল-হাররানী আন-নুসাইবী,খালিদ বিন আমির আয-যাবাদী আল-ইফ্রিক্বী,রাজা বিন হাইওয়াহ,আল-আব্বাস বিন উবাইদুল্লাহ ইবনুল আব্বাস,আলি বিন রিয়াহ আল-লাখমী,মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আয-যুহরী,আবুল-আখদ্বার

,আবুল-আ'ইয়াস আল-খাওলানী,আবু-ওয়াযিরাহ আল-আনসী

 

অপরদিকে, ইবন হিব্বান ও ইবন খালফুন খালিদকে রাবি হিসেবে 'ছিকাহ' বলেছেন [6][7]। ইবন হাজার আল-আসকালানী খালিদকে 'ছুদুক' বলেছেন [8]।আয-যাহাবী খালিদকে 'আল-ইমাম আল-বারিঈ (উচ্চ পর্যায়ের ইমাম) বলেছেন [9]। আবু-যুর'আহ খালিদকে 'সালিহ' বলেছেন [12]।

 

খালিদ হাদিস বর্ননা করা খুবই পছন্দ করতেন। তিনি হাদিস বর্ননা করা এতটাই বেশি পছন্দ করতেন যে কোনো শ্রোতা খোজে না পেলে নিজ দাসীদেরকে হাদিস বর্ননা করে শোনাতেন।

 

আবু-যুর'আহ আর-রাযী আদ-দিমাশক্বী বলেছেন : 

 

'حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قال: قَالَ أَصْحَابُنَا: كَانَ خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ إِذَا لَمْ يَجِدْ أَحَدًا يُحَدِّثُهُ، حَدَّثَ جَوَارِيَهُ ثُمَّ يَقُولُ: إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكُنَّ لَسْتُنَّ له بأهل' [10][11] 

 

'আমাদের আবু-মুসহির বর্ননা করে বলেছেন যে আমাদের সাঈদ বিন আব্দুল-আযিয বর্ননা করে বলেছেন যে আমাদের সঙ্গীরা বলেছেন যে : খালিদ যখন হাদিস বর্ননা করে শোনানোর মত কাওকে পেতেন না, (তখন) তিনি তাঁর দাসিদের হাদিস বর্ননা করে শোনাতেন আর বলতেন : 'অবশ্যই আমি ভালোভাবেই এটা জানি যে তোমরা (দাসিরা) এর উপযুক্ত নও {অর্থাৎ হাদিস মুখস্থ রাখার জন্য উপযুক্ত নও}। '

 

খালিদ একজন রসায়নবিদ ছিলেন। রসায়নের পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞানের অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় নিয়েও প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি নিজে রসায়নবিদ্যা সম্পর্কিত বহু বই লিখেছিলেন ও উক্ত শাস্ত্রসক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থকে আরবিতে অনুবাদ করিয়েছিলেন। 

 

খালিদ কর্তৃক জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা (বিশেষ করে রসায়নবিদ্যা) চর্চিত ও অধ্যয়নকৃত হয়া প্রসঙ্গে মুসলিম ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিভংগি নিম্নে উল্লেখ্য করা হলো। 

 

 ১. আবুল-ফারাজ ইবনুন-নাদিম আল-আখবারী - 

 

ইবনুন-নাদিম তাঁর 'আল-ফাহরাসাত' গ্রন্থে খালিদ সম্পর্কে বলেছেন : 

 

الذي عني بإخراج كتب القدماء في الصنعة خالد بن يزيد بن معاوية وكان خطيبا شاعرا فصيحا حازما ذا رأي وهو أول من ترجم له كتب الطب والنجوم وكتب الكيمياء وكان جوادا يقال انه قيل له لقد فعلت أكثر شغلك في طلب الصنعة فقال خالد ما أطلب بذاك الا أن أغني أصحابي وأخواني إني طمعت في الخلافة فاختزلت دوني فلم أجد منها عوضا الا أن أبلغ آخر هذه الصناعة فلا أحوج أحدا عرفني يوما أو عرفته إلى أن يقف بباب سلطان رغبة أو رهبة ويقال والله أعلم انه صح له عمل الصناعة وله في ذلك عدة كتب ورسائل وله شعر كثير في هذا المعنى رأيت منه نحو خمسمائة ورقة ورأيت من كتبه كتاب الحرارات كتاب الصحيفة الكبير كتاب الصحيفة الصغير كتاب وصيته إلى ابنه في الصنعة.…[13] 

 

যে ব্যাক্তি রসায়নবিদ্যা সম্পর্কে পুর্ববর্তিদের গ্রন্থগুলো প্রকাশ করাতে আগ্রহী হয়েছিলেন তিনি হলেন খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ। তিনি ছিলেন বক্তা কবি স্পষ্টভাষী প্রত্যয়ী চিন্তাবিদ। তিনিই সর্বপ্রথম ব্যাক্তি, যার জন্য চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নবিদ্যা সক্রান্ত বহু গ্রন্থকে অনুবাদ করা হয়েছিল। তিনি ছিলেন উদার দানশীল। বলা হয় যে উনাকে বলা হয়েছিলো 'আপনি তো আপনার বেশিরভাগ ব্যাস্ততা রসায়নবিদ্যা অনুসন্ধান করতে করতেই কাটিয়ে দিয়েছেন ', ফলে খালিদ উত্তরে বলেন : 'আমি উহা অনুসন্ধান করি শুধুমাত্র আমাদের ভাই ও বন্ধুদের উপকার করার জন্য। অবশ্যই আমি খিলাফতের জন্য প্রত্যাশা করেছিলাম, ফলে আমি অন্যান্যদের সরিয়ে দিয়েছিলাম, তবে আমি তা (খিলাফত) হতে কোনো প্রতিদান পাইনি,  কিন্ত আমি এই শাস্ত্রটির উপসংহারে পৌছেছি। এবং আমার এমন কাউকে দরকার নেই যে আমাকে কখনো চিনেছে বা আমি তাকে চিনি, যে তাকে সেচ্ছায় বা ভয়ের কারনে সুলতানের দরজায় দাড়াতে হবে।' এবং বলা হয় (আল্লাহই ভালো জানেন) যে তাঁর রসায়নবিদ্যা নিয়ে কাজ করাটা সত্য, এবং এব্যাপারে তার একাধিক গ্রন্থ ও রিসালাহ (ছোট বই) রয়েছে, এবং এসক্রান্ত তার প্রচুর কবিতা রয়েছে, আমি দেখেছি যে তা (কবিতাগুলো) প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার মত আয়তনে বিস্তৃত, এবং আমি তাঁর গ্রন্থসমুহ হতে দেখেছি : কিতাবুল হারারাত, কিতাবুস সাহিফাতিল কাবির, কিতাবুস সাহিফাতিস সাগির, একটি কিতাব যেখানে তিনি তার পুত্রকে উদ্দেশ্য করে রসায়নের সাথে সম্পর্কিত ওয়াসিয়ত করেছেন।

 

 

 ২. আবু-উসমান উমার বিন বাহর আল-জাহিয - 

 

আল-জাহিয তাঁর 'আল-বায়ান ওয়াত তাবঈঈন' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

وكان خالد بن يزيد بن معاوية، خطيبا شاعرا، وفصيحا جامعا، وجيّد الرأي كثير الأدب، وكان أول من ترجم كتب النجوم والطب والكيمياء…[14] 

 

'এবং খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ ছিলেন খাতিব কবি স্পষ্টভাষী লেখক, উত্তম চিন্তা বিশিষ্ট  এবং প্রচুর সাহিত্যকর্মের অধিকারী, এবং তিনি হলেন সর্বপ্রথম ব্যাক্তি যিনি জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যা সক্রান্ত বহু গ্রন্থ অনুবাদ করেছিলেন' 

 

 

 ৩. আবু-আহমদ আল-হাসান আল-আসকারী - 

 

আল-হাফিয আলাউদ্দিন মোগলতাঈ তার 'আল-ইকমাল' গ্রন্থে খালিদ সম্পর্কে বলেছেন : 

 

وذكر العسكري أنه كان مُولعًا بالكيمياء، وهو الذي شهرها في بلاد العرب...[15] 

 

'এবং আল-আসকারী (অর্থাৎ আবু-আহমদ আল-হাসান আল-আসকারী) উল্লেখ্য করেছেন যে তিনি (খালিদ) রসায়নবিদ্যার প্রতি গভিরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন, এবং তিনিই সেই ব্যাক্তি, যিনি কিনা আরব-বিশ্বে সেটাকে (রসায়নবিদ্যাকে) বিখ্যাত করেছেন '

 

 ৪. আবু-হিলাল আল-হাসান আল-আসকারী - 

 

আবু-হিলাল তাঁর 'আল-আওয়াইল' গ্রন্থে খালিদ সম্পর্কে বলেছেন : 

 

أول من ترجم له الطب والنجوم خالد بن يزيد. وكان شاعرا فصيحا جوادا قيل له: جعلت أكثر شغلك فى طلب الصنعة، قال: أطلب بذلك أن أغنى الاخوان وأصل الاقارب والجيران، انى طمعت فى الخلافة وأختزلت دونى، فلم أجد منها عوضا الا أن أبلغ آخر هذه الصنعة، فلا أحوج أحدا عرفنى أن يقف بباب السلطان رغبة أو رهبة_[16] 

 

'সর্বপ্রথম যার জন্য চিকিৎসাবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা সক্রান্ত বহু গ্রন্থকে অনুবাদ করা হয়েছিলো, তিনি হলেন খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ। এবং তিনি ছিলেন কবি স্পষ্টভাষী উদার দানশীল। তাকে বলা হয়েছিলো : 'আপনিত আপনার অধিকাংশ ব্যাস্ততা রসায়নবিদ্যা অনুসন্ধান করতে করতেই কাটিয়ে দিয়েছেন ', তিনি বলেছিলেন : আমি তা অনুসন্ধান করি আমার ভাইয়দের উপকার করার জন্য এবং নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশিদের সহিত বন্ধন গঠনের জন্য। অবশ্যই আমি খিলাফতের জন্য প্রত্যাশা করেছিলাম, ফলে আমি অন্যান্যদের সরিয়ে দিয়েছিলাম, তবে আমি তা (খিলাফত) হতে কোনো প্রতিদান পাইনি,  কিন্ত আমি এই শাস্ত্রটির উপসংহারে পৌছেছি। এবং আমাকে চিনেছে এমন কাওকে আমার দরকার নেই যে তাকে সেচ্ছায় বা ভয়ের কারনে সুলতানের দরজায় দাড়াতে হবে।

 

 ৫. শামসুদ্দিন আহমদ ইবন খাল্লিকান আল-বারমাকী - 

 

খালিদের ব্যাপারে ইবন খাল্লিকান তাঁর 'ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান' গ্রন্থে লিখেছেন : 

 

أبو هاشم خالد بن يزيد بن معاوية بن أبي سفيان الأموي؛ كان من أعلم قريش  بفنون العلم، وله كلام في صناعة  الكيمياء والطب، وكان بصيراً بهذين العلمين متقناً لهما، وله رسائل دالة على معرفته وبراعته، وأخذ الصناعة عن رجل من الرهبان يقال له مريانس الراهب  الرومي، وله فيها ثلاث رسائل تضمنت إحداهن ما جرى له مع مريانس الراهب المذكور [17] 

 

আবু-হাশিম খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ বিন আবি-সুফিয়ান আল-উমাওই, তিনি জ্ঞানের শাখাসমুহ সম্পর্কে কুরাইশদের মধ্যকার সর্বাধিক জ্ঞানি ব্যাক্তিদের একজন ছিলেন, এবং রসায়নবিদ্যা ও চিকিতৎসাবিদ্যা নিয়ে তাঁর আলোচনা আছে, এবং তিনি এইদুটি শাস্ত্রে দুরদৃষ্টিসম্পন্ন ও দক্ষতাপুর্ন ছিলেন, এবং তার বহু রিসালাহ আছে যা তার জ্ঞান ও দক্ষতার দিকে ইংগিত দেয়, এবং তিনি রসায়নবিদ্যা গ্রহন করেছিলেন পাদ্রীদের অন্তর্ভুক্ত একজন লোক হতে যাকে 'রোমান পাদ্রী মারইয়ানাস ' বলা হতো, এবং এই শাস্ত্রে তাঁর তিনটি রিসালাহ রয়েছে। 

 

 

 ৭. আমাদুদ্দিন ইবন কাসির আদ-দিমাশকী - 

 

ইবন কাসির তাঁর 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ' গ্রন্থে  খালিদের ব্যাপারে লিখেছেন : 

 

كَانَ أَعْلَمَ قُرَيْشٍ بِفُنُونِ الْعِلْمِ، وَلَهُ يَدٌ طُولَى فِي الطِّبِّ، وَكَلَامٌ كَثِيرٌ فِي الْكِيمْيَاءِ وَكَانَ قَدِ اسْتَفَادَ ذَلِكَ مِنْ رَاهِبٍ اسْمُهُ مَرْيَانُسُ_[18]

 

তিনি জ্ঞানের বহু শাখা সম্পর্কে কুরাইশদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। তাঁর চিকিৎসাশাস্ত্রে অনেক অবদান আছে এবং রসায়নবিদ্যাতে প্রচুর আলোচনা আছে। তিনি তা লাভ করেছিলেন মারইয়ানাস নামক একজন পাদ্রী হতে। 

 

 ৮. আবুল-মুযাফফর সাবাত ইবনুল-যাওযী আল-আওনী -

 

সাবাত ইবনুল-যাওযি তাঁর 'মারাতুয যামান' গ্রন্থে বলেছেন : 

وكان خالد مشهورًا بها…[19] 

 

'এবং খালিদ সেটার (রসায়নবিদ্যার) দ্বারা বিখ্যাত ছিলেন' 

 

 ৯. আবু-বকর মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আস-সাওলী - 

 

সাবাত ইবনুল-যাওযি তাঁর 'মারাতুয জামান' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

حكى أبو بكر الصولي أنه كان مولعًا بالكيمياء_[20] 

 

'আবু-বকর আস-সাওলী বর্ননা করেছেন যে তিনি (খালিদ) রসায়নবিদ্যার প্রতি গভিরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন' 

 

১০. আবুল-ফারাজ ইবনুল-যাওযী আল-হানবলী - 

 

ইবনুল-যাওযি তাঁর 'আল-মুন্তাযিম' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

كان من رجالات قريش والمعدودين من كبرائهم سخاء وفصاحة وعقلا .وكان قد شغل نفسه بعمل الكيمياء،_[21] 

 

'তিনি ছিলেন কুরাইশী পুরুষদের একজন, এবং উদারতা দানশীলতা, ভাষার বিশুদ্ধতা ও জ্ঞানের দিক দিয়ে তিনি তাদের মধ্য হতে মহান হিসেবে গন্য হয়া ব্যাক্তিদের একজন ছিলেন। এবং তিনি নিজেকে রসায়নবিদ্যা নিয়ে কাজ করাতে ব্যাস্ত রেখেছিলেন ' 

 

১১. সালাহুদ্দিন আবুস-সফা খালিল বিন আইবেক আস-সিফদী - 

 

আস-সিফদী তাঁর 'আল-ওয়াফী বিল-ওয়াফিইয়াত' গ্রন্থে খালিদ সম্পর্কে বলেছেন : 

 

خَالِد بن يزِيد بن مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان أَبُو هَاشم القرشيّ الأمويّ كَانَ من أعلم قُرَيْش بفنون الْعلم وَله كَلَام فِي صناعَة الكيمياء والطّبّ كَانَ بَصيرًا بِهَذَيْنِ العلمين متقناً لَهما وَله رسائل دَالَّة على مَعْرفَته وبراعته وَأخذ الكيمياء عَن مريانس الراهب الرّوميّ وَله فِيهَا ثَلَاث رسائل تَضَمَّنت إِحْدَاهَا مَا جرى لَهُ مَعَ مريانس_[22] 

 

খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ বিন আবি-সুফিয়ান, আবু-হাশিম আল-কুরেশী আল-উমাওই, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে তিনি কুরাইশদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। এবং চিকিৎসাবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যাতে তাঁর আলোচনা আছে। তিনি এদুটি শাস্ত্রে দক্ষতাপুর্ন ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন। তার বহু রিসালাহ আছে যা তার জ্ঞান ও দক্ষতার দিকে ইংগিত দেয়। তিনি রসায়নবিদ্যা গ্রহন করেছিলেন রোমান পাদ্রী মারইয়ানাস হতে। এবং তাঁর এব্যাপারে (রসায়নের ব্যাপারে) তিনটি রিসালাহ রয়েছে। 

 

 

১২. আব্দুল-হাঈ ইবনুল-আমাদ আল-হানবলী - 

 

ইবনুল-আমাদ আল-হানবলী তাঁর 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

كان له معرفة بالطّب والكيمياء، وفنون من العلم، وله رسائل حسنة أخذ الصّنعة عن راهب روميّ [23] 

 

'রসায়নবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যা ও জ্ঞানের বহু শাখা  সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিলো। এবং তাঁর বহু উত্তম রিসালাহ রয়েছে। তিনি একজন রোমান পাদ্রী হতে রসায়নবিদ্যা গ্রহন করেছিলেন ' 

 

 

১৩. ইয়াকুত বিন আব্দুল্লাহ আল-হামওই - 

 

ইয়াকুত তাঁর 'ইরশাদুল আরিব' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

خالد بن يزيد بن معاوية بن أبي سفيان، الأمير أبو هاشم الأموي:كان من رجالات قريش المتميزين بالفصاحة والسماحة وقوة العارضة، علّامة خبيرا بالطبّ والكيمياء _[24]

 

খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ বিন আবি-সুফিয়ান, আল-আমির আবু-হাশিম আল-উমাওই, তিনি সেইসমস্ত কুরাইশ পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ভাষার বিশুদ্ধতা ও বক্তৃতা দেয়ার সুন্দর দক্ষতা দ্বারা গুনান্বিত। এবং তিনি ছিলেন মহাজ্ঞানী, চিকিৎসাবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যা সম্পর্কে দক্ষ একজন কবি।

 

১৪. মুজিরুদ্দিন আল-উলাইমী আল-হানবলী - 

 

মুজিরুদ্দিন তাঁর 'আত-তারিখুল মু'তাবির ' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে লিখেছেন : 

 

كان من أعلم قريش بفنون العلم، وله كلام في صنعة الكيمياء والطب، وكان متقنًا لهما، وله رسائل دالة على معرفته وبراعته،_[25] 

 

'জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে তিনি কুরাইশদের মধ্যকার সর্বাধিক জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এবং রসায়নবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যাতে তার আলোচনা আছে, এবং তিনি এদুটি শাস্ত্রে দক্ষতাপুর্ন ছিলেন। এবং তাঁর বহু রিসালাহ আছে যা তাঁর জ্ঞান ও দক্ষতার দিকে ইংগিত দেয় ' 

 

১৫. আবু-মুহাম্মদ আত-তাইব আল-হিজরানী - 

 

আত-তাইব তাঁর 'কালাদাতুন নাহার' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

كان متقنا لعلمي الطب والكيمياء، ومتفننا في غيرهما، أخذ الصناعة من رجل من الرهبان_[26] 

 

'তিনি চিকিৎসাবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যাতে দক্ষতাপুর্ন ছিলেন।এগুলো ছাড়াও অন্যান্য বহু শাস্ত্র নিয়ে তিনি জ্ঞানর্জন করেছেন, তিনি পাদ্রীদের অন্তর্ভুক্ত একজন ব্যাক্তি হতে রসায়নবিদ্যা গ্রহন করেছেন ' 

 

১৬.আবুল-আওন আস-সাফারিনী আল-হানবলী - 

 

আস-সাফারিনী তাঁর 'লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়াহ' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

وَأَمَّا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، فَعُرِّبَتْ لَهُ كُتُبُ الطِّبِّ وَالنُّجُومِ، وَقِيلَ: الَّذِي عُرِّبَتْ لَهُ كُتُبُ الطِّبِّ وَالنُّجُومِ الْمَنْصُورُ، وَأَمَّا خَالِدٌ فَإِنَّمَا وَلَعُهُ فِي صَنْعَةِ الْكِيمْيَاءِ، وَلَهُ فِي ذَلِكَ رَسَائِلُ، وَكَانَ قَدْ أَخَذَ تِلْكَ الصِّنَاعَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنَ الرُّهْبَانِ يُقَالُ لَهُ مِرْيَاسُ الرُّومِيُّ_[27] 

 

'অপরদিকে খালিদ বিন ইয়াযিদ, তাঁর জন্য চিকিৎসাবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা সক্রান্ত বহু বইকে আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছিলো। আবার বলা হয় যে : যার জন্য চিকিৎসাবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা সক্রান্ত বহু বই আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছিলো তিনি হলেন আল-মানসুর। অপরদিকে যদি কথা আসে খালিদের, রসায়নবিদ্যার প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষন ছিলো, রবং সেব্যাপারে তাঁর বহু রিসালাহ রয়েছে। এবং তিনি সেই রসায়নবিদ্যা গ্রহন করেছিলেন পাদ্রীদের অন্তর্ভুক্ত একজন ব্যাক্তি হতে যাকে মিরইয়াস আর-রুমী বলা হয় ' 

 

১৭. আবু-মুহাম্মদ আফিফুদ্দিন আল-ইয়াফিয়িঈ - 

 

আল-ইয়াফিয়িঈ তাঁর 'মারাতুজ জুনান' গ্রন্থে খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

قيل كان له معرفة بفنون من العلم، منها علم الطب والكيمياء كان متقنا لهما_[28] 

 

'বলা হয়েছে যে : তার (খালিদের) জ্ঞানের বহু শাখা সম্পর্কে জ্ঞান ছিলো, যেমন : রসায়নবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যা ; তিনি এদুটি শাস্ত্রে (বিশেষভাবে) দক্ষ ছিলেন ' 

 

১৮. ইবন আবিল-হাদিদ আল-মাদাইনী - 

 

আব্দুল-হাঈ বিন আব্দুল-কাবির আল-কাত্তানী তাঁর "আত-তারাতিবুল ইদারিয়াহ" গ্রন্থে খালিদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন : 

 

وذكر ابن أبي الحديد المدائني، في شرح نهج البلاغة، ص ٤٧٦ من ج ٣ طبعة مصر أن خالد بن يزيد بن معاوية كان أول من أعطى التراجمة والفلاسفة، وقرب أهل الحكمة، ورؤساء أهل كل صناعة، وترجم كتب النجوم والطب، والكيمياء والحروب، والأداب والصناعات_[29] 

 

ইবন আবিল-হাদিদ আল-মাদাইনী 'শারহু নাহজিল বালাগাহ ' মিশরের মুদ্রন অনুযায়ি খ ৩ এর পৃ ৪৭৬ তে উল্লেখ্য করেছেন যে খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ সর্বপ্রথম ব্যাক্তি যিনি অনুবাদসমুহ ও দর্শনশাস্ত্রসমুহ প্রদান করেছেন, এবং বিজ্ঞানিদের ও প্রত্যেক শাস্ত্রের বড় বড় পন্ডিতদের নিকটবর্তি হয়েছেন।এবং জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, যুদ্ধবিদ্যা, সাহিত্য ও কারিগরিবিদ্যা সক্রান্ত বহু গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন। 

 

 

১৯. হাজি খালিফাহ আল-উসমানী - 

 

হাজি খালিফাহ তাঁর 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বলেছেন : 

 

أول من تكلم في علم الكيمياء، ووضع فيها الكتب، وبين صنعة الإكسير والميزان، ونظر في كتب الفلاسفة من أهل الإسلام: خالد بن يزيد بن معاوية بن أبي سفيان_[30] 

 

'ইসলামের অনুসারি মধ্য হতে সর্বপ্রথম যিনি রসায়নবিদ্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেই শাস্ত্রের উপর গ্রন্থ লিখেছেন, এবং আল-ইকসিরবিদ্যা ও আল-মিযানবিদ্যাকে ব্যাখ্যা করেছেন, এবং দার্শনিকদের বইগুলোতে দৃষ্টিপাত করেছেন, তিনি হলেন : খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ ' 

 

তাছারা হাজি খালিফাহ 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থটিতে বহু রসায়নবিদ্যা সক্রান্ত গ্রন্থকে খালিদের দিকে সম্পর্কিত করেছেন, যেমন : ফিরদুওসুল হিকমাহ ফি ইলমিল কিমিয়া, মুকালাতা মারইয়ানাস আর-রাহিব ইত্যাদি [31]

 

 

২০. খাইরুদ্দিন আয-যিরকিলী - 

 

খাইরুদ্দিন আয-যিরকিলী তাঁর 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে বলেছেন যে : 

 

خالد بن يزيد بن معاوية بن أبي سفيان الأموي القرشي، أبو هاشم حكيم قريش وعالمها في عصره. اشتغل بالكيمياء والطب والنجوم، فأتقنها وألف فيها رسائل [32] 

 

'খালিদ বিন মুয়াবিয়াহ বিন আবি-সুফিয়ান আল-উমাওই আল-কুরেশী, আবু-হাশিম কুরাইশদের বিজ্ঞানী এবং তাঁর যুগের কুরাইশদের আলিম। তিনি রসায়নবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিদ্যা তিয়ে চর্চা করেছেন, এবং সেগুলোতে দক্ষতা অর্জন করে সেগুলোর ব্যাপারে বহু রিসালাহ লিখেছেন ' 

 

২১. আবুর-রাইহান আল-বেরুনী - 

 

আয-যিরকিলী 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে বলেছেন যে আবুর-রাইহান আল-বেরুনী খালিদ সম্পর্কে বলেছেন : 

 

كان خالد أول فلاسفة الإسلام وفي سبائك الذهب[32]

 

'স্বর্নগঠনের ক্ষেত্রে খালিদ ছিলেন ইসলামের সর্বপ্রথম দার্শনিক' 

 

উল্লেখ্য : তৎকালিন সময়ে রসায়নবিদ্যা 'স্বর্ন বানানোর বিদ্যা' ও এইধরনের বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলো। এখানে আল-বেরুনী 'স্বর্নগঠনের ক্ষেত্রে' বলতে বুঝিয়েছেন 'রসায়নবিদ্যার ক্ষেত্রে'।

 

 

২২. ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আমিন আল-বাবানী - 

 

আল-বাবানী তাঁর 'হিদায়াতুল আরিফিন' গ্রন্থে  খালিদের রচিত রসায়নবিদ্যাসক্রান্ত এই চারটি বইয়ের নাম উল্লেখ্য করেছেন : _[33] 

 

'ওয়াসিয়াতুহু ইলা ইবনিহি ফিস-সানা'আহ ' 

 

'মুকালাতা মিরইয়ানাস আর-রাহিব ফিল-কিমিয়া' 

 

'কিতাবুর রহমাহ ফিল-কিমিয়া '

 

'ফিরদাওসুল হিকমাহ ফি ইলমিল কিমিয়া' (কাব্য আকারে) 

 

 

২৩. আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-বালাযুরী -

 

আল-বালাযুরী 'আন-সাবুল আশরাফ' গ্রন্থে খালিদ সম্পর্কে বলেছেন : 

 

فكان شاعرا ينظر في الكيمياء والنجوم وغيرهما من العلوم[34]

 

'তিনি কবি ছিলেন, তিনি রসায়নবিদ্যা জ্যোতির্বিদ্যা ও বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা করতেন ' 

 

২৪. আলি ইবনুল-হুসাইন আল-মাসউদী - 

 

আল-মাসউদী তাঁর 'মুরুজুয যাহাব' গ্রন্থে খালিদের রসায়নবিদ্যাচর্চা করার বিষয়টি উল্লেখ্য করেছেন [35]। 

 

২৫. আবুল-কাসিম সঈদ আল-আন্দালুসী - 

 

সঈদ তাঁর 'তবাকাতুল উমাম' গ্রন্থে খালিদ সম্পর্কে বলেছেন : 

 

كان بصيرا في الطب و الكيمياء وله في الكيمياء رسائل_[36] 

 

'তিনি চিকিৎসাবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যাতে দুরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন, এবং রসায়নবিদ্যা সম্পর্কে তাঁর বহু রিসালাহ রয়েছে ' 

 

অনেকে দাবি করে থাকে যে খালিদ নাকি রসায়নবিদ্যা নিয়ে কোনো কাজ করেন নি। খালিদের সাথে রসায়নচর্চার সম্পৃক্ততাকে অনেকে ভুল হিসেবে দাবি করে। তারা তাদের দাবির পক্ষে নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলো উল্লেখ্য করে থাকে :

 

সাবাত ইবনুল-যাওযি উল্লেখ্য করেছেন যে একদল লোক খালিদের সহিত রসায়নবিদ্যার সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করেছেন [20]।

 

খালিদের সাহিত রসায়নচর্চার সম্পৃক্ততাকে অস্বিকার করে আল-মারযুবানী বলেছেন : 

 

كان خالد أعقل من ذلك، وإنما كان له مال كثير فنسب إلى ذلك، وإلا فهو أجلُّ من أن يُضيع عمره في ما لا محصول له، ويذهب بالمال والدين والعرض_[20]

 

'খালিদ সেটার চেয়ে অধিক বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন, তাঁর প্রচুর সম্পদ ছিলো যার ফলে তাকে সেটার (রসায়নবিদ্যার) সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছিল, অন্যথায় তিনি এমন ব্যাক্তি ছিলেন না যে কিনা এমন একটা বিষয়ে নিজের জিবনকে নষ্ট করবে যাতে কোনো লাভ নেই, এবং যা দ্বীন, সম্পদ ও সম্মান ধ্বংস করে দেয় '।

 

 

ইবনুল আছির খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

يقال: انه أصاب علم الكيمياء ولا يصحّ ذلك_[32]

 

'বলা হয় যে তিনি রসায়নবিদ্যার জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং এটা সঠিক না'

 

 

আয-যাহাবী খালিদের ব্যাপারে বলেছেন : 

 

وَنَقَلَ ابْنُ خَلِّكَانَ أَنَّهُ كَانَ يَعْرِفُ الْكِيمْيَاءَ، وَأَنَّهُ صَنَّفَ فِيهَا ثَلاثَ رَسَائِلَ. وَهَذَا لَمْ يَصِحَّ_[37]

 

'ইবন খাল্লিকান উল্লেখ্য করেছেন যে তিনি (খালিদ) রসায়নবিদ্যা জানতেন এবং তিনি সেব্যাপারে তিনটি রিসালাহ লিখেছেন। এবং এটা সঠিক না ' 

 

 ইবন খালদুন তাঁর 'আল-মুকাদ্দিমাহ' ও 'দিওয়ানুল মুবতাদা' গ্রন্থে যুক্তি দিয়ে সাব্যস্ত করে দেখিয়েছেন যে খালিদের রসায়নচর্চা করার বিষয়টা সত্য নয় [38]।

 

 

খালিদের সহিত রসায়নের সম্পৃক্ততা অস্বীকারকারীদের উল্লেখিত বিষয়গুলোর জবাব : 

 

ইবন খালদুনের প্রদানকৃত যুক্তিটিকে  'আব্দুল-হাঈ বিন আব্দুল-কাবির আল-কাত্তানী' তাঁর 'আত-তারাতিবুল ইদারিয়াহ' গ্রন্থে খন্ডন করেছেন [39] 

 

আয-যাহাবী 'এবং এটা সঠিক না' দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন খালিদের রসায়নবিদ্যা সম্পর্কে লিখিত তিনটি রিসালাহকে। অর্থাৎ আয-যাহাবীর নিকট এব্যাপারটা সঠিক না যে খালিদ রসায়ন সম্পর্কে তিনটি রিসালাহ লিখেছেন। এখানে তিনি খালিদের রসায়নচর্চা করার ব্যাপারটিকে সঠিক নয় বলেন নি বা অস্বিকার করেন নি, বরং উনার লেখা হতে ইংগিত পাওয়া যায় যে তিনি খালিদের রসায়নচর্চার বিষয়টি সঠিক হয়ার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন [40]। রসায়নবিদ্যা নিয়ে জ্ঞানর্জন করা আর রসায়নবিদ্যা নিয়ে তিনটি বই লেখা, এদুটি বিষয় পরস্পর হতে সম্পুর্ন ভিন্ন ; আয-যাহাবী প্রথমটির ব্যাপারে মন্তব্য করেন নি বরং পরোক্ষভাবে এটাকে সমর্থন করেছেন , কিন্ত তিনি দ্বিতীয়টির ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন যে খালিদের ক্ষেত্রে তা সঠিক নয়। উল্লেখ্য যে খালিদ রসায়নবিদ্যা সম্পর্কে তিনের অধিক বই লিখেছেন।

ۧ

ইবন খাল্লিকান, ইবন কাসির, ইবনুল-আমাদ, ইবনুল-যাওযি, আল-জাহিয, ইবনুন-নাদিম, আবু-আহমদ, আবু-হিলাল, সাবাত, আস-সিফদী, হাজি খালিফাহ, আল-বেরুনী এনারা সবাই খালিদের সাথে রসায়নের সম্পৃক্ততাকে সঠিক হিসেবে গন্য করেছেন। এতকিছুর পরেও যদি কেও ইবনুল-আছিরের বক্তব্য এনে দাবি করে যে খালিদ রসায়নচর্চা করেন নি, তাহলে অবশ্যই তার কান্ডজ্ঞানে সমস্যা আছে। 

 

আল-মারযুবানী ছিলেন একজন মদ্যপ। তিনি মদ খেতে খেতে বই লিখতেন, অর্থাৎ তিনি যখন বই লিখতেন, তখন মদ খেতেন।

 

আল-খাতিবুল বাগদাদী বলেছেন : 

 

حدثني أبو القاسم الأزهري، قال: كان أبو عبيد الله يضع محبرته بين يديه وقنينة فيها نبيذ، فلا يزال يكتب ويشرب، قال: وسأله مرة عضد الدولة عن حالة، فقال: كيف حال من هو بين قارورتين؟ يعني المحبرة وقدح النبيذ_[41]

 

'আমাকে  আবুল-কাসিম আল-আযহারী বর্ননা করে বলেছেন যে : আবু-উবাইদুল্লাহ (আল-মারযুবানী) তার খালি রাখার পাত্র নিজের সামনে রাখতেন এবং একটি বোতল রাখতেন যাতে মদ থাকতো। অতপর তিনি পৃথক হতেন না, লিখতেন ও পান করতেন। তিনি (আবুল-কাসিম) বলেন : একবার রাষ্ট্রের সাহায্যকারী একজন ব্যাক্তি তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, ফলে তিনি উত্তরে বলেন : যে দুই বোতলের মাঝখানে আছে তার অবস্থা আবারই কিইবা হবে? (দুই বোতল)  অর্থাৎ কালি রাখার পাত্র ও মদের পাত্র। ' 

 

আল-মারযুবানীর ব্যাপারে জামালুদ্দিন আল-কিফতী বলেছেন : 

 

وكان- عفا الله عنه- مستهترا، فيشرب الخمر. فذكر عنه أنه كان يضع بين يديه قنينة حبر وقنينة خمر، فلا يزال يشرب ويكتب. وسأله مرة عضد الدولة عن حاله فقال: كيف حال من هو بين قارورتين! يعنى قارورة الحبر وقارورة الخمر_[42]

 

'এবং তিনি -আল্লাহ তাকে মাফ করুক- ছিলেন অমনোযোগী। ফলে তিনি মদ পান কর‍তেন। তাঁর ব্যাপারে উল্লেখ্য করা হয় যে তিনি নিজের সামনে কালির পাত্র ও মদের পাত্র লিখতেন, অতপর পৃথক হতেন না, লিখতেন ও পান করতেন। তাকে একদা রাষ্ট্রের সাহায্যকারী একজন ব্যাক্তি তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ফলে তিনি বলেন : যে দুই বোতলের মাঝে আছে তার অবস্থা আবার কিইবা হবে?  অর্থাৎ কালির বোতল আর মদের বোতল '  

 

আল-মারযুবানীর ব্যাপারে খালিল বিন আইবেক আস-সিফদী বলেছেন : 

 

وكان يضع المحبرة وقنينة النبيذ فلا يزال يكتب ويشرب_[43]

 

তিনি কালির পাত্র ও মদের পাত্র রাখতেন, অতপর পৃথক হতেন না, পান করতেন ও লেখতেন। 

 

এত বড় বড় সম্মানিত ইতিহাসবিদদের বিরুদ্ধে এমন একজন ব্যাক্তির বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়, যিনি কিনা মদ্যপ ছিলেন ও মদ খেয়ে নেশা করা অবস্থায় বই লিখতেন।

 

আলেমদের যেই দলটি খালিদের সহিত রসায়নবিদ্যার সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করেছেন, তাদের উক্ত অস্বীকার করার ব্যাপারটি নিম্নে উল্লেখিত কারনসমুহের কারনে ভুল।

 

এক. ইবন খাল্লিকান, ইবনুল-যাওযি, ইবনুল-আমাদ, আয-যিরকিলী, ইবনুন-নাদিম, ইবন কাসির এর মত মুসলিম ইতিহাস বিশ্লেষকরা এই অস্বীকৃতিকে পাত্তা দেন নি। বরং এনারা সবাই খালিদের সহিত রসায়নের সম্পৃক্ততাকে সঠিক হিসেবে গন্য করেছেন।

 

দুই. আল-বালাযুরী উল্লেখ্য করেছেব যে আল-মাদাইনী উল্লেখ্য করেছেন যে মুহাম্মদ বিন উমার বিন সাঈদ ইবনুল আস (রা) খালিদকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন : 

 

 وسلبوك ملكك وفرغوك لطلب الحديث وقراءة الكتب وطلب ما لا يقدر عليه، يعني الكيمياء[44] 

 

'এবং তারা তোমার রাজত্ব কেড়ে নিয়েছে। এবং হাদিস অনুসন্ধান,বই পড়া এবং রসায়নবিদ্যা অনুসন্ধান করা হতে তোমাকে পৃথক করে দিয়েছে ' 

 

একজন সাহাবী খালিদের সাথে কথা বলার সময় উল্লেখ্য করেছেন যে খালিদ রসায়ন নিয়ে কাজ করেন, তাহলে কিভাবে এমনটা হতে পারে যে খালিদের সাথে রসায়নের সম্পৃক্ততা মিথ্যা? খালিদ রসায়ন নিয়ে কাজ করেছেন নাকি না, সেটা কে বেশি জানবে? এমন একজন ব্যাক্তি যিনি কিনা খালিদের সাথে সাক্ষাত করেছেন কথা বলেছেন,নাকি এমন ব্যাক্তিরা যারা কিনা খালিদের মৃত্যুর শত শত বছর পর জন্মগ্রহন করেছেন?  

 

তিন.তাহকিকের মুলনিতী অনুযায়ি ইতিহাসবিদদের কর্তৃক কোনো একটি গ্রন্থকে কোনো একজন লেখকের দিকে সম্পৃক্ত করা দ্বারা এটা প্রমানিত হয় যে উক্ত গ্রন্থ ও উক্ত লেখকের মধ্যকার সম্পৃক্ততা বিশুদ্ধ সঠিক নির্ভরযোগ্য গ্রহনযোগ্য [45][46]। বহু ইতিহাসবিদ খালিদের সাথে অনেক রসায়নবিদ্যাসক্রান্ত গ্রন্থকে সম্পৃক্ত করেছেন। সুতরাং সেই রসায়নবিদ্যা সক্রান্ত গ্রন্থগুলোর সহিত খালিদের সম্পৃক্ততার শুদ্ধতা প্রমানিত।   

 

যদি খালিদ রসায়নবিদ্যা সক্রান্ত একাধিক গ্রন্থ লিখে থাকেন, তাহলে এটা কিভাবে হতে পারে যে তিনি রসায়নবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন নি?  

 

চার. আবু-আহমদ আল-আসকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে খালিদই সেই ব্যাক্তি, যিনি কিনা রসায়নবিদ্যাকে আরব-বিশ্বে প্রসিদ্ধ করেছেন।

 

খালিদ বিন ইয়াযিদ খুবই ধার্মিক ছিলেন, জ্ঞানী ছিলেন [47]। উদার দানশীল ছিলেন। নিজ সময়কার মহান ব্যাক্তিদের একজন ছিলেন, সম্মানিত ছিলেন, তিনি বেশি বেশি রোযা রাখতেন [48]।এছারাও উনার ব্যাপারে প্রচুর পরিমানের অন্যান্য ইতিবাচক বিষয়বস্তু রয়েছে, এখানে এতকিছু উল্লেখ্য করা সম্ভব না  [49]।

 

পরিশেষে বলব, খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়াহ (রহ) ছিলেন একজন হাদিস বর্নাকারী ছিকাহ রাবি, সম্মানিত তাবেঈ, উচুস্তরের ইমাম, কবি, বক্তা, উদার দানশীল, আলিম, বিজ্ঞানপ্রেমী, চিকিৎসক, রসায়নবিদ, জ্যোতির্বিদ,জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জ্ঞানী।  

 

যারা মনে করে যে আব্বাসীরা আসার পুর্বে মুসলিমরা বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলো, তাদের ধারনাকে খালিদ ভুল সাব্যস্ত করে দেন। খালিদের মত নিজের মধ্যে এতগুলো গুণাগুণ একত্রে ধারনকারী ব্যাক্তিদের উদাহরন ইসলামের ইতিহাসে খুবই বিরল, দুর্লভ।

 

বিশুদ্ধ মত অনুযায়ি খালিদ ৯১ হিজরি সন মোতাবেক ৭০৯ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরন করেন [50]।

 

…… রহিমাহুল্লাহু তায়ালা 

 

 

[1]ইবনুল-আদিম,বাগিয়াতুত তালব (7/3184)

 

[2]মুসনাদ আহমদ (হা/22226),মুস্তাদরাকুল হাকিম (1/55-56),মুজামুত তাব্রানী আল-আওসাত (হা/3173),আল-মুসনাদুল মুয়াল্লাল (26/150), আল-মুসনাদুল জামি (হা/5347) 

,আতরাফুল মুসনাদ (হা/7626), মাজমায়ুয যাওয়াইদ (10/70-71,403), তারিখু ইবনে আসাকির (16/303)।

 

[3]আল-হাইসামী,আল-মাজমা (10/70-71,403);আল-আলবানী,আস-সাহিহাহ (5/71); 

হিকমাত,আস-সহিহুল মাসবুর (4/625);আল-আযামী,আল-জামিউল কামিল (11/282);  তাহকিকু মুসনাদে আহমদ (36/560,টিকা-1)

 

[4]ইবন আবি-হাতিম,আল-জারহু ওয়াত তা'দিল (3/357); সাবাত,মারাতুয জামান (9/430); ইবন হাজার,আত-তাকরিব(রাবি/1690)।

 

[5]আল-মিযযী,তাহযিবুল কামাল (8/202)

 

[6]ইবন হিব্বান,আছ-ছিকাত (6/264) 

 

[7]মোগলতাঈ, আল-ইকমাল (2/452) 

 

[8]ইবন হাজার,তাকরিবুত তাহযিব (রাবি/1690)

 

[9]আয-যাহাবী, সিইরু আ'লামিন নুবালা (4/382) 

 

[10]তারিখু আবি-যুর'আহ (পৃ/357-358)

 

[11]তারিখু ইবনে আসাকির (16/306),ইবনুল-আদিম,বাগিয়াতুল তলব (7/3186); ইবন আব্দিল-বার, জামিয়ু বায়ানিল ইলম (1/454) ; আল-মিযযী, তাহযিবুল কামাল (8/203)

 

[12]তারিখু আবি-যুর'আহ (পৃ/358)

 

[13]ইবনুন নাদিম,আল-ফাহরাসাত (পৃ/434)

 

[14]আল-জাহিয,আল-বায়ান ওয়াত তাবঈঈন (1/267)

 

[15]মোগলতাঈ, আল-ইকমাল (2/452)

 

[16]আবু-হিলাল,আল-আওয়াইল (পৃ/381)

 

[17]ইবন খাল্লিকান,ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান (2/224) 

 

[18]ইবন কাসির,আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (12/373)

 

[19]সাবাত,মারাতুয জামান (8/508) 

 

[20]সাবাত,মারাতুয জামান (9/431) 

 

[21]ইবনুল-যাওযী,আল-মুন্তাযিম (6/236) 

 

[22]আস-সিফদী,আল-ওয়াফী বিল-ওয়াফিইয়াত (13/164) 

 

[23]ইবনুল-আমাদ, শাযারাতুয যাহাব (1/349-350)

 

[24]আল-হামওই, ইরশাদুল আরিব (3/1238)

 

[25]আল-উলাইমী,আত-তারিখুল মু'তাবির (2/406)

 

[26]আত-তাইব,কালাদাতুন নাহার (1/479)

 

[27]আস-সাফারিনী,লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়াহ (1/11)

 

[28]আল-ইয়াফিয়িঈ, মারাতুজ জুনান (1/141)

 

[29]আব্দুল-হাঈ আল-কাত্তানী, আত-তারাতিবুল ইদারিয়াহ (2/183) 

 

[30]হাজি খালিফাহ,কাশফুয যুনুন (2/1526)

 

[31]হাজি খালিফাহ,কাশফুয যুনুন  (2/1254) & (2/1784)

 

[32]আয-যিরকিলী,আল-আ'লাম (2/300)

 

[33]আল-বাবানী,হিদায়াতুল আরিফিন (1/343)

 

[34]আল-বালাযুরী,আনসাবুল আশরাফ (5/359-360) 

 

[35]আল-মাসউদী,মুরুজুয যাহাব (8/176)

 

[36]সঈদ, তবাকাতুল উমাম (পৃ/48)

 

[37]আয-যাহাবী,তারিখুল ইসলাম (6/29) & সিইরু আ'লামিন নুবালা (4/383)

 

[38]ইবন খালদুন, আল-মুকাদ্দিমাহ (2/311) & দিওয়ানুল মুবতাদা (1/696)

 

[39]আব্দুল-হাঈ আল-কাত্তানী,আত-তারাতিবুল ইদারিয়াহ (2/184)

 

[40]আয-যাহাবী,সিইরু আ'লামিন নুবালা (9/412)

 

[41]আল-খাতিব,তারিখু বাগদাদ (4/227)

 

[42]আল-কিফতী,ইনবাহুর রুয়াহ (3/181)

 

[43]আস-সিফদী,আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফিইয়াত (4/166)

 

[44]আল-বালাযুরী,আনসাবুল আশরাফ (5/366)

 

[45]আব্দুস-সালাম মুহাম্মদ হারুন,তাহকিকুন নুসুস ওয়া নাশরুহা (পৃ/45)

 

[46]ইয়াদ খালিদ আত-তবা'আ,মানহাজু তাহকিকিক মাখতুতাত (পৃ/88)

 

[47]আয-যাহাবী,আল-আবরু (1/78) ; আল-ইয়াফিয়িঈ,মারাতুজ জুনান (1/144)

 

[48]আয-যাহাবী,সিইরু আ'লামিন নুবালা (9/412) 

 

[49]দেখুন : আল-মিযযী,তাহযিবুল কামাল (8/201); ইবনুল-আদিম,বাগিয়াতুত তলব (7/3184); সাবাত, মারাতুয জামান (9/430); তারিখু ইবনে আসাকির (16/301) 

 

[50]আয-যাহাবী,আল-আবরু (1/78)

 

Share this:

More articles

ডারউইন ফেল্টুস ছাত্র ছিল   Table of Contents আধুনিক বিজ্ঞান বনাম নয়া ডারউইনবাদ প্রকৃত কোষের উদ্ভব ক্রমান্বয়বাদ ক্যান্সার বনাম ডারউইন ম্যাক্রো বিবর্তন কি সম্ভব? বয়স বাড়ে কেন? আরও ভুল ভবিষ্যদ্বাণী   আধুনিক বিজ্ঞান বনাম নয়া ডারউইনবাদ নয়া ডারউইনবাদ আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। মাইকেল রোজ লিখেছেন, The last third of the 20 th Century featured an accumulation of research findings that severely challenged the assumptions of the "Modern Synthesis" which provided the foundations for most biological r....
5 Min read
Read more
নাস্তিকরা ফেসবুকের গ্রুপে গ্রুপে কমেন্টে কমেন্টে গিয়ে স্প্যামিং করছে যে বিবর্তন নাকি প্রমাণ হয়ে গেছে, এজন্য নাকি নোবেল দেয়া হয়েছে! অবশ্য বঙ্গের অশিক্ষিত বিজ্ঞানবাদীরা হেডলাইন পড়েই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা বুঝি। কিন্তু বাস্তবতা হল, ডাঃ পাবো মূলত নিয়ান্ডারথালের জিনোম সিকুয়েন্স করেছেন। এরকম কাজ আসলেই খুব হাই প্রোফাইলের। বাংলাদেশের মাকসুদুল আলম দেশি পাটের জিন সিকুয়েন্স করেই যে আলোড়ন তুলেছেন সেখানে বিলুপ্ত নিয়ান্ডারথালের জিন সিকুয়েন্স করলে সেটা প্রশংসার অপেক্ষা রাখে না।কিন্তু প্রশ্ন হল, এখান থেকে যদ....
5 Min read
Read more
"সূর্যের আরশের নিচে সেজদাহ করা" সক্রান্ত বেশকিছু হাদিস বিভিন্ন ধরনের শব্দ ও বাক্যে বিভিন্ন গ্রন্থে বর্নিত হয়েছে। এসবের মধ্য হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতর দুইটি বর্ননা হলো বুখারি ও মুসলিমের বর্ননাগুলো। ইমাম বুখারি, সুলাইমান আল-আ'মাশ হতে বর্ননা করেছেন: عن أبي ذر رضي الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لأبي ذر حين غربت الشمس أتدري أين تذهب قلت الله ورسوله أعلم قال فإنها تذهب حتى تسجد تحت العرش فتستأذن فيؤذن لها ويوشك أن تسجد فلا يقبل منها وتستأذن فلا يؤذن لها يقال لها ارجعي من حيث جئت فتطلع من مغربها....
10 Min read
Read more
কেমন দেখতে ছিলেন আমাদের প্রিয় রাসূল ﷺ ? কেমন ছিল তাঁর পবিত্র চেহারা মোবারক? তাঁর হাঁটা চলা, কথা বলার ভাব-ভঙ্গি, চুলের গেটাপ, পোশাক-আশাক ইত্যাদি কেমন ছিল? আসলে আমরা মুসলিমরা তাঁর উম্মত হিসেবে এসব জানতে আগ্রহী কিন্তু আমরা তা জানি না। কিন্তু জানার মাধ্যম কী? সহীহ হাদিস; যা মূলত সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত প্রিয় রাসূল ﷺ এর জীবন বৃত্তান্তের বিবরণ। যাঁরাই তাঁকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন, তাঁরাই নবী ﷺ এর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি দেখতে আসলে কেমন ছিলেন? সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি দেখতে ছিলেন হযরত ইব্রাহি....
16 Min read
Read more
বিবর্তন নিয়ে পোস্ট দিলেই কিছু ডারউইনের মুরিদ হাজির হয়ে 'ফ্যাক্ট ফ্যাক্ট' বলে চিৎকার করা শুরু করে। ধরে নিলাম, বিবর্তন সত্য। কিন্তু কোন বিবর্তন? ডারউইনবাদ ছাড়াও একাডেমিতে অন্যান্য মডেল আছে। যেমন- a) Evolution by Natural Genetic Engineering (J. Shapiro) b) evolution by self-organization (Kauffman, Depew) c) facilitated variation (Gerchart) d) neo-Lamarckism (Jablonka, Pigliucci) e) symbyogenesis (Margulis) উপরের সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ বাণী বর্ণনা করে এবং কোনটাই একাডেমী থেকে বাতিল ....
2 Min read
Read more
“Science is prediction, not explanation.” — Fred Hoyle একটা ভাল তত্ত্বের বৈশিষ্ট্য হল, তা নির্ভুল prediction করবে। কিন্তু নব্য ডারউইনবাদের অজস্র ভুয়া prediction থাকা সত্ত্বেও কিছু লোক ফ্যাক্ট ফ্যাক্ট বলে চিৎকার করে থাকে। বলতে পারেন, ভাই, প্রমাণ দিতে পারবেন? অবশ্যই। Disproven NeoDarwinian paradigms: #1 the Weissman barrier #2 mutations সর্বদা random হবে #3 the central dogma #4 the tree of life পরিলক্ষিত হবে #5 ফেনোটাইপ শুধু জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত #6 synonymous mutations নিরপেক্ষ হয়। #7 codons পক্....
5 Min read
Read more